-
আবু জাফর খান
আবু জাফর খান পেশায় একজন চিকিৎসক। ভাবনায় কবি, কথাশিল্পী ও সংগঠক। তাঁর পুরো নাম কে এম আবু জাফর। বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে বর্তমানে তিনি পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারি পরিচালক পদে কর্মরত আছেন। লেখক হিসেবে আবু জাফর খান এর বিশেষত্ব, তিনি নিবিড় অন্তর অনুভবে প্রত্যহ ঘটে চলা নানান ঘটনা, জীবনের গতি প্রকৃতি, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, ব্যক্তিক দহনের সামষ্টিক যন্ত্রণা তুলে আনেন নান্দনিক উপলব্ধির নিপুণ উপস্থাপনায়। তাঁর লেখায় ধ্বনিত হয় বিবেক কথনের অকৃত্রিম প্রতিভাষা। তিনি তাঁর লেখায় প্রতিধ্বনিত করেন নন্দনতাত্ত্বিকতায় জীবন বোধের সমকালীন বাস্তবতা। জন্ম: কবি ও কথাশিল্পী আবু জাফর খান ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ৩১শে জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত আহম্মদপুর ইউনিয়নের…
-
অধরা চাঁদ উপন্যাস রিভিউ
অধরা চাঁদ উপন্যাস রিভিউ শফিক নহোর মানব জীবন ফুলের মতো। তবুও সব ফুলের সৌরভ সবাই গ্রহণ করতে পারে না। জীবন সহজ হলেও অদৃশ্য কিছু কূটিল মানুষের জন্য, সেই জীবন বাস করার অযোগ্য হয়ে পরে। বিয়োগ বেদনায় কেউ কেউ স্বস্তি পায়। মানব জনম বড়ই বিচিত্র। নিজের পাশেই হয়তো অতি প্রিয় মানুষটি থাকে। অন্তর চক্ষু দিয়ে তাকে দেখা হয় না । জীবন ও জীবনবোধের গল্প নিয়েই তরুণ লেখিকা শাহানাজ মিজান সহজ সাবলীল ভাষায় তার দেখা জীবনকে কিছু শব্দ দিয়ে বুনেছেন এক বিচিত্র মানব জীবন। উপন্যাসে প্রধানত সমাজ জীবন প্রতিফলিত হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক সমস্যাসমূহও এতে প্রধান হয়ে…
-
মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু নেই, একাত্তুরের অব্যর্থ-ট্রিগার
মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু নেই খলিফা আশরাফ কিছু কিছু তারুণ্যের মৃত্যু নেই কোন, বাড়ে না বয়স জীবনকে অকম্পিত যে ধরেছে অগ্নিশিখায় নিশ্চিত মৃত্যু মুখে দাঁড়িয়েছে সটান অনড় অকুতোভয় দিয়েছে পাল্লা সিংহের সাথে আঙ্গুলের ফলায় তুলেছে হায়েনার চোখ তাকে আর মৃত্যুভয়ে যাবে না দমানো বিনাশের আদ্যপান্ত বিলক্ষণ জানা আছে তার, মনে রেখো, জীবনকে জিতেছে সে মরনের মাঝে একাত্তুরের রণাঙ্গনে যে খেলেছে অজস্র মৃত্যুখেলা বেয়োনেটের অগ্রভাগে বেঁধেছে যে পরমায়ু সুতো গ্রেনেডের ছত্রিশ টুকরো আকণ্ঠ নিয়েছে তুলে স্টেনগানের ফুটোয় ফুটোয় দিয়েছে ফুঁৎকার মর্টারের গোলার সাথে করেছে দোস্তি আমরণ যমদূতের কণ্ঠ চেপে লক্ষ লাশের মাঝে অকুতোভয় দীপ্র হাতে উড়িয়েছে বিজয় কেতন মরনের কথা তারে শুনিওনা…
-
স্বাধীনতা দিবস, স্বাধীনতা
স্বাধীনতা দিবস তাহমিনা খাতুন ছাব্বিশ মার্চ স্বাধীনতা দিবস আজ, বাংলার মানুষ দিনটি উদযাপিবে কত শত আয়োজন! উদযাপিতে দিনটি আজিকার, পড়িবে তাহাদের মনে? একাত্তরের ছাব্বিশ মার্চ প্রথম স্বাধীনতা দিবস শ্যামল বাংলা দেখিয়াছিল শাসকের সন্ত্রাস। সন্ত্রাসী শাসকের বাস ছিল, পশ্চিম পাকিস্তানে, জানিও তাহারা ছিল, শত শত মাইল দূরের অবস্থানে। আজব এক দেশ ছিল সেই পাকিস্তান জন্মের শুরুও তাহার আছিল বড়ই বেমানান। ছিল নাকো কোনই মিল ভাষা অথবা সংস্কৃতির, শোষণের তরে তাহাদের ছিল শুধুই ফন্দি ফিকির। লুঠেরার দল লুটিতে লাগিল বাংলার সম্পদ, অভূক্ত রাখিয়া, শিক্ষা না দিয়া, আমাদেরে তারা রাখিল পশ্চাৎপদ। সাতই মার্চের বজ্রকণ্ঠ দিল স্বাধীনতার ডাক, সে ডাক শুনিয়া বাংলার মানুষ,…
-
কাল রাত্রির খাম
কাল রাত্রির খাম তাহমিনা খাতুন পঁচিশ মার্চ! এক কাল রাত্রির নাম, যে রাতে পাক সেনা দিল হানা পোড়ালো সহস্র ধাম! প্রথম মুক্তির ডাকটি আসিল কাল রাত্রির খামে, মুক্তি পাগল জনতা দিল সাড়া সে ডাকে অনেক রক্ত ঘামে। অসুরের দল ঝাঁপাইয়া পড়িল সর্বশক্তি নিয়ে, দানবের উদ্বাহু সে নৃত্য দেখিল বিশ্ব সবিস্ময়ে! মেশিন গান আর ট্যাঙ্ক নামিল, দমাইতে নিরস্ত্র জনতারে, আরও কত শত অস্ত্র নামিল বধিতে মানুষ অকাতরে। সারাটি দিনের ক্লান্তি নাশিতে ঘুমিয়ে ছিল যারা, চির নিদ্রায় তাদেরে শায়িত করিল পাকসেনা, হল যারা দিশেহারা। লেলিহান শিখা জ্বালাইয়া দিল পোড়াইতে অবোধ শিশু, দয়া মায়াহীন অমানুষের কাছে হারিল হিংস্র পশু। মেশিন গানের গুলিতে…
-
সত্যের ভোর কাব্যগ্রন্থ ভাবনা
সত্যের ভোর কাব্যগ্রন্থ ভাবনা এ কে আজাদ দুলাল “আমি দূর্ভাগা নতজানু আপাদমস্তক আমি দেখিনি তোমায় বঙ্গবন্ধু ইতিহাস মানচিত্রের মহাপুরুষ তুমি স্বাধীন সার্বভৌমত্বের তুমি মহাপ্রাণ ভূমি। “ তরুণ কবি ফকির শরিফুল হকের সহজ উচ্চারণ “আমার সত্বায় বঙ্গবন্ধু” কবিতায়। নেই কোন দুর্বোধ্যতা। সহজ শব্দে আর উপমায় সাজিয়েছেন প্রতিটি কবিতা। কবিতা যে অণুগল্প হতে পারে “তোমার প্রতিক্ষায়” কবিতাটি পড়লেই পাঠক সহজে তা উপলব্ধি করতে পারবেন। শহরের চাকচিক্য কবিকে অন্ধ করে রাখতে পারেনি। তার প্রিয় জন্মভূমি গ্রামকে অন্তরে ধারণ করেছেন। বার বার ফিরে গেছেন প্রিয় জন্মস্থানে। দেশ যখন দুর্নীতিবাজদের খপ্পরে, তখন গভীর বেদনায় উচ্চারণ করেন- ” নৃশংসতায় চারপাশ।” আরও পড়ুন গল্পগ্রন্থ ‘মায়াকুসুম রিভিউ…
-
বিষণ্ন বাসন্তী বাংলা
বিষণ্ন বাসন্তী বাংলা খলিফা আশরাফ তোমাকে পসরা সাজিয়ে তুখোড় দোকানীর মতো বানিয়ে মূলধন আজকাল চলছে ব্যবসা চুটিয়ে, ময়দানে মাঠে পরিপাটি আলোচনা টেবিলে কিম্বা ধুমায়িত চায়ের কাপে তোমার মুখে ঠোঁট রেখে ফুটাচ্ছে খই হামেশাই কুশলী কারিগর সব। হায়রে বাংলাদেশ এখন তোমাকে নিয়ে বাহারী প্রদর্শনী, গিলে করা পাঞ্জাবী পাট করা চাদর আর শোভন চশমার কাঁচে অহরহ তোমার বাসন্তী ছবি উৎকীর্ণ করে কপট দেশপ্রেমের জোয়ার বয়ে যায়, অনায়াসে কেউ কেউ তোমার দেহে মৌরসি পাট্টার কায়েমী দখল জাহির করে, আবার কেউবা তোমার জন্ম-লগ্নে ধাত্রীর অধিকারে দুর্লঙ্ঘ স্বত্ত্বের কথা বলে, অতঃপর সেই সব দুরাচারী ব্যবসায়ী সব সুবর্ণ কাসকেটে অপরূপ সাজিয়ে তোমায় নিলামের বাজারে উঠায়,…
-
সুজানগর উপজেলার কবি-সাহিত্যিক ও লেখকবৃন্দের বইসমূহ
সুজানগর উপজেলার কবি-সাহিত্যিক ও লেখকবৃন্দের বইসমূহ: পাবনার সুজানগর উপজেলা সাহিত্য-সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। যুগে যুগে এই জনপদ থেকে বহু কবি-সাহিত্যিক ও গবেষক তাঁদের সৃজনশীল রচনার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনন্য অবদান রেখেছেন। এ তালিকায় রয়েছে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক, কথাসাহিত্যিক, কবি, বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচয়িতা। তাঁদের রচিত গ্রন্থসমূহ ইতিহাস, ধর্ম, সাহিত্য, বিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বহন করে। ১. মাওলানা রইচ উদ্দিন কোরআনের বাণী মরুবীণা সিন্ধু ও বিন্দু মুর্শিদাবাদ ভ্রমণ বিলাপ মুসলমান সমাজের দুরবস্থা ও তার প্রতিকার ২. মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন সংকলন: হারামণি ( প্রথম খণ্ড, ১৯৩১ খ্রি.) হারামণি ( দ্বিতীয় খণ্ড, ১৯৪২ খ্রি.)…
-
এসেছি স্বাধীনতা সাথে করে, তখন মানুষ মানুষ ছিলো না
এসেছি স্বাধীনতা সাথে করে খলিফা আশরাফ আদিগন্ত প্লাবিত রক্তজল মাড়িয়ে তুমি যখন দাঁড়ালে সন্মুখে, তখন তোমার প্রদীপ্ত চোখে কনকোজ্জ্বল আনন্দ-জ্যোতি খেলা করছে, স্থির অচঞ্চল তুমি গভীর প্রত্যয়ে, তোমার হাতে মুখে সমস্ত শরীরে রক্তের আলপনা সার্টে, লুঙ্গিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে লালের জমাট কারুণ্য, মাংস ভেদ করা গুলির ক্ষত চিহ্ন তোমার দক্ষিণ বাহুতে আরক্ত কানের ছেঁড়া লতিটা অসহায় দুলছে উত্তাল হাওয়ায়, তোমার দু’পা বেয়ে তখনও রক্তের ঝর্ণা-ধারা, অথচ কি আশ্চর্য রক্তস্নাত মুখে তখনও তুমি অবলীলায় হাসছো অমলিন। তোমার শরীরে হাজার বছরের সৌরভময় পলিমাটির ঘ্রণ শর্ষে ফুলের সুবর্ণ রেনু দ্যুতি ছড়াচ্ছে চোখের পাতায় প্রশস্ত কপালে শ্যামল বাংলার অপার নিসর্গঅটুট প্রোজ্জ্বল, তোমার রক্ত-ক্লিষ্ট হাতে লাল-সবুজের…
-
দুর্বিনীত পুত্রগণের প্রতি
দুর্বিনীত পুত্রগণের প্রতি তাহমিনা খাতুন হে পুত্রগণ! পৃথিবীর বলদর্পী পুত্রগণ হিংস্র, নিষ্ঠুর, অহমিকায় অন্ধ পুত্রগণ। অমিত বিক্রমে, দাম্ভিক পদভারে কাঁপাও মেদিনী জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে তোমার অবাধ, সদর্প বিচরণ, পুরুষ তুমি, আপন শক্তিমত্ততায় বিভোর ধরনীর বুকে কেহ নাই সমকক্ষ তোমার। কর তুমি তাই যাহা সাধ জাগে কেহ নাহি পারে নিবারিতে তোমায়, হে পুত্রগণ! কেহ নাহি জগতের পরে দমিতে তোমায় ক্ষমতা তোমার অসীম, প্রদর্শিছ তাহা অবিরাম জগত দেখিছে তোমার উল্লম্ফন, প্রতিক্ষণে, প্রতিটি প্রহরে। ধরনীর বুকে হেরিতে তোমার বিক্রম দর্শক বানায়েছ নিজ মাতায়, যাহার জঠরে লভেছিলে ঠাঁই নয়টি মাসের তরে যাহার উদরে লভি আশ্রয়, বাড়িয়াছ দিনে দিনে শোনিত নিঙাড়ি গড়িয়াছ আপন অবয়ব…





























