-
নিঃশব্দে নীড়ে ফেরা ।। ৩য় পর্ব।। ধারাবাহিক উপন্যাস ।। এ কে আজাদ দুলাল
নিঃশব্দে নীড়ে ফেরা ।। ৩য় পর্ব এ কে আজাদ দুলাল মনিকা চাকমা রাঙামাটি পাহাড়ি এলাকার এক নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে। দু’ভাই বোনের সংসার তাদের বাবা-মায়ের। মনিকা বড়ো। পরিবারের মোট চার জন সদস্য আর আছে একটা গোরু-ছাগল এবং সব সময়ের সাথি বিশ্বস্ত টমি নামের কুকুর। বাবা মাইল তিনেক দূরে একটা কারখানার শ্রমিক। সেই সকালে কারখানায় যেত আর ফিরত রাত করে। রাতে খাবারের পর ঘুমিয়ে পড়ত, দেখা হতো না বাবার সাথে। সকালে ঘুম ভাঙার আগেই বাবা কাজে চলে যেত। সারাদিন মন খারাপ করে টমি আর দুটো বোবা জন্তু নিয়ে তাদের দিন কেটে যেত। শুধু সাপ্তাহিক একদিন ছুটি ছিল; তাদের আনন্দের পরিপূর্ণ দিন। সারাদিন…
-
নিঃশব্দে নীড়ে ফেরা ।। ২য় পর্ব।। ধারাবাহিক উপন্যাস ।। এ কে আজাদ দুলাল
নিঃশব্দে নীড়ে ফেরা ।। ২য় পর্ব এ কে আজাদ দুলাল মেয়েকে বিদায় দিয়ে ঘরে ঢোকেন রাকিব আহমেদ। এর আগে এভাবে কখন একাকী ঢাকার রাইরে যায়নি রাকা। একটা অশান্তি বয়ে বেড়াচ্ছে মনের ভেতরে। মনে মনে মেয়ের মঙ্গল কামনা করেন। পনের মিনিটের মধ্যে রেলস্টেশনে পোঁছে যায় রাকা। সকালে যানজট কম থাকে। বারিধারা হতে রেল স্টেশন বেশি দূরে নয়। গাড়ি হতে নেমেই দেখা হয়ে যায় মনিকার সাথে। একজন কুলি আগেই ঠিক করে অপেক্ষা করছিল মনিকা। কুলি তাদের লাগেজ মাথায় আর হাতে নিয়ে আগে হাঁটতে থাকে। তারা দুজন পিছনে হাঁটছে। রেল স্টেশন রাকার কাছে অদ্ভুত লাগছে। বিভিন্ন ধরনের মানুষের আনাগোনা। অপরিষ্কার, অপরিচ্ছন্ন এবং অস্বাস্থ্যকর…
-
কাছে দূরে ।। ছোটোগল্প ।। শফিক নহোর
কাছে দূরে শফিক নহোর নীলার সঙ্গে আমার পরিচয় প্রায় তিন মাস। ওর শিশুসুলভ আচরণ আমাকে খুব কাছে টানে কারণে-অকারণে। ও আমাকে ফোন দেয়। আমিও মাঝেমধ্যে ওকে ফোন করি। আমার আর নীলার মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে ওঠে অল্প ক’দিনে। আমি অনেক বার বলেছি, তোমার ফেসবুক আইডি আমাকে দাও। ফেসবুকে আমরা কথা বলি। নীলা আমাকে বলেছে, তার ফেসবুক আইডি নেই। আমি একটা ফেসবুক আইডি তৈরি করে দিতে চেয়েছি; সে আমাকে বলল, ভালো একটা ফোন কিনে নেই তারপর দিও। হঠাৎ করে নীলার ফোন নম্বর বন্ধ। আমি আর নীলার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। আমি রাজবাড়ি হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট পার হয়ে ঢাকা যাচ্ছি; খুব…
-
নিঃশব্দে নীড়ে ফেরা ।। ১ম পর্ব।। ধারাবাহিক উপন্যাস ।। এ কে আজাদ দুলাল
নিঃশব্দে নীড়ে ফেরা ।। ১ম পর্ব এ কে আজাদ দুলাল প্রবল আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত বাবার কথা রাখতে হলো রাকার। এককালের জাঁদরেল সিএসপি কর্মকর্তা রাকিব আহমেদ রাকার বাবা। চলনে, কথাবারতায় ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে রের্কড নম্বর পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকারী তিনি। কিছু দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছিলেন। শিক্ষকতা জীবনে বৈচিত্র্য আনতে পারেননি এই তুখোড় মেধারী রাকিব আহমেদ। স্বপ্নের জাল বঙ্গোপসাগরের ধুঁ ধুঁ দৃষ্টির বাইরে। সিনিয়র বড়ো ভাইদের সরকারি চাকরিতে প্রশাসনিক ক্ষমতার কথা শুনে নিজের ভেতরে নতুন স্বপ্ন জেগে ওঠে। তার চাই উপরে ওঠা আর ক্ষমতা। বলতে গেলে এই বয়সে তাকে ক্ষমতার মোহ পেয়ে বসেছিল। সারা পাকিস্তানে সুপিরিয়র সার্ভিস প্রতিযোগিতা…
-
ধূপছায়া সন্ধ্যা: প্রেমের স্নিগ্ধ রূপমাল্য
ধূপছায়া সন্ধ্যা: প্রেমের স্নিগ্ধ রূপমাল্য @ আলতাব হোসেন কবি মঞ্জুরুল ইসলামের কবিতা ‘ধূপছায়া সন্ধ্যা’ প্রেম, স্মৃতি এবং অনুভূতির এক মনোমুগ্ধকর চিত্র তুলে ধরে। কবিতাটি তার শৈল্পিকতায় গভীর, আবেগে তীব্র এবং ভাষার মাধুর্যে অপূর্ব। ধূপছায়ার মায়া এবং সন্ধ্যার আবেশে, কবি প্রেমের অতলান্তিক অনুভূতিকে পাঠকের হৃদয়ে ছুঁয়ে দেন। কবিতার সূচনা নীরবতার মুগ্ধতায়: “ধূপছায়া সন্ধ্যার আবেশে হারিয়েছ নীরব মুগ্ধতার গভীরে..” এই পঙ্ক্তিতে কবি সন্ধ্যার এক অদ্ভুত আবেশ তৈরি করেন। ধূপছায়া সন্ধ্যা এখানে শুধু সময়ের একটি রূপ নয়; এটি এক ধরনের অনুভবের প্রতীক। নীরবতা এখানে মুগ্ধতা এবং প্রেমের গভীরতার প্রতিচ্ছবি। কবির ভাষা পাঠককে এক নস্টালজিক অনুভূতির ভেতর নিয়ে যায়, যেখানে প্রেম ভাষার তীব্রতা ছাড়িয়ে…
-
স্বাধীনতার তিক্ত স্বাদ, বিপ্লবের সওয়ারীরা
স্বাধীনতার তিক্ত স্বাদ জাহাঙ্গীর পানু উন্মুক্ত স্বাধীনতার তিক্ত স্বাদে বাধাহীন সমাজের আত্ম-অহংকারীর। দিকপালবিহীন মৌমাছিরা হুল ফোটায় ভুল মগডালের অগ্রভাগে। অবুঝ সময়ের হারানো স্বাধীকার ফিরে পাবার আহলাদে উত্তেজিত নব প্রজন্ম। প্রতিবিপ্লবের আকাঙ্খায় উৎ পেতে থাকে ভয়ানক হিংস্র হায়েনারা আচমকাই গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে পতিত বিষধর গোখরো। অনবরত সাম্রাজ্যবাদী পড়শির খড়গ হস্তের ইশারায় লাল হয় সবুজ ঘাস। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার স্বপ্নে বিভোর পরাজিত পাপারাজ্জিদের দল। দীপ্তদের আত্মার চিতার আগুনে নোংরা জল ঢালে বিপথগামী স্বগোত্রীয় উগ্রবাদীরা। সমাজের প্রতিষ্ঠিত কান্ডারীগণ আজ দিশাহারা দ্বিধাহীন প্রলাপের ভিতরে তারা আজ উদ্দেশ্যহীন যাত্রার পথিক। স্বৈরাচারের চরমপত্রের অনুশীলনে শেখেনি কোনোকিছুই। সদ্য ফেলা অতীতের যন্ত্রণাময় দিনগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতা কি সহসাই ভুলে…
-
রাত্রির সাদা ফুল প্রেম: অন্তর্নিহিত আবেগের নৈবেদ্য
রাত্রির সাদা ফুল প্রেম: অন্তর্নিহিত আবেগের নৈবেদ্য @ আলতাব হোসেন কবি জহুরুল ইসলামের কবিতা ‘রাত্রির সাদা ফুল প্রেম’ পাঠকের সামনে একটি অন্তর্গত আবেগের জগৎ উন্মোচন করে। এটি প্রেম, বেদনা এবং জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের এমন এক সমন্বয়, যা প্রতিটি শব্দের গভীরে নিহিত। কবিতাটি প্রতীক ও চিত্রকল্পের সাহায্যে পাঠককে আবেগময় ভ্রমণে নিয়ে যায়, যেখানে প্রেম মানে শুধু আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং জীবনের প্রতিটি দুঃখবোধের সাথেও তার ওতপ্রোত সম্পর্ক। কবিতার শুরুতেই ‘রাত্রির সাদা ফুল প্রেম’ শিরোনামের মাধ্যমে এক গভীর রূপকের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। রাত্রি এখানে জীবনের গোপন মুহূর্ত, আর সাদা ফুল হলো বিশুদ্ধ প্রেমের প্রতীক। এই প্রেম শিথানে সুঘ্রাণ হয়ে থাকা মানে হলো প্রেম সবসময়…
-
কোরাস: বিভেদের ঊর্ধ্বে মানবতার জয়গান
কোরাস: বিভেদের ঊর্ধ্বে মানবতার জয়গান আলতাব হোসেন কবি মজিদ মাহমুদের কবিতা ‘কোরাস’ এক অনন্য মানবিক আবেদনপূর্ণ রচনা, যা সমাজ, সংস্কৃতি এবং ধর্মের ভিন্নতা সত্ত্বেও মানুষের সম্প্রীতি ও একাত্মতার প্রতি আহ্বান জানায়। কবিতাটির প্রতিটি স্তবকে কবি দুই ভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী চরিত্রের মধ্যকার সম্পর্ক এবং তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। এই কবিতা মূলত মানবিক ঐক্যের জয়গান, যা একাধারে ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত অনুভূতির মেলবন্ধনে রচিত। কবিতার শুরুতেই কবি গভীর এক শোকের সুরে লেখেন, “তুমি পদতলে পিষলে- আমি পোড়ালাম আগুনে / খুব কাঁদলেন আমাদের এই অধপতন মা শুনে।” এখানে কবি সমাজে সংঘর্ষ এবং বিভাজনের যন্ত্রণা প্রকাশ করেছেন। দুই ভিন্ন সম্প্রদায় নিজেদের অহংকারে বিভক্ত, অথচ…
-
শফিক নহোরের ‘কসুর’ গল্পগ্রন্থের রিভিউ
শফিক নহোরের ‘কসুর’ গল্পগ্রন্থের রিভিউ আলতাব হোসেন শফিক নহোরের ‘কসুর’ গল্পগ্রন্থে বর্তমান সমাজের নৈতিকতা, সম্পর্কের দ্বন্দ্ব ও মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্বকে সুনিপণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই গ্রন্থটি মোট ১৭টি গল্পের সমাহার, যার প্রতিটি গল্পই আলাদা রকমের চিন্তা ও অনুভূতির প্রতিফলন ঘটায়। লেখক নিখুঁতভাবে প্রতিটি চরিত্রের মধ্যে যে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা রয়েছে, তা তুলে ধরেছেন। গল্পগুলোতে মূলত মানুষের ভুল ও অপরাধের বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানান রূপে প্রতিফলিত হয়। এই গ্রন্থের গল্পগুলো সাধারণ মানুষের জীবন থেকে নেওয়া, যেখানে সামাজিক নৈতিকতা এবং ব্যক্তিগত দ্বিধা-বোধের মুখোমুখি হতে হয় প্রতিটি চরিত্রকে। প্রত্যেক গল্পে কিছু সাধারণ মানুষকে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে,…
-
শেষ অপেক্ষা
শেষ অপেক্ষা আলতাব হোসেন রাত গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। নিস্তব্ধতা যেন সারা পৃথিবীকে গ্রাস করেছে। বিছানায় শুয়ে থাকা তাহিরার চোখে ঘুম নেই। মনের ভেতর এক অজানা অস্থিরতা তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। প্রতিটি শ্বাসে, প্রতিটি মুহূর্তে সে অনুভব করছে যেন কিছু একটা অপূর্ণ রয়ে গেছে, কিছু একটা বলার বাকি আছে। ঘরের আলো নিভিয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়ায় সে। বাইরে আকাশ কালো মেঘে আচ্ছন্ন, কোথাও কোথাও চাঁদের ক্ষীণ আলো দেখা যাচ্ছে। এই দৃশ্যের মতোই তার মনের ভেতরেও যেন কিছুটা আলো, কিছুটা অন্ধকার মিশে আছে—অন্ধকারে ঢেকে থাকা, তবু কোথাও এক ফালি আলোর আশা। জীবনের শেষ সময়ে এসে এসব ভাবা উচিত নয়, কিন্তু স্মৃতিরা তাকে…




























