• একুশ-মানেই-স্বাধীনতা
    কবিতা,  মো: হাতেম আলী,  সাহিত্য

    একুশ মানেই স্বাধীনতা, অচিন পাখি, আত্মবিলাপ

    একুশ মানেই স্বাধীনতা মো. হাতেম আলী   একুশ মানে বাঁচার ভিত বীর বাঙালীর অহংকার। একুশ মানে স্বপ্ন বুনন পথ দেখালো স্বাধীনতার। একুশ মানে শিশুর মুখে প্রথম শোনা মিষ্টি ভাষা। একুশ  মানে ভায়ের রক্তে বন্দী প্রাণে মুক্তির আশা। একুশ মানে শিশুর মনে গল্প-ছবির বর্ণমালা। একুশ মানে ফাগুন মাসের আগুন ঝরা বরণডালা। একুশ মানে তাজা প্রাণের রক্ত রাঙা রাজপথ। একুশ মানে মনের চেতনা সত্য ন্যায়ের দীপ্ত রথ। একুশ মানে হার না মানা শহীদ স্মৃতির দৃশ্যপট। একুশ মানে মায়ের ভাষায় বলতে স্বাধীন মতামত। আরও পড়ুন মো: হাতেম আলীর কবিতা- স্বর্গসুখ কাগজের ফুল সাধ ছিল মা   আত্মবিলাপ স্বার্থের পৃথিবীতে দলবল নিয়ে সাথে ঘুরতেছি…

  • আকাশে-ডানা-মেলে
    আদ্যনাথ ঘোষ,  কবিতা,  সাহিত্য

    আকাশে ডানা মেলে, কবিতার জমিনে, যদি তুমি হও কালোরাত্রি

    আকাশে ডানা মেলে আদ্যনাথ ঘোষ   তোমার হৃদয়ের গোপন গান বসন্ত বাতাসের ডানায় ভর করে সকলকে ছাড়িয়ে সব পথ ফেলে আকাশের পানে মেঘের রাজ্যে কেন বারে বারে উড়ে যায় ফেলিয়া তোমার দেহ-তনু-মন কাহারে ভালোবাসো সখি? নিবিড় ভালোবাসার সংগীতে কী গান শোনো অই নক্ষত্রপুঞ্জে আর দূর অশেষ নীলিমার কানে কী চাওয়া তোমার গোপন প্রাণে তোমাকে পাবার আশায় ঝরাপাতার মতো নিজেরে ছেড়ে বহুবার তোমার বৃক্ষতলে লুটিয়ে পড়েছি চৈতি হাওয়ার দাপটে ঘুমাতে চেয়েছে সে তোমার ছায়াতলে পাতাহীন তুমিও মৃত বৃক্ষের মতো আকাশে মেলে ডানা হারিয়ে ছিলে তুমি আপন স্বর্গ ভুবনে। আরও পড়ুন আদ্যনাথ ঘোষের কবিতা- স্মৃতিছায়া দেহের ভাঁজে কত পথ কান্নার কৈলাসে  …

  • প্রতীক্ষিত-বৃষ্টি
    গল্প,  শাহানাজ মিজান,  সাহিত্য

    প্রতীক্ষিত বৃষ্টি

    প্রতীক্ষিত বৃষ্টি শাহানাজ মিজান   আকাশে মেঘ জমতে শুরু করলে ময়ূরী যেমন পেখম মেলে নাচে, মিনুর মনটাও তেমন করে নেচে ওঠে। এক দৌড়ে ছাদে চলে যায়। মেঘকালো লম্বা চুলগুলো বাতাসে উড়তে থাকে। সেই সাথে শাড়ির আঁচল। মিনু আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রাণ ভরে নিশ্বাস নেয়। এরপর নাচতে-নাচতে, গাইতে-গাইতে ফুলের টবগুলো এক সাথে করে। বৃষ্টিতে ভিজে, আবার সবকিছু ঠিকঠাক করে রেখে নিজের রুমে আসে। এটা ওর মা একদম পছন্দ করেন না। কিন্তু ওর বাবা মেয়ের এই আনন্দে, নিজে খুব আনন্দিত হন। তাঁদের দুই মেয়ের মধ্যে মিনু বড়। মিনুকে তিনি একটু বেশিই ভালোবাসেন। ছয়তলা বাড়িটা ওদের নিজেদের। মিনু ছাদে হাটতে খুব পছন্দ করে।…

  • বেকারত্ব
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    বেকারত্ব, বনের পশু, ধূসর স্মৃতি

    বেকারত্ব জাহাঙ্গীর পানু   বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে হেঁটে চলছে ফুটপাত ধরে দমকা হাওয়ায় উড়ে উস্কো খুস্ক মাথার চুল লোকাল বাসের ভাড়া মিটিয়ে চলছে হেটে দিতে হবে মৌখিক পরীক্ষা অনেকদিন ধরে শুধু ইন্টারভিউ দিয়ে চলেছে গ্রামের অজপাড়াগাঁয়ের বেকার ছেলেটি কিন্তু সরকারি চাকুরীতো দূরের কথা কোনো বেসরকারি চাকুরীও ভাগ্যে জোটে না। শরীরের ঘামে অনার্স প্রথম বর্ষে বাবার কিনে দেয়া হাত ঘড়িটা কেমন যেনো কালচে হয়ে গেছে। অনেকদিন হলো একজোড়া নতুন জুতা কেনা হয় না; একপাশে ক্ষয়ে গেছে, দ্রুত হাঁটতে গেলে অনেক অসুবিধা হয়। বাড়িতে অসুস্থ বাবা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকে ছেলের ভালো একটা চাকুরী হবে, ছোট বোনের বিয়ের বয়স হয়েছে মা বলেছে,…

  • শ্রদ্ধাঞ্জলি
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    শ্রদ্ধাঞ্জলি, সময় কি হইবে তোমার

    শ্রদ্ধাঞ্জলি তাহমিনা খাতুন   এই দিনে, আজিকার এই ক্ষণে, অনেক বছর আগে! তোমরা করে গেছ আত্মদান! ছিনে এনেছিলে ভাষার তরে অযুত সন্মান! সহনিকো তোমরা মায়ের ভাষার এতটুকু অপমান, অকাতরে রাজপথে ঢেলে দিয়েছিল তাই আপন প্রাণ! শাসকের রক্তচক্ষু তোমাদের কাছে, পায়নিকো কোন দাম! জগত তুলেছে অতুল শিখরে, তোমাদের সব নাম! আপন বুকের শোণিতে রাঙায়েছো কঠিন সে রাজপথ, আজও তাই মোরা স্মরণ করি যে, সালাম রফিক বরকত! ভাষার তরে তে আর কোন জাতি, দেয়নি বুকের খুন, তোমাদের সে খুনে বুঝি তাই, রেঙ্গে উঠেছিল আটই ফাল্গুন! শফিক, শফিউর, ওহিউল্লাহ আরও কত, অজানা নাম! তোমাদের তরে আজিও বাঙ্গালী তাই, জানায় লাখো সালাম! শিমুল, পলাশ,…

  • প্রবন্ধ,  মোহাম্মদ আব্দুল বাছেত (প্রবন্ধ),  সাহিত্য

    ভাষা নিয়ে ভাবনা

    ভাষা নিয়ে ভাবনা (ক). দিবস নিয়ে আমাদের ভীষণ দূর্বলতা। কিন্তু সেই দিবসের তাৎপর্য , উপলব্ধি প্রাত্যহিক জীবনে প্রলম্বিত নয় বরং সূর্যাস্তেই তার পরিসমাপ্তি। অতঃপর নতুন দিবস, নতুন আয়োজন। একই অতিথি-বক্তা , আর শ্রোতা-দর্শক আগেরই।  প্রায়শ মঞ্চও একই থাকে। এক্ষেত্রে দেশের প্রাজ্ঞ-বিজ্ঞ বুদ্ধিজীবীরাও  সেই দিবস নিয়ে বক্তব্য দেন, লেখালেখি করেন ঐ একদিনই। অতঃপর নতুন দিবস। মহান একুশের একুশ উৎসব হলো। কত আয়োজন। প্রভাত ফেরি , পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনেকে  অনেক আগে কলাম লিখে রেখেছেন পত্রিকায় চাপাবেন, বক্তব্য রপ্ত করছেন, রাজনীতিবিদগণ ভাষা শহীদদের শোকে ও শ্রদ্ধায় কাতর হলেন, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্বাচনেচ্ছুরা পোস্টার-ব্যানার বানিয়ে গাছে, ডালে, চালে…

  • বইমেলা-ও-সরদার-জয়েনউদ্দীন
    প্রবন্ধ,  সাহিত্য

    বইমেলা ও সরদার জয়েনউদদীন

    বইমেলা ও সরদার জয়েনউদদীন   সাহিত্যকৃতি ছাড়াও ইতিহাসে পাবনার সুজানগরের সন্তান সরদার জয়েনউদদীনের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের বইমেলার আন্দোলনের প্রবর্তক, পথ প্রদর্শক ও প্রধান সংগঠক হিসেবে। বইয়ের অসীম শক্তি যা মানুষের মেধা ও মননকে বিকশিত করে। সরদার জয়েনউদদীন যথার্থ উপলব্ধি করেছিলেন যে, দেশের মানুষ যত বই পড়বে দেশ ও জাতি তত উন্নত হবে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান একটি নিবন্ধে (একুশে বইমেলার গোড়ার কথা, প্রথম আলো, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭) বাংলাদেশের বইমেলা প্রসঙ্গে যে বিবরণ দিয়েছেন, তা যেমন চমকপ্রদ তেমনি কৌতুহলোদ্দীপক। গত শতাব্দীর ষাট দশকের প্রথম দিকে সরদার জয়েনউদদীন বাংলা একাডেমি গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদে নিয়োজিত ছিলেন। তখন বাংলা একাডেমিতে…

  • গন্ধরাজ
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    গন্ধরাজ, গোলাপ ফুল

    গন্ধরাজ তাহমিনা খাতুন   গন্ধরাজ! সুবাসের রাজা তুমি, এক অপরুপ ফুল, স্নিগ্ধ, পবিত্র রুপটি তোমার, নাহি যার তুল! বর্ষার বারি ধারা যবে, পড়ে ঝরি অবিরল তোমার শাখায়! সবুজে, সাদায় গলাগলি করি ওঠো জাগি অসীম উচ্ছলতায়! বর্ষার ধারা সনে মিতালী তোমার, বিমোহিত হয়ে হেরি, তব পুষ্পের বাহার! শোভা সুষমা আর সুরভিত আবেশ, দেখা শেষ হয় তবু, না যেন ফুরায় ভাল লাগার রেশ! জগত জুড়িয়া এমন রুপ বুঝি, কেহ খুঁজিয়া নাহি পায়, ডুবিয়া থাকিতে চায় মন, তোমার সুবাস ভরা স্বপ্ন মদিরায়! তোমার সৌরভ, সুধায় ভরুক বসুন্ধরা, দূর হয়ে যাক, সব দুঃখ জ্বরা! চারিদিকে ছড়াও তব রুপের ডালি, দূর হয়ে যাক সব মনের…

  • তিল-তাল
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    তিল তাল

    তিল তাল শফিক নহোর   ক. প্রচণ্ড শীত। বাড়ি থেকে আসার সময় ছোট একটা চাদর নিয়ে এসেছিল শরিফ। যদিও আজ কয়েক দিনে সে বুঝতে পারছে, চাদর দিয়ে শীতকে কাবু করা যাবে না । শরিফকে এয়ারপোর্ট থেকে আলী নামের একজন ভদ্রলোক রিসিভ করেছে। ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে কথা হয়েছে। শরিফ অনুভব করতে পারল, ভাপা পিঠা তৈরি করতে যেমন পানির ভাপ বের হয়, কান দিয়ে ঠিক তেমন গরম ভাপ বের হচ্ছে । কেরালা একটা হোটেল থেকে রাতের খাবার খেয়ে, দুজন রওনা হল শরাফিয়া নামক ছোট্ট শহরে। সেখানে তিনতলা একটা বাড়িতে শরিফের থাকার জায়গা ঠিক করে রেখেছে আলী। লোকটাকে আজ ক’দিন দেখে যা বুঝতে…

  • এম-আকবর-আলী
    কৃতি ব্যক্তিবর্গ,  গবেষক,  গোপালপুর (ভায়না),  ভায়না,  মাধ্যমিক বিদ্যালয়,  লেখক পরিচিতি,  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,  শিক্ষাবিদ,  সমাজসেবক,  সাহিত্য

    এম. আকবর আলী

    বাঙালি রেনেসাঁর অগ্রদূত এম. আকবর আলী। সুজানগর তথা পাবনার কৃতী সন্তানদের মধ্যে এম. আকবর আলী প্রথম সারির একজন। শিক্ষাবিদ, গবেষক, লেখক, চিন্তাবিদ, ইতিহাসানুরাগী, ঐতিহ্য সন্ধানী, দানশীল প্রভৃতি অভিধায় তাঁকে ভূষিত করা যায়। সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সাতবাড়িয়া কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। জন্ম: লেখক এম. আকবর আলী ১৯১১ সালের ১ মার্চ, পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত ভায়না ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে জন্ম জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক জীবন: পিতা মুন্সি মিয়াজান মল্লিক ও মাতা বুলুজান নেছা। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে এম. আকবর আলী ছিলেন দ্বিতীয়। মোহাম্মদ আবিদ আলী, এম. আকবর আলী ও মোহাম্মদ আবদুল জব্বার এই তিন সহোদর যেন…

error: Content is protected !!