-
বেদনার কূলে কূলে, তবুও ভালোবাসা অমর হোক
বেদনার কূলে কূলে কে এম আশরাফুল ইসলাম ভাটাতে রেখা বুকেতে দেখা নদীর অন্তর কাঁদে, এসেছিলে সখা পদাঙ্ক তাই লুকানো নীলিমার চাঁদে! মম হিয়াখানি প্রচ্ছদ আসমানি অগণন তারার আঁখি, মায়ার খনি নিকষ অমায় খোঁজে অভিমানী পাখি। চলেই গেলে আর নাহি এলে অবাঞ্চিত অমানিশা, রেখে গেলে বেণু বনে জোনাক জ্বলা ভালোবাসা! তারারা হাসে আঁধারে ভাসে ঐন্দ্রজালিক স্বর্ণলতায় , টানে পিপাসে তোমার প্রেম শিশিরের মুক্তো কচুপাতায়! তবু কূলে কূলে প্রত্যয়ের বেদিমূলে সাজিয়ে ফুলের ডালি, ভুলে অভুলে হই ফেরারি অর্পি তপ্ত ভক্তির নয়ঞ্জলি! যেই কূলে যাই অকস্মাৎ হারাই তর্জনে গর্জনে পরাণ, শুনে নাই নাই বিষাক্ত শেলে ক্লান্তিতে হয় পেরেশান। ভিখারিনী নয়ন নন্দিনী কেনো…
-
আনন্দের ধারা, হে তরুণ, কান্নার কৈলাসে
আনন্দের ধারা আদ্যনাথ ঘোষ প্রসন্ন আলোয় আনন্দের ধারা বহিছে অবিরল বুকে তার ছলছল ছোট বড় ঢেউ অঙ্গে তার আনন্দের উচ্ছল হাসির মুখরতা। উদাসি রোদ্দুরে কৃষ্ণচূড়ার দল চোখে ভেসে আসে তার সাথে জেগে ওঠে কামিনী কাঞ্চন আর রাধাচূড়া অসীম আনন্দে ওড়ে আকাশেতে পাখি। কতো যে স্বাধীন আজ তাদের আকাশ খাল বিলে ফোটে শাপলা, শালুক, কলমিলতা আরও কতো যে ভাগ্যের অলীক লতা তার পাড়ে মনসার ঝোপে ফোটে লাবণ্যভরা ফুল আশেপাশে আগাছার ছন্দময় বিস্তারের ছোট ছোট জাল উজ্জ্বল সোনালি রোদ্দুরে মেঠো পথও সেখানে পথ হারায়- উত্তাল বাতাস ডেকে নেয় আনমনা পথের ভাসমান ধূলি শব্দের পত্রালি আর স্নেহমাখা আদরের সাথে প্রজাপতিগুলো ঢেউ তুলে…
-
একটি মেঘের দৃশ্য, ব্যবধান
একটি মেঘের দৃশ্য আবু জাফর খান বলেছিলে, ‘যে কোনো দৃশ্যে মেঘ এঁকে দিতে পারি!’ অথচ তোমার আঙুলে থমকে গেল পাথর স্নানের দৃশ্য থেকে তুর পাহাড়ের চা-বাগান; মাঝের সময়টুকুও। বলেছিলে, আঙুল কিংবা মণিবন্ধ আসলে মেঘের ছায়াময় রূপকথা তরুণাস্থি ছুঁয়ে থাকা একজন রুয়াল ডালের ঐশ্বরিক টান; অথচ তিনদিক ঘিরে থাকা পাহাড় আমাকে বলল, মেঘ নয় মোটেই… এসব রৌদ্রের গল্প, কোটালের লুকনো বৃত্তান্ত, একটি দৃশ্য রচনার বাহানা । বস্তুত দুপুরের কোনো রূপকথা থাকতে নেই। THE SIGHT OF THE CLOUD You said, At any sight I can sketch the cloud!” But on your fingers The sight of stone-bath and the tea garden…
-
শিরোনামহীন সম্পর্ক, মনের বীজতলা
শিরোনামহীন সম্পর্ক ফজলুল হক কিছু সম্পর্ক আজীবন শিরোনামহীন থেকে যায় দীর্ঘশ্বাসে পোড়ে ঘরহীন ঘরের আঙিনা; যাপিত জীবনের আয়নায় মুখ দেখে ইদানীং নিজেকে বড্ড অচেনা মনে হয়। বন্ধপ্রায় মনের দরজা খুলে তৃষ্ণার্ত দুপুরে যুবতি জলের ঘ্রাণ হৃদয়ঙ্গম করি, জলকেলি জলে পা ভিজিয়ে স্বপ্ন বোনার স্বপ্ন দেখি। জলসিঁড়ি ভেঙে তুমিতো পারো সমুদ্র অবগাহনে মেতে উঠতে, আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অপরিণামদর্শী প্রেম সীমাহীন সীমানায় বেপরোয়া ছুটে চলে শিরোনামহীন মুহূর্তগুলো সম্পর্কের বাইরে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, যেনো হৃদয়ের কতো কাছে বসবাস। চোখ বন্ধ করে চলে যাই আদিম পথে মনে হয় তুমি আমি ওখানেও পথ হেঁটেছি যুগপৎ। মৃত্যুর পথ ধরে হেঁটে হেঁটে কান্নার ধ্বনি শুনে শিউরে উঠি…
-
জাগতে হবে, অরূপের রূপ, মানবিকতা, যে ফুল ফুটলো মনে
জাগতে হবে খোন্দকার আমিনুজ্জামান স্বাধীন বাংলাদেশে এখনও মানুষ শান্তি খুঁটে খুঁটে খায় কখনও পায় কখনও হারায় সাম্য কাম্য ছিলো যাদের তাদের সোনা মুখ আজ মলিন-অসহায়। ‘৭১ বুকে রেখে আবার যুদ্ধে যাবার সময় হলো জাগো জাগো দুয়ার খোলো মিছিলে মিছিলে জোয়ার তোলো কাঁপিয়ে তোলো পাষাণ হৃদয় এখনই সময়। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গড়তে হাসিমুখে যারা দিয়ে গেল প্রাণ তাদের জন্য, অনাগত দিনের জন্য আনবো দেশের মান জাগতে হবে জাগাতে হবে নইলে আসবে দুঃসময়। আরও পড়ুন খোন্দকার আমিনুজ্জামানের কবিতা- কষ্ট বিবেক সাদা মন অরূপের রূপ অরূপের রূপ আছে চমক আছে থরে থরে সাধন গুণে সে রূপ অপরূপ দেখে নেরে প্রাণভরে। গুণ…
-
বেআবরু মন, উইপোকাদের ঘরবসতি
বেআবরু মন মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান প্রেয়সি, তোমার ঠোঁটের ভাঁজের দাম দিয়েছি বিধবা মায়ের চোখের জলে; তোমার চোখের গহিন জলে ডুবেছি কত! গোলাপি ঠোঁটে, মায়াবি কেশের বুননে অনেক দাম দিয়েছি; তুমি কি জানো—তোমার কণ্ঠে ঝুলছে যে মালা, তাতে বেশ্যার দেহের ভাগ রয়েছে; তোমার হাতের কাঁকনে, মার্ডার কেসের মিথ্যা আসামি ঐ বৃদ্ধটির ভাগ রয়েছে; তোমার দামী গাড়িতে, অসহায় শহীদ পরিবারের ভিটা দখলদারের ভাগ রয়েছে; তোমার রুপশৈলীর ঐ কসমেটিক্সে, ধর্ষিতা নারীর ভাগ রয়েছে; প্রেয়সী, তুমি কি জানো—তোমার সুরম্য বাড়ি ও ফ্লাটে, ঐ যুবকের নেশার টাকার ভাগ রয়েছে; তোমার হাজার শাড়ির রকমারি ভাঁজে, ভূমিদস্যুর ভাগ রয়েছে; তোমার ঐ বেলুয়াড়ী ঝাড়বাতিতে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটেরার ভাগ…
-
নীল সমীকরণ, মেঠো গন্ধ
নীল সমীকরণ ফজলুল হক আষাঢ়ের বৃষ্টিস্নাত রাত ধূসর দৃষ্টির উপত্যকায় নেমেছে নিকষ আঁধার; জানালার গ্রীলে মুখ গুঁজে দাঁড়িয়ে, কদম ফুলের পাপড়ি ধোয়া বৃষ্টিজল টিপটপ শব্দে টিনের চালে অনিবার পড়ছে। নীলহীন বদলে যাওয়া আকাশটা স্থির একা কোথাও নেই জোনাকির আলো না আছে পাখিদের কূজন, সঙ্গী বলতে মাঝেমধ্যে অদূরে ঝিঁঝিপোকার ক্ষীণ ডাক অনুভব করছি। রাত এগিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের খেয়ায়, একাকিত্বের অতল গহীনে ডুবে যাচ্ছি একটু একটু করে; তৃষ্ণালু চোখের বিদগ্ধ পাতায় স্মৃতিরা সাড়ম্বর কবেই শুকিয়ে গেছে অশ্রু চোয়ানো বেওয়ারিশ লোনা জল, বুকের ভেতর বয়ে যাওয়া বেসামাল উত্তাল ঢেউ মিশে গেছে বার্তাহীন ছেঁড়া পথে। জানি না,সে এখনও আষাঢ়ে বৃষ্টিতে ভিজে কিনা; মুঠোভরা…
-
নতজানু যুবক, মরুমন
নতজানু যুবক আবু জাফর খান পাখির প্রার্থনায় নতজানু যুবক অবশেষে জেনেছে মানুষ একা! ক্রন্দিত সূর্যাস্তে তাই ডাহুক হয়ে যায় যুবকের প্রাণ; যূপকাষ্ঠে জ্বলন্ত অগ্নির পাশে দাঁড়িয়ে একদিন তিমিরের বেদিতে নিশিকন্যার রোদণ শোনে! ফিরে যায় বিবর্ণ ঘাসের ঘরে ভূমধ্য শস্য মাড়িয়ে মৃত্যু-আঁধারের ভেতর দিয়ে! যুবকের ভাঙাবুক জানে পৃথিবীর বুকজোড়া যে ফাটল, সে পথে রাত্রির ক্রন্দনধ্বনি পেরিয়ে আলো আসবে! সে আলো দুঃখের কাছে ফিরে যাবে ফের সাদা মেঘের সম্মুখে। কেননা যুবক যখন বলতে প্রস্তুত, তার কাছে দেবার মতো প্রেম আর নেই কিছুই! বহুকাল ধরে সে তরঙ্গের অনেক নিচে নেমে গিয়ে বুঝেছে, কেউই আসলে আজন্ম প্রেমিক কিংবা প্রণয়িনী নয়! যুবক তাই ক্ষয়া…
-
নারী, তুলু সোনা
নারী জহুরা ইরা আমি নারী সমাজ আমাকে ভাবতেই পারে তুচ্ছ তাতে আমার অস্তিত্বের বিশ্বাসে যায় আসে না কিছু আমি জড় নই। কেউ পারে না আমায় তার ইচ্ছে মত সাজাতে আমি বিধাতার গড়া, সৃষ্টির সেরা, আমি বাধ্য শুধু তাঁরই বিধান মানতে আমি মৃত লাশ নই নইকো আমি পঙ্গু মূক বধির আমি ধ্বংস করতে পারি সমাজের যত গ্লানিমাখা অনাসৃষ্টির॥ আমি দানবের সাথে লড়তে পারি বিদীর্ণ করতে পারি ভূতল আমি ঝর্ণাধারা হয়ে বইতে পারি মরুপ্রান্তরেও ফোটাতে পারি ফুলদল ৷ চাই না আমি খনিজ হয়ে অতল গহীনে থাকতে অকল্যাণের বিরুদ্ধে মন বিস্ফোরিত হতে চায় পৃথিবীতে আমি মানুষ, আমি নারী আমি উচ্ছ্বল, আমি জ্বলন্ত…
-
প্রেমের প্রয়াণ
প্রেমের প্রয়াণ আবু জাফর খান রমণীর কোঁচড় ছিড়ে প্রেম পড়ে গেলে রাতের ঘুমপাখির ডানার শব্দ শোনা হয় না আর। প্রথম যেদিন আঙুল খেলেছিল দ্বিপর্ণ গাছের বোঁটায় ডালপালা মেলেছিল কিছুকাল পাখিদের ওড়াউড়ি ছিল পাতায় পাতায় রহস্যের আলো এসে পড়েছিল। এখন সুনসান! কিছুদিন, প্রথম কয়েকটা দিন শুধু অন্ধকার থেকে আরও অন্ধকারে পথ ঘুরে যেত; মনে হতো, এই আলোর অন্ধকারে জলের শরীর ঘেঁষে পদ্ম ফুটবে, বৃষ্টিভেজা দু-একটি পাতা এসে পড়বে নৌকোর মাস্তুলে। এখন মেঘ কাঁদে! মেঘেরা কেঁদে যায় অসুখের শোকে গনগনে লৌহরঙের সূর্যোদয় নিয়ে আমি এখন ব্যস্ত থাকি পায়ের তলার মাটি মূলত সরে গেছে যাক সরে, শূন্যে ভাসব। দেবালয় এখন শ্মশান! আমার…






























