-
বাংলা ভাষা, সুখের তালাশ
বাংলা ভাষা সুমনা নাজনীন সেরা আমার মাতৃভাষা আ মরি বাংলা ভাষা । যত ভাষাই বলি-লিখি-শিখি হয় না কোথাও মায়ের ভাষার তুলনা। পাঞ্জাবি ভাষা উর্দু হলো বিলীন ৫২’র ভাষা আন্দোলনে – মাতৃভাষা বাংলা চাই। শহিদ হলো দামাল ছেলেরা রফিক-সালাম-বরকত-জব্বার। নারীদেরও আছে অবদান – সালেহ বেগম-রওশন আরা-জাহানারা ইমাম-হেনা দাস আরো অনেকে । সালাম শত সাহসী ভাষা সৈনিকদের যাঁদের রক্তে ভেজা একুশে ফেব্রুয়ারি। স্মৃতি যেন আজও কাঁদায়, গর্ব ও অহংকারে- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হলো যে তাই । ভোর সকালে খালি পায়ে আল্পনাতে শহিদ মিনারে রাখি পুস্পস্তবক। সমস্বরে শ্রদ্ধা জানিয়ে গেয়ে যাই – “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি।” …
-
অসমাপ্ত চাদর, মেলা
অসমাপ্ত চাদর রাফিয়া লাইজু কিলিজ বিশ্ব মাঝে একমাত্র নিঃস্বার্থ যাহা সে যে ‘মায়ের ভালোবাসা’ আহা! এমন মধুমাখা ডাকে… জুড়ায় প্রাণ, হৃদয় পূর্ণতা মাখে; সেই সৌভাগ্য সকলের নাহি হয় কারো কারো অপূর্ণতা যে রয়! এসেছিলাম যখন এ ভব মাঝে কান্না ছাড়া আসতাম না কোনো কাজে ‘মা’ আমার আহার-নিদ্রা-শ্রান্তি ভুলে… বাছারে তাঁহার কোলে নিতেন তুলে; কত যতনে তিল তিল করে… গড়ে তোলেন ক্ষুদ্র আমারে! একটু মুখ মলিন দেখলে কী হয়েছে! কত আদর মেলে! কত চেষ্টা মুখে হাসি ফোটাতে উজার করা ভালোবাসায় মেতে ক্ষণিকেই সব যেতাম ভুলে সেদিন কী আর মেলে! একটু অসুস্থ হলে পরে, কী অস্থিরতা তাঁর রাত-দিন সব ভুলে, সে কী…
-
অর্চনা, মেঘলাকাশে রঙধনু
অর্চনা ফজলুল হক আর অপেক্ষা না দেখায় না হয় এগিয়ে যাক কথা ব্যথাময় ব্যথার আকাশে ধূসর হোক বেদনার ছাপ, চোখের জলেই বোঝাপড়া হোক বেদনা কার কতটুকু। প্রথাসিদ্ধ নিয়ম ভেঙে হৃদয় পোড়া শব্দ যদি নির্দ্বিধায় ঠোঁটে উচ্চারিত হয় একবার কী করবে তখন, ভেবেছ কি? সময় দিলাম ভাবো,আরো ভাবো…. তারপর না হয় জানিয়ে দিও আর কত অপেক্ষা শেষে ভিড়বে তরী মোহনায়? সুগভীর চোখ থেকে যদি দৃষ্টি সরাতে না পারি নেশাতুর চোখে যদি স্বপ্ন আঁকি, সমাজবিধির বেড়াজাল ভেঙে পারবে কি বেরিয়ে আসতে? বসন্ত বিলাসে যদি কথায় কথায় রাত কেটে যায় রাতের গভীরে ফের রাত সূচনা হয়, জীবনের খোলস বদলে পারবে কি সে রাতের…
-
টাল, রসের য়াঁড়ি
টাল মোহাম্মদ আব্দুল বাছেত কী যে টাল! শীতকাল পুষ মাঘ মাসে পুবিত্ত্যি দাপায়া য়িঙ্যেল য্যাহোন আসে শিতি কাঁপে গাও। ব্যান ব্যালা সাঁজাল জ্বালা আগুন তাপায় বাপের তপোন মার ছাঁয়াঁ যে যা পায় গায় দেয় খ্যাঁতাও। কুশ্যেরের খুলায় য়াহা-চুলায় য়াত-পাউ ছ্যাহা ব্যালা ওটে কুয়্যির চোটে তাও না যায় দ্যাহা উহ্-কী জবর জার! চয়োল কাঁপে থুতমা কাঁপে য়াত- পাউ টাটায় আরাম কোরি যায়না য়াঁসা ঠোঁটের ফাটায় ঠান্টায় বুহি ঘ্যারঘ্যার। তামান রাত নিঙের পড়ে টিনির ঘরের চালে গরু গুয়ালি, পোক-পাহালি পলায়া থাহে ডালে জাঁতায় কাবু শিয়্যিল। ঠিল্যে বাঁদা খাজ্যোর গাচে নালে কুলি পোক্কি জিরিন রসের পাটালী বানায় গাছির বৌ লোক্কী যতই পড়ুক…
-
বাঁঝা
বাঁঝা মোহাম্মদ আব্দুল বাছেত সখিনার কোল খালি সকলেই কয় বাঁঝা তার জন্যে পদে পদে পায় কথার সাজা। কী যে সে করেছিল মহাপাপ তাই পেটে লেগেছে অভিশাপ! পাড়ায় পাড়ায় গ্রাম সুদ্ধ গেছে তাহা রটে বাঁঝা বৌটি অপয়া তাই বাচ্চা নাই পেটে। প্রতিবেশীর মেয়ের বিয়ে বিরাট আয়োজন সখিনার উপস্থিত থাকা সেইখানেও বারণ। বাঁঝা বলেই তো আপত্তি ঘটতে পারে বড়ো বিপত্তি! এমন দিনে অপয়া বাঁঝা ভীষণ অমঙ্গল শুভক্ষণে অবাঞ্চিত-শূন্য যাদের কোল। মুদি সকালে ইহাই বলে চলেন গদি ঘরে হে ভগবান বাঁঝার ছায়া চোখেতে না পড়ে। সন্তান ধরে নাই পেটে ব্যবসা যে ওঠবে লাটে। মা লক্ষ্মী রুষ্ঠ হবেন এমন তরো হলে আমি বড়ো…
-
ঘনঘটা
ঘনঘটা জাহাঙ্গীর পানু গভীর রজনী হবে কী প্রত্যাশিত ভোর? নতুন আলোয় হাসবে কী কুয়াশাচ্ছন্ন প্রকৃতি? আচমকা রাত জেগে চিন্তাক্লিষ্ট ভাবাবেগ নিয়ে নিশাচর পাখির সাথে মিতালি। নতুন আলোয় উদ্ভাসিত ভোরের অপেক্ষায় চৌদ্দ শিকায় বন্দিদের আর্তনাদ কোনো দিশা খুঁজে পায় না হাওয়ায় উড়তে থাকা সাদা সিংহ শাবকের দল। অভিনয়ের আগুনে জীবন্ত চিতায় পোড়ে শত মানুষের স্বপ্ন। আতঙ্কিত সিংহাসনের কাঁপুনিতে রাজপথে রক্তিম হয় গার্মেন্টসের সাদা সুতো। উদাস দুপুরে আকাশের পানে ছলছল করে চেয়ে থাকে পিতৃস্নেহ বঞ্চিত শিশুর চোখ; আবার কবে আসবে ফিরে আপন গৃহে। জনগণের সেবায় নিয়োজিত পাইক পেয়াদারা আজ সিংহাসনের খুটি ধরে বসে আছে; যদি আবার পরে যায়, উন্মত্ত হাওয়ায়। থমথমে রাজপথের…
-
তোমার প্রতীক্ষায়
তোমার প্রতীক্ষায় ফকির শরিফুল হক আজ বছর সাতেক তোমার সাথে আমার দেখা নেই শেষ দেখাটা বেশ মুধুর ছিল, লাল আঁচল শাড়িতে প্রিয় ছোট্ট কালো টিপ কাজল চোখ আর হালকা লিপস্টিকে চিকন ঠোঁটে এলোকেশে প্যাঁচানো রজনীগন্ধার খোঁপায় দারুণ লাগছিল তোমায়। এক জেলাতে বাস করেও যেন আজ তুমি কত দূরে! শেষ কথাটাও বছর তিনেক আগে অপরিচিত নাম্বার থেকে ‘হ্যালো’ বলে দু’মিনিটের আলাপনে- কেমন আছ, কোথায় কী করছ? বউ বাচ্চা নিয়ে আছ তো বেশ! সহসাই আমার প্রশ্ন, তুমি কেমন আছ, হঠাৎ এতদিন পর? তোমার ছেলেটা কেমন আছে? কোন ক্লাসে এখন? তোমার স্কুল কেমন চলছে? নিরুত্তর নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস আছি বেশ চলে যাচ্ছে! ঠিক আছে…
-
তোমার একফোঁটা জলে, আমার মৃত্যু
তোমার একফোঁটা জলে নাজমুল হাসান তোমার একফোঁটা জলে বন্যা হতে পারে পিঁপড়ার নীড়ে তোমার একফোঁটা জলের নোনতা ক্ষারতায় ভস্ম হতে পারে পতঙ্গের শরীর, তবু কেন মিছে মায়ায় উন্মুক্ত করো বারি অবমুক্ত চোখের সুখ আর ভেজাও বক্ষস্থল। আমাকে তোমার ভালোবাসার কাছে হারিয়ে আজ কেন? খুঁজে ফের হন্য হয়ে মুছে ফেলা স্মৃতি। আমার বিরহে কেন করো নোনাজলে মুক্তার চাষ? আমার কষ্ট যখন ছিল পিঁপড়ার খাদ্য; তখন খুব করে চেয়েছি তোমার চোখের জলে প্লাবিত করো সেই পিঁপড়ার ঘর যারা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে আমার অস্থিমজ্জা আর কষ্টের আবাস্থল। তুমিহীন চলছি ভবঘুরে জনস্রোতের উটকো গন্ধে ক্লান্তজনিত ঘর্মক্ত দেহে ফিরেছি নীড়ে। কারণ সেখানে অপেক্ষা করে বন্ধ…
-
স্পর্শ, লাল চোখ, মৃত্যু
স্পর্শ আবুল হাশেম বসন্তের শেষে বাতাসে উড়া শিমুল তুলোর মতো তুমি এক বাতাসে উড়ে এসে সেই যে জড়িয়ে ধরলে, স্পর্শ এখনও মনে পড়ে। হৃদয়ে বসন্তের ফুল ফুটালে ফুলের সুবাস বাতাসে দোলে ঝরা ফুল হয়ে হৃদয়ের মালা হলে কানে কানে অলিরা গুন গুন করে বলে বসন্তের ফুল কোথায় হারালে? বসন্তের ফুল বাতাসে গেছে ঝরে ফুলের সুবাস হৃদয়ে দোলে। ঝরা ফুল ঝরে গেছে হৃদয়ে স্পর্শ মেলে। লাল চোখ পাখির ঠোঁটে উড়ে গেল ভালোবাসার চিরকুট ভালোবাসা হলো পাখির বাসা বনপোড়া ময়ূরের মতোন। সুন্দর ভালোবাসা সবুজের মাঝে লাল সবুজ ঘাসের হলুদ কালার মন হলো পোড়াবন। ভালোবাসা পেখম তুলা ময়ূর ভালোবাসা সুন্দর প্রেমিক পোড়াবাড়ি…
-
শীতার্ত, ফায়ার ফাইটার সীতাকুণ্ড
শীতার্ত রাফিয়া লাইজু কিলিজ তোমরা যারা দালান কোঠায় কিংবা অট্টালিকায় থাক তারা কি কখনও আমাদের খোঁজ রাখ? অপরিচ্ছন্ন-জীর্ণশীর্ণতায় বসবাস প্রতিনিয়ত তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ভরা হেয়তায় ভাসমান একটু আশ্রয়, একটু খাবারের জন্য কত যুদ্ধ করতে হয় রোজ! কখনও ফুটপাতে, কখনও ওভার ব্রিজের নিচে, বস্তিতে… কখনও বা স্টেশনের প্ল্যাটফরমে কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তার ধারে… ক্ষুধার তাড়নায় কখনও বা তোমাদের উচ্ছিষ্টের খোঁজে ডাস্টবিনে… আবার কখনও বা আবর্জনার স্তূপে….কুকুরের সাথে সন্ধি! ক্যান পানীয় বোতল-প্লাস্টিক বা পরিত্যক্ত জিনিস টোকাই বলে… তোমরা যারা আমাদের নাম দিয়েছ টোকাই… হ্যাঁ, আমরা গৃহহীন-বস্ত্রহীন জীবিকার দুর্ভাবনায় জর্জরিত। একটু আশ্রয়, একটু উষ্ণতার খোঁজে বহুল কাঙ্ক্ষিত…উৎকণ্ঠিত দৃষ্টিতে… সূর্যের তীব্রতার অপেক্ষায় দিন শুরু হয় কুয়াশার চাদর…






























