-
সে আমার কেউ না
সে আমার কেউ না শফিক নহোর ক. সুমনাকে চুমু দেবার পর, ও আমাকে শয়তান, জানোয়ার, তোর সঙ্গে কোনদিন কথা বলবো না বলে তিরস্কার করতে লাগলো। কথা শেষ না হতেই ওর চোখে জোয়ার ভাটার মত পানি বইতে শুরু করল। একটু ঢং স্বভাবে ওর শরীর ঘেঁসে দাঁড়িয়ে, আহ্লাদ করে ওর ওড়না দিয়ে চোখের জল মুছিয়ে দিতেই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলো। তখন বুঝতে পারলাম। সুমনাকে বোঝাতে গেলে বোকা হয়ে যাবো। তার চেয়ে এই মুহূর্তে আমি কোন কথা না বাড়িয়ে সদর দরজা দিয়ে বের হয়ে যাই। বের হতেই মৌ আমাকে দাঁড়াতে বললো। আমি বিদ্যুৎ গতিতে নজর এড়াতে চেষ্টা করলাম। সুমনা এই ক’দিনে আমাকে কল…
-
রক্তে জ্বলে একাত্তর (১ম পর্ব)
রক্তে জ্বলে একাত্তর (১ম পর্ব) এ কে আজাদ দুলাল গাজীপুরের কোনাবাড়ি পোশাক শিল্প এলাকা বলে খ্যাত। রাস্তার দুপাশ দিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীগুলো। পরপর নামগুলো পড়ে যাচ্ছে শমসের সুলতান ওরফে শমু সুলতান। একটা চারতলা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর সামনে এসে থমকে দাঁড়ায় সে। এখানে তার প্রথম আগমন। ঢাকায় বেশ কয়বার এসেছে কিন্তু কোনাবাড়িতে এই প্রথম পদার্পণ। বিপদে পড়ে এই খাটাস টাইপের লোকের কাছে আসা। সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই। এক কালে প্রাণের বন্ধু ছিলো। প্রায় ত্রিশ-পঁত্রিশ বছর পর দেখা হবে। চেহারা কেমন হয়েছে কে জানে। গার্মেন্টসের মালিক। ভবনের ওপর লেখা আছে মাহি গার্মেন্টেস ফ্যাক্টরী। সহজেই মিলে গেল সোনার চাঁদ হরিণ। আসার…
-
রৌদ্রডোবা চাঁদ (শেষ পর্ব)
রৌদ্রডোবা চাঁদ (শেষ পর্ব) আবু জাফর খান দুজনই চুপচাপ বসে আছে। হয়তো একযুগ আগের কোনো উচ্ছ্বল মুহূর্তে দুজনই বিভোর। ট্রেন হুইসল বাজিয়েছে। লোকজন দ্রুতপায়ে ছুটছে ট্রেনের দিকে। বিদিতা উঠে পা বাড়াতে গিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে রুদ্রর দিকে তাকাল। রুদ্র কী ভাবনায় যেন মগ্ন। তাকিয়ে আছে দূরের অন্ধকারের দিকে। বোধ হয় হুইসলের শব্দ শোনেনি রুদ্র।বিদিতা চেঁচিয়ে বলল, “অ্যাই রুদ্র, কী রে, চল ওঠ, ট্রেন ছেড়ে দিচ্ছে যে!” অন্যমনস্ক রুদ্র মুখ ঘুরিয়ে বিদিতার দিকে তাকাল। চোখ দুটি কী ভীষণ নির্জন! বিদিতার বুকের ভেতর হু হু করে উঠল। ঘোর-লাগা মানুষের মতো রুদ্র ফিসফিস করে বললো, “যদি আর না যাই? তবে কেমন হয়?” “মানে?”…









