-
নুরুল ইসলাম বাবুল:অন্ধকারে আলোকবর্তিকার কবি
কবির আন্তরিক আর স্বতঃস্ফুর্ত উচ্চারণই যথার্থ কবিতা। কবি মাত্রই সত্য আর সুন্দরের পূজারী। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘কবিতায় আমি কখনো মিথ্যে বলি না।’ আর কবি ও কথাসাহিত্যিক আবদুল মান্নান সরকার বিশ্বকবির কথার রেশ টেনে বলেছেন, ‘কবিতায় মিথ্যে বলা যায় না, কেননা কবিকে যে উঁচুতে উঠে উচ্চারণ করতে হয়, সেখানে আর সত্য মিথ্যে বলেই কিছু থাকে না।’ কবি নুরুল ইসলাম বাবুল সম্পর্কে কিছু বর্ণনা দেওয়ার আগে জানাতে চাই কবিতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব উপলব্ধির কথা। নুরুল ইসলাম বাবুল কবিতা ভাবনা লিখতে গিয়ে ‘কবিতার প্রতিটি শব্দ সত্য আর সুন্দর’ শিরোনামে লিখেছেন, ‘সেই কবে যেন কবিতায় মুগ্ধ হয়েছিলাম। হতে পারে কিশোর বেলায়। তখন বুঝে…
-
বাংলা সাহিত্যে প্রমথ চৌধুরী ও বীরবলী ধারা
বাংলা সাহিত্যাকাশের এক অনন্য ও উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রমথ চৌধুরী। বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ প্রাবন্ধিক, সাহিত্য সমালোচক এবং বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক হিসেবে সাহিত্য ইতিহাসে তাঁর স্থান চিরস্থায়ী। সাহিত্যচর্চায় তিনি ‘বীরবল’ ছদ্মনাম গ্রহণ করেন। সম্রাট আকবরের দরবারের নবরত্নের অন্যতম সদস্য বীরবলের মতোই প্রমথ চৌধুরী ছিলেন বাংলা সাহিত্যজগতের এক অমূল্য রত্ন। ‘বীরবল’ ছদ্মনামে সাময়িকপত্রে ব্যঙ্গরসাত্মক ও বুদ্ধিবৃত্তিক লেখালেখি করে তিনি যে স্বতন্ত্র ধারার জন্ম দেন, তা বাংলা সাহিত্যে ‘বীরবলী ধারা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই আগস্ট যশোর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন প্রমথ চৌধুরী। তাঁর পৈতৃক নিবাস পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর গ্রামে। পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন তৎকালীন জমিদার। কলকাতার হেয়ার স্কুল…
-
ন্যানোবট // ২য় পর্ব // সায়েন্স ফিকশন
ন্যানোবট // ২য় পর্ব // সায়েন্স ফিকশন আলতাব হোসেন বৃষ্টি থেমে গেছে। ঢাকা শহরের বাতাসে এখন একটা নিঃশব্দ সোঁদা গন্ধ। হাসপাতালের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রিদুয়ানের মনে হলো—এই শহরটা আর আগের মতো মনে হচ্ছে না। যেন চারপাশের সবকিছুই পালটে গেছে। এই শহরের ইট, রিকশা, হাসপাতালের ভাঙা লিফট—সব কিছুই এখন তার কাছে অদ্ভুতভাবে বাস্তব এবং একই সাথে অপরিচিত। মাঝে মাঝে মানুষ নিজেকে খুঁজে পায় অন্য কারো ভেতরে। রিদুয়ান এখন নিজেকে খুঁজে পেয়েছে তার বাবার রক্তনালির গভীরে, যেখানে সে এক অভিযাত্রী, এক যাত্রী, যাকে যন্ত্রের সেনারা ‘মানব-সিগন্যাল হোস্ট’ বলে ডাকে। সকালে ঘুম ভাঙতেই ডাক্তার সাইফ আবার ডেকে পাঠালেন তাকে। এই ডাক এবার…
-
ন্যানোবট // ১ম পর্ব // সায়েন্স ফিকশন
ন্যানোবট // ১ম পর্ব // সায়েন্স ফিকশন আলতাব হোসেন ঘুম ভাঙল অদ্ভুত এক শব্দে। যেন কারো মৃদু ফিসফাস, আবার মনে হলো কোথাও পানি পড়ছে ধীরে ধীরে। চোখ খুলেই বুঝতে পারল রিদুয়ান—এই শব্দ বাইরের না, মাথার ভেতরেই। একটা ঠান্ডা শীতল বোধ ঘিরে রেখেছে পুরো শরীর, কানে কানে কেউ যেন বলছে, “তুমি এখন ভেতরে… মানুষের শরীরের গভীরে।” সে ঝাঁকিয়ে উঠল, কিন্তু উঠে বসতে গিয়ে আবিষ্কার করল—সে তো কোথাও শুয়ে নেই, সে যেন ভাসছে। এক অনির্বচনীয় জায়গা, চারপাশে গাঢ় লাল আলো, কোথাও সোনালি স্রোত, কোথাও গাঢ় নীল তন্তু ছড়িয়ে আছে। রিদুয়ান চোখ বন্ধ করে ফেলল। আবার খুলল। তখন ধীরে ধীরে বাস্তবে ফিরে এল।…
-
অভিমান ।। শেষ পর্ব ।। ছোটোগল্প ।। আলতাব হোসেন
অভিমান ।। শেষ পর্ব আলতাব হোসেন ২. মার মুখটা কেমন যেন বদলে যাচ্ছে দিনকে দিন। আগের মতো আর কথা বলেন না। বাড়ি গেলে সকালে রুটি বানিয়ে রেখে দেন, কিন্তু ডাকেন না। টেবিলে বসে থাকেন, মুখ গম্ভীর করে। আমি বুঝি, কিছু একটা পুড়ে যাচ্ছে ভেতরে ভেতরে। একদিন সন্ধ্যাবেলা বারান্দায় বসে ছিলাম, পায়ের কাছে বিছানো শীতলপাটি। মা এসে চুপ করে বসলেন পাশে। তারপর হঠাৎ বললেন— “তোর আব্বা থাকলে বুঝত, মা কেমন করে ভিতরে ভিতরে একা হয়ে যায়।” আমি কোনো উত্তর দিই না। চুপ করে বসে থাকি। মা আবার বললেন, “তুই ছোটো ছিলি তখন। তোর আব্বার মৃত্যুর পর কত নিদ্রাহীন রাত কাটিয়েছি। তোর…
-
অভিমান ।। ১ম পর্ব ।। ছোটোগল্প ।। আলতাব হোসেন
অভিমান ।। ১ম পর্ব আলতাব হোসেন রোজ সকালে উঠেই মা রুটি বানিয়ে দেন, সঙ্গে ডিমভাজি। ছোটোবেলা থেকে এই অভ্যেস। এখন আমি চব্বিশের তরুণ, তবুও সকালে ঘুম ভাঙে মায়ের রুটি-গন্ধে। মনে হয়, ঘড়িটা থেমে থাকুক, আমি যেন আজও সেই স্কুলপড়ুয়া ছেলেটাই থাকি। কিন্তু সময় তো থেমে থাকে না। আমাদের বাড়িটা পাবনার সুজানগর উপজেলার এক প্রান্তে। চারপাশে মাঠঘেরা, শীতে ধোঁয়াটে কুয়াশা, আর বরষায় কাঁদামাখা কাঁচা রাস্তা। বাবা মারা গেছেন চার বছর আগে। হঠাৎ এক বিকেলে হার্ট অ্যাটাক, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সব শেষ। বাবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। আমরা চার ভাইবো— আমি সবার বড়ো, তারপর ছোটো দুই বোন। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের…
-
শূন্যতা ।। ছোটোগল্প ।। শফিক নহোর
শূন্যতা শফিক নহোর সীমান্তের মনে আজও গেঁথে আছে সেই প্রথম দেখা—এক অস্থির মেঘবৃষ্টির দুপুরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার দিনে। সুতি, এক দৃষ্টিতে আকর্ষণ করবার মতো মেয়ে, তার চোখে ছিল উদ্বেগের ছাপ। নতুন ক্যাম্পাস, চারপাশের বিশৃঙ্খলা—সব মিলিয়ে একটু বিভ্রান্তই লাগছিল তাকে। ঠিক তখনই সীমান্ত পাশে গিয়ে দাঁড়াল। “তুমি নতুন?” সুতি অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল। মাথা নাড়িয়ে বলল, “হ্যাঁ, হলে ভর্তি হব, কিন্তু কীভাবে কী করতে হবে বুঝতে পারছি না।” সীমান্ত হেসে বলল, “চলো, আমি দেখিয়ে দিচ্ছি।” সেদিন থেকেই বন্ধুত্বের শুরু। সীমান্ত আর সুতি দিনে দিনে একে অপরের ছায়া হয়ে উঠল। সীমান্ত পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটোখাটো কাজ করত, আর সেখান থেকেই কিছু টাকা…
-
নিঃশব্দে নীড়ে ফেরা ।। ১০ম পর্ব ।। ধারাবাহিক উপন্যাস ।। এ কে আজাদ দুলাল
নিঃশব্দে নীড়ে ফেরা ।। ১০ম পর্ব এ কে আজাদ দুলাল ক্লান্ত মন ও শরীরে অল্প সময়ের মধ্যে ঘুমিয়ে যায় দু’জন। মাঝ রাতে স্বপ্ন দেখে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় রাকার। মনিকাকে ডেকে তোলে। মনিকা ভয় পেয়ে যায়। ঘুম ভাঙতেই দেখে রাকা তার বিছানায় বসে আছে। মুখখানি কেমন যেন ফ্যাকাসে দেখাচ্ছে। কাছে গিয়ে জানতে চায় খারাপ কোনো স্বপ্ন দেখেছে কি-না। রাকা কিছু সময় চুপ থেকে স্বপ্নের ঘটনা খুলে বলে। আজ রাতে সেই মহিলাকে স্বপ্নে দেখেছে। পরনে আগের মতো হালকা সবুজ জমিনে খয়েরি রঙের পাড়ের শাড়ি এবং গায়ে খয়েরি রঙের ব্লাউজ। আজকে তার আচরণ ভিন্ন। আজ রাকাকে বুকে টেনে নিয়ে জড়িয়ে ধরে। রাকা…
-
মাঝি // কবিতা // জাহাঙ্গীর পানু
মাঝি জাহাঙ্গীর পানু মাঝি, তুমি আমাকে পার করে দাও। যেভাবে ছোটোবেলায় নানা বাড়িতে যাবার পথে তুমি আমাকে পার করে দিতে। তুমি আমাকে পার করে দাও- এই অনাচার, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ণ আর মাদকাসক্ত সমাজের দূর্বিসহ জীবন থেকে, অথবা তুমি আমাদের সমাজ থেকে অবিচার অনাচার আর দুর্নীতিকেই পার করে দাও। পার করে দিয়ে আমাদের সমাজকে মাদকমুক্ত করো আর হৃদয়কে করো কলুষমুক্ত। তুমি কত পার করে দিয়েছ চলমান পথিককে কাস্তে হাতে কৃষক, দিনমজুর, বাঁক কাঁধের ফেরিওয়ালা। যেভাবে তুমি পার করতে অফিসের কেরানি, তহশিলদার, পিয়ন, হাতে লাঠি আর মুখে বাঁশি রাখা চৌকিদার আর বাইকসহ স্কুলের মাস্টার মশাইকে। মাথায় বোঝা আর হাতে ভারী ব্যাগ বহনকারী হাটুরেকে।…
-
নিঃশব্দে নীড়ে ফেরা ।। ৯ম পর্ব ।। ধারাবাহিক উপন্যাস
নিঃশব্দে নীড়ে ফেরা ।। ৯ম পর্ব এ কে আজাদ দুলাল আজকের বিকেলেটা অন্য রকম। বাড়িটির পশ্চিমে পাকা রাস্তা, তারপর সবুজ ঘন বড়ো বড়ো গাছের সমারোহ। দারুণ লাগছে রাকার। বিকেলের সূর্যটা লাল রঙে রঞ্জিত হয়ে সবুজ ঘন গাছের মধ্যে লুকোচুরি খেলছে। আর মাস্টার বাড়ির পরিবারের সদস্য এবং আগত অতিথি বিশেষ করে রাকার মনের ভেতরে চলছে অজানা স্নায়ুযুদ্ধ। এ যুদ্ধ হয়তো একটা ভাঙা সম্পর্ক নতুন বন্ধনে আবদ্ধ হবে। রাকার মনে প্রশ্ন সে কী সঠিক জায়গায় পা দিয়েছে না-কি আবার অজানা পথে পা বাড়াতে হবে। কিন্তু ভদ্রলোকের চেহারার সাথে বাবার চেহারায় অনেকটাই মিল। যদি তাই হয়, তাহলে এদের মধ্যে কী এমন ঘটেছিল, এতকাল…




























