• শেকড়ের-সন্ধানে-শেষ-পর্ব
    গল্প,  সাহিত্য

    শিকড়ের সন্ধানে (শেষ পর্ব)

    শিকড়ের সন্ধানে (শেষ পর্ব) তাহমিনা খাতুন (সত্য ঘটনা অবলম্বনে)   উচ্চ শিক্ষিতা নাবিলা। রাজধানীর একটি স্বনামধন্য স্কুলের শিক্ষিকা। সাত বছর ও পাঁচ বছর বয়সী দুটি শিশু পুত্রের মা। স্বচ্ছল স্বামী এবং দুটি শিশু পুত্র নিয়ে সুখের সংসার। কিন্তু অনেক দিন ধরেই একটি কন্যার মা হওয়ার খুব শখ নাবিলার। গর্ভধারণ করলো মেয়ের আশায়! অল্প দিনের মধ্যেই ডাক্তারের মুখে শুনল সুখবরটি! তার গর্ভের শিশুটি তার বহু কাঙ্খিত মেয়ে! খুশীতে, আনন্দে আত্মহারা নাবিলা। সুখের ডানায়, খুশীর জোয়ারে প্রজাপতির ছন্দে উড়তে শুরু করলো তার দিনগুলি। দেখতে দেখতে প্রসবের দিন এসে গেল। সুস্থ, স্বাস্থ্যবান কন্যার মা হল নাবিলা। বর্ষাকালে, শ্রাবণের এক অঝোর বর্ষণমুখর রাতে জন্ম…

  • কপিশ-নয়ন-শেষ-পর্ব
    আবু জাফর খান (গল্প),  গল্প,  সাহিত্য

    কপিশ নয়ন (শেষ পর্ব)

    কপিশ নয়ন (শেষ পর্ব) আবু জাফর খান   ছয়. মধ্যরাত। কে যেন আব্দুর রহিত ব্যাপারীর সদর দরজায় কড়া নাড়ে। একবার দুবার নয়, অনবরত। ব্যাপারীর তন্দ্রামতো এসেছিল। সে উঠে বসে। রাগে বিরক্তিতে তার হাত-পা কাঁপছে। ভয়ও পেয়েছে। তার শত্রুর অভাব নেই। চারপাশে বৈরিতা। শত্রুসংকুল পরিবেশে তার বাস। সুহৃদ বলে কেউ নেই। আগে তবু আড়ালে আবডালে চলত। ইদানিং অনেকটা প্রকাশ্যেই চলে। “কে? কে কড়া নাড়ে?” রহিত ব্যাপারীর গলা কেঁপে যায়। “মামা আমি। আমি শাওন। দরজা খুলুন। প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে এসেছি। দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না। একটু তাড়াতাড়ি করুন।” শাওন গলা চড়িয়ে বলে। “এত রাতে আমাকে উদ্ধার করতে এসেছে! যতসব অপদার্থের…

  • বেলীফুলের-ঘ্রাণ-১ম-পর্ব
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    বেলীফুলের ঘ্রাণ (১ম পর্ব)

    বেলীফুলের ঘ্রাণ (১ম পর্ব) শফিক নহোর   ১. পারুল গ্রামের মেয়ে। বেলিফুলের মতো সাদা চেহারা, চোখ দুটি মায়া ভর্তি। কথা বললে মনে হয় কথার সঙ্গে রসগোল্লার রস বেরিয়ে আসে। ঠোঁটের কিনারে ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদের ঝিলিকের মতো মিহি আবেগি ঢঙ লেগে থাকে সর্বক্ষণ। লেখাপড়ায় গাঁয়ের মধ্যে সেরা। স্কুলের মাস্টাররা স্নেহ করে খুব, এক নামে তাকে সবাই চেনে জানে ভালো ছাত্রী হিসাবে। পারুল স্বপ্ন দেখত ডাক্তার হওয়ার। সেই স্বপ্ন একটা সময় অধরা রয়ে যায়। তার মা মারা যাওয়ার পর। মায়ের মৃত্যুতে পারুল যেন ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দা বনে যায়। উদাস একটা ভাব চেহারার ভেতর। বেলে মাছের মতো জাবর কাটতে থাকে সারাক্ষণ। বাড়িতে বেশিদিন…

  • কপিশ-নয়ন-৩য়-পর্ব
    আবু জাফর খান (গল্প),  গল্প,  সাহিত্য

    কপিশ নয়ন (৩য় পর্ব)

    কপিশ নয়ন (৩য় পর্ব) আবু জাফর খান   পাঁচ. রুদ্র শাওনের মন ভীষণই খারাপ। সে দিনের পর দিন উপোস করে কাটিয়েছে, তবুও এত মন খারাপ হয়নি। বছর ঘুরে এল মজু মামার খোঁজ নেই। সে চরকির মতো ঘুরে ঘুরে তাঁকে খুঁজেছে। পায়নি। শাওনের মেজাজ সপ্তমে চড়তে থাকে। সে রোষে ফুঁসতে ফুঁসতে হাটে। ক্রুদ্ধ শাওনের সমস্ত কোপ আব্দুর রহিত ব্যাপারীর ওপর। সে আর একবারই স্বার্থপর লোকটির মুখোমুখি হবে। থলির বিড়াল বের করে জনসমক্ষে লোকটিকে উদোম করে দেবে। ব্যাটা লেবাসধারী কঞ্জুস। শাওনকে চেনো না তুমি। মজহাব চৌধুরীকে বাড়িতে দেখেই আব্দুর রহিত ব্যাপারীর রক্ত ফুঁসে ওঠে। এই শালা আবার কোত্থেকে উদয় হলো! নিশ্চয়ই মাগি…

  • কপিশ-নয়ন-২য়-পর্ব
    আবু জাফর খান (গল্প),  গল্প,  সাহিত্য

    কপিশ নয়ন (২য় পর্ব)

    কপিশ নয়ন (২য় পর্ব) আবু জাফর খান তিন. মজহাব চৌধুরী ওরফে মজু মামা উচ্চ বংশীয় মানুষ। পুরুষ পরম্পরায় তাঁদের আভিজাত্য যেমন ছিল, ধন সম্পদেরও কমতি ছিল না। তাঁর বাবা ব্রিটিশ এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকারের আমলে পদস্থ পুলিশ অফিসার ছিলেন। তিনি ছিলেন কর্মনিষ্ঠ অতি সজ্জন। উদারহস্ত এই পুলিশ কর্মকর্তা দু’হাতে দুঃস্থ মানুষদের দান করতেন। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অতি সুখের সংসার ছিল তাঁর। ছেলে-মেয়েরা অতিশয় মেধাবী। মজহাব চৌধুরী পাকিস্তান আমলে ম্যাট্রিকুলেশনে রাজশাহী বোর্ডে প্রথম হন। তিনি ইংরেজি বিষয়ে ছিলেন তুখোড়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরজিতে অনার্স এবং মাস্টার্স করেন। তাঁর মতো একজন মানুষের উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও তিনি হয়ে যান ভবঘুরে ধরনের এক…

  • কপিশ-নয়ন-১ম-পর্ব
    আবু জাফর খান (গল্প),  গল্প,  সাহিত্য

    কপিশ নয়ন (১ম পর্ব)

    কপিশ নয়ন (১ম পর্ব) আবু জাফর খান এক. আব্দুর রহিত ব্যাপারী দিঘির পুব পাড়ে দাঁড়িয়ে উত্তর পাড়ের একখণ্ড জমির দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। নানা প্রলোভন দেখিয়েও আজ অবধি মালিককে রাজি করাতে পারেনি। বিগত পঞ্চাশ বছর ধরে নানারূপ কুটিল ফাঁদ পেতেও জমিটি হাতানো সম্ভব হয়নি। সব রকম ফন্দি-ফিকির ব্যর্থ হয়েছে। রহিত ব্যাপারীর মনের কোমল জায়গায় কাঁটার মতো কী যেন খচ করে বেঁধে। ছিয়াত্তর ঊর্ধ্ব এই লোকটির লালসা সীমাহীন। এত করেও এত পেয়েও ভিখিরির মনটি রয়ে গেছে। তারই বা দোষ কী। এ যে পরম্পরাগত প্রবৃত্তি। আব্দুর রহিত ব্যাপারী বাবা কাপড়ের পুঁটলিতে টাকা বেঁধে মাল কেনাবেচার টুকটাক ব্যবসা করত। সেই দিয়ে ১৯৪৭…

  • জোছনা-মাখা-আলো-শেষ-পর্ব
    এ কে আজাদ দুলাল (গল্প),  গল্প,  সাহিত্য

    জোছনা মাখা আলো (শেষ পর্ব)

    জোছনা মাখা আলো (শেষ পর্ব) এ কে আজাদ দুলাল   হক সাহেবের পিছনে পিছনে পশ্চিম দিকের দরজা দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে লম্বা বারান্দা। বারান্দায় ডান দিকে পর পর দুটো কামরা। তালা দেয়া। তারপর রান্না ঘর। রান্না ঘরের সামনে ডাইনিং। বাম দিক পুরোটা গ্রিল দিয়ে আটকানো। বেশ বড় উঠোন এবং তারপর বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছ। আছে বিভিন্ন জাতের ফুল গাছ। এটা একটা সৌখিন রুচিশীল শিক্ষিত ভদ্রলোকের বাড়ি এতে কোন সন্দেহ নেই। দু’ভাই একে অপরের দিকে তাকায়। আলো বুঝতে পারছে, এ রকম পরিবেশ দেখে মনে খটকা লাগছে দু’ভাইয়ের মনে। —কি, বিশ্বাস হচ্ছে না গ্রামে এ রকম একটা বাড়ি থাকতে পারে? এটা আমার…

  • মরিচপোড়া-শেষ-পর্ব; amadersujanagar.com
    গল্প,  সাইফুর রহমান,  সাহিত্য

    মরিচপোড়া (শেষ পর্ব)

    মরিচপোড়া (শেষ পর্ব) সাইফুর রহমান   পরদিন সকাল দশটা নাগাদ ময়েজ শেখের বাড়িতে তুলকালাম কাণ্ড। ভূত- তাড়ানি দেখতে জমায়েত হয়েছে প্রায় শ-খানেক লোক। ময়েজ শেখ যে ঘরটায় থাকেন সেই ঘরের বারান্দার চাল ঘেঁষে বিশাল এক নারিকেল গাছ আকাশ ছুঁয়েছে। সেই গাছের সঙ্গে পিছমোড়া করে বাঁধা মিতুজা। একটু দূরে শীতল পাটির উপর জায়নামাজ বিছিয়ে বসেছেন হেকমত কবিরাজ । তার সামনে টুকিটাকি কিছু জিনিসপত্র-একটা বড় কাঁচের বোতল, সরিষার তেল, ধুতরাপাতা, ঝাঁটা, গামছা, ধূপ ও তিনটা রক্তরঙা লম্বা লম্বা শুকনা মরিচ। ছোট একটা মালসায় ধরানো হয়েছে আগুন। জায়নামাজে বসে বিড়বিড় করে দোয়া-দরুদ পড়তে লাগলেন হেকমত কবিরাজ। উপস্থিত মানুষজনদের উদ্দেশ করে তিনি বললেন- আপনাদের…

  • মরিচপোড়া-২য়-পর্ব; amadersujanagar.com
    গল্প,  সাইফুর রহমান,  সাহিত্য

    মরিচপোড়া (২য় পর্ব)

    মরিচপোড়া (২য় পর্ব) সাইফুর রহমান   সন্ধ্যার পরপরই তোমার মা বসলেন ইলিশ মাছ ভাজতে। মাছের সে কী সুগন্ধ। মনে হয় আধমাইল দূর থেকেও সেই মাছের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। মাছ তো নয় যেন ননির চাপ কেটে ভাজা হচ্ছে কড়াইয়ে। ইলিশ মাছের গন্ধে ভুরভুর করতে লাগল চারপাশ। সমস্ত বাড়ি ক্রমশ হয়ে উঠল ইলিশময়। তোমার মা নিজেকে আর কিছুতেই ধরে রাখতে পারলেন না। এক টুকরো, দু টুকরো করে এক সময় সম্পূর্ণ মাছটিই খেয়ে ফেললেন। কাঁসার বড় থালাটিতে পড়ে রইল শুধু ল্যাজ আর ছোট ছোট দু-এক টুকরো মাছ। হঠাৎ তোমার মায়ের খেয়াল হলো, সর্বনাশ হয়ে গেছে। কোন ফাঁকে তিনি মাছগুলো সব খেয়ে নিয়েছেন বুঝতেও…

  • পাথরে-শৈবাল-খেলে
    খলিফা আশরাফ (গল্প),  গল্প,  সাহিত্য

    পাথরে শৈবাল খেলে

    পাথরে শৈবাল খেলে খলিফা আশরাফ   সিদ্দিকের সাথে দেখা হল বই মেলাতে। বিনতির ভার্সিটিমেট সে। কিন্তু বিনতি সেই সিদ্দিক আর এই সিদ্দিককে মেলাতে পারছে না কিছুতেই। এ যেন অন্য কোন সিদ্দিক। ক্লিন সেভ, জিন্স প্যান্টের সাথে লাল টি সার্ট, চোখে শোভন রিমলেস ফ্রেমের চশমা, ঘাড় অবধি ঝাঁকড়া চুল, একেবারে নিখুঁত পরিপাটি আধুনিক। দারুণ স্মার্ট। সাথে সুন্দরী এক শেতাঙ্গিনী। স্টলে স্টলে ঘুরে ঘুরে বই কিনছে। অথচ সে যখন ভার্সিটিতে ফিজিক্সে প্রথম ভর্তি হয়, তখন সবাই ওকে ‘ক্ষাত সিদ্দিক’ বলতো। ওর কথাবার্তা আচরণেও ছিলো প্রচুর গ্রাম্যতা। খুব ধার্মিক ছিল সিদ্দিক। পরকালে অবধারিত ফজিলতের জন্য জীবনে কোনদিন দাড়ি কাটেনি সে। সব সময় মাথায়…

  • সোনালী-সকাল-শেষ-পর্ব; www.amadersujanagar.com
    গল্প,  সাহিত্য

    সোনালী সকাল (শেষ পর্ব)

    সোনালী সকাল (শেষ পর্ব) মোহাম্মাদ শাহ্ আলম   এদিকে রবি স্যান্ডেল নিয়ে পথে বের হল। কিন্তু যে পথে বসে মুচিরা জুতো মেরামত করেন, সে পথে তাদের গ্রামের অনেকেই আসা যাওয়া করে। দুশ্চিন্তায় রবির মুখটা হঠাৎ নিস্প্রভ হয়ে গেল। কারণ যেখানে সে জুতাগুলো সারাতে নিয়ে যাবে সেখান থেকে তাদের বাড়ি বেশি দূর নয়। এমন কি সে পথে দিনে দশ বার তাদের বাড়ির প্রত্যেককে যেতে আসতে হয়। আজ তার নির্ঘাত ধরা পরতে হবে। তাই সে পথে এসে দ্রুত তার বেশভূষা পরিবর্তন করল। দু’মিনিটের মধ্যে গন্তব্য স্থলে পৌছে গেল রবি। একজন বলল, _বাবু এদিকে আনুন, খুব ভালো করে সেরে দেব। এটা বলার পর…

  • স্বপ্ন-গোধূলি-শেষ-পর্ব
    আবু জাফর খান (গল্প),  গল্প,  সাহিত্য

    স্বপ্ন গোধূলি (শেষ পর্ব)

    স্বপ্ন গোধূলি (শেষ পর্ব) আবু জাফর খান   পাঁচ. ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে মাস ছয়েক হলো মিস অরুশি চৌধুরী মৃত্যুর প্রহর গুণছে। দিন যায়, রাত আসে। একেকটি রাতকে তার কাছে বড় বেশি প্রলম্বিত মনে হয়। রাত কিছুতেই ফুরায় না। যেন থমকে দাঁড়িয়ে থাকে, এগোয়ই না। প্রত্যূষে পুবাকাশ যখন আরক্ত আভা ছড়ায়, ভীষণ ভালো লাগে তার। কারা কর্তৃপক্ষ অরুশিকে জানিয়েছে, হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগও তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছে। অরুশি জানে, উচ্চতর আদালত ফাঁসির আদেশ অনুমোদন করলে অনুমোদনের তারিখ থেকে একুশতম দিন থেকে আটাশতম দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ইতোমধ্যে ষোলোদিন পেরিয়ে গেছে। তার মানে পৃথিবীর আলো বাতাসে…

  • সোনালী-সকাল-৩য়-পর্ব
    গল্প,  সাহিত্য

    সোনালী সকাল (৩য় পর্ব)

    সোনালী সকাল (৩য় পর্ব) মোহাম্মাদ শাহ্ আলম   সেই থেকে আজ এক মাস হলো সকাল রবি সেজে এ বাড়িতে ফাইফরমাস পালন করে চলেছে। তবে বেশি কিছু করতে হয় না তাকে। এই থালা বাসন মাজা, বাগান সাফ করা, এই আর কি। তবে ছেলেটা অলস নয়। যে কাজেই পাঠানো যাক, তা সে ঠিক ঠিক করে দেয়। বোবা হলেও জ্ঞান তার কম নেই এ ব্যাপারটা সবাই বুঝতে পেরেছেন। আজ সকালে উঠেই রবি বাগানে গেল। কিন্তু প্রতিদিনের মত আজ আর সোনাই সেখানে উপস্থিত নেই। রবির মনটা খারাপ হয়ে গেল। কারণ সোনাই যেন তার প্রতিদিনের জীবনের রবি। তার মুখটা না দেখলে অথবা একটু হাসি হাসি…

  • স্বপ্ন-গোধূলি-২য়-পর্ব; www.amadersujanagar.com
    আবু জাফর খান (গল্প),  গল্প,  সাহিত্য

    স্বপ্ন গোধূলি (২য় পর্ব)

    স্বপ্ন গোধূলি (২য় পর্ব) আবু জাফর খান   তিন. আদালত প্রাঙ্গণে উপচেপড়া ভিড়। লোকে লোকারণ্য। কোথাও একতিল জায়গা খালি নেই। শহর, শহরতলি, এমন কি গ্রাম থেকেও মানুষ ছুটে এসেছে। আজ সেই চাঞ্চল্যকর মামলার রায়। প্রতিটি দৈনিকে মর্মস্পর্শী শিরোনাম করা হয়েছে। লোকজন হামলে পড়েছে খবরটির ওপর। অরুশিকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হলো। কালো আলখাল্লায় মোড়া বিচারক এসে এজলাসে বসলেন। আদালতে পিন পতন নিস্তব্ধতা। ব্যারিস্টার এম আলি চুপচাপ বসে আছেন। তিনি নিশ্চিত জানেন, রায় কী হবে। তিনি তাই পরবর্তী করণীয় নিয়ে ভাবছেন। প্রসূন আহমেদ এক কোণে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে। তার দৃষ্টি অরুশির মুখে স্থির। তার বুকের ভেতর মহাপ্রলয়ের যে তাণ্ডব চলছে,…

  • সোনালী-সকাল-২য়-পর্ব
    গল্প,  সাহিত্য

    সোনালী সকাল (২য় পর্ব)

    সোনালী সকাল (২য় পর্ব) মোহাম্মাদ শাহ্ আলম   বাবা জিজ্ঞেস করলেন, _এতো দেরি করলি কেনরে? _(মিতা) আর শুনো না বাবা। বর কনের বিদায় পর্যন্ত বাধ্য হয়ে থাকতে হলো। _ঠিক আছে। কিছু খেতে হয় যদি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়। _না বাবা, খেতে হবে না। খুব ঘুম পাচ্ছে। এরই মধ্যে পনেরো দিন গত হয়ে গেল। বর বধুর শুভদৃষ্টি অসমাপ্তই রয়ে গেল। দুজনার মনেই একই কৌতূহল। যাকে বিয়ে করলাম তার চেহারা চরিত্র কেমন? এই যে কৌতূহল, তা সেখানেই সীমাবদ্ধ রইলো না। তারা উভয়েই অনিদ্রা আর আহারে অরুচি জানিত রোগে ভূগতে লাগল। সকাল দেবদাস সেজে বের হল, ছিপ বড়শি নিয়ে মাছ ধরতে। অবশ্য মাছ ধরার…

error: Content is protected !!