-
হৃদয়পটে, আসবো ফিরে, দহন দাবানল
হৃদয়পটে পূর্ণিমা হক এখানে আকাশ নীল জমিনের বিস্তৃত সুবিশাল পরিসরে নির্জনতায়, নিঃশব্দে সাড়ে তিন হাত মাটির হৃদয়ে ঠিকানা হয়েছে তোমার। তোমার রেখে যাওয়া আনন্দ বেদনাগুলো করে বাস অবিচ্ছেদ্য আত্মীয়ের মতো- আমার হৃদয় পিঞ্জরে। ঋতু যায় ঋতু আসে জীবন শুধু যেতে পারে না ফেরার দেশে। তুমি তো নিসর্গের মতো- আপন আত্মার বিচ্ছেদে হয়েছো বিলীন, হাত রেখেছি আমি তোমার নিথর দেহে, শীতল কপালে- শেষ স্পর্শের অনুভূতিটুকু নিয়ে আমিও হয়েছি বিলীন। তবুও ব্যথার নীল বেয়ে জ্বলে ওঠে অন্য এক সুখ। পূর্ণিমার চাঁদ, স্নিগ্ধ হাওয়া, পাখির কলতান আকাশের নীলে তোমার বসতি যেনো নতুন দিনের মতো পুবাকাশে নতুন জীবন। তোমার প্রেরণাগুলো ঘাসফুল হয়ে রয়…
-
তৃষ্ণা, অকাল মরণ, করো দীর্ঘজীবী
তৃষ্ণা অঞ্জলি ভৌমিক পাখ পাখালির তৃষ্ণার ঠোঁট জল নাই নদী তীরে, সব নদী জল বাষ্পে উড়িয়ে মেঘ ফিরে গেছে নীড়ে। জলের সাথে মধু মিলনের দিন গুনে তবু পাখি, ছন্দে ছন্দে জোষ্ঠ্যের কালে আনমনে যায় ডাকি। ভরা পূর্ণিমা ভরা যৌবন মরে মরে ফের বাঁচে, মেঘ ফিরে আর আসে না বুকের বামপাশটার কাছে। রোদেলা দুপুরে ঘুম বেঁচে পাখি আঙিনায় যাচে জল, নদীর গভীরে ক্ষত করে আনে বৃষ্টি ছলাৎ ছল। অকাল মরণ ইচ্ছে করে দরজা খুলে আকাশটাকে লুকাই ঘরে, বাতাসটাকে যত্ন করে হাতের মুঠোয় রাখি ভরে। ইচ্ছে করে স্বপ্ন হাজার বিলিয়ে দিতে তাদের মাঝে, স্বপ্ন যাদের চোখের পাতায় পড়েই থাকে সকাল…
-
আমার চাঁদ, মাটির আলো, অন্তরে সোনালি আলো, দুরুদুরু
আমার চাঁদ খোন্দকার আমিনুজ্জামান তুমি আমার চাঁদ, চাঁদের জ্যোৎস্না আরও আছে কতশত মধুর দ্যোতনা, কতো ভাবনা। তুমি ভালো লাগার অধিক কিছু তাই মন ছুটে যায় তোমার পিছু মনটা আমার প্রাণে রহে না। ভোরের আর্দ্র বাতাস তুমি, তুমি শিউলির সুবাস আরও অনেক বাড়তি কিছু ভাষায় যায় না প্রকাশ সারাটাক্ষণ মন ছুঁয়ে যায় তোমারই কল্পনা। মাটির আলো এক মাটির আলো আমায় করলো এলোমেলো দিবানিশি প্রতিবেশী এমন আলো জ্বালাইলো মনটা আমার ঝলোমলো পাগল বুঝি বানাইলো এক মাটির আলো। অনস্ত অতুল তুলনা তার নাইরে ভুলিতে পারি না ভোলা কি যায়রে কী যে হয়ে গেল হৃদয় করে টলোমলো। সেরা তুমি সুন্দর তুমি সুর-ছন্দের…
-
প্রেমমৃত্তিকা, নিরাশার মাঝে, মঙ্গল প্রবাহে
প্ৰেমমৃত্তিকা আদ্যনাথ ঘোষ জীর্ণ-শীর্ণ ঝরা পাতাগুলো শুধুই কেঁদে কেঁদে যায় অনন্ত বিরহ বেদনায়- বিকেলের হলুদ-রক্তিম আভার সাথে পশ্চিমে হেলেছে সূর্য সিঁদুরের সাথে দুধে-আলতা মিশানো অই অসহ্য বেদনার সাক্ষী হয়ে। হেমন্তের ধান কাটার পরে রিক্ত মাঠের যে বিপন্ন-বিষণ্ণতা কন্যার বিদায়ের সাথে পিতার যে শূন্যতার আহাজারি কার বুকে কতো কষ্ট-কার বুকে কতো প্রেম- কার বুকে কতো কতো ঝড়- অশান্ত মনের ধূসর মেঘমালা থেকে— শুধুই ঝরে ঝরে পড়ে বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায়। হৃদয়ের দুঃসহ ক্ষত-বিক্ষত, শিরায় শিরায় অবিরত বয়ে চলে রক্তস্রোত আর আমি চেয়ে চেয়ে থাকি রিক্ত হাতে প্রেমমৃত্তিকা থেকে অসীম শূন্যতার দিকে অবলীলায় । আরও পড়ুন আদ্যনাথ ঘোষের কবিতা- কান্নার কৈলাসে কবিতার…
-
রাতের মিনার, দূরে বাজে
রাতের মিনার আবু জাফর খান কখন সকাল হবে? খুব ভোরের দোয়েল আমায় ডাকে! আমি রাতের দুয়ার বন্ধ করে দিই রাতপ্রহরী হাক দেয় না আগের মতো। শালিকের ভেজা ডানায় অলীক মেঘের তাবু? আমি প্রার্থনায় থাকি অলৌকিক বিষাদ নিয়ে! না, কোনো চাঁদের দৃশ্যে লুনাটিক নই আর প্রাচীন শব্দেরা করতলে, ভিখিরি চোখ অরণ্যে যাব বলে বাতাসের তরণি বাই। ও রাত্রি, মিনার পেরিয়ে যাও! ও রাত্রি, ছোট হয়ে গৈরিক বিন্দু হও! আমার একটি ভোর, ঘাসফুলের জীবন পাক! আমার ঈশ্বর এখন উলটোডাঙার বাসক আমার ঈশ্বরের চোখে হিমরাতের তুক! THE NIGHT MINARET When it will be morning! The wagtail of the morning calls me. I…
-
চাইনি এমন স্বদেশ
চাইনি এমন স্বদেশ খলিফা আশরাফ চাইনি কষ্ট-দগ্ধ এমন স্বদেশ আমি রক্তে ভেজা তপ্ত জন্মভূমি পাপাচারীর চাকায় পিষ্ট ধর্ষিত শান্তি অনাবিল ঘাতকের উন্মত্ততা খণ্ডিত শবদেহের নিলাজ মিছিল, চাইনি এমন দেশ সাধের আবাস তপ্ত উনুন গনগনে লাভা দুর্বহ পোড়ায়, ঝরায় নিত্য খুন যেখানে ঘাতক দুর্জন কর্তা অধিশ্বর তাদের নির্দেশে ওঠা-নামা করে বৈরী সময়-স্বর, চাইনি এমন দেশ সবিশেষ মিথ্যার কারুকাজ সত্য নির্বাসনে, অসত্যই চালায় তক্ততাজ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে গলিত-গন্ধ বিষবাস্প ছড়ায় অষ্ট প্রহর কাটে দুঃসহ যাতনায়, চাইনি এমন দেশ যেখানে মৃত্যু অঝোর ধারায় নামে দিবস মধ্যযামে যেখানে অসুর বেসুরে সুরের ভনিতা করে করতালি আর অশেষ সমাদরে যেখানে পাদ্রী পুরোহিত ভিক্ষু মৌলানা নির্বিকারে…
-
গাজনা বিলের ধান
গাজনা বিলের ধান মো. শরিফুল ইসলাম আমার এ সোনার ধান রবে কি মাঠে পরে? যারে ফলবার জন্য আমি অঙ্গ দিয়েছি ঝরে রাত নেই আমার, দিন নেই আমার, করেছি তারে যতন যেনো দেখে বলে তারে হয়েছে মনের মতন। কতো করেছি যতোন তার হতে দেয়নি রোগা দেখলে কোন শঙ্কা সংশয় দিয়েছি কতো জোগা। ডোপ কাঁধে নিয়ে কতো দিয়েছি ধানের ক্ষেতে বিষ কতো নিড়ানি দিয়েছি আমি যতনে অহর্নিশ। ফলবে সোনার ফসল আমার ঘুচবে মোর বেদনা মুছে যাবে ক্লান্তি হতাশা যতো দূর্ভোগ যাতনা। বারে বারে আসি ছুটে আমি দেখতে ইহার রূপ আমার দিকে তাকিয়ে হাসে খলখল করে খুব। দেখে আমার মন ভরে যায়…
-
শাপলাদিঘির পাড়ে, দু’হাত বাড়িয়ে, তুমি যত উন্নত, রূপকন্যা
শাপলাদিঘির পাড়ে খোন্দকার আমিনুজ্জামান নীরবে নির্জনে শাপলাদিঘির পাড়ে এসো বন্ধু দেখা হবে তমাল-তলাতে। পড়ন্ত বিকেলে, শোভিত পত্র-পল্লবে আসিব চলতে চলতে পারিনি যা বলতে তাও বলিব তুমি এলে বসব দুজনে দিঘির চালাতে। সময় চেয়েছিলে কথা দিতে বলেছিলে খোলা মনে বলিও তুমি পুষ্পিত পরশে নৈসর্গিক এই স্বর্গে কিছু কথা বলব আমি কথা হলে দুজনে, জানি বদল হবে মালা গলাতে। বসন্ত বিলাসে খোলা সমীকরণে বসিব গল্প-কল্প-সুর আর গানে ভাসিব এসো বন্ধু তোমার মোহন গান জাগবে গলাতে। আরও পড়ুন খোন্দকার আমিনুজ্জামানের কবিতা- ভালোবাসার গ্রাম হৃদয় ভেঙে যায় কবি ও কবিতা দেশের মাটি দু’হাত বাড়িয়ে দু’হাত বাড়িয়ে এক পায়ে দাঁড়িয়ে রয়েছি বন্ধু…
-
ভালোবাসা
ভালোবাসা রাফিয়া লাইজু ভালোবাসা তুমি আছ- নবজাতকের নরম তুলতুলে হাতের ছোঁয়ায় ক্লান্ত পরিশ্রান্ত বিরামহীন মাতৃত্বের মমতায় বাবার কঠোর শাসনের আড়ালে শাশ্বত কোমলতায় ভাই-বোনের খুনসুটি আদি ও অকৃত্রিম সরসতায় আধো আধো কথা বলা শিশুর প্রথম ভাষায় শৈশব-কৈশোর-তারুণ্যের-উচ্ছ্বলতায়। ভালোবাসা তুমি আছ- নবোদিত সূর্যের ছড়িয়ে পরা নরম আলোয় বাঁক ডাকা-প্রাতের আগমনী বার্তায় প্রত্যূষে নির্মল বাতাস পাখির কলকাকলির মুখরতায় সবুজ ঘাসের ডগায় স্বচ্ছ শিশির কণায় কালপুরুষ-সপ্তর্ষিমন্ডল বাঁধভাঙা জোছনায়। ভালোবাসা তুমি আছ- প্রেমিকের না বলা কথার ব্যকুলতায় অপেক্ষারত প্রেমিকার উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় হতাশাগ্রস্ত বেকার যুবকের একগাল দাঁড়ির বিষন্নতায় রাত জাগা স্মৃতির তোরণ রোমন্থনায় যুবকের শেষ চুমুক হেমলকের বিষাক্ততায়। ভালোবাসা তুমি আছ- জ্যৈষ্ঠের রসালো ফলের সুঘ্রাণ…
-
আমার সংসার
আমার সংসার মযলুম মুসাফির যেদিন আমার এ সংসারে আসলো ছেলের মায়ে, অসীম পথের যাত্রা কিছু শিখলো কঠিন ঘায়ে। বাপের বাড়ি শেখেনি কাজ, মায়ের স্নেহের ধন, এখন সেটা করতে গেলে ঘটায় অঘটন। পানি টানা রান্না করা কাপড় ধোয়ার কাজ, করছে বটে, কপালে তার ভাঁজের পরে ভাঁজ। সেদিন আমায় নাক ফুলিয়ে বলছে অনেক রাতে, এই সংসার এমন করে কোন পাগলে পাতে! আমি বুঝি আসলে তার নাই সংসার জ্ঞান, তাইতো আমার কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর ঘ্যান। একটুখানি বকা ঝকায় গুটিয়ে ফেলে ব্যাগ, আমি ভাবি এবার বুঝি করবে আমায় ত্যাগ। আবার তারে আদর করে কাছে টেনে আনি, সাথে সাথেই সব অভিমান ভোলে অভিমানী।…






























