তাহমিনা খাতুন ছড়া, কবিতা, ভ্রমণ কাহিনী, নারীর অধিকার নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে নিয়মিত কলাম লিখছেন। পেশায় একজন আইনজীবী।তিনি ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ১ মার্চ পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত আহম্মদপুর ইউনিয়নের দ্বাড়িয়াপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

  • শেকড়ের-সন্ধানে-শেষ-পর্ব
    গল্প,  সাহিত্য

    শিকড়ের সন্ধানে (শেষ পর্ব)

    শিকড়ের সন্ধানে (শেষ পর্ব) তাহমিনা খাতুন (সত্য ঘটনা অবলম্বনে)   উচ্চ শিক্ষিতা নাবিলা। রাজধানীর একটি স্বনামধন্য স্কুলের শিক্ষিকা। সাত বছর ও পাঁচ বছর বয়সী দুটি শিশু পুত্রের মা। স্বচ্ছল স্বামী এবং দুটি শিশু পুত্র নিয়ে সুখের সংসার। কিন্তু অনেক দিন ধরেই একটি কন্যার মা হওয়ার খুব শখ নাবিলার। গর্ভধারণ করলো মেয়ের আশায়! অল্প দিনের মধ্যেই ডাক্তারের মুখে শুনল সুখবরটি! তার গর্ভের শিশুটি তার বহু কাঙ্খিত মেয়ে! খুশীতে, আনন্দে আত্মহারা নাবিলা। সুখের ডানায়, খুশীর জোয়ারে প্রজাপতির ছন্দে উড়তে শুরু করলো তার দিনগুলি। দেখতে দেখতে প্রসবের দিন এসে গেল। সুস্থ, স্বাস্থ্যবান কন্যার মা হল নাবিলা। বর্ষাকালে, শ্রাবণের এক অঝোর বর্ষণমুখর রাতে জন্ম…

  • শেকড়ের-সন্ধানে-১ম-পর্ব
    গল্প,  সাহিত্য

    শিকড়ের সন্ধানে (১ম পর্ব)

    শিকড়ের সন্ধানে (১ম পর্ব) তাহমিনা খাতুন (একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে)   ──মা, আমার বাবা-মা কে? আমার বাড়ি কোথায়? আমাকে তোমরা কোথা থেকে এনেছ? কি আমার পরিচয়? জবাব দাও। জবাব আজ তোমাকে দিতেই হবে। বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পরে বর্ষা। নাবিলা হতভম্ব! অবাক হয়ে চেয়ে থাকে বর্ষার কান্না ভরা মুখের দিকে! নাবিলার হতভম্ব চেহারা দেখে আরও জোরে চিৎকার করে ওঠে বর্ষা। ──কি হলো, কথা বলছো না কেন? জবাব দাও। জবাব চাই আমি। বর্ষার চিৎকারে যেন সম্বিৎ ফেরে নাবিলার। থত মত খেয়ে বলে, ──কি আবোল-তাবোল বলছিস তুই এসব? আমি তোর মা। তোর বাবাকে চিনতে পারছিস না! রানা, রোমান তোর ভাই। এতে তোর…

  • সমকালীন_পাঠ_প্রতিক্রিয়া
    পাঠ প্রতিক্রিয়া,  সাহিত্য

    সমকালীন পাঠ প্রতিক্রিয়া

    সমকালীন পাঠ প্রতিক্রিয়া তাহমিনা খাতুন   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ প্রথম আলো সহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি দৈনিকে প্রকাশিত ব্যতিক্রম ধর্মী একটি খবর অনেকেরই বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। খবরের শিরোনামটি  ছিল এ রকম,                                                                                                               ১০১টি  প্রিয় বই দেনমোহরে বিয়ে করলেন নিখিল সান্ত্বনা। খবরটিতে উল্লেখ ছিল, ‘বিয়েতে দেনমোহর টাকা বা স্বর্নালংকার নয়, প্রেমিকা চেয়েছেন তার প্রিয় ১০১টি বই।’ প্রেমিক কবি নিখিল নওশাদ ও তার প্রেমিকা সান্ত্বনা খাতুনের ধরিয়ে দেওয়া ১০১টি বইয়ের মধ্যে ৭০টি বই সংগ্রহ করতে পেরেছেন! শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই ১০টি  বই নগদ হিসেবে এবং বাকি ৯১ টি বই বাকি হিসাবে দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এই প্রেমিক যুগলের।’ এরই ধারাবাহিকতায় গত…

  • প্রথম-শহর-দেখা-ও-বিদেশ-ভ্রমণ
    আত্মজীবনী,  সাহিত্য

    প্রথম শহর দেখা ও বিদেশ ভ্রমণ

    প্রথম শহর দেখা ও বিদেশ ভ্রমণ তাহমিনা খাতুন   শহর দেখা সম্ভবত দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় পাবনা শহর দেখতে গিয়েছিলাম মেজ ভগ্নিপতি কাজী মর্তুজা মজিদের (মেজ দুলাভাই) এর সাথে। পেট্রোল চালিত লক্কড়-ঝক্কর বাসে চড়ে পাবনা শহর দেখতে গেলাম। এর আগে কোথাও বেড়াতে যাওয়া বলতে নিজের গ্রাম থেকে ৫/৬ কিলোমিটার দূরে মেজ বোনের শ্বশুর বাড়ি চরগোবিন্দপুর অথবা মাইল দুই/তিন দূরে বড় ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি সৈয়দপুর গ্রামে! আর সে ভ্রমণও ছিল মহিষের বা গরুর গাড়ি অথবা নৌকায় চড়ে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইঞ্জিন চালিত কোন যানবাহনে প্রথম ভ্রমণ করা! কাজেই বাসে চড়ে সেই প্রথম ভ্রমণ ছিল রীতিমত রোমাঞ্চকর! পাবনা শহরে ভ্রমণ করতে গিয়ে…

  • আমার-নানী
    আত্মজীবনী,  লেখক পরিচিতি,  সাহিত্য

    আমার নানী

    আমার নানী ~তাহমিনা খাতুন   ‘মিতব্যয়িতার’ শিক্ষা পেয়েছিলাম আমার নানীর কাছ থেকে। আমার নানী মারা গেছেন আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে। মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে আমাদের বাড়িতে নানীর একমাত্র সন্তান আমার মায়ের কাছে ছিলেন। সেই সময় একদিন নানীকে দেখলাম গোসলের পর নিজের পরনের বাসী ধুতি খানা বালতির অল্প পানিতে ধুয়ে নিচ্ছেন। নানী যতদিন বেঁচে ছিলেন আর সুস্থ ছিলেন সব সময় নিজের কাজ নিজেই করতেন।আমি নানীর ধুতিটা ধুয়ে দিতে চাইলে তিনি কোন ভাবেই রাজী হলেন না। আমি নানীকে জিজ্ঞাসা করলাম, “নানী এত অল্প পানি দিয়ে কাপড় ধুচ্ছ কেন? নানী জবাব দিলেন, ‘আল্লাহ্ তায়ালার কাছে তো একদিন এই পানির জন্যও হিসাব দিতে…

  • পাশের-বাড়ির-আপনজন
    আত্মজীবনী,  আহম্মদপুর,  দ্বারিয়াপুর,  সাহিত্য

    পাশের বাড়ির আপনজন

    পাশের বাড়ির আপনজন তাহমিনা খাতুন   আমাদের ছোট পাড়াটিতে আমরা এবং আমাদের কয়েক জন ঘনিষ্ট আত্মীয়ের বসতি ছিল। আমার আপন চাচা আমাদের পাড়া থেকে সামান্য দূরে বাড়ি করে বসবাস করতেন। চাচারও ছিল আব্বার মত গাছ লাগানোর অভ্যাস। খুব গোছালো সংসারী মানুষ ছিলেন তিনি। ওনার হাতে সব সময় একটা কাস্তে বা নিড়ানি দেখা যেত, যা দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করতেন বা গাছ লাগাতেন। চাচীমাও খুব সৌখিন মানুষ ছিলেন। বাড়ি-ঘর সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতেন। চাচিমা ছিলেন সদা হাস্যোজ্জল! ফুলের গাছ লাগানো, হাঁস মুরগী,কবুতর পোষা ইত্যাদি ছিল চাচীমার সখ। অতিথি আপ্যায়নেও চাচীমা ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক। যে সময়ে মেয়েদের লেখাপড়ার চর্চা করার কোন সুযোগই ছিল…

  • সংসার-ও-আইনজীবী-জীবন
    আত্মজীবনী,  আহম্মদপুর,  দ্বারিয়াপুর,  সাহিত্য

    সংসার ও আইনজীবী জীবন

    সংসার ও আইনজীবী জীবন তাহমিনা খাতুন   স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরুতেই আমাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে আমাদেরকে সর্বস্বান্ত করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী। পোড়া ভিটায় একখানা ছাপড়া তুলে কোন ক্রমে দিন গুজরান করছিলেন আমাদের পরিবারের সদস্যরা।আমাদের পরিবার ছিল মূলত কৃষিজীবী। পাক বাহিনীর অত্যাচারের ফলে কৃষি কাজে স্থিত হতে পারছিল না পরিবার। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী আমার তৃতীয় ভাই মরহুম খন্দকার আবুল খায়ের। আমি সহ চার ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচ, সংসারের খরচ যোগানো একজনের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এ কারণে আমার বিদ্যোৎসাহী ভাই আমাকে বিয়ে দিতে বাধ্য হলেন। স্বাধীনতার পর পরই আমার বিয়ে হয়ে গেল। আমার সৌভাগ্য, আমার ভাইয়ের মতো আমার স্বামীও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। বিয়ের পর আমি ম্যাট্টিক…

  • শ্রদ্ধেয়-শিক্ষকগণ
    আত্মজীবনী,  সাহিত্য

    শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ

    শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ তাহমিনা খাতুন   কিছুদিন আগে আমার স্কুল জীবনের প্রথম শিক্ষক জনাব নূরুল ইসলামের মৃত্যু সংবাদ পেলাম। প্রথম যেদিন আমার গ্রাম দ্বারিয়াপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ক্লাস করতে গিয়েছিলাম, হয়তো বছর চারেক বয়স হবে, জনাব নুরুল ইসলাম আমাকে ডেকে কাছে বসিয়ে একটা ছড়া পড়ে শুনিয়েছিলেন। ছড়াটি এত বছর পরেও স্পষ্ট মনে আছে, এক যে ছিল ময়না, কত যে তার গয় না, আসমার কিছু দেয় না! আসমা আমার ডাক নাম। পরবর্তীতে শিক্ষক নূরুল ইসলাম সাহেব বৈবাহিক সূত্রে আমার ঘনিষ্ট আত্মীয় হয়েছিলেন। তিনি আমার আপন চাচাতো বোন লিলিকে বিয়ে করেছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রায় সবার কথাই আমার মনে আছে! আমি যখন…

  • যেভাব-আইনজীবী-হলাম
    তাহমিনা খাতুন (ভ্রমণ কাহিনী),  ভ্রমণ কাহিনী,  সাহিত্য

    যেভাব আইনজীবী হলাম

    যেভাব আইনজীবী হলাম তাহমিনা খাতুন   ম্যাট্রিক পাশ করার চৌদ্দ বছর পর সিদ্বেশ্বরী ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হলাম। আমার দুই মেয়ে তখন ঢাকার ভিকারুন্নেসা স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। ছেলেকে নার্সারি ক্লাসে ভর্তি করেছি। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হলাম। যদিও আইন পড়ার কথা কখনও চিন্তা করি নাই। শিক্ষকতা করা ছিল জীবনের আকাঙ্ক্ষা। যেহেতু দীর্ঘ বিরতির পর লেখা-পড়া শুরু করেছি, সরকারি-বেসরকারি কোন ক্ষেত্রেই চাকুরি করার আমার সুযোগ নেই। সে কারণে কয়েক জনের পরামর্শে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হলাম এবং আইন পাশ করলাম। এরপর বার কাউন্সিল পরীক্ষা পাশ করে আইনজীবীর সনদ নিলাম এবং ঢাকা বার এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হলাম। আদালতে…

  • একাত্তরের-অগ্নিঝরা-দিনগুলি
    আত্মজীবনী,  আহম্মদপুর,  দ্বারিয়াপুর,  মুক্তিযুদ্ধ,  মুক্তিযুদ্ধে সুজানগর,  সাহিত্য,  সৈয়দপুর (আহম্মদপুর)

    একাত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলি 

    একাত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলি  তাহমিনা খাতুন   ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত হয় পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন। সে নির্বাচনে  জাতীয় পরিষদের ১৬৯ টি আসনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ১৬৭ টি আসনে জয়লাভ করে। পক্ষান্তরে পশ্চিম পাকিস্তানে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি ৮১টি আসনে জয়লাভ করে। পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান, ৩ মার্চ ১৯৭১ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ আনন্দে উৎফুল্ল। সবার আশা এতদিনে বাঙ্গালীর হাতে পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাঙ্গালীর স্বপ্ন ভঙ্গ হতে দেরি হলো না। পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গণ রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ…

  • আমার-শিক্ষাজীবন
    আত্মজীবনী,  আহম্মদপুর,  দুলাই,  দুলাই (গ্রাম),  দ্বারিয়াপুর,  সাহিত্য

    আমার শিক্ষাজীবন

    আমার শিক্ষাজীবন তাহমিনা খাতুন   আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করলাম। পূর্বসূরী বড় বোনদের চেয়ে আলাদা নয় আমার গল্প! উচ্চশিক্ষার সুযোগের অভাব। প্রায় বছর খানেক কেটে গেল ঘরে বসেই। আমার তৃতীয় ভাই মরহুম খন্দকার আবুল খায়ের (বড় তিন ভাইয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ হওয়ায় আমরা  ছোট ভাই-বোনেরা তাঁকে ‘ছোট ভাই’ বলে সম্বোধন করতাম) যাঁর অবদান আমার জীবনে সবচেয়ে বেশী। শুধু আমার জীবনে নয়, আমার ছোট আরও তিন ভাই, বোনের জীবনেও ছোট ভাইয়ের অবদান অনস্বীকার্য! ছোট ভাই নিজে তখন ঢাকায় সামান্য বেতনে একটি চাকুরীর পাশাপাশি নৈশ কলেজে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছিলেন। ছোট ভাই ছুটিতে বাড়ি এলেন। আমার কাছে জানতে চাইলেন কি করে সময়…

  • ভাই-বোনদের-কথা
    আত্মজীবনী,  সাহিত্য

    ভাই-বোনদের কথা

    ভাই-বোনদের কথা তাহমিনা খাতুন   আমারা মোট এগারো ভাই-বোন। আমাদের সবার বড় ভাই মরহুম খন্দকার আবু তাহের। আমাদের বড় ভাইকে আমরা ‘মিয়াভাই’ বলে সম্বোধন করতাম। মিয়া ভাই বয়সে আমার চেয়ে অনেক বড় ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। গ্রাম থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে, মিয়া ভাই আমাদের গ্রাম থেকে বেশ কয়েক মাইল দূরে ধোবাখোলা করোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন, আমার জন্মেরও আগে! মাত্র ৫ম শ্রেণি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া এক বালক নিজ পরিবার ছেড়ে দূর গ্রামের অপরিচিত এক পরিবারে ‘লজিং’ বা ‘জায়গীর’ থেকে লেখা-পড়া চালিয়ে গেলেন। লজিং বা ‘জায়গীর থাকার’ ধারণাটা হয়তো এখন অনেকেরই অপরিচিত। বৃটিশ ভারতের শেষের…

  • আমার-মা
    আত্মজীবনী,  আহম্মদপুর,  দ্বারিয়াপুর,  সাহিত্য

    আমার মা

    আমার মা তাহমিনা খাতুন   আমার মায়ের তুলনা একমাত্র আমার মা নিজেই। নিজের মা বলে বলছি না। প্রত্যেকের মা প্রত্যেকের কাছে প্রিয়। কিন্তু কিছু অসাধারণ বৈশিষ্ট ছিল আমার মায়ের। মাকে নিরক্ষরই বলা যায়। কিন্ত নিজের সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে মা ছিলেন সদা সতর্ক প্রহরী! সময় মত পড়তে বসলাম কিনা, ঠিক মতো স্কুলে গেলাম কিনা, পরীক্ষার ফলাফল কেমন করছি-প্রতিটি ব্যাপারে মায়ের ছিল তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। এছাড়া দেশ বিদেশের বিভিন্ন খবরাখবর নিয়ে মায়ের ছিল অপরিসীম আগ্রহ। আমার ছোট বেলায় আমাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় গৃহিণীদের দেখেছি ঘরকন্না ছাড়া তাঁদের মধ্যে দেশের বা বহির্বিশ্বের ঘটনা জানার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না। আমার মা যেটুকু রিডিং পড়তে পারতেন…

  • আমাদের-আত্রাই-নদী
    আত্মজীবনী,  আহম্মদপুর,  দ্বারিয়াপুর,  সাহিত্য

    আমাদের আত্রাই নদী

    আমাদের আত্রাই নদী তাহমিনা খাতুন   দ্বাড়িয়াপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে আত্রাই নদী। আমাদের ছেলেবেলায় দেখতাম বর্ষাকালে নদীটি কানায় কানায় পানিতে ভরে যেত। অনেক সময় যখন বেশ বড় বন্যা হত, নদীর কূল ছাপিয়ে হাইওয়ের উপর দিয়েও স্রোত বয়ে যেত। প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও বেশ কিছু দিনের জন্য বর্ষাকালীন ছুটিতে যেতে বাধ্য হত। কারণ বিদ্যালয়ের ঘরটিতেও বন্যার পানি ঢুকে পড়ত। বর্ষাকালে আত্রাই যখন পানিতে ভরে যেত, তখন কিছু লোক এক ধরনের জাল দিয়ে (যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হত ‘খরা’) ট্যাংরা, পুঁটি, খলশে, ছোট আকারের শোল, বোয়াল, নলা, মৃগেল, টাকিসহ আরও অনেক ধরনের সুস্বাদু মাছ  ধরতেন। আমাদের পাড়ার বাসিন্দারা সহ অনেকেই বর্ষার…

  • আমাদের-দ্বারিয়াপুর-গ্রাম
    আত্মজীবনী,  সাহিত্য

    আমাদের দ্বারিয়াপুর গ্রাম

    আমাদের দ্বারিয়াপুর গ্রাম তাহমিনা খাতুন   পাবনা জেলার তৎকালীন সুজানগর থানার দ্বারিয়াপুর গ্রামে আমার জন্ম। পাবনা তখন দুই মহকুমা বিশিষ্ট বৃহত্তর জেলা। তৎকালীন পাকিস্তানের পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের সতেরটি জেলার মধ্যে দুই মহকুমা বিশিষ্ট একটি জেলা পাবনা। পাবনা সদর ও সিরাজগঞ্জ। মূল পাবনা জেলার সদর অংশে আমার জন্ম। আমাদের গ্রামটির অবস্থান পাবনা শহর থেকে পাবনা-রাজশাহী হাইওয়ের ছাব্বিশ মাইলের  মাইল ফলকের সাথেই। শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধার অভাবকে  যদি প্রত্যন্ত গ্রাম বা অজপাড়া গাঁ হিসাবে মূল্যায়ন করতে চাই, তবে দ্বারিয়াপুরকে ‘প্রত্যন্ত গ্রাম’ বা ‘অজপাড়া গাঁ’ বলা যাবে না। আবার শিক্ষা ব্যবস্থা বা ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার দিক থেকে বিবেচনা করলে দ্বারিয়াপুরকে গণ্ডগ্রামও বলা যাবে…

error: Content is protected !!