-
জোছনা মাখা আলো (৩য় পর্ব)
জোছনা মাখা আলো (৩য় পর্ব) এ কে আজাদ দুলাল —আরও দুঃখের কথা শুনবেন? —বাবার পরিচিত অনেকেই সেদিন বুকে আশা বেঁধে গিয়েছিলেন এই ভেবে, তাদেরই পরিচিত স্বজন ব্যক্তিবর্গ যাচাই-বাছাই বোর্ডে আছেন। এবার নাম তালিকাভুক্ত হবেই। অনেকে আবার আপসোস করে বললেন এত দিনে কেন নাম তালিকাভুক্ত হয়নি। কথা শুনলাম। বয়সে ছোট ছিলাম তো অতশত বুঝে উঠতে পারিনি। এখন বুঝি কিসে কি হয়। —বলেন কি? —ঠিকই তাই। পরে শুনেছিলাম ২০০৪ সালে যে তালিকা করা হয়েছিল তাতে বাবার নাম আছে তাই তার নাম বাদ পরেছে। বেশ কিছু দিন পর বুঝতে পারলাম এখানে অন্য খেলা ছিলো। —২০০৪ সালের তালিকা নিয়ে চেষ্টা করেননি? —করিনি আবার।…
-
গৃহবন্দি বিড়াল
গৃহবন্দি বিড়াল শফিক নহোর মিনু কলেজ থেকে ফিরে আসার পর, তার মা তাকে জানিয়ে দিলো, তার আদরের বিড়াল বাড়িতে রাখা যাবে না। এমনিতেই দেশের অবস্থা বেশি একটা ভালো না। মানুষই খেতে পাচ্ছে না, বিড়াল পুষে কি হবে। তাছাড়া বিড়ালের শরীরে ঘা হয়েছে। পরের দিন মিনু কলেজে যাওয়ার পর, তার মা বস্তায় ভরে বিড়াল জঙ্গলে ফেলে দিয়েছে। বাড়িতে ঢুকেই মিনু কিছু একটা আন্দাজ করতে পারছে, ‘ডাল মে কুছ কালে হে।’ কাঁধের ব্যাগ টেবিলের উপরে রাখতেই তার মা কিছু একটা বলতে চাইল। কথা ঠোঁটের কিনারে আসতেই হাত ইশারা করে বলল, আমি সব জানি। তোমাকে কিছুই বলতে হবে না। মায়ের মুখের দিকে…
-
পেতনি
পেতনি শফিক নহোর বউরে আমি কালটি বলে ডাকতাম, এ ডাকটি ছিল তার কাছে বিষের মতো। নাম ধরে ডাকার সঙ্গে সঙ্গে মুখটা এমন কালো হয়ে যেত, মনে হতো অমাবস্যার অন্ধকার রাত নেমে এসেছে আকাশ থেকে। তার মুখের রঙ পরিবর্তন হয়ে যেত সহজে। সাত সকালে ভূতের মুখ দেখে ঘুম ভাঙলে কী সেদিন ভাল যায়? কপাল পোড়া হলে যা হয়, ঠিক আমারও তাই। তবে ও হাসলে দাঁতগুলো খুব চকচক করত। ওকে কখনো আদর করতে ইচ্ছে হয়নি, ভালবাসতে ইচ্ছে হয়নি, কখনো আপন করে কাছে পেতে ইচ্ছে হয়নি, ভাত খাবার কথা বলতে ইচ্ছে হয়নি, ভালো কাপড় কিনে দিতেও কখনো ইচ্ছে হয়নি। কেন ইচ্ছে হয়নি-…
-
মরিচপোড়া (১ম পর্ব)
মরিচপোড়া (১ম পর্ব) সাইফুর রহমান আমি যখন বাড়িটির সামনে এসে দাঁড়ালাম, সূর্য তখন মধ্য গগন থেকে অল্প একটু হেলে পড়েছে পশ্চিমে। চারদিকে ঝাঁ ঝাঁ সোনা গলানো রোদ। আমিও এসেছি বহু পথ অতিক্রম করে। কত হবে? হাজার লক্ষ ক্রোশ। মাপজোক নেই। আমি কিছুটা ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত। যদিও রোগ, শোক, জরা আমাকে তেমন একটা ছুঁতে পারে না; তারপরও এই নশ্বর পৃথিবীর সবকিছু যেহেতু একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে, আমিই বা অবিনশ্বর থাকি কী করে। আমি যখন গৃহটিতে প্রবেশ করলাম মিতুজা তখন ঘরের ডুয়া লেপাপোছায় ব্যস্ত। বালতিতে মাটি ও গোবরের মিশ্রণ তৈরি করে সেগুলো দিয়ে লেপাপোছার কাজটি করছিল সে। গৃহের মূল ফটকে এসে…
-
একজন অনন্যা
একজন অনন্যা খলিফা আশরাফ মেয়েটার নাম অনন্যা। দারুণ চটপটে, সপ্রতিভ। কথা বলা যে একটা শিল্প, তা সে ভালো করেই জানে। একসময় চুটিয়ে মঞ্চনাটক করতো, গান গাইতো, আবৃত্তিতেও পারঙ্গমতা আছে তার। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেই বিস্তর বর্ধন। এইসব করতে করতেই কখন যেন লগ্নটা হাতছাড়া হয়ে গেছে, বিয়ে করাটা আর হয়ে ওঠেনি। আমার ধারনা অবশ্য ভিন্ন। হৃদয় তন্ত্রীর তার একবার ছিড়ে গেলে তা আর সহজে জোড়া লাগানো যায় না। সবচেয়ে দুর্বহ ভালোবাসার আঘাত। অনেকে সে আঘাত সইতেও পারে না। মতিচ্ছন্ন, বেপথু হয়, কেউবা আত্মহননের পথ বেছে নেয়। আবার কেউ সব যন্ত্রনা হজম করে নীলকণ্ঠ হয়। ভেতরটা জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যায়, কিন্তু বাইরে…
-
পরাভূত
পরাভূত শফিক নহোর জীবনে অনেক ছোটো খাটো ব্যথা থাকে যা ইচ্ছে করলেই কারো নিকট প্রকাশ করা হয় না। গত বছর মেজো আপার মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে গেলাম। মোবাইল ফোনের দাওয়াত। আগে মানুষ দাওয়াত দিতে আসত। বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে আসত। এখন আর এ সব নেই। ডিজিটাল যুগ বলে কথা। সেদিন রাতে দুলাভাই আমাকে যেভাবে জড়িয়ে ধরেছিল! তা ছিল ভারি অন্যায়। মান সম্মানের ভয়ে চেপে গেলাম। থাক, একটু দুষ্টুমি তো করতেই পারে, তাই নয় কি! এভাবেই আমার মতো কত মেয়ে প্রতিদিন প্রিয় কিছু মানুষের দ্বারা নিদারুণ নিপীড়ন সহ্য করে। আমার মতো সরল মেয়েদের কপালে এই থাকে। আমি ভয়ে কাউকে কিছুই বললাম না।…


















