-
মোহাম্মদ আবিদ আলী (২য় পর্ব)
মোহাম্মদ আবিদ আলী (২য় পর্ব) মোহাম্মদ আবিদ আলীর ‘হাদীসের গল্পগুচ্ছ’ গ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছিলেন সুজানগর উপজেলার আরেক কৃতি সন্তান লোকসাহিত্য বিশারদ মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে লিখিত ভূমিকাটি- “ইসলাম ধর্ম সভ্য সমাজে সুপরিচিত। ইসলাম ধর্মের পয়গম্বর হজরত মুহম্মদ (সা.)। আরব দেশে সর্বপ্রথম এই শ্রেষ্ঠ পয়গম্বরের বাণী প্রচারিত হয়েছিল। আরবেরা তখন অসভ্য এবং সভ্য জগত হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে নানা পাপাচারে লিপ্ত হয়ে জীবন যাপন করত। সেদেশে এবং সে জাতির মধ্যে হজরত মুহম্মদের অভ্যুদয় একটি পরম বিস্ময়ের ব্যাপার। আরও অধিক বিশ্বয়ের কথা এই যে তাঁর একক এবং আপ্রাণ চেষ্টার ফলে ইসলামের তৌহিদ-বাণী সমগ্র আরব দেশে পরিগৃহীত হয়েছিল; বর্বর আরবজাতি নব উন্মাদনায় দুর্বার…
-
আত্মকথন (১ম পর্ব)
আত্মকথন (১ম পর্ব) আদ্যনাথ ঘোষ আমি আদ্যনাথ ঘোষ। নেশা লেখালেখি। মানুষের অন্তরে বসবাস। জন্ম পদ্মা নদীর তীরবর্তী হেমরাজপুর গ্রামে। পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলায়। আমি যখন ছোটবেলায় সাতবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি, তখন কবিতা লেখা শুরু করি। সেটা ছিল ১৯৮৪ সাল। ছন্দে ছন্দে লিখতাম। হতো কিনা সেটা বলা মুশকিল। আমার পাশের গ্রামের একটি ছেলে পাবনা শহরে মাঝে মধ্যেই আসত। তার নাম এখন আর বললাম না। তার কাছে একটি কবিতা দিলাম পাবনার একটা পত্রিকায় দেওয়ার জন্য। সে কবিতাটি নিজের নামে পাবনার একটি পত্রিকায় ছাপিয়ে ফেলল। আমি দেখে হতাশ, হতবাক। যাহোক, পরবর্তীতে পাবনা শহরে ১৯৯১ সালে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে স্নাতক কোর্সে…
-
মোহাম্মদ আবিদ আলী (১ম পর্ব)
মোহাম্মদ আবিদ আলী (১ম পর্ব) মোহাম্মদ আবিদ আলী (১৯০৪-১৯৮৭ খ্রি.) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও লেখক। জন্ম: মোহাম্মদ আবিদ আলী ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত ভায়না ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক জীবন: পিতা মুন্সি মিয়াজান মল্লিক ও মাতা বুলুজান নেছা। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মোহাম্মদ আবিদ আলী ছিলেন সবার বড়ো। মোহাম্মদ আবিদ আলী, এম. আকবর আলী ও মোহাম্মদ আবদুল জব্বার এই তিন সহোদর যেন একই বৃত্তে তিনটি ফুল। তাঁদের জন্মদায়িনী মা ‘রত্নগর্ভা’ জননীর সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। পিতা মিয়াজান মল্লিক প্রথম জীবনে মাঝি ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি স্বাধীনভাবে ছো্টো ছোটো ব্যবসা শুরু করেন এবং এই ব্যবসার সীমিত…
-
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলায় মোট ১৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সুজানগর পৌরসভায় ৮টি, ভায়না ইউনিয়নে ১১টি, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে ১৭টি, মানিকহাট ইউনিয়নে ১৫টি, হাটখালি ইউনিয়নে ৮টি, নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নে ১৫টি, সাগরকান্দি ইউনিয়নে ২০টি, রানিনগর ইউনিয়নে ১২টি, আহম্মদপুর ইউনিয়নে ১৬টি, দুলাই ইউনিয়নে ১৪টি, তাঁতিবন্দ ইউনিয়নে ৯টি । আরও পড়ুন সুজানগরের নামকরণের ইতিহাস প্রতিষ্ঠাকাল অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ: জোড়পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৮৫৭ খ্রি.) তালিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৮৮২ খ্রি.) হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৮৮৬ খ্রি.) রাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৮৮৮ খ্রি.) মথুরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯০৩ খ্রি.) আহম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯০৫ খ্রি.) রাইশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়…
-
দয়ার সাগর, ফরিয়াদ, মরণ
দয়ার সাগর মযলুম মুসাফির আল্লাহ তুমি দয়ার সাগর দয়ার নাইকো শেষ, আমি যে অধম এত গুণ আমি কেমনে করিব পেশ। সাত সাগরের পানি কালি হলে আরো আছে যত নদী, কলম করিয়া জগতের গাছ লিখি যদি নিরবধি। শেষ হবেনাকো গুণকীর্তন যতদিন আছি ভবে, পরতে পরতে তোমার গুণের কতকিছু বাদ রবে। তোমার তুলনা তুমি শুধু খোদা সকল রাজার রাজা, কত পাপ করি তবু এ নাদান পায়নাকো কোনো সাজা। দয়ার সাগরে ডুবে আছি খোদা দয়ার সাগরে ভাসি, আমার লাগিয়া বিচারের দিন রেখ দয়া রাশি রাশি। ফরিয়াদ আসমান থেকে আবু বকরের ফের দাও খোদা আজ, সবে দেখেনিকো কেমন ছিলেন মহান দিল দরাজ।…
-
সীমানা বিহীন পৃথিবী
সীমানা বিহীন পৃথিবী তাহমিনা খাতুন বিধাতা যবে গড়িল বসুধা সীমানা নাহি দিয়া, অবাধ আকাশ সীমা নাহি মানে, ভরায় সকল হিয়া! ভোরের সূর্য ছড়ায় উত্তাপ, সকল প্রাণীর তরে আকাশের চাঁদ মধুর কিরণ বিলায় যে অকাতরে! সাগর ছুটিছে, জগত জুড়িয়া, হইয়া আপন হারা, নদীও যে তাই সাগরে মিলায় বিলাইয়া আপন ধারা। সবারে ঢাকিতে স্নেহের চাদরে উঁকি দেয় হিমাচল, তারে আশ্রয়ি ঝর্ণা ধারা ছুটিতেছে অবিরল! সবুজ বনানী সীমা নাহি মানে, নাহি মানে মানচিত্র, সবারেই সে ছায়া দিয়ে যাবে খুঁজিবে না কোন গোত্র! পুষ্প বিলায় রুপের রাশি না মানিয়া দেশ-কাল পাখি যে সদাই শুনাইছে গীত বাধা হীন উচ্ছ্বল! মানুষই টানিল সীমা রেখা উন্মুক্ত…
-
সমকালীন ভাবনা
সমকালীন ভাবনা শফিক নহোর সমাজের ভেতরে সমাজপতিরা একটা অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি করার পর; সমাজে নারীর প্রতি অবহেলা, যৌন নির্যাতন, হত্যা ও শারীরিক নির্যাতন বেড়েছে। এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় কী? এ কথা কোনো ভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই, সারা দেশে ধর্ষণ, গণ-ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, হত্যা ও শারীরিক নির্যাতনের যেন জোয়ার বইছে। করোনাকালীন শেষ না হতেই দেশে যেন চলছে নীরব ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। অতিক্রম করতে হচ্ছে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। মনের ভেতর সবকিছুর একটা ভয় ঢুকে গেছে। কিছুতেই এর লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। একটা সময় বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের প্রকোপ ছিল খুব, সন্ত্রাসবাদ হয়ে উঠেছিল শঙ্কিত জীবনের আরেক নাম। এখন সে জায়গাটি দখল করে…
-
মরুর দুলাল, মরু-ভাস্কর, কবিতার ফুল
মরুর দুলাল ইনামুল হাসান মিসবাহ তোমার ছোঁয়ায় ধন্য হলো তুচ্ছ মাটির ভূমি, সব মানুষের সেরা মানুষ মরুর দুলাল তুমি। মা আমিনার নীড় কুটিরে আসলে তুমি ভোরে, তোমায় পেয়ে হাসলো ধরা, সালাম তোমার তরে। আঁধার রাতে জ্বাললে আলো, উজল হলো সব, মরুর বুকে জাগলো সাড়া, উঠলো বিজয় রব। খোদার প্রিয় হাবীব তুমি, সব নবীর-ই সেরা, সকল ভালো গুণে তোমার জীবন-সীরাত গড়া। সাম্য-মৈত্রী আনলে ধরায়, বইলো খুশির বান, নীচ-বড়লোক সবার কাছেই তুমি তাদের প্রাণ। মরু-ভাস্কর মূর্খতার আঁধারে ডুবে ছিলো দুনিয়া, তুমি এসে জ্বাললে দ্বীনের আলো, প্রতিটা প্রহর জুড়ে ছিলো ভয়-শংকা, তোমার পরশে সব বদলে গেলো। …
-
ডা. অশোক কুমার বাগচী
ডা. অশোক কুমার বাগচী উপমহাদেশের চিকিৎসাশাস্ত্রের এক অত্যন্ত পরিচিত ব্যক্তিত্ব, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নিউরোসার্জন। তিনিই সর্বপ্রথম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসুস্থ জীবন সম্পর্কে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দাখিল করেন। জন্ম: ডা. অশোক কুমার বাগচীর পৈত্রিক নিবাস পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত তাঁতিবন্দ গ্রামে। তিনি ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে নভেম্বর রংপুরে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক জীবন: ডা. বাগচীর পিতার নাম দ্বিজদাস বাগচি। তাঁর জন্মের সময় পিতা দ্বিজদাস বাগচী পাবনা শহরের ‘বাগচি ফার্মেসি’তে ডাক্তারি করতেন। পিতা ও পিতামহ উভয়েই সেকালের নাম করা ডাক্তার ছিলেন। শিক্ষা জীবন: ডা. বাগচী ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে পাবনা জি.সি আইতে ভর্তি হন। সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে…
-
পরাভূত
পরাভূত শফিক নহোর জীবনে অনেক ছোটো খাটো ব্যথা থাকে যা ইচ্ছে করলেই কারো নিকট প্রকাশ করা হয় না। গত বছর মেজো আপার মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে গেলাম। মোবাইল ফোনের দাওয়াত। আগে মানুষ দাওয়াত দিতে আসত। বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে আসত। এখন আর এ সব নেই। ডিজিটাল যুগ বলে কথা। সেদিন রাতে দুলাভাই আমাকে যেভাবে জড়িয়ে ধরেছিল! তা ছিল ভারি অন্যায়। মান সম্মানের ভয়ে চেপে গেলাম। থাক, একটু দুষ্টুমি তো করতেই পারে, তাই নয় কি! এভাবেই আমার মতো কত মেয়ে প্রতিদিন প্রিয় কিছু মানুষের দ্বারা নিদারুণ নিপীড়ন সহ্য করে। আমার মতো সরল মেয়েদের কপালে এই থাকে। আমি ভয়ে কাউকে কিছুই বললাম না।…






























