-
পাশের বাড়ির আপনজন
পাশের বাড়ির আপনজন তাহমিনা খাতুন আমাদের ছোট পাড়াটিতে আমরা এবং আমাদের কয়েক জন ঘনিষ্ট আত্মীয়ের বসতি ছিল। আমার আপন চাচা আমাদের পাড়া থেকে সামান্য দূরে বাড়ি করে বসবাস করতেন। চাচারও ছিল আব্বার মত গাছ লাগানোর অভ্যাস। খুব গোছালো সংসারী মানুষ ছিলেন তিনি। ওনার হাতে সব সময় একটা কাস্তে বা নিড়ানি দেখা যেত, যা দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করতেন বা গাছ লাগাতেন। চাচীমাও খুব সৌখিন মানুষ ছিলেন। বাড়ি-ঘর সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতেন। চাচিমা ছিলেন সদা হাস্যোজ্জল! ফুলের গাছ লাগানো, হাঁস মুরগী,কবুতর পোষা ইত্যাদি ছিল চাচীমার সখ। অতিথি আপ্যায়নেও চাচীমা ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক। যে সময়ে মেয়েদের লেখাপড়ার চর্চা করার কোন সুযোগই ছিল…
-
অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার (৩য় পর্ব)
অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার (৩য় পর্ব) ~ মোহাম্মদ আব্দুল মতিন রাজশাহী কলেজ থেকে অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার ১৯৪৮ সালে তৎকালীন আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (বর্তমান বুয়েট) গণিত বিভাগে যোগদান করেন। তিনি কলেজ হোস্টেলের (বর্তমানে রেজিস্ট্রারের অফিস) সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট হিসাবে হোস্টেলের দক্ষিণ প্রান্তের দোতলার কোয়ার্টারের বরাদ্দ পেয়ে ওখানে বসবাস করতে থাকেন। কোন এক কারণে ছাত্ররা হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে এবং এক পর্যায়ে তাঁর বাসায় হামলা চালায়। কর্তৃপক্ষ তাকে হোস্টেলের দায়িত্ব গ্রহণ করে পুলিশে রিপোর্ট করতে বলেন। তিনি অস্বীকার করলে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তিনি নিরুপায় হয়ে তাঁর মেজ ভাইয়ের ফরাশগঞ্জের বাসায় উঠলেন। এরপর তিনি আজিমপুরের একটি সরকারি…
-
সংসার ও আইনজীবী জীবন
সংসার ও আইনজীবী জীবন তাহমিনা খাতুন স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরুতেই আমাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে আমাদেরকে সর্বস্বান্ত করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী। পোড়া ভিটায় একখানা ছাপড়া তুলে কোন ক্রমে দিন গুজরান করছিলেন আমাদের পরিবারের সদস্যরা।আমাদের পরিবার ছিল মূলত কৃষিজীবী। পাক বাহিনীর অত্যাচারের ফলে কৃষি কাজে স্থিত হতে পারছিল না পরিবার। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী আমার তৃতীয় ভাই মরহুম খন্দকার আবুল খায়ের। আমি সহ চার ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচ, সংসারের খরচ যোগানো একজনের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এ কারণে আমার বিদ্যোৎসাহী ভাই আমাকে বিয়ে দিতে বাধ্য হলেন। স্বাধীনতার পর পরই আমার বিয়ে হয়ে গেল। আমার সৌভাগ্য, আমার ভাইয়ের মতো আমার স্বামীও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। বিয়ের পর আমি ম্যাট্টিক…
-
অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার (২য় পর্ব)
অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার (২য় পর্ব) ~ মোহাম্মদ আব্দুল মতিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার সাতবাড়িয়া স্কুলে পড়ার সময়েই বন্ধুদের নিয়ে হাতে লেখা পত্রিকা বের করতেন। সেইখান থেকেই তিনি লেখার দিকে ঝুঁকে পড়েন। এই সময়ে ঢাকার এক ভদ্রলোক, তাঁর একখানা বইয়ের সমালোচনা আহবান করে এক বিজ্ঞাপন দেন, তখনকার কোন এক সাপ্তাহিকে। সমালোচক হতে হবে স্কুল কলেজের ছাত্র এবং সমালোচনার জন্য দেওয়া হবে তিনটি পুরস্কার। অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার এই সমালোচনায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় পুরস্কার পান। অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়া অবস্থাতেই আজাদ, মোহাম্মদী প্রভৃতি কাগজে ছোটদের জন্য বিজ্ঞান সম্বন্ধে লেখালিখি শুরু করেন। তাঁর অগ্রজ, বিজ্ঞানে মুসলমানের দান-এর লেখক…
-
কৃতি ব্যক্তিবর্গ, তালিমনগর, মুরারীপুর, লেখক পরিচিতি, শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, শ্যামসুন্দরপুর, সমাজসেবক, সাগরকান্দি, সাগরকান্দি ইউনিয়নের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, সাহিত্য
অধ্যাপক মুহম্মদ খোয়াজউদ্দিন (২য় পর্ব)
অধ্যাপক মুহম্মদ খোয়াজউদ্দিন (২য় পর্ব) খ ম আবদুল আউয়াল ধর্ম সাধনা ও সমাজ সেবা: অধ্যাপক মুহম্মদ খোয়াজউদ্দিন নিজে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন যাকে বলে self made man. তিনি ছিলেন প্রকৃত ধর্মপ্রাণ, সত্যনিষ্ঠ, আদর্শবাদী মানুষ। ধর্মবোধ থেকেই পিতামাতার প্রতি ছিলেন পরম ভক্ত ও কর্তব্যনিষ্ঠ। তাই পিতার ইচ্ছানুযায়ী ধর্মীয় জ্ঞানেই আধুনিক উচ্চ শিক্ষা লাভ করেছিলেন, যদিও তাঁর মেধা ও আকাঙ্ক্ষার বিষয় ছিল গণিতশাস্ত্র। শিক্ষা লাভের শুরু থেকেই তিনি আদর্শ মানব হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন হযরত মুহম্মদ (সা.) কে। তাই সচেতনভাবে তরুণ বয়স থেকেই মহানবীর মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিশ্বনবীকে গভীর ভালোবেসে অনুসরণ করে আমরণ জীবন যাপন করে গিয়েছেন। তিনি একাধারে যেমন ছিলেন পরম…
-
কৃতি ব্যক্তিবর্গ, গবেষক, গোপালপুর (ভায়না), বিজ্ঞানী, ভায়না, লেখক পরিচিতি, শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, সাহিত্য
অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার (১ম পর্ব)
অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার (১ম পর্ব) ~ মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার অগ্রপথিক ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বহুপূর্ব থেকে, প্রকৃতপক্ষে ভারত বিভক্তির পর থেকেই তিনি একাকী জোতির্বিজ্ঞান চর্চা শুরু করেছিলেন। তিনি অবিভক্ত ভারতে প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়া অবস্থায়, অর্থাৎ ছাত্র অবস্থায় জোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠেন। তাঁরা ৫ ভাইবোন, ৩ ভাই আর দুই বোন। অধ্যাপক আব্দুল জব্বার ভাইদের ভেতর সবার ছোট আর ভাইবোনদের মধ্যে চতুর্থ। তাঁর পিতার নাম ছিল মুন্সী মিয়াজান মল্লিক, মা বুলুবেগম। তাঁদের পারিবারিক অবস্থা সম্পর্কে, উনার মেজ ভাই জনাব মোহাম্মদ আকবর আলী লিখেছিলেন, “আমাদের বাপ মা ছিলেন খুবই গরীব। জমিজমা কিছুই ছিল…
-
কৃতি ব্যক্তিবর্গ, তালিমনগর, লেখক পরিচিতি, শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, শ্যামসুন্দরপুর, সমাজসেবক, সাগরকান্দি, সাগরকান্দি ইউনিয়নের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, সাহিত্য
অধ্যাপক মুহম্মদ খোয়াজউদ্দিন (১ম পর্ব)
অধ্যাপক মুহম্মদ খোয়াজউদ্দিন (১ম পর্ব) খ ম আবদুল আউয়াল ঊনিশ শতকের শেষে কেউ কেউ নিজেকে গড়ে তুলে সমাজকে এগিয়ে নেয়ার অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছিলেন। মুহাম্মদ খোয়াজউদ্দিন তাঁদেরই একজন। বিশ শতকের শুরুতে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় ও উগ্র জাতীয়তাবাদের বিকাশে ইউরোপে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। এই যুদ্ধ প্রথম মহাযুদ্ধ বা বিশ্বযুদ্ধ নামে ইতিহাসে খ্যাত । প্রথম মহাযুদ্ধের সময়ে মুহম্মদ খোয়জউদ্দিন (১৯১১-১৯৮৫ খ্রি.) ছিলেন শিশু। আকাশে তখন দু’একটি নব আবিষ্কৃত যুদ্ধের উড়োজাহাজ দেখা দিলে মানুষ বিষ্ময়ে হতবাক হয়ে ভাবতো মানুষ উড়তে শিখেছে। এটি তাঁর শৈশবের যুদ্ধ স্মৃতি। তিনি তখন স্থানীয় মক্তবে পড়াশুনা করেন। এ মক্তবটি এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়, তাই এর নামকরণ…
-
শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ
শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ তাহমিনা খাতুন কিছুদিন আগে আমার স্কুল জীবনের প্রথম শিক্ষক জনাব নূরুল ইসলামের মৃত্যু সংবাদ পেলাম। প্রথম যেদিন আমার গ্রাম দ্বারিয়াপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ক্লাস করতে গিয়েছিলাম, হয়তো বছর চারেক বয়স হবে, জনাব নুরুল ইসলাম আমাকে ডেকে কাছে বসিয়ে একটা ছড়া পড়ে শুনিয়েছিলেন। ছড়াটি এত বছর পরেও স্পষ্ট মনে আছে, এক যে ছিল ময়না, কত যে তার গয় না, আসমার কিছু দেয় না! আসমা আমার ডাক নাম। পরবর্তীতে শিক্ষক নূরুল ইসলাম সাহেব বৈবাহিক সূত্রে আমার ঘনিষ্ট আত্মীয় হয়েছিলেন। তিনি আমার আপন চাচাতো বোন লিলিকে বিয়ে করেছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রায় সবার কথাই আমার মনে আছে! আমি যখন…
-
আত্মজীবনী, আহম্মদপুর, দ্বারিয়াপুর, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধে সুজানগর, লেখক পরিচিতি, সাহিত্য, সৈয়দপুর (আহম্মদপুর)
একাত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলি
একাত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলি তাহমিনা খাতুন ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত হয় পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন। সে নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের ১৬৯ টি আসনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ১৬৭ টি আসনে জয়লাভ করে। পক্ষান্তরে পশ্চিম পাকিস্তানে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি ৮১টি আসনে জয়লাভ করে। পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান, ৩ মার্চ ১৯৭১ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ আনন্দে উৎফুল্ল। সবার আশা এতদিনে বাঙ্গালীর হাতে পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাঙ্গালীর স্বপ্ন ভঙ্গ হতে দেরি হলো না। পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গণ রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ…
-
মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান
মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান সদালাপী এবং জীবনবাদী কথাশিল্পী মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান। তিনি কবি, কথাশিল্পী ও গবেষক হিসেবে সমাজে সমধিক পরিচিত। বর্তমানে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) এর পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) হিসেবে কর্মরত আছেন। জন্ম: পদ্মার পলিমাটি বিধৌত শ্যামল বাংলার প্রকৃতির সাথে বেড়ে ওঠা মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের গুপিনপুর গ্রামের সন্তান। সম্ভান্ত মুসলিম প্রামাণিক পরিবারে ১৯৬৯ সালের ১ জানুয়ারি-তে তাঁর জন্ম। পারিবারিক জীবন: পিতা মহির উদ্দিন প্রামানিক ছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা (শহীদ), মাতা মরহুমা হাজেরা খাতুন। ছয় ভাই বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। পিতামহ কফিল উদ্দিন প্রামাণিক ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। স্ত্রী জাফরিন আক্তার,…





























