• একুশ-মানে
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    একুশ মানে, দুয়ারে একুশ

    একুশ মানে জাহাঙ্গীর পানু একুশ মানে – ফাগুন মাসের ঠান্ডা হাওয়ায় তপ্ত মনের উচ্ছাস। বাংলা মায়ের দামাল ছেলের বীরত্বগাঁথা উপন্যাস। একুশ মানে – কৃষকের মুখের হাসি স্বপ্নবোনা সোনার মাঠ। নদীতটের বটতলার বিকিকিনির গঞ্জ হাট। একুশ মানে – কিশোরীর মলিন ঠোঁটে মুক্ত আলোর বিচ্ছুরণ। সন্ধেবেলা পড়তে বসা খোকার কণ্ঠের উচ্চারণ। একুশ মানে – পাতা ঝরা শেষ বিকেলের মুক্ত ধরার প্রাণ। মধুর সুরে গেয়ে যাওয়া কোকিল পাখির গান। একুশ মানে – শিমুল পলাশ কৃষ্ণচূড়ার লাল বর্ণে ধারণ। রাজপথে দামাল ছেলের রক্তমাখা বসন। একুশ মানে – নদীর বুকে মাঝির কণ্ঠে ভাটিয়ালি সুর। উর্দুই শুধু রাষ্ট্র ভাষার দম্ভ ভেঙে চুর। একুশ মানে – আঞ্চলিকতার…

  • ভয়-নাই
    কবিতা,  রমজান আলী খাঁন,  সাহিত্য

    ভয় নাই

    ভয় নাই মো. রমজান আলী খান ভয় নাই ওরে ভয় নাই একুশে জাগ্রত বীর, ক্ষয় নাই ওরে ক্ষয় নাই বইমেলার রেখ মনস্থির। একতাবদ্ধ হও সকলে সাজো দামালের সাজ, যতই আসুক সংগঠনের বাঁধা চালিয়ে যাও কাজ। একুশে বইমেলা সম্পর্কে যদি কেউ দ্বিমত পোষণ করে, বোঝাতে হবে সকলে মিলে গিয়ে তাদের ঘরে ঘরে। বোঝাতে হবে সকলকে কেন হয় একুশে বইমেলা, যেদিন বুঝবে করবে না কখনও বইমেলার অবহেলা। বোঝাতে হবে একুশ মানে নাজিমুদ্দিনের হুংকার, উর্দু-ভাষা বলবৎ রাখবে এই তার অহংকার। বোঝাতে হবে একুশ মানে দুশমনের কালো হাতছানি, ভাষা শহিদদের বাবা মায়ের বুক ভেজা চোখের পানি। একুশ মানে রফিক, শফিক, সালাম বরকতের আত্মা, বাংলা…

  • হারানো-ফাল্গুন
    কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

    হারানো ফাল্গুন

    হারানো ফাল্গুন তাহমিনা খাতুন  ফাল্গুন এসেছে আবার ফিরে শূন্য রিক্ত হাতে খুঁজে ফিরি ফাল্গুনী মায়া রুক্ষ অকরুণ খাঁ খাঁ প্রান্তরে। ফাল্গুন খুঁজে  ফিরি জারুলের বনে, খুঁজে তো পাই না তা হারায়েছে জারুলের বন। সাথে নিয়ে গেছে স্নিগ্ধ মনোরম বেগুনির মায়া ফাগুনের আগুন খুঁজি কৃষ্ণচূড়ার বনে। কৃষ্ণচূড়ার বোন উধাও! সাথে হারায়েছে ফাগুনের আগুন রাধাচূড়া ফিরে গেছে, নয়ন জুড়ানো হলুদের আলপনা মুছে গেছে তাই। বৃক্ষহীন শাল বনে নাই পাতা ঝরার গান ফাল্গুনে শুনি না তাই কোকিলের ‘কুহুতান। বাঁশ বন উধাও, ঘাস ফড়িং পুচ্ছ নাচায় না আর বাঁশের কঞ্চির ডগায় ফাগুনের দিনে। ‘বউ কথা কও’ বুঝি ভুলেছে আহ্বান নিষ্ফল বেদনায় দোয়েল ফিঙে ভুলেছে…

  • কলকাকলি
    কবিতা,  কে এম আশরাফুল ইসলাম,  সাহিত্য

    কলকাকলি, ছলনার ফসল

    কলকাকলি কে এম আশরাফুল ইসলাম দেখেনি ভুবন ভাষার রণাঙ্গন কালে কস্মিনে কোথাও, বাংলার কানন খুনে রাঙ্গা ভাষা শহিদানের দিকে চাও! শকুনি মামারা হায়েনার বেয়ারা কাড়িতে মায়ের ভাষা, ক্ষিপ্ত মাতোয়ারা মূর্খতার মুকুটে এলো করিতে সর্বনাশা! বীরের জাতি না মেনে বজ্জাতি ভাষার দাবিতে অটল, বীরত্বে মাতি জরুরী আইন ভাঙ্গিয়া অবাধ কোলাহল! বুলেটে ঝাঁঝরা নির্বোধ পাকেরা করিলো অকুতোভয় বীর, দেখিলো ধরা ভাষার তরে বিশ্বে কাহাদের দুর্বিনীত শির! মায়ের ভাষা পরম খাসা জন্মসূত্রে ভূমে ভূমে চিরকাল, পুরায় আশা কোল থেকে দোলনায় আজীবন উদয়াচল! সেই অধিকার অপহরণে আরবার নির্বোধ অপরিণামদর্শী, ছাড়িয়া হুঙ্কার গর্জিলে রাজপথে প্রাণ দিলো ভালোবাসি! সন্তান জননীর বীর বীরাঙ্গনা ধরণীর যাহাদের তরে দেশ,…

  • একুশ-তুমি
    কবিতা,  খোন্দকার আমিনুজ্জামান,  সাহিত্য

    একুশ তুমি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, চেতনা

    একুশ তুমি খোন্দকার আমিনুজ্জামান একুশ তুমি আমার রক্তে রুয়ে দিয়েছ ভাষার অহংকার মননে তাই মাতৃভাষার অতুল ঝংকার। একুশ তুমি প্রতিবাদ আর প্রতিরোধের নাম শহিদ সূর্য সৈনিক বরকত-রফিক-জব্বার-সালাম। একুশ তুমি বাংলা বর্ণমালার প্রতি প্রবল প্রীতির ঝোঁক মা মাটি মানুষের সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ। একুশ তুমি মাতৃভাষা রক্ষার বিরল বিস্ফোরণ আন্তর্জাতিকভাবে তাই করে সবাই স্মরণ। একুশ তুমি অন্যায় প্রতিরোধের অঙ্গীকার সত্য-সন্দর শক্তির সুদীপ্ত অহংকার। একুশ তুমি বাংলা মায়ের বুক আমার মায়ের মমতাময়ী মুখ। একুশ তুমি হয়ে গেছ আজ পৃথিবীর বুক তোমার চেতনায় ধরণীতে আসুক সুখ। আরও পড়ুন খোন্দকার আমিনুজ্জামানের কবিতা- মানবিকতা অপেক্ষা সাদা মন   আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ বাংলা ভাষা হয়ে গেছে…

  • খোকা
    কবিতা,  সাহিত্য

    খোকা, বর্ণমালা ও স্বাধীনতা

    কখোকা রাফিয়া লাইজু কিলিজ আবীর রাঙা পলাশ-শিমুল-কৃষ্ণচূড়া ডালে কত কথা কয় প্রকৃতি, নীরবে নিভৃতে, স্মৃতির মিনারে থোকা থোকা ফুলে কত বেদনার মালা গাঁথা, প্রাতে! আসি বলে, গরম ভাতের থালাটা রেখে, সেই যে গেলো ভাই আসলো না আর ফিরে, ফিরতি পথে, চুড়ি-মালা, আরো কত কী নিবে সবকিছু আজ স্মৃতির মণিকোঠায়, সয়ে যাওয়া ফিকে! অশ্রু শুকায় মায়ের চোখেতে পথ চেয়ে চেয়ে থেকে, এই বুঝি খোকা ডাকল আমায় মা…মা…বলে দূর থেকে! খোকা ফিরে আর আসে না, মা আশা ছাড়ে না যেন তীর বৃদ্ধ পাখি ডাকে, কুঞ্জ মাঝে ঝরে পড়ে পাতা শূন্য তা ছেয়ে যায় শাখে! আবার রঙিন ফুলে-ফলে সাজে দোয়েল-কোয়েল-শ্যামা ডাকে দূরে, প্রকৃতির…

  • দূর-জংলার-গান
    কবিতা,  বই পর্যালোচনা,  সাহিত্য

    দূর জংলার গান

    দূর জংলার গান : ভাব ও রূপকল্পের অন্বেষণ আতাউল হক মাসুম হৃদয়ের গভীর অনুভূতি মস্তিষ্ক থেকে উৎসারিত হয়ে শব্দ-ছন্দ-অলঙ্কার ও উপমার মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার মাধ্যম হলো কবিতা। একটি সুদৃশ্য অট্টালিকা নির্মাণের পর দর্শক তার মহিমাকীর্তন বা সমালোচনাই করতে পারেন শুধু; তা নির্মাণে শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা কয়জনই বা স্মরণ করেন। একটি সার্থক কবিতা রচনার পেছনেও একজন কবির নিরলস শ্রমের কথা অস্বীকার করার জো নেই। তবে সব কবিই পরিশ্রমী নয়, কেউ কেউ পরিশ্রমী। বাংলা সাহিত্যে শূন্য দশকে আবির্ভূত কবি আদ্যনাথ ঘোষও তেমনি পরিশ্রমী কবিদের একজন, যিনি নানা প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে একের পর এক লিখে চলেছেন রূপকাশ্রয়ী নান্দনিক সব কবিতা। প্রায়োগিক দিক থেকে…

  • নন্দিত-নন্দন
    কবিতা,  জহুরা ইরা,  সাহিত্য

    নন্দিত নন্দন, আশাহত ব্যথার ঘায়ে

    নন্দিত নন্দন জহুরা ইরা   একুশ- তুমি নয়কো শুধুই তারিখ পঞ্জিকার তুমি রক্তে রাঙা জয়ধ্বজা নব ফাল্গুনী ঊষার। একুশ- তুমি রক্ত ঝরানো ফাগুনের আগুন তুমি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে গড়ে তোলো বর্ষণ মুখর শ্রাবণ। একুশ- তুমি নয়কো শুধুই সংখ্যার প্রতীক তুমি তো শেখালে প্রতিবাদের ভাষা-অন্যায়ে তীব্র ধিক। একুশ- তুমি জাতির বিবেক-নির্মম উদাহরণ তুমি স্বৈরাচারির সংহারে ঘটাও বিদ্রোহ বিস্ফোরণ। একুশ- তুমি বাঙালির ভাষা-প্রতিবাদের মানদণ্ড তুমি দিয়ে নাকো ঠাঁই দেশ জুড়ে যেথা আছে যত ভেক ভন্ড। একুশ- তুমি ধ্বংস করো লোভীরে-নস্যাৎ করো ঔদ্ধত্ব কাঙালীপনা ঘুচাও বাঙালির, আছে যারা নেশায় মত্ত্ব। একুশ- তুমি নতুন চেতনা জাগাও সবার বুকে অনিয়ম ভেঙে বাঁচাও তাদের-যারা মরছে ধুঁকে ধুঁকে।…

  • বাংলা-ভাষা
    কবিতা,  সাহিত্য

    বাংলা ভাষা, সুখের তালাশ

    বাংলা ভাষা সুমনা নাজনীন সেরা আমার মাতৃভাষা আ মরি বাংলা ভাষা । যত ভাষাই বলি-লিখি-শিখি হয় না কোথাও মায়ের ভাষার তুলনা। পাঞ্জাবি ভাষা উর্দু হলো বিলীন ৫২’র ভাষা আন্দোলনে – মাতৃভাষা বাংলা চাই। শহিদ হলো দামাল ছেলেরা রফিক-সালাম-বরকত-জব্বার। নারীদেরও আছে অবদান – সালেহ বেগম-রওশন আরা-জাহানারা ইমাম-হেনা দাস আরো অনেকে । সালাম শত সাহসী ভাষা সৈনিকদের যাঁদের রক্তে ভেজা একুশে ফেব্রুয়ারি। স্মৃতি যেন আজও কাঁদায়, গর্ব ও অহংকারে- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হলো যে তাই । ভোর সকালে খালি পায়ে আল্পনাতে শহিদ মিনারে রাখি পুস্পস্তবক। সমস্বরে শ্রদ্ধা জানিয়ে গেয়ে যাই – “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি।”  …

  • কবিতা,  সাহিত্য

    অসমাপ্ত চাদর, মেলা

    অসমাপ্ত চাদর রাফিয়া লাইজু কিলিজ  বিশ্ব মাঝে একমাত্র নিঃস্বার্থ যাহা সে যে ‘মায়ের ভালোবাসা’ আহা! এমন মধুমাখা ডাকে… জুড়ায় প্রাণ, হৃদয় পূর্ণতা মাখে; সেই সৌভাগ্য সকলের নাহি হয় কারো কারো অপূর্ণতা যে রয়! এসেছিলাম যখন এ ভব মাঝে কান্না ছাড়া আসতাম না কোনো কাজে ‘মা’ আমার আহার-নিদ্রা-শ্রান্তি ভুলে… বাছারে তাঁহার কোলে নিতেন তুলে; কত যতনে তিল তিল করে… গড়ে তোলেন ক্ষুদ্র আমারে! একটু মুখ মলিন দেখলে কী হয়েছে! কত আদর মেলে! কত চেষ্টা মুখে হাসি ফোটাতে উজার করা ভালোবাসায় মেতে ক্ষণিকেই সব যেতাম ভুলে সেদিন কী আর মেলে! একটু অসুস্থ হলে পরে, কী অস্থিরতা তাঁর রাত-দিন সব ভুলে, সে কী…

error: Content is protected !!