-
শোকবার্তা, নগর সংস্করণ, আলোর বর্জ্যে মুদ্রিত সন্ধ্যা, বটগাছ নিরবে বাড়ে
শোকবার্তা রিঙকু অনিমিখ বিষাদের দ্বি-প্রহর; এ জাগতিক পূর্ণ সূর্য অর্জুনের দীক্ষা ভেঙে পূরণ করেছো ফাঁকি ভরেছো কলার ভাঁড়ার। ও আরাধ্যজন— স্বারাধনায় করেছো জয় তপ্ত সিংহাসন বাতাসের নম্রতা নিয়ে অনুকম্পা মেঘ পুজোর ভাষ্যে করে গুণকীর্তন—বজ্র-সংলাপে পরম আনুগত্যে, স্তুতিবাক্যে হাসে স্মিতা বিষাদ ছড়াও তুমি বিষাদের পিতা…. হেমন্তভোরে রৌদ্রের পায়ে পায়ে ঘাসের ডগায় মৃত্যুর মতো শোক জমা হয়; প্রতিটি ঘাসের চূড়ায় জ্বলে ওঠে একটি দুটি অসংখ্য চিতা বিষাদ ছড়াও তুমি বিষাদের পিতা….. আরও পড়ুন কবি রিঙকু অনিমিখের কবিতা- ত্রিমোহনী অপেক্ষা নগরসংস্করণ পোড়া মাংসের ঘ্রাণ জানিয়ে দিচ্ছে শ্মশানের নিকটতর খবর শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে এ সংক্রান্ত গুঞ্জন তবু…
-
শিরোনামহীন, স্মৃতির পাতায়
শিরোনামহীন কে এম আশরাফুল ইসলাম (‘আমাদের সুজানগর’ সংকলন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান উপলক্ষে ) আমি নগন্য সমবেত গন্যমান্য যোগ্যদের আগমনে, সবাই অনন্য অযোগ্য আমি এই বিকশিত কাননে। করি বিচরণ পুলকিত মম আনন উপজেলার যত ফুল, করিতে চয়ন আসিয়াছি হেথায় নামিক আশরাফুল! ভালো লাগে তাই লিখে লিখে যাই বরেণ্য বরণীয় সুধী, তোমাতেই হারাই সেখানেই পাই সবাই পরাণের দরদি! কেউ হাসে কেউ পিপাসে মূল্যায়নের তুলাদণ্ডে, কেউ ভালোবাসে নব রূপায়নের অযাচিত রিমান্ডে! এই ভাষা বিন্যাস ঘাসফুলের চাষ শিশিরে মুক্তোর দানা, এলোকেশী নিবাস তাণ্ডবে মাতাল দিয়েও হারায় ঠিকানা! খুঁজি আরবার দোলায়িত পারাবার মহাশূন্য অটবী, জোসনায় হাহাকার প্রেমাঞ্জলি মোর অলকাপুরী পৃথিবী! মরু মরীচিকা প্রত্যাশার…
-
পদ শব্দ মিলিয়ে যায়
পদ শব্দ মিলিয়ে যায় আবু জাফর খান আগে যেখানে ঘর ছিল শালবনের গা-ঘেঁষে এখনও সেখানেই আছে, বারান্দা ডিঙিয়ে উঠোন, উঠোনের পাশে পরাশ্রিত লতাগুল্ম, সটিগাছ, তারপর দখিনের মাঠ… হিম হাওয়া পাক খায় পুবে, পশ্চিমে। আগে যেখানে দৃষ্টি ছিল এখনও সেখানেই আছে, খুব ভোরের গোলাপি উষ্ণতা পার হয়ে ভাঁটফুল পথে শালবনের দিকে হেঁটে যাওয়া; এখন সময়ের পলেস্তরা খসে খসে হাঁটাপথ রুদ্ধ দৃষ্টিজুড়ে তেতো বিষণ্ণ সোপান। মেঘের আষাঢ়- শব্দ ভাঙে তেঁতুল পাতায়, চৌকাঠের ওপাশে অদৃশ্য কারও দীর্ঘশ্বাস দরজায় দাগ রেখে যায়, সে আমার মিয়ানো ঢেউ। ভিজে ওঠা মন খেয়ালি ভাবনাগুলি রাত্রিদিনের ঝুঁকে পড়া অন্বেষণ হারিয়ে যাওয়া ঘণ্টার ধ্বনি মন্দির আঙিনায় খুব ভোরের…
-
বিবাগী মন, বিষণ্ণ বাতাসে, উৎসব
বিবাগী মন আদ্যনাথ ঘোষ বারোয়ারী বসন্ত জীবনের যতোসব সাধ-আহ্লাদ কোথায় হারিয়েছে সেই দিন তার বিষণ্নতায় যেন হৃদয়ের চত্বরে মুঠো মুঠো রোদ্দুর আজ বিবেকের ক্ষয়িষ্ণু হাটে। স্বপ্নময় আশান্বিত বৃক্ষেরা উপড়ে গেছে হায়! কালবৈশাখী ঝড়ে। স্রোতসিনী যমুনায় জেগে গেছে চর প্রেমময় রাধার খেয়াঘাটে প্রসন্ন হৃদয় থেকে গানের পাখিরা উড়ে গেছে অই বিন্দু বিন্দু জলকণার মন্ত্রিত মেঘমালার কাছে গভীর আঁধারের জ্বালাময়ী-দুঃসহ দুঃখমালা শ্রাবণের বৃষ্টি হয়ে ঝরছে অবিরত। সবকিছু কেনো আজ ঝাপসা মনে হয় কেনো উড়ে যায় বিদগ্ধ বিবাগী মন সর্বহারা বাউলের বিষাদিনী একতারা করুণ সুরে। কেন পুনশ্চ গায় হারানো সেই গান …. আরও পড়ুন আদ্যনাথ ঘোষের কবিতা- স্মৃতিছায়া দেহের ভাঁজে কত পথ…
-
আমাদের গ্রামখানি, নিমন্ত্রণ, এ কী স্বপ্ন রচিছে হৃদয়ে
আমাদের গ্রামখানি খোন্দকার আমিনুজ্জামান আমাদের সেই গ্রামখানি আগের মতোই আছে শুধু একটুখানি রূপ-রস আর গন্ধ ক্ষয়ে গেছে। এখন আর দোয়েল কোয়েল ঘুঘু-শ্যামা আগের মতো সুর করে ডাকে না পাড়া-পড়শি, গ্রামবাসী এখন আর আগের মতো চলে না মেঠোপথ ঘর-বাড়ি অনেকটাই এখন পাকা হয়ে গেছে মাটির সোঁদা গন্ধ আর মায়াও যেন চলে গেছে। টিনের চালে বৃষ্টি পড়তো নূপুর পায়ে কী আনন্দ পেতাম দোলা লাগতো মনে আমি কান পেতে বৃষ্টির সেই গান শুনতাম আর সুর জাগাতাম প্রাণে এখনও বৃষ্টি পড়ে ছাদে সে বৃষ্টি কতো কথা কয় কিন্তু তাতে কি আর আগের মতো সুর আছে। বর্ষাকালে হাটে ঘাটে ঘাটে নৌকায় যেতে হতো বড়শি…
-
প্রেমের পরশ, আমার গানের পাখি
প্রেমের পরশ পথিক জামান তোমার প্রেমের পরশ, আমার বুকে কাঁটা হয়ে ফোঁটে কখনো তা হয় সরস। প্রেমের এ কেমন ধারা, প্রেমের পরশ পেয়েছে যেজন বাঁচিবে না প্রেম ছাড়া। ওগো মোর প্রেম বালা, প্রেম-প্রেম খেলা খেলিও না আর বাড়িও না প্রেম জ্বালা। তোমার প্রেম যে আগুন কখনো বুকে রক্ত ঝরায় কখনো তা হয় ফাগুন। জানো না তোমার প্রেমের দহনে নিশিদিন আমি দহি, সব জ্বালা আমি বুক পেতে নিয়ে চুপ করে সবই সহি। আমার কাব্য রানী, চুপি চুপি মোর মন্দিরে এসে শোনাও মধুর বাণী ওগো প্রেম সুন্দরী, সব কিছু মোর অবহেলা করে মনটা করিলে চুরি। আমার পরাণ পাখি, তোমার ছাড়া ফুল…
-
একজন মুক্তিযোদ্ধার কষ্ট, ভুল, আত্ম বেদনা
একজন মুক্তিযোদ্ধার কষ্ট (বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিফা আশরাফকে উৎসর্গকৃত) আজিজুল কায়সার মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ভাঙার স্বপ্নে নগ্ন উল্লাসে যেনো মেতে উঠেছে সকলেই। মুক্তিযোদ্ধাদের অশ্রু নয়নে নদী। ৭৫ এর নৃশংসতায় অকৃতজ্ঞ জাতি, নির্বাক দেখেছে সকলেই। মুক্তিযোদ্ধারা সেদিনই স্তব্ধ হয়ে গেছে। জেল হত্যার ধৃষ্টতায় ধূর্ত শেয়াল, চেয়ে দেখেছে সকলেই। মুক্তিযোদ্ধাদের বন্দুক ছিলো বারুদ হীন। হঠাৎ উদিত কালো চশমার দৌরাত্ম, দেখেছে পৃথিবীর সকলেই। মুক্তিযোদ্ধারা ছিলো নিরস্ত্র দেহে নিথর। জাতি ধ্বংসে বুদ্ধিজীবীর নৃশংস ইতিবৃত্ত অপলক দেখেছে সকলেই। মুক্তিযোদ্ধারা সেদিন পরাজিত হয়েছে। হাতে পতাকা দেশদ্রোহীর অট্রহাসি , দেখেছে জন্মভূমির সকলেই। ভুল ভুলে সব দিন পার, করে গেছি একাকার, মাটিতে পড়েনি পা, দিয়ে গেছি…
-
আমার গ্রাম, বাবা, নারী
আমার গ্রাম দিলরুবা করিম গ্রামখানি আমার সবুজ শ্যামলে ঘেরা পাশে বয়ে গেছে গাজনার বিলের ধারা। এখানে স্নিগ্ধ সকালে মৌসুমি ফুল ফোটে। শরতের আকাশে কাশফুলের ছায়া লুটে। হেমন্তের মাঠে সোনালি ফসলে কৃষকের ক্লান্ত মুখে ফুটে হাসি। আমার গ্রামের মাটিতে আমার প্রাণ আমি এই মাটিতেই খুঁজি নব জীবনের সন্ধান। এই গ্রামের মানুষেরা সবে মুক্ত উদার মনে হৃদয়ে তাদের জাগে আগামী দিনের আশা। এই গ্রামের এই মাটিতেই আমার প্রাণ,মধুর আমার ভাষা এই গ্রামেই আমার বাবা-মায়ের অন্তিম ডাক আসে, সেই ডাকাতে সাড়া দিয়ে নির্ভাবনায় ঘুমিয়ে তারা আছে। এই গ্রামেই আমি হারিয়ে যেতে চাই আমার কান্না হাসির অস্তিত্বের মাঝে। বাবা বাবা, তোমায় খুঁজি…
-
প্রচ্ছন্ন কুয়াশার দিন, ত্রিমোহনী, আমাদের ছোট নদী, পতঙ্গ, সহজ সমীকরণ
প্রচ্ছন্ন কুয়াশার দিন রিঙকু অনিমিখ সমুদ্রের দুঃখ তুমি কী আর বুঝবে যখন তার সমস্ত শরীরজুড়ে অশ্রুর স্বাদ! সমুদ্রের দুঃখ বুঝতে হলে আপাদমস্তক নেমে যেতে হয় তার সমস্ত জলে যদি নামো যদি তুলে ধরো খোলা চোখ অবারিত জলে তবে তুমিও লবণে প্রতারিত জেনে রেখো তোমারই চোখের অজুহাতে সমুদ্র কাঁদে আরও পড়ুন কবি রিঙকু অনিমিখের কবিতা- শোকবার্তা দ্বিধা ত্রিমোহনী বাংলাদেশ লাল টিপটি পরার আগে কিছুটা সবুজ মেখে নিও, আজকের সূর্য না হয় উঠলো তোমার কপালেই মুক্তিযুদ্ধ ন্যুনতম মানুষের খুনতম প্রতিবাদ টিয়া বাঙলাদেশের উড়ন্ত পতাকা আমাদের ছোট নদী আমাদের ছোট নদীগুলো বড় বড় ব্রিজের নীচে লুকিয়ে থাকে বালু ফোটে, বালু…
-
মানুষ হয়ে উঠা, আলো-আঁধারি
মানুষ হয়ে উঠা ফজলুল হক তুমি তারুণ্য দীপ্ত রুদ্ধ দুয়ার ভেঙে আলোর মশাল জ্বালাতে চাও? একটু পিছনে তাকাও দেখতে পাবে ভুল পথে ছড়িয়ে আছে অমীমাংসিত কিছু বিস্মৃতি। আরো একটু পিছনে দ্যাখো সময়ের কৃষ্ণ গহ্বরে কিছু অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতার মৃদু গন্ধ অনুভূত হবে। ব্যর্থতার এসব ভুল গল্প থেকে নির্ভয়ে বেরিয়ে এসো, কী দেখতে পাচ্ছো? চলার পথটা সংকোচিত করা হচ্ছে, তথাকথিত মানুষরুপী দানবেরা দুর্বলদের বাকস্বাধীনতা ও অধিকার আকণ্ঠ গ্রাস করছে জগদ্বাসী অসহায় কাঁদছে; চাওয়া-পাওয়ার মাঝে নিদারুণ অসন্তুষ্টির হাটবাজার বসেছে প্রতারিত হচ্ছে ভাবাবেগ মানচিত্র কে খামছে ধরছে উলঙ্গ সমৃদ্ধ শকুনের দল, নৈতিকতাকে পরাজিত করবার নির্লিপ্ত খায়েশে উদ্যমতার পায়ে শিকল পরানোর অপচেষ্টায় তারা প্রমত্ত,…






























