• বাঁঝা
    কবিতা,  মোহাম্মদ আব্দুল বাছেত,  সাহিত্য

    বাঁঝা

    বাঁঝা মোহাম্মদ আব্দুল বাছেত   সখিনার কোল খালি সকলেই কয় বাঁঝা তার জন্যে পদে পদে পায় কথার সাজা। কী যে সে করেছিল মহাপাপ তাই পেটে লেগেছে অভিশাপ! পাড়ায় পাড়ায় গ্রাম সুদ্ধ গেছে তাহা রটে বাঁঝা বৌটি অপয়া তাই বাচ্চা নাই পেটে। প্রতিবেশীর মেয়ের বিয়ে বিরাট আয়োজন সখিনার উপস্থিত থাকা সেইখানেও বারণ। বাঁঝা বলেই তো আপত্তি ঘটতে পারে বড়ো বিপত্তি! এমন দিনে অপয়া বাঁঝা ভীষণ অমঙ্গল শুভক্ষণে অবাঞ্চিত-শূন্য যাদের কোল। মুদি সকালে ইহাই বলে চলেন গদি ঘরে হে ভগবান বাঁঝার ছায়া চোখেতে না পড়ে। সন্তান ধরে নাই পেটে ব্যবসা যে ওঠবে লাটে। মা লক্ষ্মী রুষ্ঠ হবেন এমন তরো হলে আমি বড়ো…

  • লেখকের-মুক্তিযুদ্ধ-শেষ-পর্ব
    গল্প,  সাইফুর রহমান,  সাহিত্য

    লেখকের মুক্তিযুদ্ধ (শেষ পর্ব)

    লেখকের মুক্তিযুদ্ধ (শেষ পর্ব) সাইফুর রহমান হেনরিয়েট কবিরের দিকে তাকিয়ে বলল, — আরেকটা কবিতা হয়ে যাক। কবির আবৃত্তি করতে শুরু করল, “তোমাকে চোখের মধ্যে রেখে কাঁদি, আমার দু’চোখে তুমি বিগলিত ঠান্ডা হিম, তুমি কাঁদছ, দু’চোখের একান্ত ভেতরে গলে যাচ্ছে কালো আঁখিতারা, গলে গলে একটি গাছের মতো সবুজ, তোমার মতোন করুণ হয়ে যাচ্ছে অশ্রুমালা তুমি নিথর নিরীহ দাঁড়িয়ে আছ আঁখিতারার ভেতরে, তুমি, একাকিনী সবুজ পল্লব, কাঁপছ বাতাসে সাদা হিমে…।” অস্ফুট কণ্ঠে হেনরিয়েট বলে উঠল, — অপূর্ব! অপূর্ব! এটা কার কবিতা কবির? কবির সলজ্জ গলায় বলল, — আমার। — তোমার! সম্পূর্ণ আবেগ ধরে রাখতে না পেরে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল হেনরিয়েট। —…

  • অন্তর্দাহ
    গল্প,  রাতুল হাসান জয় (গল্প),  সাহিত্য

    অন্তর্দাহ

    অন্তর্দাহ রাতুল হাসান জয় মরুভূমিতে একা হাঁটছি। যেদিকে তাকাই মনে হচ্ছে বিভীষিকাময় অন্ধকার, পা ফেলতেই মনে হয় আমি গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছি। একটু এগিয়ে যেতেই পা ভিজে যাচ্ছে রক্তে।  নিচে তাকাতেই দেখি মুহূর্তে দৃশ্যপট বদলে গেল। মরুভূমি ছাপিয়ে সমুদ্রের মাঝে বসে আছি একাকী  ডিঙি নৌকায়। হাতের কাছে না আছে কোনো লাঠি, না বৈঠা। স্রোতে ভাসছে নৌকা, দুলছি আমিও। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হলো দমকা বাতাস। সমুদ্রের বুক ঠেলে উঠে এল তুফান। মরুর বুক থেকে সমুদ্রের বুকে কীভাবে এলাম! তা ভাবার আগেই হঠাৎ উলটে গেল নৌকা। আমি ডুবে যাচ্ছি! দম বন্ধ হয়ে আসছে। দুচোখ আর হাত খুঁজছে নূন্যতম বাঁচার আশা।…

  • সুতা-ছেঁড়া-ঘুড়ি-৫ম-পর্ব
    উপন্যাস,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (৫ম পর্ব)

    সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (৫ম পর্ব) তাহমিনা খাতুন   আট. নুরুল ইসলামের তিনটি ছেলেমেয়ে। বড়ো ছেলে আতিকুল ইসলাম বটতলা হাইস্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ে। লেখাপড়ায় যেমন মনোযোগী তেমনি বাপের মতো সেবামূলক কাজের প্রতি বেশ আগ্রহ। কারও কোনো বিপদের কথা শুনলে সাহায্যের জন্য ছুটে যায়। বেশ কিছু দিন ধরে চল্লিশ/বিয়াল্লিশ বছর বয়সের মানসিক রোগগ্রস্থ এক নারী মধ্যপাড়ার নুরুল ইসলামের বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছে। মেয়েটির নাম জিজ্ঞেস করলে বলে ‘সুন্দরী’। বাড়ি কোথায়, বাপ মা আছে কিনা কিছুই বলতে পারে না। সারা দিন আপন মনে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ায়। এর বাড়ি ওর বাড়ি থেকে চেয়ে-চিন্তে খাবার খায়। রাতে নুরুল ইসলামের ঘরের ভিতরের বারান্দায় এসে শুয়ে…

  • অধ্যাপক-ড.-খোন্দকার-মোয়াজ্জেম-হোসেন
    কৃতি ব্যক্তিবর্গ,  শিক্ষাবিদ,  সমাজসেবক

    অধ্যাপক ড. খোন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর অধ্যাপক ড. খোন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন একজন শিক্ষাবিদ। জন্ম: অধ্যাপক ড. খোন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে আজকের এই দিনে (২৫শে ডিসেম্বর) পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত দ্বারিয়াপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক জীবন: অধ্যাপক ড. খোন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেনের পিতা খোন্দকার আবুল হাশেম ওরফে চুনু মিয়া (১৯১৫-২০০০ খ্রি.), যিনি ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে দ্বারিয়াপুর ১০ ন. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৩ শতাংশ জমি দান করে স্কুল প্রতিষ্ঠায় রেখে গেছেন অবিস্মরণীয় ও মহত্ত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চুনুমিয়া তিন বছর বয়সে পিতৃহারা হন, পাঁচ বছর বয়সে মমতাময়ী মাকে হারান। খুব অল্প বয়সে এতিম হয়ে তিন ভাইবোন দুঃখ কষ্ট ভাগাভাগি করে বড়ো…

  • অধ্যাপক-ড.-খোন্দকার-মোকাদ্দেম-হোসেন
    কৃতি ব্যক্তিবর্গ,  গবেষক,  শিক্ষাবিদ,  সমাজসেবক

    অধ্যাপক ড. খোন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন

    বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ। জন্ম: অধ্যাপক ড. খোন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে ডিসেম্বর পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত দ্বারিয়াপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক জীবন: অধ্যাপক ড. খোন্দকার মোকাদ্দেম হোসেনের পিতা খোন্দকার আবুল হাশেম ওরফে চুনু মিয়া (১৯১৫-২০০০ খ্রি.), যিনি ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে দ্বারিয়াপুর ১০ ন. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৩ শতাংশ জমি দান করে স্কুল প্রতিষ্ঠায় রেখে গেছেন অবিস্মরণীয় ও মহত্ত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চুনু মিয়া তিন বছর বয়সে পিতৃহারা হন, পাঁচ বছর বয়সে মমতাময়ী মাকে হারান। খুব অল্প বয়সে এতিম হয়ে তিন ভাইবোন দুঃখ…

  • ঘনঘটা
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    ঘনঘটা

    ঘনঘটা জাহাঙ্গীর পানু গভীর রজনী হবে কী প্রত্যাশিত ভোর? নতুন আলোয় হাসবে কী কুয়াশাচ্ছন্ন প্রকৃতি? আচমকা রাত জেগে চিন্তাক্লিষ্ট ভাবাবেগ নিয়ে নিশাচর পাখির সাথে মিতালি। নতুন আলোয় উদ্ভাসিত ভোরের অপেক্ষায় চৌদ্দ শিকায় বন্দিদের আর্তনাদ কোনো দিশা খুঁজে পায় না হাওয়ায় উড়তে থাকা সাদা সিংহ শাবকের দল। অভিনয়ের আগুনে জীবন্ত চিতায় পোড়ে শত মানুষের স্বপ্ন। আতঙ্কিত সিংহাসনের কাঁপুনিতে রাজপথে রক্তিম হয় গার্মেন্টসের সাদা সুতো। উদাস দুপুরে আকাশের পানে ছলছল করে চেয়ে থাকে পিতৃস্নেহ বঞ্চিত শিশুর চোখ; আবার কবে আসবে ফিরে আপন গৃহে। জনগণের সেবায় নিয়োজিত পাইক পেয়াদারা আজ সিংহাসনের খুটি ধরে বসে আছে; যদি আবার পরে যায়, উন্মত্ত হাওয়ায়। থমথমে রাজপথের…

  • লেখকের-মুক্তিযুদ্ধ-২য়-পর্ব.
    গল্প,  সাইফুর রহমান,  সাহিত্য

    লেখকের মুক্তিযুদ্ধ (২য় পর্ব)

    লেখকের মুক্তিযুদ্ধ (২য় পর্ব) সাইফুর রহমান বেশ কয়েক প্রকার ব্যঞ্জন প্লেটে সাজিয়ে সেগুলো টেবিলের উপর এনে রাখল শেরদিল। মুরগি ভাজা, রুটি ও চিজ পনিরের সঙ্গে রেড ওয়াইন। শেরদিল যখন রেড ওয়াইনের গ্লাসে চুমুক দিচ্ছিল; কবিরের মনে হচ্ছিল ওয়াইন নয়, শেরদিল আসলে পান করছে বাংলাদেশের মানুষের রক্ত। কামড় দিয়ে যখন মাংস ছাড়িয়ে নিচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল পাকিস্তানি হায়েনা কামড় বসিয়েছে মুক্তিযোদ্ধার পবিত্র শরীরে। হেনরিয়েট কাটা চামচ দিয়ে সন্তর্পণে খাবার মুখে তুলে নিচ্ছে। ও পরে আছে গাঢ় নীল রঙের লংস্কার্ট। ধবধবে সাদা শার্টের উপর অরুণ বর্ণের ছোটো ছোটো ফুল আঁকা। দারুণ লাগছে দেখতে। শেরদিলের পোশাক-পরিচ্ছেদও মন্দ নয়। আকাশি রঙের শার্টের উপর অ্যাশ…

  • উপন্যাস,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (৪র্থ পর্ব)

    সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (৪র্থ পর্ব) তাহমিনা খাতুন ছয়. চৈত্র মাসের শেষ। দুই মাস ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। ভোর হতেই লাল সূর্য যেন চারদিক পুড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে হাজির হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে অঙ্গীকার পূরণ করে চলে। প্রচণ্ড রোদের তাপ চারদিক ঝলসে দেয়। আরও একটা তাপদগ্ধ দিনের অবসানের পর সন্ধ্যার স্নিগ্ধ আগমন ঘটেছে। আকাশের এক কোণে শুক্লা দ্বাদশীর চাঁদ মুখে এক রাশ উজ্জ্বল হাসি নিয়ে যেন পরম মমতায় পৃথিবীর দিকে অপলকে চেয়ে আছে। রুপোলি জোছনায় ভেসে যাচ্ছে চারদিক। সে হাসি যেন ছড়িয়ে পড়েছে নারকেল গাছের পাতায় পাতায়। সন্ধ্যার পর মৃদু বাতাস বইতে শুরু করেছে। পূবের এই শীতল বাতাস নূরপুরের হাঁসফাঁস…

  • গয়নার-নৌকা
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    গয়নার নৌকা

    গয়নার নৌকা শফিক নহোর অপ্রত্যাশিতভাবে মুন্নির সঙ্গে আমার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারপর থেকে মুন্নি আমাকে খুন করার জন্য লোক ভাড়া করে। আমি ফেরারি আসামির মত পালিয়ে বেড়াতে লাগলাম। ঘরের ছোটো ছিদ্র দিয়ে আলো আসলেও ভয় করত কেউ বুঝি আমাকে দেখে ফেলল। একদিন বৃষ্টিভেজা দুপুরে, এই ভয়কে উপেক্ষা করে মুন্নি আত্মহত্যা করেছে শুনে দৌড়ে গেলাম। আমি তখন নানা বাড়ি থেকে লেখাপড়া করি। মুন্নি আমাকে ভয় দেখাত, আমাকে বিয়ে না করলে বড়ো মামার কাছে বিচার দেব। আমার সামনে এসে এ কথা কখনও বলেনি। তবে সালমা আমাকে বলত, কীরে মুন্নিকে নাকি তুই বিয়ে করবি, আমার কাছে বল না সত্যি কথা। সালমার আবদার…

error: Content is protected !!