-
তৃষিত নয়নের ভাষা
তৃষিত নয়নের ভাষা ফজলুল হক অনুচ্চারিত শব্দের নিঃশব্দে ফিরে আসি বারবার অব্যক্ত থেকে গেলো জীবনের কথাগুলো। বন্ধুর পথ ভেবে হয়নি জানতে চাওয়া, অভেদ্য আঁধার ভেঙে কিছু ক্ষতি মেনে নিয়ে পারো কি-না অনিগড়িত জীবনের সাথী হতে, যেমনটি হলে প্রাতঃস্নানে পরিশুদ্ধ হয়ে মুখোমুখি হওয়া যায় দুজনে পূজোর আসনে। আকাশের নীল ছায়ায় সদ্যস্নাতার মতো অপেক্ষায় দেখেছি সেদিন বৃষ্টিস্নাত বিকেলে, সৌন্দর্যের দেবী যেনো তোমাকেই প্রণাম করছিল। গভীর অরণ্যের মতো ঘন কালো কেশের মৌ মৌ গন্ধ আজও বাতাসে ভেসে ভেসে আসে, হরিণী চোখের ব্যাকুলতা বাসনা জড়ানো ওষ্ঠের অকৃপণ হাসি আমার দরিদ্র ইচ্ছেকে কিছু প্রশ্ন করে গেছে। ওষ্ঠ ছোঁয়া অমৃত জলে ক্লান্ত পিপাসার আহ্বানের মতো…
-
বিনিদ্র দীপের মতো
বিনিদ্র দীপের মতো ফজলুল হক সন্ধ্যা আঁচল বিছিয়েছে দিগন্তজুড়ে মুঠো মুঠো অন্ধকারে ডুবে গেছে সবুজ প্রান্তর, এর মানে এই না অপেক্ষা শেষে আর কখনো ফুটবে না আলো। শূন্যতার মলিন পথে নূপুরের প্রমিত ধ্বনি উত্তরের প্রসণ্ন বাতাসে মনের আঙিনায় মনোহর দুলছে মেঘমালা কেশ। চিত্তে জেগে থাকে আশার ক্ষীণ আলো- শেষ দেখা মুখখানি চকিত নয়নের একান্ত সঙ্গী। হাসনাহেনার গন্ধমাখা দিনগুলো পিছু টানে, সুষম ভাবনার অমৃত ঘ্রাণে কে যেনো আমাকে আচ্ছন্ন করে। জগৎ-সংসারের মোহ ক্রমাগত অস্তগামী- চোখের ডগায় চেনা নদীর যুবতী ঢেউ নিজেকে ভেঙেছি বারবার। বোবা সূর্যের উন্মাদনা বিচলিত তিয়াসী মাটি, চোখের কোণায় অবুঝ জলাবদ্ধতা ! …
-
প্রগাঢ় বৈরিতা
প্রগাঢ় বৈরিতা ফজলুল হক নিঃশব্দসঞ্চারীর মতো চলে গেলো আর একটি পূর্ণিমা রাত কী এমন সখ্য তোমার নিরবতার সাথে? যেনো শীতমাখা অলস রাতের শেষ প্রহরের নিমগ্নতা; জোছনা এসে দাঁড়ায়নি আমার অভিমানী কার্ণিশে আমিও খুঁজিনি ফেরারি চাঁদমুখ রাতের আকাশে। ফেরার ছাড়পত্র হাতে থমকে দাঁড়িয়ে কিশোরী নদীর ভুল পাড়ে, লোনা অভিশাপে ছেঁড়া পাল দিশাহীন মাঝি-মাল্লা। ঝরা ফুলের মতো কিছু টুকরো খবরের বাসি গন্ধ অগোচরে বিলীন হলো কালের উঠোনে; যুবতী নদীর মোহনার বাঁকে নোঙর ফেলেছে বণিক সওদাগর সওদার হাতবদল চলছে হরদম। প্রস্ফুটিত যে মুখের অবয়বে লেখা ছিলো জীবন দর্শন নিরবতার মলাট খুলে বুঝিয়ে দিলে কৃত্রিমতার প্রগাঢ় প্রণয় তোমার। এ এক ভিন্ন আকাশ তলে…
-
কারও পথের দূরত্বে
কারও পথের দূরত্বে ফজলুল হক পুরোনো গলিনিষিদ্ধ প্রহরের প্রতিধ্বনিধ্রুপদী প্রেম ও নিটোল ভালোবাসার নিঃশ্বাসে বিরহের গন্ধ,শেওলাবৃত নেই আর পারাপারের ঘাটটি।চারিদিকে চেনা চেনা ঘ্রাণপ্রেমিকা বাতাসে ভেসে আসে সুখ-আনন্দের গুঞ্জন,যে রকম ঘ্রাণে ঠোঁটে জলমেখেপ্রথম চোখ তুলে দেখেছিলাম তোমাকে।বদলে গেছে অবয়ব জীবনের চারিধারব্যর্থ প্রণয়ের আগুনে পুড়ে গেছে গোপন ইচ্ছেরা,নিজেকে বদলাতে পারিনি এতোটুকুওকালান্তরে বদলে গেছো তুমি। কী লিখবো কবিতায়?নেই কোনো নতুন কথা,না আছেজীবন-সঙ্গীতের হিল্লোলিত সুর-ছন্দ,উত্তাল নদী হয়ে ভেঙেছো হৃদয়ের সবুজ পাড়।প্রেম-বিরহি মেঘকষ্ট-বৃষ্টিতে এখনও ভিজে যায় পোড়া দু’টো চোখ,আজও পথিক-প্রহরে ফুলেরা শোনায় করুণ আর্তনাদ!কাকে যে শোনাবো ব্যথাময় জীবন-উপাখ্যান!রাতের নির্জনতা কে?সেতো ক্লান্ত মুক্তির প্রসব ব্যথায়। প্রেমিকা মন তোমারবেশতো আছো জীবন-দিঘির পাড়ে,প্রেম-স্পর্শ খোঁজো প্রতিদিনপ্রেমিক-শরীরের…
-
প্রণয়
প্রণয় ফজলুল হক স্টেশন পাড়ায় হৈচৈগাড়ি এসে দাঁড়ালো প্লাটফর্মে;আমিও উদ্যতপুরাতন গৃহকোণ ভেঙে নতুনের পথে…পশ্চাতে থেকে গেলো অমিমাংসিত অনেক কারণ।দেখা হলোওঠা-নামার ব্যস্ত সময়ে,ওছিলো রবীন্দ্রনাথের মহামায়ার মতো কাঁচা সোনার প্রতিমাতুল্য,শরতের রোদের মতো দীপ্ত ও নীরব;কিছুটা বদলেছে আজ বিষাদিত স্মৃতির আঁচড়ে,তবুও লাবণ্য-প্রভা ছেয়ে আছে যেনো ভাঙা চাঁদের শরীরের মতো-এখনো কাছে পাবার মৌন কোলাহলনড়ে ওঠে মনের ভুবন।হাসির আড়ালে লুকালো দীর্ঘশ্বাসচোখের কোণে জড়োসড়ো প্রত্যাশার ভাঙাভাঙা ছবি,যেনো নিভু নিভু প্রদীপের পাণ্ডবর্ণ ছায়া।রুপে নেই দারিদ্রের ছাপদুচোখে এঁকেছে ধূসর বসন্ত-কাজল!শিরদাঁড়ায় বেড়ে ওঠা অবাধ্য বিরহ ব্যথায়কখনো কি পড়বে না মনে প্রণয়ের দিনগুলোকৃষ্ণচূড়া পথেজোছনার অভাবী আলোয়?ট্রেন ছেড়ে দিলো….ফেরারি নদীর জলে যোগ হলো একফোঁটা জল। ঘুরে আসুন আমাদের ফেসবুক…
-
মো. ফজলুল হক
কবি মো. ফজলুল হক, পেশায় একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও রোমাঞ্চকর কাব্য রচয়িতা হিসেবে কাব্যিক জগতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। তাঁর লেখায় জাগতিক জগতের প্রেম-ভালোবাসা, বিরহ-ব্যথা, প্রকৃতি ও সমাজে ঘটে যাওয়া নানা অসঙ্গতি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। জন্ম ও শৈশবকবি মো. ফজলুল হক ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১লা আগস্ট, পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের হরিরামপুর গ্রামের (বর্তমান ভাটপাড়া) বিশ্বাস পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পদ্মা নদী বিধৌত পলি ও বালি মাটির সান্নিধ্য তাঁর জীবনের অপার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। পদ্মার পাড় ঘেঁষে বিস্তৃত গ্রামেই দুরন্তপনায় কেটেছে শৈশব-কৈশোর। তিনি দেখেছেন নদীর উন্মত্ততা ও আগ্রাসী থাবা! নদীর জলে ছিল তাঁর অবাধ্য সাঁতার। গ্রামের সবুজাভ প্রকৃতি, মেঠোপথ, নদী,…

















