তাহমিনা খাতুন ছড়া, কবিতা, ভ্রমণ কাহিনী, নারীর অধিকার নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে নিয়মিত কলাম লিখছেন। পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ১লা মার্চ পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত আহম্মদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

  • রবি-কবির-জন্ম-দিনে-শুভেচ্ছা
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    রবি কবির জন্মদিনে শুভেচ্ছা

    রবি কবির জন্মদিনে শুভেচ্ছা তাহমিনা খাতুন  পঁচিশ বৈশাখ বিশ্বে হলো এক নতুন সূর্যোদয় সে রবির আলোয় উদ্ভাসিত সকল লোকালয়। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ি আলোকোজ্জল হলো সে আলোয় বুঝি জগৎ খানি হলো ঝলমলো। দিনে দিনে বাড়ল আলো, রঙিন হলো ধরনী নতুন মাঝি কলম বৈঠায়, বাইলো ভাবের তরণী। গল্প, কবিতা, নাটক, নভেল কিছুই রয়নি পিছে রবির হাতের  যাদুর ছোঁয়ায়, মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। কত কাব্য হলো লেখা নাই তো কোনো সীমা বিশ্ব পদক, যশ আর খ্যাতি রবির ঝুলিতে জমা। গান কবিতা পেল প্রাণ রবির হাতের ছোঁয়ায় রবির গানের সুরের যাদু,  ছড়াল বিশ্বময়। রবির গানেই  আশ্রয় নিই, হলে উদাসীন গান শেষ  হলেও  মনে বাজে নানা ছন্দের…

  • বোশেখ-বন্দনা
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন

    বোশেখ বন্দনা

    বোশেখ বন্দনা তাহমিনা খাতুন চৈত্রের অগ্নিবান হলো সবে শেষ বোশেখ এলো যেন নিবারিতে সব ক্লেশ। চৈত্রের রোদ্দুরে মাঠ-ঘাট চৌচির কোথাও মেলে না দেখা শান্তির নীড়। জনশূন্য ফাঁকা নিস্তব্ধ চারিধার ভুলেছিল প্রাণীকূল শোনাতে কলস্বর। ঘুঘুর ক্লান্ত সুর ভরাত দুপুর মনের তারে বাজাতো শুধু বিষাদের সুর। বন-বনানী হয়েছিল কাতর পিপাসায় চাতকের মতো গুনছিল দিন বোশেখের প্রতীক্ষায়। চৈত্রের ভয়াল তাপে ওষ্ঠাগত সব প্রাণ রুদ্র কালবৈশাখী গাইল যেন নতুন দিনের গান। রুদ্র বোশেখের আজ হলো আগমন নতুন দিনের তরে জানাল আমন্ত্রণ। ঈশানকোণে শুনি মেঘের গুরু গুরু সোনালি দিনের বুঝি হলো আজ শুরু। দুরন্ত দূর্বার ঝড়ের হাওয়ায় পুরনো দিন সে তো উড়ে চলে যায়। উন্মাতাল…

  • একটি তর্জনী আর বজ্রকণ্ঠ
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    একটি তর্জনী আর বজ্রকণ্ঠ

    একটি তর্জনী আর বজ্রকণ্ঠ  তাহমিনা খাতুন আজ হতে শতবর্ষ আগে জন্ম নিয়েছিল দেবদূত সম এক মানব এক দুখী জনপদে, সে জনপদের নাম বাংলা সহস্র বছরের পরাধীন জাতি। শোষণে, শাসনে তিলে তিলে হয়ে ছিল মৃতপ্রায় দরদী হৃদয় কেঁদে হয়েছিল আকুল, অসহায় জাতির দুর্দশায় তাই কঠিন শপথ নিয়েছিল সহস্র বছরের নিপীড়িত, বঞ্চিত, দুখী জনতার দুঃখ মোচনের। জগৎ দেখল একটি তর্জনী, কি অসীম শক্তিধর একটি ক্ষুদ্র তর্জনী! পৃথিবী শুনল একটি কণ্ঠের বজ্র নির্ঘোষ কি অপরিসীম বলে বলীয়ান! কি তেজদৃপ্ত সেই বজ্রকণ্ঠ! ঈশান কোণে জমে থাকা কালো মেঘ তা থেকে বিচ্ছুরিত হলো বিজলীর ঝলকানি, তীব্র ঝলকানির সে তড়িৎ শিখায় আলোকিত হলো বাংলার জনপদ উজ্জ্বল…

  • আট-ফাল্গুন
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    আট ফাল্গুন

    আট ফাল্গুন তাহমিনা খাতুন  ভিনদেশি প্রভু চেপে ধরেছিল বাংলার কণ্ঠনালি বাংলা ভুলে শিখতে হবে তাদের শেখানো বুলি! ‘মা’ বলে ডাকা চলবে না, আর দিল এই ফরমান উর্দু ভাষা শেখার তরে, হও বাঙালি আগুয়ান। ‘মানি না মানব না’ যতক্ষণ আছে প্রাণ। গর্জে উঠল বাংলার মানুষ ‘রুখবই রুখব’ মায়ের এ অপমান। ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’ উঠল ধ্বনি সাগরের কূলে কূলে সে ধ্বনি ক্রমে ছড়িয়ে গেল সকল মর্মমূলে। গৃহকোণ ছাড়ি পথে নেমে এল বাংলার লাখো তরুণ তাদের দমাতে ঝলসে উঠল শাসকের সিসার আগুন। জীবন দিল রফিক-বরকত-জব্বার-শফিউর বাংলাভাষার সন্মান যেন তখনো খানিক দূর। জীবন দিল অহিউল্লা, আট বছরের শিশু মায়ের কোল খালি করে, সে…

  • হারানো-ফাল্গুন
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    হারানো ফাল্গুন

    হারানো ফাল্গুন তাহমিনা খাতুন  ফাল্গুন এসেছে আবার ফিরে শূন্য রিক্ত হাতে খুঁজে ফিরি ফাল্গুনী মায়া রুক্ষ অকরুণ খাঁ খাঁ প্রান্তরে। ফাল্গুন খুঁজে  ফিরি জারুলের বনে, খুঁজে তো পাই না তা হারায়েছে জারুলের বন। সাথে নিয়ে গেছে স্নিগ্ধ মনোরম বেগুনির মায়া ফাগুনের আগুন খুঁজি কৃষ্ণচূড়ার বনে। কৃষ্ণচূড়ার বোন উধাও! সাথে হারায়েছে ফাগুনের আগুন রাধাচূড়া ফিরে গেছে, নয়ন জুড়ানো হলুদের আলপনা মুছে গেছে তাই। বৃক্ষহীন শাল বনে নাই পাতা ঝরার গান ফাল্গুনে শুনি না তাই কোকিলের ‘কুহুতান। বাঁশ বন উধাও, ঘাস ফড়িং পুচ্ছ নাচায় না আর বাঁশের কঞ্চির ডগায় ফাগুনের দিনে। ‘বউ কথা কও’ বুঝি ভুলেছে আহ্বান নিষ্ফল বেদনায় দোয়েল ফিঙে ভুলেছে…

  • সুতা-ছেঁড়া-ঘুড়ি-শেষ-পর্ব
    উপন্যাস,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (শেষ পর্ব)

    সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (শেষ পর্ব) তাহমিনা খাতুন   চৌব্বিশ. দেখতে দেখতে কতগুলো বছর পার হয়ে গেছে। হাবিবুর, মোমিনা দুজনেরই বয়স বেড়েছে। ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখে সবাই জীবনে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। তবুও হাবিবুর রহমান এখনো পুরোপুরি অবসরে যাননি। গ্রামের মসজিদে ইমামতি, সংসারের টুকটাক কাজ কর্ম, বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া জমিতে শাক-সবজি লাগানো ইত্যাদি করে সময় কাটান। আষাঢ় মাস। আকাশ কালো করে অঝোরে বৃষ্টি নেমেছে। নূরপুরের মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসছে। হাবিবুর রহমান একটা ছাতা নিয়ে অনেকক্ষণ আগেই মাগরিবের নামাজের ইমামতি করার জন্য মসজিদে চলে গেছেন। মাগরিবের নামাজের ইমামতি শেষ করে হাবিবুর রহমান সাধারণত এশার নামাজের সময় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন এবং একেবারে এশার…

  • সুতা-ছেঁড়া-ঘুড়ি-১১তম-পর্ব
    উপন্যাস,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (১১তম পর্ব) 

    সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (১১তম পর্ব)  তাহমিনা খাতুন বাইশ. নূরপুরের মধ্যপাড়ার জান্নাতুল ফেরদৌসের বাড়ির বড়ো উঠানের এক কোণে অনেকগুলো বাঁশের চাটাই আর খেজুর পাতার পাটি বিছানো। সন্ধার কিছুক্ষণ পরে পূবপাড়া আর দক্ষিণপাড়ার বেশ বিশ-পঁচিশজন বিভিন্ন বয়সের মানুষ উঠানে বিছানো চাটাইয়ের উপর এসে বসল। কিছুক্ষণ পরে জান্নাতুল ফেরদৌসের এক মাত্র ছেলে ফেরদৌস তার বিছানার পাশের জানালা খুলে সবাইকে সালাম দিল। ফেরদৌসের বয়স এখন চব্বিশ বছর। চাটাইয়ে অপেক্ষমান লোকজনের মধ্য থেকে ত্রিশ পঁয়ত্রিশ বছর বয়সের আক্কেল আলি উঠে এল ফেরদৌসের জানালার পাশে। ফেরদৌস আক্কেল আলিকে সালাম দিয়ে বলল, “আক্কেল ভাই, আপনারা সবাই যে উদ্দেশ্যে আমার বাড়িতে এসেছেন, তা আমি জানি। নূরপুরের সমাজ প্রধান…

  • সুতা-ছেঁড়া-ঘুড়ি-১০ম-পর্ব
    উপন্যাস,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (১০ম পর্ব)

    সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (১০ম পর্ব) তাহমিনা খাতুন বিশ. নূরপুরের মধ্যপাড়ায় কলিমউদ্দিন খন্দকারের বড়ো ঘরটার পিছনে ফলের বাগানের বিশাল বিশাল আম, লিচু গাছের ডালগুলো মুকুলের ভারে নুয়ে পড়েছে। পিছনের বড়ো মগডালে বসে একটা কোকিল মধুর সুরে ‘কু-উ-উ কু-উ-উ’ স্বরে ডেকে যাচ্ছে। উঠানের এক পাশে একটা সুপারি গাছের সাথে দড়ি দিয়ে বাঁধা দুটো ছাগল একটানা ‘ম্যা ম্যা’ করে চলেছে। উঠানের আরেক কোণে একটা পলোর নিচে কয়েকটা মুরগির বাচ্চা পলোর বাইরে আসার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পলোর বাইরে মা মুরগি ছানাদের বাইরে বের হয়ে আসার জন্য ডেকে চলেছে। একটা চিল মুরগি ছানাগুলোকে লক্ষ্য করে কয়েকবার হানা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ঘরের বারান্দায় বাড়ির…

  • সুতা-ছেঁড়া-ঘুড়ি-৯ম-পর্ব
    উপন্যাস,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (৯ম পর্ব)

    সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (৯ম পর্ব) তাহমিনা খাতুন আঠারো. কয়েক মাস হলো নূরপুরের মধ্যপাড়ার শিহাব উদ্দিনের বড়ো ছেলে হাবিবুর রহমানের সঙ্গে শাজাহান পুরের জয়নাল মিয়ার মেয়ে মোমিনার বিয়ে হয়েছে। সন্ধ্যার পরে পালকিতে চড়ে মোমিনা স্বামীর ঘর করতে চলে গেল। শূন্য ঘরে ফিরে এলো হালিমা। দশ বছর পরে জয়নালের শোক যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল তাকে। বুকের মধ্যে যে ছাই চাপা আগুন ধিকিধিকি করে পুড়িয়েছে হালিমাকে, মোমিনার মুখের দিকে চেয়ে যে আগুনকে জ্বলে উঠতে দেয়নি, আজ মোমিনাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে সে আগুনের স্ফুলিঙ্গে যেন শতধা বিস্তৃত হয়ে ছড়িয়ে পড়ল হালিমার শূন্য হৃদয় জুড়ে। ঘরের দরজা বন্ধ করে দশ বছরের পুঞ্জীভূত বেদনা আর…

  • সুতা-ছেঁড়া-ঘুড়ি-৮ম-পর্ব
    উপন্যাস,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (৮ম পর্ব)

    সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (৮ম পর্ব) তাহমিনা খাতুন ষোলো. শ্রাবণ মাস। বিকালের দিকে নূরপুরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রাই নদীর পাড়ে একটি বড়ো নৌকা এসে থামল। নৌকা ভর্তি চাল, ডাল, লবণ, তেলের বড়ো বড়ো বস্তা এবং আরও বিভিন্ন মনিহারি সামগ্রীতে ঠাসা। নৌকা থেকে নামল হাবিবুর রহমান; সাথে আরও চার পাঁচ জন লোক। তারা মালপত্রগুলো ধরাধরি করে নামাতে লাগল। মৃত শিহাব উদ্দিন খোন্দকারের বড়ো ছেলে হাবিবুর রহমান এখন বাইশ তেইশ বছরের পরিপূর্ণ যুবক। শিহাব উদ্দিনের বড়ো বোন আর খালা মিলে তাঁর তিন ছেলে মেয়েকে মানুষ করেছেন। আত্রাই নদীর পাড় থেকে সামান্য দূরে নূরপুর গ্রামে প্রবেশের হালট ঘেঁষে হাবিবুর রহমানের মনিহারি সামগ্রীর দোকান।…

error: Content is protected !!