-
একজন অনন্যা
একজন অনন্যা খলিফা আশরাফ মেয়েটার নাম অনন্যা। দারুণ চটপটে, সপ্রতিভ। কথা বলা যে একটা শিল্প, তা সে ভালো করেই জানে। একসময় চুটিয়ে মঞ্চনাটক করতো, গান গাইতো, আবৃত্তিতেও পারঙ্গমতা আছে তার। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেই বিস্তর বর্ধন। এইসব করতে করতেই কখন যেন লগ্নটা হাতছাড়া হয়ে গেছে, বিয়ে করাটা আর হয়ে ওঠেনি। আমার ধারনা অবশ্য ভিন্ন। হৃদয় তন্ত্রীর তার একবার ছিড়ে গেলে তা আর সহজে জোড়া লাগানো যায় না। সবচেয়ে দুর্বহ ভালোবাসার আঘাত। অনেকে সে আঘাত সইতেও পারে না। মতিচ্ছন্ন, বেপথু হয়, কেউবা আত্মহননের পথ বেছে নেয়। আবার কেউ সব যন্ত্রনা হজম করে নীলকণ্ঠ হয়। ভেতরটা জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যায়, কিন্তু বাইরে…
-
মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু নেই, একাত্তুরের অব্যর্থ-ট্রিগার
মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু নেই খলিফা আশরাফ কিছু কিছু তারুণ্যের মৃত্যু নেই কোন, বাড়ে না বয়স জীবনকে অকম্পিত যে ধরেছে অগ্নিশিখায় নিশ্চিত মৃত্যু মুখে দাঁড়িয়েছে সটান অনড় অকুতোভয় দিয়েছে পাল্লা সিংহের সাথে আঙ্গুলের ফলায় তুলেছে হায়েনার চোখ তাকে আর মৃত্যুভয়ে যাবে না দমানো বিনাশের আদ্যপান্ত বিলক্ষণ জানা আছে তার, মনে রেখো, জীবনকে জিতেছে সে মরনের মাঝে একাত্তুরের রণাঙ্গনে যে খেলেছে অজস্র মৃত্যুখেলা বেয়োনেটের অগ্রভাগে বেঁধেছে যে পরমায়ু সুতো গ্রেনেডের ছত্রিশ টুকরো আকণ্ঠ নিয়েছে তুলে স্টেনগানের ফুটোয় ফুটোয় দিয়েছে ফুঁৎকার মর্টারের গোলার সাথে করেছে দোস্তি আমরণ যমদূতের কণ্ঠ চেপে লক্ষ লাশের মাঝে অকুতোভয় দীপ্র হাতে উড়িয়েছে বিজয় কেতন মরনের কথা তারে শুনিওনা…
-
বিষণ্ন বাসন্তী বাংলা
বিষণ্ন বাসন্তী বাংলা খলিফা আশরাফ তোমাকে পসরা সাজিয়ে তুখোড় দোকানীর মতো বানিয়ে মূলধন আজকাল চলছে ব্যবসা চুটিয়ে, ময়দানে মাঠে পরিপাটি আলোচনা টেবিলে কিম্বা ধুমায়িত চায়ের কাপে তোমার মুখে ঠোঁট রেখে ফুটাচ্ছে খই হামেশাই কুশলী কারিগর সব। হায়রে বাংলাদেশ এখন তোমাকে নিয়ে বাহারী প্রদর্শনী, গিলে করা পাঞ্জাবী পাট করা চাদর আর শোভন চশমার কাঁচে অহরহ তোমার বাসন্তী ছবি উৎকীর্ণ করে কপট দেশপ্রেমের জোয়ার বয়ে যায়, অনায়াসে কেউ কেউ তোমার দেহে মৌরসি পাট্টার কায়েমী দখল জাহির করে, আবার কেউবা তোমার জন্ম-লগ্নে ধাত্রীর অধিকারে দুর্লঙ্ঘ স্বত্ত্বের কথা বলে, অতঃপর সেই সব দুরাচারী ব্যবসায়ী সব সুবর্ণ কাসকেটে অপরূপ সাজিয়ে তোমায় নিলামের বাজারে উঠায়,…
-
এসেছি স্বাধীনতা সাথে করে, তখন মানুষ মানুষ ছিলো না
এসেছি স্বাধীনতা সাথে করে খলিফা আশরাফ আদিগন্ত প্লাবিত রক্তজল মাড়িয়ে তুমি যখন দাঁড়ালে সন্মুখে, তখন তোমার প্রদীপ্ত চোখে কনকোজ্জ্বল আনন্দ-জ্যোতি খেলা করছে, স্থির অচঞ্চল তুমি গভীর প্রত্যয়ে, তোমার হাতে মুখে সমস্ত শরীরে রক্তের আলপনা সার্টে, লুঙ্গিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে লালের জমাট কারুণ্য, মাংস ভেদ করা গুলির ক্ষত চিহ্ন তোমার দক্ষিণ বাহুতে আরক্ত কানের ছেঁড়া লতিটা অসহায় দুলছে উত্তাল হাওয়ায়, তোমার দু’পা বেয়ে তখনও রক্তের ঝর্ণা-ধারা, অথচ কি আশ্চর্য রক্তস্নাত মুখে তখনও তুমি অবলীলায় হাসছো অমলিন। তোমার শরীরে হাজার বছরের সৌরভময় পলিমাটির ঘ্রণ শর্ষে ফুলের সুবর্ণ রেনু দ্যুতি ছড়াচ্ছে চোখের পাতায় প্রশস্ত কপালে শ্যামল বাংলার অপার নিসর্গঅটুট প্রোজ্জ্বল, তোমার রক্ত-ক্লিষ্ট হাতে লাল-সবুজের…












