-
রূপসী বাংলার কবি
রূপসী বাংলার কবি তাহমিনা খাতুন রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার ছবি এঁকে গেছো কত সহজ, অনায়াস! বিশালাক্ষী দিয়েছিল বর জনম লভেছিলে তাই, নীল বাংলার ধান আর ঘাসের ভিতর। নাটোরের বনলতা সেন পাখির বাসার মতো চোখ দেখে যার হয়েছিল কবি ভাবনা মগন। সোনালি ডানার চিল, সদা কেঁদে যায় এ কবির ভাবনায় লক্ষ্মী পেঁচা শিমুলের ডালে বসে অবিরাম ডেকে যায়। কার্তিক মাস আর ধানের ছড়া হৃদয়ের গহন কোণে, কেবলি দিয়ে যায় নাড়া। ধানসিঁড়ি নদী আর হিজল তমালের বন রূপমুগ্ধ কবির মনে সদা, করে গেছে বিচরণ। বাংলার নদী মাঠ ভাঁট ফুলের বর্ণিল সুষমায় ঘুরে ফিরে আসে দেখি তাহার কবিতায়। চায়নি এ…
-
জীবন বোধ, চিলেকোঠা
জীবন বোধ পূর্ণিমা হক গভীর নিশীথে তন্দ্ৰাহত নয়নে নেই ঘুম– জানালার ফাঁকে দেখি নিঃশব্দ আকাশ জোছনার কোলে শীতের শিশির কাঁঠালের ডালে পাখির ডাকাডাকি শিউলির ঘ্রাণে জীবনের ঘ্রাণ, আমিও চেয়ে থাকি অপলক চোখে বাইরের আকাশে। তন্দ্ৰাহত নয়নে নেই ঘুম নির্জন মাঠে, আমার মনের জীর্ণ কুটিরে জোছনার আলোরা খেলে শান্ত বাতাসে। মনের আকাশে শিশির ঝরিয়ে রোদেরা হাসে সকালের মেঠোফুলে। তোমায় পেয়েছিলাম একদিন সবুজ ক্ষেতের মাঝে, রূপালি বিকেলে গোধূলি বিভায়, কৃষ্ণচূড়ার তলে। আমার প্রতীক্ষায় হয়তো আজো দাঁড়িয়ে তুমি এই অবেলায়– বিশ্বাসের বোধোদয়ে। তবে কি আজো আমাদের অব্যক্ত ভালোবাসা পথ চলে ছায়াঘন তরুর পথে হাতে হাত রেখে? এখনো ক শুনি হৃদয়ে কান পেতে জোছনার…
-
নীলপদ্ম, নতুন সূর্যের ভোর
নীলপদ্ম জিন্নাত আরা রোজী আমি শ্রাবণ হয়ে তোমার কাছে এসেছিলাম একগুচ্ছ কদম খোঁপায় গুঁজে বৃষ্টিতে ভিজব বলে সাদা শাড়ি অঙ্গে জড়িয়ে। কৃষ্ণচূড়ার মতো লাল রঙে আঁকা ছিল আমার অধর চোখে লেপ্টে কাজল এঁকেছিলাম, শুধু তুমি দেখবে বলে, শুধু তুমি। একটু আদর, একটু অভিমানের ছোঁয়া নিতে ভালোবেসে নতুন নামে ডাকবে বলে অপেক্ষায় ছিল এ কাতর হৃদয়, কিন্তু তোমার হৃদয় মন্দিরে ভালোবাসার সঞ্চার হলো না। আমার রূপমাধুরীতে সেই দিন আসমান জমিন জেগে উঠেছিল; কিন্তু তোমার প্রেমময় বক্ষ জাগেনি, কারণ তুমি মুখোশ পরা দেশের মানুষ। তোমাকে না পেলে জীবন্ত লাশ হব না, বরং বৃষ্টিভেজা বেলীফুলের মতো সৌরভ ছড়াব। জলজ্যোৎস্নার ছবি হয়ে আসব ভাঙা…
-
মনে করি ভুলে যাব
মনে করি ভুলে যাব পথিক জামান সেই কবে হতে মনে করি ভুলে যাব তোমাকে কিন্তু কখনোই তা হয়ে ওঠেনি। যতবার চেষ্টা করেছি পরাজিত হয়েছি ততবারই। জানি না তোমার কোন শক্তি কাজ করে ভিতরে আমার। ওই যে রক্তিম মুখ ঘন কালো কেশ আর ডাগর ডাগর দু’টি চোখ সবই তো অতি প্রিয় আমার। তারপর কোনো এক পড়ন্ত বিকেলের কথা, বাঁধা ঘাটে বসে জলে রেখে পা সে ছিল অসম্ভব এক মুহূর্ত, ভুলিনি তা। তারপর জলে নেমে স্নান, কিছু সময়ের জন্য ভুলে গেলে সব- যৌবনের উন্মত্ততায়। ভেসে গেল লৌকিকতা, অবশ্য তা স্বল্প সময়ের জন্য। ভেজা শরীরে সাদা কাপড় জড়িয়ে ছিল অপূর্ব এক লোভনীয় মমতায়।…
-
নিমগ্ন ভালোবাসার বৃক্ষ
নিমগ্ন ভালোবাসার বৃক্ষ জহুরা ইরা অমর জীবনের প্রত্যাশা নয়, ভালোবেসে অমর হবো সাহারার শূন্যতা বুকে নিয়ে জোৎস্না ভেজা রাতে গা ভেজানো রোদে তীর মাড়িয়ে মাঠ পেরিয়ে ছুটেছি অনেক। শুদ্ধ ভালোবাসার দূর্ভিক্ষে ক্লান্ত হয়ে ডুবে গেছি গহীন কালোর অন্তহীন গহ্বরে। জীবনের ধূসর গোধুলি বেলায় হঠাৎ মন ভেজানো বৃষ্টি হয়ে তুমি এলে ভালোবেসে বন্দি করলে আমাকে বললে ভালোবাসা দাও অমরত্ব দেবো। যে বুকে ব্যবিলনের শূন্যোদ্যান-সেখানে জন্ম দিলে আমাজানের দ্রাবিড় অরণ্য। বিষণ্ন বুকের গভীরে জ্বালিয়ে দিলে হাজার তারার দীপাবলি এখন তুমি চলে যেতে বললেই তো আমি যাব না। আমার কাছে তোমার জন্য সঞ্চিত একটি পবিত্র ভোর উদ্দেশ্য কথা বিনিময়-বিধেয় ভাবিনি কখনো। তোমার প্রতিক্ষায়…
-
জলচোখ, নীলজল, রক্তমুখী চাঁদ, উপপাদ্য
জলচোখ আদ্যনাথ ঘোষ আতুর ঘরের পূর্ণিমা চাঁদ ইচ্ছের আক্ষেপে রমণীর ভ্রুণ থেকে উঠে আসা আলো শরীরের গোপনে বেড়ে ওঠা ছায়া আজ বুঝি সহজেই বিদায়ী ট্রেনের মতো হুইসেল বাজায়। ভররাত অভিসারে মুগ্ধময়ী নিয়তির কাঠগড়ায় বাসা বাঁধে শ্লেষ আলোর বিছানা পড়ে থাকে জলচোখ, তৃষ্ণার ভেতর। ঝরে কি গেছে ফাগুন পালক? অথচ অরণ্য কাঁদে সবুজের ধ্বনিময় বুকভরা ফসলের কোলে। স্মৃতিগুলো অতৃপ্ত রয়, ভেসে উঠে সেফটিফিনের ফোঁড় সূর্যের উচ্ছ্বাসে সবুজের গন্ধ জ্বলে দহনে ভরে উঠে ভরণ কলস, ঘোরের আকাশ। বাসনার অঙ্গারগুলো মেতে উঠে ধ্বংসের উৎসবে কোথাও সাজানো নেই; আলোর শিরদাড়ায় ঢুকেছে পেরেক উড়ন্ত পাখির ঠোঁটে শিঙগুলো গুঁতো মারে আঁধার রাতে। কীভাবে যে গিলে ফেলি…
-
দহন, রোমস্থন, প্রকৃত কান্নার স্মৃতি, গমন ও গন্তব্য
দহন রিঙকু অনিমিখ অপেক্ষার পরিধি ভেঙে সে যখন মগ্ন হলো মন্ত্রে মুগ্ধতা তখন নিমেষেই ছড়ালো প্রতিবেশ মুগ্ধতাই যে নীরবতার প্রতিরূপ তার প্রচল প্রথা ভেঙে সে আরো একবার চূড়ায় দাঁড়ালো ধমনীর ভেতর যে লোহিত স্রোত তাকে বলি আগুনের নদী চোখ বেয়ে নামে যে উদ্গীরিত লাভা—লাভাস্রোত হৃদপুর থেকে আসে বিপরীতগামী পথ পথের শেষে নোনতা জ্বরের উপগ্রাম আরও পড়ুন কবি রিঙকু অনিমিখের কবিতা- দ্বিধা শোকবার্তা রোমস্থন যে প্রেমিক তার প্রেয়সীর মুখে ছড়াতো আগুনের হল্কা, সে আর কিছু নয় ঢেউয়ের ফেনা থেকে কুড়িয়ে আনা নাবিকের দীর্ঘশ্বাস। ঢেউয়ে ঢেউয়ে হাতছানি— দূরের সমুদ্র ডাকে—আয়! যেতে যেতে ক্লান্ত অভিযান; মরীচিকা সাঁতরায় সৈকতে দাঁড়িয়ে যাকে সমুদ্রের হাহাকার…
-
প্রেম ও নির্জনতা
প্রেম ও নির্জনতা আবু জাফর খান কত আর তাঁবু পালটানো যায়? চোখের ভেতর রৌদ্র পোড়ে, সুর মেলাতে পারি না ডাহুক ওড়ে যন্ত্রের মতো স্বপ্ন টলে; আমি এতকাল নির্জন খুঁজে… শমেশ্বরীর তীর ধরে হেঁটে হেঁটে না পেয়েছি ওমের জল না জোনাকির বাতিঘর। আঙুলের ভাঁজে শূন্যতার শোক আমাকেই দেখে! না বিপুল তুষার না তেতে ওঠা আগুন, কিচ্ছু নেই বারবার শরণার্থী হতে গিয়ে পুড়ে গেছে ঠোঁটের ঘ্রাণ, হারিয়েছি পাতার শরীর; হিম ডিঙিয়ে অগ্নি-আতশের দিকে দীর্ঘ সফর আসলে… জলের ভেতরে জমে ওঠা অন্ধকার ছাড়া কিছু নয়। জানালার রৌদ্রালোক ধীর হতে ধীরে… ঘন হয় যখন, আমরা বিভাজন করি বিকেল-সন্ধ্যা, কিংবা পাহাড়ের গা বেয়ে রোদ…
-
অসমাপ্ত অধ্যায়, কবিতার আকাশে তুমি
অসমাপ্ত অধ্যায় কে এম আশরাফুল ইসলাম তুমি ছিলে তাই ফুটিলে কবিতার সুষম ছন্দে, পথ ভুলে চলে গেলে ভালোবাসার দ্বিধাদ্বন্দে! দৃঢ় শপথে বাঁধিয়া হিয়াতে বিনিময় করিলে মন, দিবা-রাতে এখনো খুঁজি হারানো কাঙ্ক্ষিত রতন! চলি ভাবনায় সেই ভালোবাসায় যা কেড়ে নিয়ে সুখ, অযথা হারায় না ফেরার মান্সে দিয়ে অযাচিত দুখ। বলিতে তখন আমাদের ভুবন আসিলেও প্রলয় ঝড়, অটুট এ বন্ধন রহিবে অটুট না হবো কখনো পর! সময়ের চাকা সরল না বাঁকা অজানাই আদি অন্ত, ফাঁকিতে ফাঁকা রচিয়া অদেখা করিলে চির অশান্ত। অবগুণ্ঠন চোরাগুপ্তা নয়ন তীর্যক চাহনিতে দেখে, সর্বস্ব লুণ্ঠন করিয়া প্রত্যয় আপনাকে দূরে রাখে। অযাচিত দূর পথ বন্ধুর প্রত্যাশার বাতিঘর দোলে,…
-
ফেলানী
ফেলানী তাহমিনা খাতুন ফেলানী! সে এক ছোট বালিকার নাম পেটের ক্ষিধে নিয়ে কাঁদে অবিরাম। ঘরে তার আছে আরও ছোট ভাই বোন ক্ষুধায় তাদেরও বুঝি না থামে ক্রন্দন। পিতা তার জোটাতে না পারে ক্ষুধার আহার বাঁচার তরে সে যুদ্ধ তাই করে অনিবার। প্রাণান্ত পরিশ্রম সে করে দিন রাত সন্তানের মুখে তবু পারে না দিতে দুই মুঠো ভাত। ক্ষুধাতুর শিশুর কান্না সহিতে না পারে ফেলানীরে সাথে নিয়ে তাই দেশ ছাড়ে। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তবে, যাবে সে ভারত ভাবিল জুটিবে এবার দুটো ডালভাত। ক্ষিদের জ্বালা বড় জ্বালা না মানে দেশ কাল ক্ষুধার অন্নের লাগি বাড়ালো জঞ্জাল। ছোট্ট ফেলানীও ভাবিল বুঝি দুঃখ হবে…






























