-
এইচএসসি/সমমান পরীক্ষার ফলাফল-২০২১
সুজানগর উপজেলার সকল কলেজের এইচএসসি/সমমান পরীক্ষার ফলাফল-২০২১ ১. চিনাখড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ বাণিজ্য: পাস=৭; ফেল=১; জিপিএ-৫=১ মানবিক: পাস=৪২; ফেল=৬; জিপিএ-৫=১ বিজ্ঞান: পাস=১৯; ফেল=২; জিপিএ-৫=১১ মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা=৭৪, পাস=৬৮, পাসের হার=৯১.৮৯%; জিপিএ-৫=১৩ ২. রানীনগর বিদ্যালয় ও কলেজ (ভাটিকয়া) বাণিজ্য: পাস=৮; ফেল=১ মানবিক: পাস=২০; ফেল=১ মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা=২৮, পাস=২৮, পাসের হার=১০০% ৩. সুজানগর মহিলা কলেজ বাণিজ্য: পাস=৪ মানবিক: পাস=১২৬; ফেল=৫; জিপিএ-৫=১৬ বিজ্ঞান: পাস=১১; ফেল=৩ মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা=১৪৫, পাস=১৪১, পাসের হার=৯৭.২৪%; জিপিএ-৫=১৬ ৪. সরকারি ড. জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজ বাণিজ্য: পাস=১২৮; ফেল=২৬; জিপিএ-৫=৭ মানবিক: পাস=২৮৬; ফেল=১০; জিপিএ-৫=২৭ বিজ্ঞান: পাস=১৩৮; ফেল=৩০; জিপিএ-৫=১৮ মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা=৬০৭, পাস=৫৫২, পাসের হার=৯০.৯৪%; জিপিএ-৫=৫২…
-
তিতাস নদীর পাড়ে
তিতাস নদীর পাড়ে তাহমিনা খাতুন তিতাসের পাড়ে কাটায়েছি, খানিক সময় সবটুকু ভাল লাগায় জুড়ালো হৃদয়, আদিগন্ত বিস্তারি সবুজ প্রান্তর ভরিয়া দিল মনটি আমার। অন্তর ছুঁয়েছিল সর্ষে ফুলে ছাওয়া হলুদ মাঠখানি দোলা দিয়াছিল তিতাসের বুক চিরে ছুটে যাওয়া ছোট ছোট তরীগুলি, শ্বেত, শুভ্র ঢেউগুলি আছড়িয়া পড়ে কূলেতে তাহার যেন দেয় হাতছানি! নিয়ে যেতে চায় বুঝি! কোন দূর অজানায়। তিতাসের বুকে ঝাঁপ দেয় গাঙচিল উড়ে যায় পলকে, ঠোঁটে ধরা তার রুপালী কোন মাছ শুভ্র, বাদামী রঙের পাতি হাঁস করিতেছে জল কেলী, কেহ বা সবে সাঙ্গ করি সন্তরন, দিতেছে বুঝি দিবা নিদ্রা পরম পুলকে! আপন পালকে লুকায়ে হলুদ ঠোঁট খানি তার! সাধু…
-
বড় বাবা (শেষ পর্ব )
বড় বাবা (শেষ পর্ব ) শাহানাজ মিজান রিফাতের মা বললেন, __না ভাইজান। এই বাড়িতে বউ হয়ে আসা থেকে শুরু করে সন্তানদের বড় হয়ে ওঠা, ওদের ভালো-মন্দ সবকিছু আপনি দেখাশোনা করেছেন। তাই আমি মনে করি শুধু রিফাত নয়, এ বাড়ির সব ছেলে-মেয়েদের সমস্ত ব্যাপারে কথা বলার, তাদের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার আপনার। __না রিফাতের মা। তোমরা শুনলে না, মেঝ কি বলল? __(চোখের পানি মুছে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে) শুনেছি ভাইজান। আমি আমার স্বামীর হয়ে আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি। __ভাইজান, কারো অজানা নাই যে আপনি এই সংসারের জন্য, সব ভাই-বোনদের জন্য কি করেছেন। কেউ যদি সেটা অস্বীকার করতে চায় সেটা…
-
অন্ধকারের জ্যোতি, যখন সন্ধ্যা আসন্ন, ক্ষতচিহ্ন
অন্ধকারের জ্যোতি জাহাঙ্গীর পানু নিকষ কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত ধরণী অসভ্য মানবতা ধ্বংস সামাজিক রীতি। চারিদিকে হত্যাযজ্ঞ নেই মানবিক গুণাবলী বহু ঈশ্বর বিভক্তিতে জ্বলছে পূজার দীপালি। আদিকালের আবাসভূমি মূল্যহীন মান সৃষ্টিতত্ত্বের শিকড় মূল ইবরাহিমের দান। স্বীয় পুত্রের পদাঘাতে বইলো ঝর্ণাধারা অনুর্বর বাক্কা হলো সজিবতায় ভরা। মধ্যগগণে উঠলো চাঁদ স্নিগ্ধ হলো ধরিত্রী অন্ধকার কেটে গেলো সভ্য সমাজ রীতি। হস্তে তব ঐশীবাণী হবে না পথ বিচ্যুতি মানবতার মুক্তির বাহক অন্ধকারের জ্যোতি। আরও পড়ুন কবি জাহাঙ্গীর পানুর কবিতা- শ্বাশত বাণী বেকারত্ব যখন সন্ধ্যা আসন্ন অস্তগামী সূর্যের লালিমার রক্তিম আভার আলোকছটা পেরিয়ে পৃথিবীর বুকে নামে সন্ধ্যা। পাখির কিচিরমিচির কলকাকলি থেমে আসে ফিরে চলে…
-
বড় বাবা (৩য় পর্ব)
বড় বাবা (৩য় পর্ব) শাহানাজ মিজান অলিদ থতমত খেয়ে বললো , __না, মানে তোর বাবা যে রাগি মানুষ, আমি তো খুব ভয় পাই। আর তুইও তো এখনো দিপাকে কিছু বলিসনি। তাই বলছিলাম আর কি… __হুম দিপাকে কালই বলবো। ছাত্রছাত্রীরা একে একে সবাই বের হয়ে যাওয়ার পরে, দিপা বই খাতা গোছাচ্ছিলো। এ সময় রিফাত এসে বললো, __দিপা তোমার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো। দিপা মাথা নিচু করে, সবকিছু গোছাতে গোছাতেই বললো, __আমি জানি আপনি কি বলবেন। কিন্তু….. দিপাকে থামিয়ে দিয়ে রিফাত বললো, __প্লিজ, দিপা। কথা বলার আগেই, কথার মাঝখানে কিন্তু বসিয়ে দিও না। __কি করবো বলুন? কিন্তু যে বসাতেই হবে…
-
স্বর্গসুখ, নীড়হারা এ হৃদয়, শহুরে ছোঁয়া
স্বর্গসুখ মো. হাতেম আলী সাধ জাগে মা দেখবো তোকে ধারের কাছে পাই না খুঁজে ; ও তুই থাকতি মাগো যে ঘরখানায় সে ঘরখানা ফাঁকাই আছে। মাগো তোকে ছাড়া একা একা আঁধার ঘরে যায় না থাকা- আমি অন্ধকারে রাত-দুপুরে চমকে উঠি ঘুমের মাঝে। তাইতো দুঃখে সারা রাত্রি কাটে পোড়া চোখে ঘুম না আসে….।। আমার বদনখানি অশ্রুধারায় সিক্ত হয় মা তুই না থাকায় ; আমি দূঃখের নদী সাঁতরে ফিরি দরদী কেউ নেই মা হেথায়। এই বুকে খরস্রোতা নদী বইছে মাগো নিরবধি – আমার চতুর্দিকে থৈ থৈ পানি তবুও কেন প্রাণ না জুরায়। মা তুই সর্ব রোগের মহা-ঔষধ স্বর্গ-সুখ যে তোরই ছোঁয়ায়…।…
-
বড় বাবা (২য় পর্ব)
বড় বাবা (২য় পর্ব) শাহানাজ মিজান পড়ন্ত বিকেল, রিফাত একটার পর একটা সিগারেট খেয়েই যাচ্ছে। আর ওর মনে হচ্ছে ঐ ধোয়ার মধ্যে দিয়ে হেটে হেটে আসছে দিপা। রিফাতের চোখ দুটো ফুলে লাল হয়ে আছে। মনে পড়ছে, এই তো সেদিনের কথা। রিফাত গ্রামের হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করলো। প্রিয় বন্ধু অলিদই পরামর্শ দিলো, বাড়ির বাহিরে একটা ঘর তুলে, সেখানে কোচিং সেন্টার খুলতে। এখন সব শিক্ষকেরাই এভাবে কোচিং সেন্টার খুলে ছেলে-মেয়েদের পড়ান। তাতে শিক্ষকদের সময় বাঁচে আর ছেলেমেয়েদের ও সুবিধা হয়। বিশেষ করে যেসব পরিবারের, ছেলে-মেয়েদের জন্য একা একজন শিক্ষক বাড়িতে রেখে পড়ানোর সার্মথ্য নেই। তাদের জন্য তো খুবই ভালো সুবিধা…
-
নেপোলিয়ন বোনাপার্টের দেশে (শেষ পর্ব)
নেপোলিয়ন বোনাপার্টের দেশে (শেষ পর্ব) তাহমিনা খাতুন প্যারিসে রয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ল্যুভ মিউজিয়াম। ল্যুভ যেন আর এক বিস্ময়ের নাম! এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জাদুঘর। বিশাল এই জাদুঘর অনেকগুলো বিভাগে বিভক্ত । যেমন চিত্রকলা, মিশরীয় এ্যান্টিক, গ্রীক, রোমান, এট্ট্রুসকান, ইস্টার্ন কালেকশন, ভাস্কর্য , ইসলামিক আর্টস, গ্রাফিক আর্টস ইত্যাদি। মোনালিসা! বিশেষত মোনালিসার হাসি। বিশ্ববরেণ্যে চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আঁকা মোনালিসার হাসি, যে হাসিতে রয়েছে এক দারুন রহস্য! চিত্রকলার ইতিহাসে বিশ্বে সর্বাধিক পরিচিত, সর্বাধিক প্রদর্শিত এক চিত্র কর্ম। শুধু তাই নয়, মোনালিসাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশী লেখা হয়েছে, সবচেয়ে বেশী গান মোনালিসাকে নিয়ে গাওয়া হয়েছে, অনেক বেশী গবেষণা হয়েছে। এমনকি মোনালিসা পুরুষ না…
-
বড় বাবা (১ম পর্ব)
বড় বাবা ( ১ম পর্ব) শাহানাজ মিজান আকাশে প্রচণ্ড মেঘ জমেছে। সন্ধ্যা নেমে আসছে। রিফাত দোকানে এলো। তাড়াতাড়ি কয়েক প্যাকেট সিগারেট নিয়ে চলে যেতে উদ্যত হলে, দোকানদার চাচা বললেন, __বাবা রিফাত! তোমার কি এই কাম সাজে? কি মানুষ তুমি আর কি করছো? সব তো ঠিকই অয়া যাবি। এতো পাগলামি করো না বাবা। রিফাত সিগারেট ধরিয়ে একগাল ধোঁয়া ছেড়ে, দোকানদার চাচার দিকে একবার তাকালো। তারপর কোনো কথা না বলেই চলে গেল। রিফাত আগে দিনে দুটো সিগারেট খেত। ভার্সিটিতে লেখাপড়া করার সময় বন্ধুদের পাল্লায় পরে সিগারেট খাওয়া শিখেছিলো। শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ভেবেছিল, আর কখনো সিগারেট খাবে না। আর যাই…
-
পরাজিত নাবিক
পরাজিত নাবিক রাতুল হাসান জয় বিকেলের রোদে কদম গাছের ছায়া পড়েছে পানিতে। বাতাসের ধাক্কায় মৃদ্যু ঢেউ খেলছে পুকুরের পানি। একটা বড় কাতল মাছ হা করে ভেসে উঠছে কিছুক্ষণ পরপর। এরপর গপাগপ পানি গিলে ডুবে যাচ্ছে অতলে। যেভাবে ভাগ্য আমার জীবন গিলে ডুবে গেছে সময়ের পেটে। কদম গাছের ডালে বসা মাছরাঙাটা এরই মাঝে বেশ কয়েকবার হামলে পরেছে পানিতে। কি দেখে হামলে পরছে ঠাহর করতে পারছি না। একবারও তার ঠোঁটে মাছ চোখে পরেনি। আমারই মতো ব্যর্থ। পঁয়তাল্লিশ বছরেও সফলতার মুখ দেখলাম না। চাকরিতে ব্যর্থ। ব্যবসাতেও গাঁট জমাতে পারিনি। চেষ্টার কমতি রাখিনি। চেষ্টায় চেষ্টায় সন্তানদের জীবন এনে দাঁড় করিয়েছি খাঁদের কিনারে। দেনার…






























