-
শূন্যতা, সাধ ছিল মা
শূন্যতা মো. হাতেম আলী স্বপ্ন দেখেছি কাছে ডেকেছি ঘর বেঁধেছি,সখি তোর সনে; ওগো রূপসী ভালো বেসেছি ছবি এঁকেছি,বসে নির্জনে। ফোঁটা কাননে মোরা দু’জনে সুখালাপনে,কাটিতো দিন ; বিনি কারণে সখি এ মনে কি যে দহনে,করিলি লীন। ঐ দু’চোখে কিনা কি দেখে তুই আমাকে,করিলি পর ; আজও বুঝিনি ওগো অভিমানি কেন যে হইলি, স্বার্থপর..? তুই বিহনে ভেজা নয়নে তুষিত মনে,বসে যে রই ; স্মৃতির পাতায় কত যে কথা মনেরই ব্যথা,কারে বা কই। বল না দেখি তুই ও সখি দিয়ে যে ফাঁকি,ভাঙলি ঘর ; বুকে হাত রেখে বল আমাকে আছিস কী সুখে,করে তুই পর। যদি কোনদিন হয় গো মলিন বাজে বিষ বীণ,…
-
নির্জলা উপবাস, চন্দ্রমুখী, তোমার ভালোবাসা
নির্জলা উপবাস ফজলুল হক বৃষ্টি থেমে গেছে অনেক আগেই কার্ণিশে জল ঝরছে.. মন করিডোরের অন্ধগলির দেয়াল ভাঙা পথে নিমগ্ন ভাবনার দ্বারে শীস দিয়ে যায় ধূসর স্মৃতিরা। রাত্রির আকাশে হেঁটে হেঁটে ইচ্ছেরা ক্লান্ত চাঁদের দূরত্ব রেখায় আঁকে ক্ষয়িত জীবনের আল্পনা। জানি না গন্তব্য কোথায় তবুও পথ খোঁজার শেষ নেই; অন্তর্গৃহে সুখের ছায়া স্পর্শে নয় মরা নদীর শূন্যতার শেষ ঠিকানা অবধি অবিশ্রাম তোমাকে খুঁজেছি, খুঁজেছি– গাঙচিল ওড়া উদার আকাশের নীচে বুড়িগঙ্গার জোয়ার জলে নায়তে আসা অজস্র রমনীর ভিড়ে। কী এক অদ্ভুত বাসনায় আচমকা গোত্র বদলে ফেলেছো বদলেছে উচ্ছ্বাস, তোমার আকাশেও ভিন্ন রঙের মেলা। হেঁসেলের ধোঁয়া, পোড়া মাটির গন্ধ তাল পাখার বাতাস–…
-
এ ক্রান্তিকাল শেষে
এ ক্রান্তিকাল শেষে ফকির শরিফুল হক যদি এ ক্রান্তিকাল শেষ হয় একদিন, যদি বেঁচে যায় দূর্নীতি ঘুষখোর লুটেরা যারা আজ অতি সাধু সন্ন্যাসী ভবে লেবাসি মানবতা শেখায়, যদি বেঁচে যায় ঐ দাম্ভিক রাজা মহারাজ যার ইশারায় নিমিষেই ধ্বংস হয় আফগান ফিলিস্তিনের মানচিত্ৰ বুক। যদি বেঁচে যায় ঐ মারণাস্ত্র প্রযুক্তির দৈত্য দানবেরা যারা কথায় আনবিক বোম হয়ে ফোটে শাস্তির বুকে, যদি বেঁচে যায় তারা, যারা শান্তির কাশ্মীরকে সীমার দোহাই দিয়ে মানবতাকে বারবার করছে জখম! যদি বেঁচে যায় পেশিবাহু বিশ্ব নীতি নির্ধারকেরা তবে জলবায়ু বায়ুমণ্ডলে পরবে আবার অশনি আদেশ, পুড়বে হাজার মাইল বন, কার্বনডাই-অক্সাইডে বন্ধ হবে পৃথিবীর দম, হাজারো বোবা উটের…
-
ফেলে আসা,মানুষের ঘর,স্মৃতি,স্বপ্নগুলি
ফেলে আসা আনন্দ বাগচী কিছুই হয়নি বলা, গল্প শেষ হয়ে গেল রোদ্দুরে বৃষ্টিতে গল্পগ্রাম, ইস্টিশান, নদী, সাঁকো, নৌকোর গলুই ধূসর স্মৃতির মধ্যে বিধে থাকল, ক্রমে ক্রমে হলদে হয়ে আসা ফটোর মতন স্থির সাবেক কালের বাড়িখানা, গভীর ঘুমিয়ে আছে কুয়াশায়, কার শীর্ণ শাখাপরা হাত খাটের বাজুতে আড় হয়ে আছে তামাকের প্রৌঢ়গন্ধে ঘর ভরে আছে। সটকার বোলের মত চমকে চমকে ওঠে কবুতর। এখনো উলুর ধ্বনি কান পাতলে, প্রতিমার মত নববধূ দামাল শিশু, বালাবেলা, বাঁশবনে আটকে থাকা চাঁদ পুরনো ব্যথার মত লটকে আছে বুকের ভেতরে । কিছুই হল না বলা, গল্প শেষ হয়ে গেল রোদ্দুরে বৃষ্টিতে। মানুষের ঘরে এখনো রয়েছে কিছু…
-
স্বপ্নবাড়ি
স্বপ্নবাড়ি আবু জাফর খান শূন্যতার নিজস্ব একটি বিষাদ আছে ঢেউ ভাঙা একাকী মাঝির নৌকোর পাটাতনে… সে বিষাদ বেজে যায়; পাখি ও বিষণ্নতায় মিল পাই মিল দেখি জল ও মুকুরে শুধু তুমি আর আমি মেলাতে পারিনি কিছুই। আমরা জল-পাথরের বিপরীত সুরে বাজি আমাদের দিনরাত্রির কথার শস্যাঙ্গনে… না তুমি আছ না আমি; আমাদের ব্যথার শিষদাগে ডুবে আছে বিপণি পৃথিবীর সমূহ বিতান। আমি যখন খুব ভোরে অর্চার্ডে হাঁটি সেই সময় ঠাকুরমা সুর করে পুথি পাঠ করেন; আমার মনে হয়, একটা পয়ারের সরণি বেয়ে পৌঁছে যাচ্ছি দূরে, কৃত্তিবাসের গ্রামে; আসলে জীবনানন্দের বাড়ির পথ আরও আরও দীর্ঘ। আমি আঙিনার বাম হাতে দিই পুরনো কিছু…
-
আপন ভূবন, গোধূলি লগ্নের কাহন
আপন ভূবন মো. শাহ জাহান আলী আমার বড়ই ইচ্ছে হচ্ছে.. ফিরে যাই শেকড়ের টানে আমার রূপসী বাংলার কোন এক নিভৃত গ্রামে। মায়া মমতায় জড়ানো আবেশে যেখানে আবাল্য বেড়ে ওঠা প্রকৃতির বুকে পেয়েছি ভালোবাসা দাঁড়িয়ে দেখেছি স্বচ্ছ পুকুর জল খাল-বিল নদী-নালায় ভরা তাতে শাপলা শালুকের মেলা পরিস্ফুটিত জলে জ্যোৎস্নায় বিলিয়েছে মিষ্টি ম্লান আলো.. যেনো প্রেয়সীর মুক্তা ঝলমলে দাঁতের হাসিতে ঠিকরে পড়ছে গলাগলি করে শাপলা কমল কি প্রেমময় আলিঙ্গনে জড়জ প্রকৃতির প্রতিকূলতার মাঝে, ঝড়-ঝাপটা উপেক্ষা করে আছে ওরা একে অপরের আপনে আপন খুব কাছে একে অপরের শরীরে মিশে! আমি ফিরে যেতে চাই সেই আপনার আপনের মায়াবী সুন্দর আবেশে, যেখানে একাকিত্বে ভোগে…
-
তুমি কাঁদিতেছ কেন, অযাচিত অহমিকা
তুমি কাঁদিতেছ কেন? জাহাঙ্গীর পানু শীতকালে এমন বৃষ্টি দেখিনি কখনো! ব্যথিত হৃদয়ে তুমি কাঁদিতেছ কেন? নেই বৈশাখের ইশান কোণের নিকষ কালো মেঘ নেই আষাঢ়ের কালো মেঘের ঘনঘটা তবে কেন তোমার চোখে ঝরছে বারিধারা। হঠাৎ সঙ্গীহারা কোনো যুবতীর আর্তনাদের মতো ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ নীড়হারা আশ্রয়হীন পাখির মতো যেমন কাঁদে ব্যর্থ প্রেমিকের বিধ্বস্ত হৃদয় ; অনেক জমানো কথা না বলার অভিযোগে- আশাহত পৌষ তুমি কাঁদিতেছ কেন? নেই নদীর উত্তাল তরঙ্গের প্রথাগত আস্ফালন নেই শ্রাবণের বিরামহীন বারিধারার প্রচণ্ড ঢল নেই নদী স্রোতের তোরে নদীভাঙা কোনো জনপদ তবে কেনো নদীগর্ভে সব হারানো রমণীর মতো- নির্লীপ্ত মাঘ তুমি কাঁদিতেছ কেন? নেই দখলদার কোনো রাজার রক্তচক্ষুর…
-
ভালো থাকিস মা, ডিজিটাল শিক্ষা, কাগজের ফুল
ভালো থাকিস মা মো. হাতেম আলী ভালো থাকিস মা রে তুই, ভালো থাকিস মা তোর অবর্তমানে কিছুই ভালো লাগে না ভালো থাকিস মা উপরে- ভালো থাকিস মা… তোর উদরে দশ মাস দশ দিন করছিলি ধারণ কত কী যে খাওয়া মা তোর ছিল রে বারণ। মাগো আমায় ভালো রাখবি বলে- নিজের কথা ভাবলি না…। জন্মের পরে পিতৃহারা হলাম মা যখন আদরে সোহাগে আমায় করিলি যতন। পিতার অভাব কোন দিনই- বুঝতে দিসনি মা …। দু’বছর হল তুই ছেড়েছিস ভুবন বুঝেছি মা তুই বিনে মোর কেউ নয় আপন। এখন তোর কথা মনে হলে- ঘরে রইতে পারি না…। আরও পড়ুন মো: হাতেম আলীর…
-
এখন এখানে আমি, স্বদেশ
এখন এখানে আমি বিমল কুণ্ডু আমাকে আমি চিনতে পারি যখন প্রচণ্ড যন্ত্রণায় জর্জরিত হই। আমাকে আমি বুঝতে পারি যখন প্রিয়জন আমাকে কষ্ট দেয় আমাকে আমি জানতে পারি যখন গভীর রাতে ঘুম ভেঙে যায় রাতের নিঃসিম আঁধার ভেদ করে আকাশের তারাগুলি চাদর বিছানো পটের মতন চোখের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে জন্মের ইতিহাস বলে যায়। প্রকৃতির একটানা নিরবতায়, হঠাৎ পেঁচার ডাক অস্তিত্ব ঘোষণা করে আহত ডানায় আমাকে আমার অবস্থান স্মরণ করিয়ে দেয়। এখন এখানে আমি নিরুপায় পিতা একজন সৃষ্টির কষ্টের দায়বদ্ধ ঈশ্বর যেমন আমিও তেমন অবিরত যন্ত্রণার মাঝে খুঁজে ফিরি দুঃখের আঘাতে অতি প্রিয়জন আমার আমিত্ব জেগে ওঠে- প্রশ্ন করি কতখানি কতটুকু…
-
দয়ার সাগর, ফরিয়াদ, মরণ
দয়ার সাগর মযলুম মুসাফির আল্লাহ তুমি দয়ার সাগর দয়ার নাইকো শেষ, আমি যে অধম এত গুণ আমি কেমনে করিব পেশ। সাত সাগরের পানি কালি হলে আরো আছে যত নদী, কলম করিয়া জগতের গাছ লিখি যদি নিরবধি। শেষ হবেনাকো গুণকীর্তন যতদিন আছি ভবে, পরতে পরতে তোমার গুণের কতকিছু বাদ রবে। তোমার তুলনা তুমি শুধু খোদা সকল রাজার রাজা, কত পাপ করি তবু এ নাদান পায়নাকো কোনো সাজা। দয়ার সাগরে ডুবে আছি খোদা দয়ার সাগরে ভাসি, আমার লাগিয়া বিচারের দিন রেখ দয়া রাশি রাশি। ফরিয়াদ আসমান থেকে আবু বকরের ফের দাও খোদা আজ, সবে দেখেনিকো কেমন ছিলেন মহান দিল দরাজ।…





























