• নতুন-প্রজন্ম-এবং-বাংলাদেশ
    কবিতা,  খলিফা আশরাফ,  সাহিত্য

    নতুন প্রজন্ম এবং বাংলাদেশ

    নতুন প্রজন্ম এবং বাংলাদেশ খলিফা আশরাফ   নতুন প্রজন্ম এবং অজেয় বাংলাদেশ বিপন্ন বিস্ময়ে প্রত্যাশায় চেয়ে থাকি তবু কষ্ট দহন বুকে অপলক চোখে সতর্ক প্রহরা আজও দেখি একাত্তুরের মোহন স্বত্ত্বায় উদ্ভাসিত সুবর্ণ জমিনে নারকীয় বীজ বুনে যায় মদ্যপ পামর বিষাক্ত নিঃশ্বাস ফেলে অবিরাম ঘাড়ে বৃশ্চিক সব কদর্য হাত ফেলে মানচিত্রের পবিত্র সীমায়। আমরা বিস্মৃত হই নিকট অতীত সহসা ভুলে যাই ঘাতকের নাম লোলজিহ্বা বিস্তরিত জীঘাংসার কদাকার মুখ সেই সব কুশীলব নরকের কীট, স্বাধীনতার ঘোর শত্রু যারা কি নিপুণ খেলেছিলো ষাড়যান্ত্রিক কূট পাশা খেলা, সহস্র বছরের আরাধ্য অর্জন লক্ষ প্রাণের রক্তধোয়া চেতনা বৈভব গৌরবের জয়-স্তম্ভ সব ছিড়েখুঁড়ে নিঃশেষে চেয়েছিলো খেতে সর্বভুক…

  • কিশোর-কবি
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    কিশোর কবি

    কিশোর কবি তাহমিনা খাতুন   এক কিশোর, কিইবা বয়স এমন, মেতে থাকার কথা যার দূরন্তপনায় অথচ সে অবাক হয়, জন্মেই  ক্ষুব্ধ স্বদেশ অবাক করে তাকে পৃথিবী অবাক তার কবিতার চরণে। বিশ্ব হতবাক, দেশলাইয়ের বারুদের মতো জ্বলে ওঠা এক কিশোর বিস্ময়ে চেয়ে রয় পরাধীন দেশ। লেখে সে কবিতা, সে কবিতা অন্তরে দোলা দেয় বিপ্লবী সুরে সে তো বুঝি কবিতা নয়, যেন স্ফুলিঙ্গ! দ্যুতি ছড়ায়, লাইনে লাইনে তার বিদ্রোহ, বিপ্লব তার ছত্রে ছত্রে! এ কোন ক্ষুদে বিদ্রোহী? এ যেন আর এক  বিদ্রোহী নজরুলের অভ্যুদয়, পরাধীন ভারতের গগণ তলে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর চিৎকারে, যে  শুনতে পায় তীব্র প্রতিবাদ অন্যায় আর অসাম্যের বিরুদ্ধে, সে…

  • অগ্নিঝরা-বৈশাখ
    কবিতা,  জহুরা ইরা,  সাহিত্য

    অগ্নিঝরা বৈশাখ

    অগ্নিঝরা বৈশাখ জহুরা ইরা   বৈশাখের নতুন সূর্য হয় যেন জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ড যার তাপদাহে শরীর থেকে নির্গত হোক অজস্র ধারায় ঘাম, জমে থাকা পুঁজ, ভীরুতার ভিত আর দূষিত রক্ত। যে রক্ত ধমনীতে বয়ে মানুষকে করছে সংক্রমিত। বৈশাখ বয়ে আনো, ধরার বুকে এক অগ্নিবান, জ্বালিয়ে দাও যত জরা, অনাকাঙ্ক্ষিত আবর্জনা, অভিশাপ নিভৃতে, গঞ্জে, নগরে, দেশ জুড়ে যেখানে শুদ্ধ হোক বুকের গহীন ক্ষত আর ঘুনে ধরা হৃৎপিন্ড। কালবৈশাখি হয়ে তুমি তান্ডব নৃত্য কর ভূপৃষ্ঠে উড়িয়ে দাও যত ধুলো মরা পাতা, আর সব অমানুষগুলো, পায়ের তলায় থাকবেনা মিথ্যার পাতা ফাঁদ, নির্বিঘ্নে বেড়ে উঠবে নবজাতক পাবে যোগ্য আবাস বৈশাখে বিদ্যুৎ চমকাক থেকে, তীব্র বেগে,…

  • তোমাকে-পাইনি-বলে
    কবিতা,  পথিক জামান,  সাহিত্য

    তোমাকে পাইনি বলে

    তোমাকে পাইনি বলে পথিক জামান   তোমাকে পাইনি বলে আমার দুঃখে ভরা প্রাণ, তাইতো আমি সবখানে গাই দুঃখে ভরা গান। তোমাকে পাইনি বলে আমার মনে অনেক জ্বালা, তুমি ছাড়া আমার গলায় কে পরাবে মালা? একুশ বছর পড়ে আছি তোমার প্রেমের ফাঁদে, তাই নিশিতে পরাণ আমার গভীর ব্যথায় কাঁদে। মুক্তি পেতে যতই আমি করি না কেন ফন্দি, শেষ দেখি আমার সকল তোমার প্রেমেই বন্দী। জানি আমি কোনদিন আর তোমায় পাব না, তবু কেন তোমায় নিয়ে এত ভাবনা? এমনি করে তোমায় নিয়ে হয়তো আরো ভাববো, তোমায় নিয়ে হয়তো আরো লিখবো প্রেমের কাব্য। তোমায় নিয়ে ভাবি আমি সকাল দুপুর রাতে, বুকের ব্যথা বাড়ে…

  • ভালোবাসার-চিঠি
    কবিতা,  কে এম আশরাফুল ইসলাম,  সাহিত্য

    ভালোবাসার চিঠি, ভালোবাসা ডাকে ঐ, কে কাঁদে

    ভালোবাসার চিঠি কে এম আশরাফুল ইসলাম   জাগি নিশি জানে ঐ শশী আর মম হিয়া, নহে পড়শি ভালোবাসা নিও ওগো প্রিয়া। অর্পিত মন দেখে স্বপন যতনে আঁকি ছবি, ওগো জীবন তোমার ভাবনায় হয়ে যাই কবি। লিখে যাই ছন্দ হারাই না হারিয়ে তোমায়, আমাতে পাই অন্তরের গভীরে অতি মমতায়। ঐ আঁখি আমাকেই ডাকি অপলক বাঁধনে, হইয়া পাখি করে উতলা ঘুমে কি জাগরণে। অপরূপ সৃজন অতুল নয়ন সুকান্তি সুকেশিনী, শিল্পীত আনন লিওনার্দো পিকাসোও দেখেনি! যতই দেখি সতৃষ্ণ আঁখি সতত দেখিবারে, পিঞ্জরে পাখি করিয়া রাখিতে তাড়ার আমারে। নয়নের আড়ে যাপিত অন্তরে কুঠারে করে আঘাত, নিঃশব্দে ঝরে তাপিত অশ্রু হইয়া নায়াগ্রা প্রপাত! দোহাই সখী…

  • মে-দিবসের-গান
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    মে দিবসের গান

    মে দিবসের গান তাহমিনা খাতুন   পয়লা মে দিনটি ঘুরে আসে বার বার দিনটি যে সব দুখী মানুষের, সাহসী হয়ে ওঠার। যুগ যুগ ধরে কঠিন আঁধারে, জীবন হতো যে পার সয়ে যেত শুধু, শত অন্যায় আর যত অবিচার। মানুষ তো নয় শ্রমিক যেন, ভারবাহী কোনো প্রাণী জনম হতে জনমে টানিত অপমান আর গ্লানি। কল-কারখানার শ্রমিক মজুর সারা দিনমান খাটে তবুও তাদের ক্ষুধার অন্ন, অনেক কষ্টে জোটে। অন্ন নাই বস্ত্র নাই, নাইকো চিকিৎসা ধুঁকে ধুঁকে মরে তাদের শিশুরা, এমনই দুর্দশা। সারাটি দিনের খাটুনির পরে, যবে আসে ঘরে ফিরে ভাঙ্গা ছাউনিতে বৃষ্টির জল, ঘরটি ভাসিয়ে ছাড়ে। নাইকো শিক্ষা, নাইকো দীক্ষা, নাই আনন্দ…

  • ঈদুল-ফিতর
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    ঈদুল ফিতর

    ঈদুল ফিতর তাহমিনা খাতুন   সাঁঝের আকাশে এক ফালি চাঁদ উঠেছে ফের হেসে ছুটিছে সবাই দেখিতে তাহারে, বড়ই ভালোবেসে। নিত্য দিন একই চাঁদ ওঠে, একই আকাশ কোলে সবার অলক্ষে ডুবে যায় ফের, মন কি সদাই দোলে? ঈদের খুশী এনেছে সে বহিয়া, বিশ্ব মুসলিম তরে আকাশ বাতাস তার বারতা জানায়, মহা আড়ম্বরেক। সাগর নদী সে কথা জানায়, ছলাৎ ছলাৎ গানে পাখ-পাখালি জানায় সে খুশী, তাদের কলতানে। হরেক রঙের পোশাক পরিবে খোকা খুকুর দল ফিরনী পোলাও পায়েস খাবে, হবে তারা উচ্ছ্বল। কিশোরী তরুনী মেহেদীর রঙে, রাঙাবে হস্ত খানি খুশী আনন্দ আর উচ্ছ্বলতায়, ভাসিবে তাহারা জান। আতর গোলাপ খুশবু ছড়াবে, সারাটি দুনিয়া জুড়ে…

  • নবতান
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    নবতান

    নবতান তাহমিনা খাতুন   একটি বছর পার করে আবার এসেছে বৈশাখ, চারদিকেতে বাজছে বুঝি তাই, আনন্দেরই শাঁখ। ঢোল বাজে, সানাই বাজে, বাজে মোহন বাঁশি সেই সঙ্গে আরো বাজে, সবার হাতের কাঁসি। বছরের আজ প্রথম ক্ষণে, এই কামনা করি, শান্তি বারি ঝরে পড়ুক, সারা ভুবন ভরি। বছরের সব পঙ্কিলতা ধুয়ে মুছে যাক অমিয় ধারা দিয়ে আবার, জগতকে ভরাক। আসুক নেমে ধরনীতে, সোনালী এক ভোর, ঘরে ঘরে বাঁধুক সবাই ভালবাসার ডোর। দূর করে দিক আবর্জনা, দূর হোক সব পাঁক, পাহাড়, নদী, বন-বনানী জীবন ফিরে পাক। কালবোশেখীর রুদ্র রোষে অশান্তি হোক দূর, মধুর মায়ায় সবার জীবন করুক সে ভরপুর। জগতে আজ হয় যেন…

  • আজি-বৈশাখে
    কবিতা,  ফকির শরিফুল হক,  সাহিত্য

    আজি বৈশাখে

    আজি বৈশাখে ফকির শরিফুল হক   এলো বৈশাখ অবশেষে চৈত্র শেষে চৈত্রের পুরো মাস পার্বণে আগমনী বৈশাখী নবান্নে, শিব পূজা আর প্রতি হিন্দু পাড়ায় অষ্ট গানে চৈত্র সংক্রান্তির দিনে আামাদের গাঁয়ে জদ্দারদের উঁঠোনে। যুগ যুগান্তরের উৎসব, আজি অনুভবে শৈশব দূর গ্রাম হতে আসা ভিন্ন বেসে সন্যাসী চালানে, নেঁচে গেয়ে সন্যাসী দল ঢাক ঢোল কাসার তালে গভীর রাত হতে শেষ চৈত্র সকালে। আজি বৈশাখে মুছে যাক ব্যর্থ গ্লানি বিষাদের বাঁক বৈশাখ স্বপ্ন সাহসে নবরুপে তুমি সবুজ উর্বর ভূমি, প্রিয় মুখ সুখ বলে কানে চুপি চুপি থাকুক বাঙলা প্রাণে উদাস বাউল নব জাগ্রত প্রাণে গেয়ে বৈশাখী গানে। খরতাপ সূর্যের হাঁসিতে জেগে সুবজ…

  • নীরব-অসন্তুষ্টি
    কবিতা,  সাহিত্য

    নীরব অসন্তুষ্টি, আমাদের সুজানগর, হুশ ফেরাও মানুষ

    নীরব অসন্তুষ্টি  আজিজুল কায়সার   অনেক রয়েছে তবুও তা যেন নিতান্তই অতি তুচ্ছ, অসন্তুষ্টিতে ভরপুর আজ শ্রেষ্ঠকুলের হৃদয় গুচ্ছ। সুদর্শনা ক্ষতবিক্ষত অভিযোগ করবে কার কাছে, শ্রেষ্ঠ কুলের যুবকেরা ছুটছে মরীচিকার পিছে পিছে। স্বাচ্ছন্দের সান্নিধ্য খুঁজি দিগন্তের প্রকৃতিকে ঘিরে, প্রকৃতিপ্রেমীরা সকলেই হতাশ অসন্তুষ্টির ভিড়ে। শিক্ষাঙ্গনের অনিয়মগুলো চলছে কিসের ইঙ্গিতে, শিক্ষা দীক্ষায় হায় হায় বুঝি ভুলে ভরা সব ভঙ্গিতে। অযোগ্যরা শিক্ষক হয়ে যায় ঘুষ মেশিনের জোরে, মেধাবীরা হয় সুযোগ বঞ্চিত ভালো হবে কি করে? নিয়ম অনিয়মের দৃশ্যগুলো আজ নির্লজ্জ প্রকাশিত, সম্মানের ভয়ে আড়ালে থাকা নয়তো ভালোয় নিহিত। কবিরা লিখবে বসে সুদর্শনার আলোকিত জোসনায়, অশুভ কালো মেঘের গর্জন পড়ে কবির স্বাধীনতায়। আরও পড়ুন…

error: Content is protected !!