-
আমার বাবা
আমার বাবা তাহমিনা খাতুন আমার বাবা মরহুম খন্দকার আবুল কাসেম। আমার বাবার শিশুকালটি শুরু হয়েছিল নিতান্তই দুঃখের মধ্য দিয়ে! অত্যন্ত অল্প বয়সে আমার আব্বা তাঁর ছোট দুই ভাই বোনসহ পিতৃ-মাতৃহীন হন। এতিম তিন শিশু তাঁদের নানী এবং খালাদের স্নেহ-মমতায় লালিত পালিত হন। আমার বাবার কাছে শুনেছি ওনার নানী খালারা আরবী এবং ফারসী শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। আব্বা তাঁর নানী খালাদের নিকট আরবী এবং ফারসী ভাষায় শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন, তবে আব্বার বাংলা ভাষাতেও চমৎকার দখল ছিল। তাঁর বাংলা হাতের লেখা এবং ভাষাশৈলী ছিল অত্যন্ত গোছালো এবং পরিপক্ক। আব্বার সুনিপুণ হস্তাক্ষর এবং ভাষাশৈলী ছিল যে কোন উচ্চ শিক্ষিত মানুষকে চমৎকৃত করার মতো। আব্বার…
-
এ ক্রান্তিকাল শেষে
এ ক্রান্তিকাল শেষে ফকির শরিফুল হক যদি এ ক্রান্তিকাল শেষ হয় একদিন, যদি বেঁচে যায় দূর্নীতি ঘুষখোর লুটেরা যারা আজ অতি সাধু সন্ন্যাসী ভবে লেবাসি মানবতা শেখায়, যদি বেঁচে যায় ঐ দাম্ভিক রাজা মহারাজ যার ইশারায় নিমিষেই ধ্বংস হয় আফগান ফিলিস্তিনের মানচিত্ৰ বুক। যদি বেঁচে যায় ঐ মারণাস্ত্র প্রযুক্তির দৈত্য দানবেরা যারা কথায় আনবিক বোম হয়ে ফোটে শাস্তির বুকে, যদি বেঁচে যায় তারা, যারা শান্তির কাশ্মীরকে সীমার দোহাই দিয়ে মানবতাকে বারবার করছে জখম! যদি বেঁচে যায় পেশিবাহু বিশ্ব নীতি নির্ধারকেরা তবে জলবায়ু বায়ুমণ্ডলে পরবে আবার অশনি আদেশ, পুড়বে হাজার মাইল বন, কার্বনডাই-অক্সাইডে বন্ধ হবে পৃথিবীর দম, হাজারো বোবা উটের…
-
ফেলে আসা,মানুষের ঘর,স্মৃতি,স্বপ্নগুলি
ফেলে আসা আনন্দ বাগচী কিছুই হয়নি বলা, গল্প শেষ হয়ে গেল রোদ্দুরে বৃষ্টিতে গল্পগ্রাম, ইস্টিশান, নদী, সাঁকো, নৌকোর গলুই ধূসর স্মৃতির মধ্যে বিধে থাকল, ক্রমে ক্রমে হলদে হয়ে আসা ফটোর মতন স্থির সাবেক কালের বাড়িখানা, গভীর ঘুমিয়ে আছে কুয়াশায়, কার শীর্ণ শাখাপরা হাত খাটের বাজুতে আড় হয়ে আছে তামাকের প্রৌঢ়গন্ধে ঘর ভরে আছে। সটকার বোলের মত চমকে চমকে ওঠে কবুতর। এখনো উলুর ধ্বনি কান পাতলে, প্রতিমার মত নববধূ দামাল শিশু, বালাবেলা, বাঁশবনে আটকে থাকা চাঁদ পুরনো ব্যথার মত লটকে আছে বুকের ভেতরে । কিছুই হল না বলা, গল্প শেষ হয়ে গেল রোদ্দুরে বৃষ্টিতে। মানুষের ঘরে এখনো রয়েছে কিছু…
-
আমাদের আত্রাই নদী
আমাদের আত্রাই নদী তাহমিনা খাতুন দ্বাড়িয়াপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে আত্রাই নদী। আমাদের ছেলেবেলায় দেখতাম বর্ষাকালে নদীটি কানায় কানায় পানিতে ভরে যেত। অনেক সময় যখন বেশ বড় বন্যা হত, নদীর কূল ছাপিয়ে হাইওয়ের উপর দিয়েও স্রোত বয়ে যেত। প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও বেশ কিছু দিনের জন্য বর্ষাকালীন ছুটিতে যেতে বাধ্য হত। কারণ বিদ্যালয়ের ঘরটিতেও বন্যার পানি ঢুকে পড়ত। বর্ষাকালে আত্রাই যখন পানিতে ভরে যেত, তখন কিছু লোক এক ধরনের জাল দিয়ে (যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হত ‘খরা’) ট্যাংরা, পুঁটি, খলশে, ছোট আকারের শোল, বোয়াল, নলা, মৃগেল, টাকিসহ আরও অনেক ধরনের সুস্বাদু মাছ ধরতেন। আমাদের পাড়ার বাসিন্দারা সহ অনেকেই বর্ষার…
-
আমাদের দ্বারিয়াপুর গ্রাম
আমাদের দ্বারিয়াপুর গ্রাম তাহমিনা খাতুন পাবনা জেলার তৎকালীন সুজানগর থানার দ্বারিয়াপুর গ্রামে আমার জন্ম। পাবনা তখন দুই মহকুমা বিশিষ্ট বৃহত্তর জেলা। তৎকালীন পাকিস্তানের পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের সতেরটি জেলার মধ্যে দুই মহকুমা বিশিষ্ট একটি জেলা পাবনা। পাবনা সদর ও সিরাজগঞ্জ। মূল পাবনা জেলার সদর অংশে আমার জন্ম। আমাদের গ্রামটির অবস্থান পাবনা শহর থেকে পাবনা-রাজশাহী হাইওয়ের ছাব্বিশ মাইলের মাইল ফলকের সাথেই। শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধার অভাবকে যদি প্রত্যন্ত গ্রাম বা অজপাড়া গাঁ হিসাবে মূল্যায়ন করতে চাই, তবে দ্বারিয়াপুরকে ‘প্রত্যন্ত গ্রাম’ বা ‘অজপাড়া গাঁ’ বলা যাবে না। আবার শিক্ষা ব্যবস্থা বা ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার দিক থেকে বিবেচনা করলে দ্বারিয়াপুরকে গণ্ডগ্রামও বলা যাবে…
-
সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা (শেষ পর্ব)
সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা (শেষ পর্ব) সাইফুর রহমান জনবহুল এই ঢাকা শহরটিতে নিতাইয়ের আসা হয় বছরে কদাচিৎ। দূষিত বায়ু কিংবা পিঁপড়ার মতো ভিড় সমৃদ্ধ এই শহরটিতে দু’একবেলা যাপন করতেই হাঁপিয়ে ওঠে। মনটি তার ছটফট করতে থাকে কখন তিনি ফিরে যাবে গ্রামে। অনেক গলিঘুঁজি হাতড়ে পূর্ব শাহজাহানপুরে তেষট্টি নম্বর বাড়িটি অবশেষে খুঁজে পেল নিতাই। কড়া নাড়তেই পাতলা ছিপছিপে গড়নের মাঝ বয়সী একজন লোক দরজা খুলে নিতাইকে জিজ্ঞেস করল- -কাকে চাই? -স্যার কি আছেন নাহি ভিতরে? -আপনি কি আবু শামস স্যারের কাছে এসেছেন? -জী, উনাক কন, পাবনার গোলাম রসুল সাহেব আমাক পাঠায়ছেন। একটা জরুরী বিষয়ে উনার সাতে কতা কইবের চাই। লোকটি দরজাটা…
-
স্বপ্নবাড়ি
স্বপ্নবাড়ি আবু জাফর খান শূন্যতার নিজস্ব একটি বিষাদ আছে ঢেউ ভাঙা একাকী মাঝির নৌকোর পাটাতনে… সে বিষাদ বেজে যায়; পাখি ও বিষণ্নতায় মিল পাই মিল দেখি জল ও মুকুরে শুধু তুমি আর আমি মেলাতে পারিনি কিছুই। আমরা জল-পাথরের বিপরীত সুরে বাজি আমাদের দিনরাত্রির কথার শস্যাঙ্গনে… না তুমি আছ না আমি; আমাদের ব্যথার শিষদাগে ডুবে আছে বিপণি পৃথিবীর সমূহ বিতান। আমি যখন খুব ভোরে অর্চার্ডে হাঁটি সেই সময় ঠাকুরমা সুর করে পুথি পাঠ করেন; আমার মনে হয়, একটা পয়ারের সরণি বেয়ে পৌঁছে যাচ্ছি দূরে, কৃত্তিবাসের গ্রামে; আসলে জীবনানন্দের বাড়ির পথ আরও আরও দীর্ঘ। আমি আঙিনার বাম হাতে দিই পুরনো কিছু…
-
আপন ভূবন, গোধূলি লগ্নের কাহন
আপন ভূবন মো. শাহ জাহান আলী আমার বড়ই ইচ্ছে হচ্ছে.. ফিরে যাই শেকড়ের টানে আমার রূপসী বাংলার কোন এক নিভৃত গ্রামে। মায়া মমতায় জড়ানো আবেশে যেখানে আবাল্য বেড়ে ওঠা প্রকৃতির বুকে পেয়েছি ভালোবাসা দাঁড়িয়ে দেখেছি স্বচ্ছ পুকুর জল খাল-বিল নদী-নালায় ভরা তাতে শাপলা শালুকের মেলা পরিস্ফুটিত জলে জ্যোৎস্নায় বিলিয়েছে মিষ্টি ম্লান আলো.. যেনো প্রেয়সীর মুক্তা ঝলমলে দাঁতের হাসিতে ঠিকরে পড়ছে গলাগলি করে শাপলা কমল কি প্রেমময় আলিঙ্গনে জড়জ প্রকৃতির প্রতিকূলতার মাঝে, ঝড়-ঝাপটা উপেক্ষা করে আছে ওরা একে অপরের আপনে আপন খুব কাছে একে অপরের শরীরে মিশে! আমি ফিরে যেতে চাই সেই আপনার আপনের মায়াবী সুন্দর আবেশে, যেখানে একাকিত্বে ভোগে…
-
সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা (৫ম পর্ব)
সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা (৫ম পর্ব) সাইফুর রহমান একটু আগেও সূর্যটা ছিল মাঝ আকাশে। হঠাৎ পুঞ্জ পুঞ্জ মেঘ এসে ঢেকে দিল সেটাকে। ঠিক সেভাবে সব দুঃখ-কষ্টগুলো জমা হতে লাগল গোলাপের মনে। কী করবে সে এখন? মাথা কুণ্ডয়ন ছাড়া আর কি উপায়? এতগুলো টাকা বেহাত হয়ে গেল উপস্থিত জোচ্চুরি ও প্রতারণায়। প্যান্টের ডান পকেটে হাত ঢুকাল সে, দুই তিন হাজারের মতো টাকা ছিল পকেটে, সেগুলোরও কোনো হদিস মিলল না। শুধু সস্তা দামের মোবাইলটি খুঁজে পাওয়া গেল বাম পকেটে। গতকালই তার বউ জুলেখা ও দুই কন্যা জুঁই, চামেলীর সঙ্গে কথা হয়েছে মোবাইলে। ছোট মেয়ে চামেলী কত আহ্লাদ করে তাকে বলছিল- বাবা আমার…
-
তুমি কাঁদিতেছ কেন, অযাচিত অহমিকা
তুমি কাঁদিতেছ কেন? জাহাঙ্গীর পানু শীতকালে এমন বৃষ্টি দেখিনি কখনো! ব্যথিত হৃদয়ে তুমি কাঁদিতেছ কেন? নেই বৈশাখের ইশান কোণের নিকষ কালো মেঘ নেই আষাঢ়ের কালো মেঘের ঘনঘটা তবে কেন তোমার চোখে ঝরছে বারিধারা। হঠাৎ সঙ্গীহারা কোনো যুবতীর আর্তনাদের মতো ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ নীড়হারা আশ্রয়হীন পাখির মতো যেমন কাঁদে ব্যর্থ প্রেমিকের বিধ্বস্ত হৃদয় ; অনেক জমানো কথা না বলার অভিযোগে- আশাহত পৌষ তুমি কাঁদিতেছ কেন? নেই নদীর উত্তাল তরঙ্গের প্রথাগত আস্ফালন নেই শ্রাবণের বিরামহীন বারিধারার প্রচণ্ড ঢল নেই নদী স্রোতের তোরে নদীভাঙা কোনো জনপদ তবে কেনো নদীগর্ভে সব হারানো রমণীর মতো- নির্লীপ্ত মাঘ তুমি কাঁদিতেছ কেন? নেই দখলদার কোনো রাজার রক্তচক্ষুর…






























