পাহাড়ি-ললনা
কবিতা,  কে এম আশরাফুল ইসলাম,  সাহিত্য

পাহাড়ি ললনা, অবাঞ্চিত কবিতা

পাহাড়ি ললনা

কে এম আশরাফুল ইসলাম

সবুজের মিতালি
শাওড়াতলী অদূরেই পাহাড়ের মায়া,
নিত্য কলকাকলি
উড়ায়ে আঁচল ডেকেছিল প্রশান্তির ছায়া।
মায়াময় আঁখি
প্রশান্তির পাখি বিস্তার করিয়া ডানা,
বাঁধিয়া রাখি
পরাণে পশিয়া দিয়েছিল ঠিকানা।
জীবনের আশা
নিরঙ্কুশ ভরসা প্রত্যয়ের বাতিঘর,
তৃষিত ভালোবাসা
প্রণয় বাঁধনে কেউ হবে না তো পর!
লালমাই পাহাড়
আকর্ষণ দুর্নিবার ময়নামতির আঁচল,
কোটবাড়ি তার
হৃদয়ে ‘BARD’ ঐতিহাসিক কমল,
সর্পিল পথ
লালমতি কিছমত পার হয়ে সেই প্রাণ,
করিয়া শপথ
বেলতলী স্কুলে সতীর্থ হৃদয়ের টান,
মুক্ত হিয়া
ডাকিয়া প্রিয়-প্রিয়া চির রাখি বন্ধন,
বিরহিয়া
খোঁজে সান্ত্বনা মিলনে প্রস্ফুটিত নয়ন!
সেই সাথী
দানিয়া প্রীতি আপন পিত্রালয়ে রাখি,
দিবস-রাতি
রাখিত যতনে প্রণয়ের ময়না পাখি!
তব পিতৃনীড়ে
মাটির ঘরে যেইখানে রাখিতে আমায়,
জানালার ধারে
দাঁড়িয়ে তুমি কথা বলিতে অবলীলায়!
খুলে বাতায়ন
সমর্পিত হৃদয়ে নয়ন বাণী বন্ধন দিয়া,
উৎফুল্ল আনন
ইশারা ইঙ্গিতে সতত উঠিত উথলিয়া!
নয়নের আড়ে
বিষাদের লীলা অশ্রুতে ভাসে বুক,
দেখি আরবারে
অবাঞ্ছিত, আয়রে অভিমানী সুখ!
হতো অনশন
অনুসন্ধিৎসু নয়ন গোয়েন্দাগিরিতে,
অশান্ত জীবন
খুঁজিত প্রশান্তি বুকে টেনে নিতে।
হতো বিনিময়
প্রীতির হৃদয় নয়নের আঙিনায়,
চির পরিচয়
ওষ্ঠদোলায় দীক্ষিত অঙ্গুলি এশারায়।
পঞ্চবছর
হইয়া বিভোর অর্পিত পরাণের কথন,
মাণিকজোড়
অভিন্ন আশায় ভিক্টোরিয়া চত্বরে চারণ,
কান্দিরপাড়
কুমিল্লার ফুলকলি নার্সারির ছায়ায়,
বাক্যাভিসার
মহাকালের রথে অবারিত দু’জনায়,
কখনো সেথায়
থাকিতাম যেথায় পদুয়ার বাজার নীড়ে,
প্রণয় মায়ায়
করিয়া তালাশ রাখিতে আঁচলের ভিড়ে!
ভিক্টোরিয়া কলেজ
আমার নলেজ মহিলা কলেজে তুমি,
এখনো সতেজ
স্মৃতিময় অতীত স্মৃতিকাতর আমি।
এই কবিতা
মরমের কথা বেদনার রাগিণী বাজে,
আমারই মিতা
ছিলে আছ রহিবে ঐ আগ্রার তাজে!
যেখানে ঘৃণা
সেথায় প্রেমের ঠিকানা শেষ উপহার,
সেই ঠিকানা
তাড়ায় যাতনায় মালিকা গাঁথিবার!
শপথে গাঁথা
জীবনের কথা অটুট কামনায় অধীর,
বিয়োগ ব্যথা
‘বউ কথা কউ’ পাখি অশান্ত ধরণীর,
না পাই দিশা
হাসে অমানিশা কাঁপে নীলিমায় তারা,
সেই ভালোবাসা
বসন্তরাগে লীলায়িত ঐ কাজি পাড়া!
পাহাড়ি ললনা
জীবনের সাধনা মনোলোভা মাকালফল,
তোমার ঠিকানা
পললে পলল মরীচিকা চৌম্বুক আঁখিজল!

আরও পড়ুন কে এম আশরাফুল ইসলামের কবিতা-
স্মৃতির পাতায়
বেদনার কূলে কূলে
প্রতীক্ষায় আছি

 

অবাঞ্চিত কবিতা

হবে কবিতা
কভু ভাবিনি তা তবু কবিতায়,
কবিতার খাতা
দিনে দিনে হয় পূর্ণ তীব্র বেদনায়!
যদিগো পাশে
থাকিতে ভালোবেসে শুধুই অবগাহন,
পরম আবেশে
হারাতাম দু’জনায় মিলনে চৌনয়ন!
চাঁদের কিরণ
মায়াবী আনন মায়াতে বাঁধিয়া রয়,
জাগে শিহরণ
অর্পিত পরাণে সমর্পণে কথা কয়!
সে আশা
অতৃপ্ত তৃষা মরু মরীচিকায় গ্রাসে,
হতাশা
ক্লান্ত অবয়বে বিশ্ব বিস্ময়ে ভাসে।
অচঞ্চল শাখা
তুষারে ঢাকা শিশিরের মুক্তো জ্বলে,
মেলিয়া পাখা
এসেছিলে হেথায় তাইতো চিত্ত দোলে!
যেন আকাশ
ফুলের রাশ তুষারে বাঁধিয়া মায়ায়,
করে প্রকাশ
হিম হিমালয়ের শুভ্র বেদনা লীলায়!
সেই হিমে
পড়িয়া প্রেমে হিমাংকে স্ফুটনাংক খুঁজি,
রই চুমে
কবিতার পাঁজরে হৃদয় হারানো পুঁজি।
এই কবিতা
নহে অবাঞ্ছিতা স্মরণের রক্ত ক্ষরণে লেখা,
পরম মিতা
পড়িও অনুরাগী অবেহেলেও হলে দেখা।

আরও পড়ুন কবিতা-   
নবতান
আজি বৈশাখ
নীরব অসন্তুষ্টি

ঘুরে আসুন আমাদের সুজানগর-এর অফিসিয়াল ফেসবুক ও  ইউটিউব চ্যানেলে

পাহাড়ি ললনা

Facebook Comments Box

ঘটনাবহুল জীবনের অধিকারী কে এম আশরাফুল ইসলাম একাধারে একজন কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, গল্পকার ও গীতিকার। ছড়া, কবিতা, গল্প, নাটক, গান, প্রবন্ধ, উপন্যাস প্রভৃতি বিষয়ে লেখকের মোট ৭৮টি পাণ্ডুলিপি অপ্রকাশিত রয়েছে। তিনি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়নের  তালিমনগর গ্রামে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। 

error: Content is protected !!