জাহাঙ্গীর পানু মূলত একজন কবি। এছাড়া তিনি গল্পও লেখেন।তিনি ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের উলাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

  • তুমি-কাঁদিতেছ-কেন
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    তুমি কাঁদিতেছ কেন, অযাচিত অহমিকা

    তুমি কাঁদিতেছ কেন? জাহাঙ্গীর পানু   শীতকালে এমন বৃষ্টি দেখিনি কখনো! ব্যথিত হৃদয়ে তুমি কাঁদিতেছ কেন? নেই বৈশাখের ইশান কোণের নিকষ কালো মেঘ নেই আষাঢ়ের কালো মেঘের ঘনঘটা তবে কেন তোমার চোখে ঝরছে বারিধারা। হঠাৎ সঙ্গীহারা কোনো যুবতীর আর্তনাদের মতো ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ নীড়হারা আশ্রয়হীন পাখির মতো যেমন কাঁদে ব্যর্থ প্রেমিকের বিধ্বস্ত হৃদয় ; অনেক জমানো কথা না বলার অভিযোগে- আশাহত পৌষ তুমি কাঁদিতেছ কেন? নেই নদীর উত্তাল তরঙ্গের প্রথাগত আস্ফালন নেই শ্রাবণের বিরামহীন বারিধারার প্রচণ্ড ঢল নেই নদী স্রোতের তোরে নদীভাঙা কোনো জনপদ তবে কেনো নদীগর্ভে সব হারানো রমণীর মতো- নির্লীপ্ত মাঘ তুমি কাঁদিতেছ কেন? নেই দখলদার কোনো রাজার রক্তচক্ষুর…

  • বেকারত্ব
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    বেকারত্ব, বনের পশু, ধূসর স্মৃতি

    বেকারত্ব জাহাঙ্গীর পানু   বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে হেঁটে চলছে ফুটপাত ধরে দমকা হাওয়ায় উড়ে উস্কো খুস্ক মাথার চুল লোকাল বাসের ভাড়া মিটিয়ে চলছে হেটে দিতে হবে মৌখিক পরীক্ষা অনেকদিন ধরে শুধু ইন্টারভিউ দিয়ে চলেছে গ্রামের অজপাড়াগাঁয়ের বেকার ছেলেটি কিন্তু সরকারি চাকুরীতো দূরের কথা কোনো বেসরকারি চাকুরীও ভাগ্যে জোটে না।   শরীরের ঘামে অনার্স প্রথম বর্ষে বাবার কিনে দেয়া হাত ঘড়িটা কেমন যেনো কালচে হয়ে গেছে। অনেকদিন হলো একজোড়া নতুন জুতা কেনা হয় না; একপাশে ক্ষয়ে গেছে, দ্রুত হাঁটতে গেলে অনেক অসুবিধা হয়।   বাড়িতে অসুস্থ বাবা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকে ছেলের ভালো একটা চাকুরী হবে, ছোট বোনের বিয়ের বয়স হয়েছে…

  • অন্ধকারের-জ্যোতি
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    অন্ধকারের জ্যোতি, যখন সন্ধ্যা আসন্ন, ক্ষতচিহ্ন

    অন্ধকারের জ্যোতি জাহাঙ্গীর পানু   নিকষ কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত ধরণী অসভ্য মানবতা ধ্বংস সামাজিক রীতি। চারিদিকে হত্যাযজ্ঞ নেই মানবিক গুণাবলী বহু ঈশ্বর বিভক্তিতে জ্বলছে পূজার দীপালি। আদিকালের আবাসভূমি মূল্যহীন মান সৃষ্টিতত্ত্বের শিকড় মূল ইবরাহিমের দান। স্বীয় পুত্রের পদাঘাতে বইলো ঝর্ণাধারা অনুর্বর বাক্কা হলো সজিবতায় ভরা। মধ্যগগণে উঠলো চাঁদ স্নিগ্ধ হলো ধরিত্রী অন্ধকার কেটে গেলো সভ্য সমাজ রীতি। হস্তে তব ঐশীবাণী হবে না পথ বিচ্যুতি মানবতার মুক্তির বাহক অন্ধকারের জ্যোতি।   যখন সন্ধ্যা আসন্ন অস্তগামী সূর্যের লালিমার রক্তিম আভার আলোকছটা পেরিয়ে পৃথিবীর বুকে নামে সন্ধ্যা। পাখির কিচিরমিচির কলকাকলি থেমে আসে ফিরে চলে পাখিরা নীড়ের পানে রাখাল গো চারণভূমি ত্যাগ করে ধেনুরে…

  • শূন্য-তরী
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    শূন্য তরী, বিচ্ছিন্ন পঙক্তিমালা, স্বপ্ন সারথি, ইচ্ছে ঘুড়ি

    শূন্য তরী জাহাঙ্গীর পানু   যাচ্ছে সময় যাচ্ছে দিন মাস পেরিয়ে বছর যায় ভালবাসার শূন্য তরী একলা হাতে বৈঠা বায়।   কাল যে মনে রাধার বাস আজ সে মনে সর্বনাশ কৃষ্ণ ডাকে বাশির সুরে দুপুর বেলার তপ্ত রোদে।   ফাগুন হাওয়া থমকে যায় কোকিলের সুর বিহনে নদীর বুকে ঢেউ থেমে যায় অবাক চেয়ে দূর গগণে।   দেখবো না আর চাঁদের হাসি শরতের নিশিত রাতে। জীবনে আর ফুটবে না ফুল ফাগুনের কোনো প্রাতে।     বিচ্ছিন্ন পঙক্তিমালা গভীর রাতে অন্ধকারে পথচলার বাতি বন্ধুর পথে ছুটে যাওয়া জীবন চলার সাথি।   চলেছি পথে একলা মনে তুমিও কিন্তু তাই। সুযোগ পেয়ে সেদিন কেনো…

  • কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    শ্বাশত বাণী, স্রষ্টার লীলাশৈলী, সৌখিন কবি

    শ্বাশত বাণী জাহাঙ্গীর পানু   পৃথিবী নিমজ্জিত ছিল আচ্ছন্ন অন্ধকারে। বিপন্ন মানবতা, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মরু প্রান্তর পাহাড় বেষ্টিত কা’বার চত্বরে বিশৃঙ্খল পরিবেশ মদ, জুয়া ও নারীর প্রতি আসক্তিতে নৈতিক স্খলন আন্তঃগোত্রীয় কলহপূর্ণ সামাজিক অবক্ষয়। আসিল নতুন সুর্য সাথে নিয়ে স্রষ্টার অমিয় বাণী। পাঠে তার হৃদয় হয় বিহ্বলিত, সুরের মুর্চ্ছনায় আচ্ছন্ন হয় গোটা সৃষ্টিকুল। নিবিষ্ট চিত্তে শ্রবণে সমস্ত মানব জাতি পায় আত্মতুষ্টি পথহারা পাখি ফিরে পায় তার আপন নীড়ের ঠিকানা বিজ্ঞানীরা গবেষণায় খুঁজে পায় নতুন আবিস্কারের সূত্র আউলিয়ারা পায় তাঁদের মহান স্রষ্টার সান্নিধ্য। সাধারণ মানবকূল জীবন যাপনে পায় সহজ সরল পথ নশ্বর পৃথিবীর কোলাহলপূর্ণ, মিছে মায়া শেষে যে পথ তাকে নিয়ে যাবে-…

  • স্বপ্ন-ও-স্বাধীনতা
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    স্বপ্ন ও স্বাধীনতা, অস্পৃশ্য স্বপ্ন, বাংলার কৃষক

    স্বপ্ন ও স্বাধীনতা জাহাঙ্গীর পানু   আমার স্বপ্ন দেখা স্বাধীনতাকে ঘিরে অবারিত দিগন্ত জোড়া সবুজ ধানক্ষেতে মৃদু হাওয়ায় দোল খাওয়া পাখির কলকাকলীতে কেটে যায় ভোর স্রোতস্বিনী পদ্মার কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে দেখা ঢেউ বয়ে যাওয়া ফাগুনের গাছের ডালে গজানো কচি পাতার নিঃশব্দে বেড়ে ওঠা, আনন্দে উদ্বেলিত বিকেলের সবুজ প্রান্তরে শিশু কিশোরের ছোটাছুটি, সকালে পূব আকাশে সোনালী রঙে উদিত হওয়া রুপালী রবি। পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় ঝলমলে শ্রাবণের কুমারী নদী। আমার স্বপ্ন বুনন স্বাধীনতাকে নিয়ে ইচ্ছের স্বপ্নেরা যেন থমকে না যায় পথহারা পাখিদের ভিড়ে, মানবিক মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য জীবন যাবে না অন্যের পানে চেয়ে। নারীর সম্ভ্রম যেন না যায় অন্যের লালায়িত জিঘাংসা…

error: Content is protected !!