-
খুঁজি স্বাধীনতা
খুঁজি স্বাধীনতা জহুরা ইরা একটি স্বাধীন দেশ বাংলাদেশ আছে যার নিজস্ব পতাকা, মানচিত্র জাতীয় রাষ্ট্রিয় প্রতীক আছে জাতীয় দিবস, সংগীত কিন্তু স্বাধীনতা কোথায়? নারীর চলার পথ আজ কন্টকাকীর্ণ শিশু, কিশোরী, কুমারী, বধু, মাতা হয় বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, ধর্ষিত, দূর্বৃত্তদের লোলুপ দৃষ্টির ঘায়, তবে স্বাধীনতা কোথায়? শিশু কিশোরকে হতে হয় অপহরণ হরণ হয় তাদের ন্যায্য অধিকার খর্ব করা হয় বেঁচে থাকার অধিকার অর্থ লোভীদের অশুভ অর্থ লিপ্সায় তবে স্বাধীনতা কোথায়? কর্মশেষে ঘরে ফিরে আসা প্রিয়জনের অধীর প্রতিক্ষার অবসানে এসে পৌছে প্রাণহীন দেহ মানুষ খেকো মানুষের থাবায় তবে স্বাধীনতা কোথায়? কষ্টে অর্জিত কিঞ্চিত ধন সাধ করে কেনা প্রিয়জনের উপহার মানুষ আকৃতির সব…
-
একশত ছিদ্রযুক্ত জামা (৩য় পর্ব)
একশত ছিদ্রযুক্ত জামা (৩য় পর্ব) সাইফুর রহমান রেজেক বাড়ি ফিরতেই লক্ষ করে, মোমেনাও আসন্ন যুদ্ধবিগ্রহে শঙ্কিত ও চিন্তাগ্রস্ত। মোমেনা রেজেককে উদ্দেশ করে বলে, ── পাকিস্তানিরা নাকি সত্যই আমারে দেশের মানষির মাইরে ফেলাচ্ছে। ইডা কেমন কতা? ওরা না মুসলমান। মুসলমান হয়া আরেক মুসলমানরে মারতিছে। ওদের কি ধর্মটর্ম কিছু নেই তালি? ── কী আর কবো রে মোমেনা। পাকিস্তানি মিলিটারিরা কাশিনাথপুর ক্যাম্প গাড়েছে। ওরা নাকি আমারে গিরামেও আসপি। অল্প বয়স্ক বেটা-ছেলেদের নাকি ধইরে নিয়ে যাচ্ছে। কী হরবো, কিছুই বুঝবের পারতেছিনে। মোমেনা উৎকণ্ঠিত গলায় বলে, আগে আপনি হাটে যান। গ্রামের অনেকেই চাল-ডাল-নুন-তেল মজুত করতিছে। যুদ্ধ শুরু হয়া গেলি মানুষজন খাবি-পরবি কেবি কইরে? ──…
-
সন্ধ্যা, পথের বাঁকে, দূরত্বের ছায়াপথে
সন্ধ্যা পূর্ণিমা হক আমার ঘরের পাশে সজনে গাছে যখন সন্ধ্যা নামে শীতের শিশিরে, বিহঙ্গরা নীড় খোঁজে। সন্ধ্যা শেষে রাত আসে বিস্মৃতির ব্যথা জমে মনে হৃদয়ের অতল জমিনে। কতদিন দেখি না তোমায় সতৃষ্ণ নয়নে! বিদায়ের বুকে নিয়েছ ঠাঁই মাটির মমতা ছেড়ে- অনন্তলোকে। সান্ত্বনার মেঘেরা আনে আঁধারে আষাঢ় আমার হৃদয়ে- অস্বস্থির দাবানলে পুড়ে অঙ্গারিত হৃদয়। কোথায় হারিয়ে গেল আকাশি মন সাদা-কালো হতাশার হিমে নীল নীল কষ্টের বিষে! আমার ঘরের পাশে সজনে গাছে রাত শেষে ভোর হয় পাখির কুজনে। সাদা সাদা ফুলেরা হাসে স্নিগ্ধ বাতাসে প্রশান্তির হাওয়া লাগে আকাশি মনে, অতঃপর দিবসের শেষে যখন সন্ধ্যা নামে অতল জমিন যায় ভরে হতাশার হিমে।…
-
আলাদীপুর, গল্প, তালিমনগর, নাজিরগঞ্জ, নাজিরগঞ্জ ইউনিয়নের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ, সাইফুর রহমান, সাতবাড়িয়া, সাহিত্য
একশত ছিদ্রযুক্ত জামা (২য় পর্ব)
একশত ছিদ্রযুক্ত জামা (২য় পর্ব) সাইফুর রহমান প্রত্যুষে উঠে পেটের ধান্দাটাই আগে করতে হয় রেজেকের। তাকে যেতে হয় রসু মিয়ার বাড়ি। রসু মিয়ার কাছে তিন মাস আগের পেঁয়াজ বিক্রির কিছু পাওনা বাকি পড়ে আছে। বেশ কয়েক মাস ধরে টাকাটা আটকে রেখেছে রসু মিয়া। চাইলেই শুধু গাইগুই করে। সাথে নানা রকম টালবাহানা, ওজর-আপত্তি ও ভাঁওতাবাজি প্রতিজ্ঞা। টাকাটা তুলতে পারলে কয়েক দিনের সংসার খরচটা আপাতত সামাল দেওয়া যায়। এরপর তাকে যেতে হবে লালডাঙ্গী বটতলায়। যেখানে হুজুর আস্তানা গেড়েছে, সেখানটায়। হুজুরের নাম শাহ সুফি কুতুব উদ্দিন জালালাবাদী। রসু মিয়ার বাড়িতে যাওয়ার পথে কুতুব উদ্দিন জালালাবাদী সম্পর্কে লোকমুখে অনেক কথাই শুনতে পায় রেজেক।…
-
২০২৩ সালের সকল শ্রেণির বইয়ের পিডিএফ ডাউনলোড
২০২৩ সালের সকল শ্রেণির বইয়ের পিডিএফ ডাউনলোড প্রাক প্রাথমিক পর্যায় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সকল বইয়ের পিডিএফ ভার্সন ডাউনলোড করে নিতে পারেন। আপনার যে শ্রেণির বই দরকার, সেই শ্রেণির বইয়ের নামের উপর ক্লিক করলে ডাউনলোড লিংক পাবেন। পিডিএফ ভার্সনের বইগুলো পড়তে, মোবাইলে অথবা কম্পিউটারে পিডিএফ রিডার ইনস্টল থাকতে হবে। এরপরও কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে কমেন্টে জানাতে পারেন। ১. প্রাক প্রাথমিক পর্যায়: আমার বই এসো লিখতে শিখি ফ্ল্যাশ কার্ড ফ্লিপ চার্ট ব্যঞ্জন চার্ট স্বরবর্ণ চার্ট ২. প্রাথমিক স্তর: প্রথম শ্রেণি: আমার বাংলা বই English for Today প্রাথমিক গণিত দ্বিতীয় শ্রেণি: আমার বাংলা বই English for Today প্রাথমিক গণিত …
-
মরা নদী, শ্রেষ্ঠ মানুষ, শিক্ষা গুরু
মরা নদী মো. হাতেম আলী ফেলে আসা স্মৃতিগুলো মরূঝড়ে এলোমেলো নিমিষে হারিয়ে গেলো ভালোবাসার ঘর। তুমিহীনা এ জীবন বাকহীন সারাক্ষণ অনুভবে এ-ভূবন ধু-ধু বালুচর। এক ডালে দুটি ফুল বাতাসে খেলেছি দোল হাসি-গল্পে মশগুল থাকতাম দু’জনাতে। কি এমন ছিল ভুল যার লাগি ভাঙে কুল ভেবে হই বিহ্বল জেগে নিশী রাতে। পাষাণে বাঁন্ধিয়া হিয়া গেলি বন্ধু পর করিয়া কাঁন্দি বসে তোর লাগিয়া বিষন্ন বদনে। করি আমি এই মিনতি কিঞ্চিৎ সময় থাকে যদি দেখে যেও ভরা নদী শুকাইছে যৌবনে…! আরও পড়ুন মো: হাতেম আলীর কবিতা- পাশ্চাত্য শিক্ষা সুশিক্ষার অভাব মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব শ্রেষ্ঠ মানুষ উঁইপোকা তুই ভালোই ছিলি মাটির ডিবিতে…
-
আদ্যনাথ ঘোষের কবিতায় প্রান্তিক প্রতিধ্বনি
আদ্যনাথ ঘোষের কবিতায় প্রান্তিক প্রতিধ্বনি জহুরুল ইসলাম কবিদের কোনো সীমারেখা নেই। কবি সব দেশের, সব মানুষের, সব জাতির। কবি মানুষের কথা বলে, মানবতার কথা বলে। কবি তার গোপন আয়নায় দেখতে পান- সমাজের অসঙ্গতি, পতন, ঔদ্ধত্যের বিকৃত রূপ, অনাচার। তিনি কারও সঙ্গে আপস করেন না, করেন না। কোনো গোপন চক্রান্ত। তিনি গোপনে গোপনে ক্রমাগত মোচড় খেতে থাকেন। একদিন তিনি সব গোপন সত্য আয়নায় প্রতিফলিত করেন। তিনি প্রকাশ করেন- কারণ না করে তিনি থাকতে পারেন না। কবি আদ্যনাথ ঘোষও এর ব্যতিক্রম নন। তার ব্যথিত হৃদয় বারবার কেঁপে ওঠে স্বদেশের ভাবনায়- তাতার ঘোড়ার পিঠে ছুটেছে নাগরিক স্থাপত্যবিদ্যার যোদ্ধাকুল পতন হচ্ছে গাঁয়ের পর…
-
নিশুতি রাতের সনদ, রাতের ভূচিত্র
নিশুতি রাতের সনদ আবু জাফর খান মধ্যরাতে মুখোশ পরা কজন লোক- একটা ডেডবডি এনে বলল, ‘ডাক্তারবাবু, লিখে দিন মেয়েটা সুইসাইড করেছে’। না লিখলে – কাল খবরের কাগজের শিরোনাম হবেন, ‘আততায়ীর হাতে একজন চিকিৎসকের মৃত্যু’ লিখে দিন! বিষাদ চোখে তাকালাম – মৃত মেয়েটির দিকে, জ্যোৎস্নায় ভরে গেল ঘর ভেসে গেল বুক বানভাসা জলের তোড়ে, আমার আকাশে কাজল মেঘ! লিখে দিলাম, যেভাবে লেখা হয় ভেজা শালিকের গল্প যেভাবে লেখা হয় কাতর প্রেমের কবিতা যেভাবে কফিনে পেরেক পুঁতি আমরা যেভাবে দেয়ালে তৈরি করি ক্ষত, যেভাবে নাজারেথের যিশুকে ক্রুশবিদ্ধ করব বলে- তৈরি করি ইতিহাস, যেভাবে অসমাপ্ত কবিতার সামনে দাঁড়িয়ে বিলাপ করেন কবি, সেভাবে…
-
একশত ছিদ্রযুক্ত জামা (১ম পর্ব)
একশত ছিদ্রযুক্ত জামা (১ম পর্ব) সাইফুর রহমান কাশিনাথপুর থেকে যে প্রধান পাকা সড়কটি পাবনা শহরে গিয়ে মিশেছে, তারই মাঝে একটি জায়গার নাম আলাদিপুর। আলাদিপুর থেকে একেবারে দক্ষিণ বরাবর আরেকটি কাঁচা রাস্তা নদীর মতো এঁকেবেঁকে নেমে গেছে লালডাঙ্গী হয়ে গাজনার বিলে। নদী ও মানুষের মন দুটোই আঁকাবাঁকা হবে, এটাই মনে হয় প্রকৃতির এক অমোঘ নিয়ম। রেজেক আলী সদাইপাতি ভর্তি চটের থলেটি শক্ত করে ধরে কুমিরের পিঠের মতো কর্দমাক্ত রাস্তাটিতে ছোট ছেলে-মেয়েদের এক্কাদোক্কা খেলার মতো করে পা টিপে টিপে এগোতে থাকে লালডাঙ্গী বরাবর। আলাদিপুর থেকে লালডাঙ্গীর দূরত্ব মাইল দেড়েক। শুধু নামেই গ্রামের নাম লালডাঙ্গী। বর্ষা মৌসুমে যখন গাজনার বিল উপচে লালডাঙ্গীতেও…
-
সাদা মেঘের তুলো (শেষ পর্ব)
সাদা মেঘের তুলো (শেষ পর্ব) শাহানাজ মিজান বন্ধু জামানের কাছে শুনেছিলাম নোড়া বিয়ে করেছে। একটা চিরকুটও পাঠিয়েছিলো, তাতেও বিয়ের কথাটাই লেখা আছে। আচ্ছা, নোড়া কি খুব সুখে আছে? ওর বর নিশ্চয়ই খুব ভালোবাসে ওকে। এতোদিনে হয়তো ওর বাচ্চা-কাচ্চাও হয়েছে। যাবো যাবো করতে করতে দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগছিলাম। একদিন সমস্ত দ্বিধা কাটিয়ে, একবার শুধু চোখের দেখা দেখবো বলে, ওদের বাসায় গিয়েছিলাম কিন্তু দেখা হলো না। ওরা সে বাসা ছেড়ে দিয়েছে কিছুদিন আগেই। আচ্ছা, আমার কথা কি ওর একবারের জন্যেও মনে পরে না? আমি তো ঠিকানা বদলাইনি, যদি ভুল করেও একবার আসতো! বদলাইনি ফোন নম্বর, প্রতিক্ষায় থাকি, যদি সেই পরিচিত নাম্বার থেকে…






























