-
সরদার জয়েনউদদীন (৩য় পর্ব)
সরদার জয়েনউদদীন (৩য় পর্ব) সাহিত্য মূল্যায়ন: কথাসাহিত্যিক সরদার জয়েনউদ্দীনের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়ান ঢুলী’ নিয়ে আলোচনা করলে দেখা যায়, তিনি বাংলা সাহিত্যের কতটা শিখরে উঠেছিলেন, যদিও তাঁকে নিয়ে সেভাবে প্রায় আলোকপাত করা হয় না। নয়ান ঢুলী গল্পগ্রন্থের করালী, ভাবী, কাজী মাস্টার, সবজানের সংসার গল্প পর্যালোচনা- করালী করালী চিরদিনের মতো জামেলাকে হারাল। এভাবেই সরদার জয়েনউদ্দীন ‘করালী’ গল্পের পরিণতি দেখিয়েছেন। জমিদার-সামন্ত বাবুরা কীভাবে সাধারণ মানুষকে নাজেহাল করেছে এবং ঘরের ইজ্জত নিয়ে বেইজ্জত করেছে তার একটা ছবি এই গল্পে চিত্রায়িত হয়েছে। ঘরে বউ নিয়ে শুয়ে ছিল কিন্তু হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখে জামেলা হাওয়া। কোথায় গেল, বুঝে উঠতে পারে না। দৌড়ে যায় কাছারিতে, তাও…
-
ফাগুন শ্রাবণ, রোদনের নীলজল, ভালবাসা সন্তর্পণে
ফাগুন শ্রাবণ ফজলুল হক কী সোনা ফলা কপাল তোমার! যেখানেই হাত ছোঁয়াও, গোলাভরে স্বপ্ন-ফসলে। যেদিকে দৃষ্টি মেলো, নিমিষেই হয়ে যাও প্রশান্ত নদী রসিক মাঝি ভিড়ায় নাও অনুরাগে; যে পথেই হেঁটে যাও বেঢপ শব্দে হয়ে যাও সবুজ অরণ্য, বাহারী পাখিদের কলকাকলিতে আচানক মুখরিত হও প্রাণের উচ্ছ্বাসে। তোমার আঙিনায় বসন্তের সোঁদা গন্ধ ছড়ানো পরাগ খোঁজে রঙিন প্রজাপতি; আমার ফাগুন চোখে শ্রাবণধারা ফুল ঝরা দিন। ভেবে ভেবে এই অতুল তোমাকে, দিনের ক্লান্তিশেষে আযানের অমোঘ সুরে ভেসে আসে প্রার্থনা-সন্ধ্যা আর ফেলে আসা প্রজাপতি দিন! বালুচর কপাল আমার বপন করি স্বপ্নের বীজ ফলে দূর্বাঘাস। অদিতি,তোমাকে আর হিংসে হয় না আমি এক অভ্যস্ত চাষী। আরও…
-
তবুও ভালোবাসলাম (১ম পর্ব)
তবুও ভালোবাসলাম (১ম পর্ব) শাহানাজ মিজান ফারিহা অনেকক্ষণ ধরে বসে আছে বাসর ঘরে। বিয়ে বাড়িতে আগতো সমস্ত মেহমান হয়তো ঘুমিয়ে গেছে। আর কারো কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছেনা। ফারিহা ওয়ালক্লকটার দিকে তাকিয়ে দেখলো রাত প্রায় তিনটে বাজে। ফেব্রুয়ারি মাস। শেষ রাতে বেশ শীত শীত লাগছে। সেই রাত বারটার আগেই সবাই ফারিহাকে বাসর ঘরে বসিয়ে দিয়ে গেল কিন্তু এত রাত হয়ে গেল ইমন এখনো এলো না। বারান্দায় বসে আছে। এই শীতের মধ্যে বারান্দায় এভাবে বসে আছে, ঠান্ডা লেগে যাবে। ফারিহা সবই বুঝতে পারছে আর ভাবছে – আমার কি একবার যাওয়া উচিৎ? ইমন একটার পর একটা সিগারেট খেয়েই যাচ্ছে। ফারিহা এসে ডাকলো- …
-
রাধারমণ মন্দির
রাধারমণ মন্দির পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়নের সাগরকান্দি গ্রামে ১৯০৫ সালে অনাদি কৃষ্ণ দত্ত প্রতিষ্ঠা করেন রাধারমণ মন্দির। অনাদি কৃষ্ণ দত্ত সাগরকান্দি গ্রামের জমিদার সুরেন্দ্রনাথ দত্তের ভাই ছিলেন। অনাদি কৃষ্ণ দত্ত মূলত ধর্মীয় দিকে মনযোগী ছিলেন। তিনি জমিদারী বুঝতেন না। তিনি ধর্মীয় রীতিনীতিতেই মগ্ন থাকতেন বলে জানা যায়। ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করার জন্য এই রাধারমণ মন্দিরটি তিনি স্থাপন করেছিলেন। জমিদার বাড়ির আর্থিক সহযোগিতায় মন্দিরটি দ্রুত প্রতিষ্ঠা পায়।জমিদারের আনুকূল্যে মন্দিরটিতে ঝুলনযাত্রা, রাসলীলা, নিত্যপূজা, রাধাকৃষ্ণ, রাধারমণ, জন্মাষ্ঠমী পূজা মহাধুমধামে অনুষ্ঠিত হতো। প্রতিনিয়ত এই মন্দিরটিতে উৎসবের আমেজ লেগেই থাকত। এলাকার হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা এই মন্দিরকে ঘিরে তাদের নিত্যদিনের পূজা-অর্জনা করত।…
-
ভাঙা গড়ার টান
ভাঙা গড়ার টান রাতুল হাসান জয় মোষের দলের মতো তেড়ে আসছে কালো মেঘ। বাতাসে কেঁপে কেঁপে উঠছে টিনের চাল। বারান্দার রেলিংয়ে খুব কায়দা করে বসে আছে একটা শালিক। অপেক্ষায় আছে তার সঙ্গীর। মানুষ তার সঙ্গীকে দেওয়া কথা রাখেনা। ওয়াদা ভুলে যায়। পশুপাখিরা তার ব্যতিক্রম। মিতু এসে পাশে বসলো। এই মানুষটা আশেপাশে থাকলে ভরসা পাই। পাশের ঘরে আলোচনার প্রায় সবটাই কানে আসছে স্পষ্ট৷ হয়তো শুনিয়েই বলতে চাইছে। মিতু শাড়ির আঁচল টেনে চশমাটা মুছতে মুছতে বললো ‘ওসব ভেবো না তো। ওরা ছোট মানুষ। বুঝে কম।’ কথাটা আমায় সাবলীল ভাবে বললেও ভিতরে ভিতরে মরে যাচ্ছিলো ছেলে বউদের এমন কঠিন কথায়। টের পেলাম…
-
কে এম আশরাফুল ইসলাম (গল্প), গল্প, তালিমনগর, বালিয়াডাঙ্গি, শ্যামসুন্দরপুর, সাগরকান্দি, সাগরকান্দি ইউনিয়নের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, সাহিত্য
সুরেন বাবু (শেষ পর্ব)
সুরেন বাবু (শেষ পর্ব) কে এম আশরাফুল ইসলাম রেকাত শাহ, বাড়ি সাগরকান্দি ইউনিয়নের পুকুরনিয়া গ্রামে। তিনি কলকাতায় লেখাপড়া করতেন। কথিত আছে তিনি হযরত শাহ মাহতাব উদ্দিনের খাস দোয়া পেয়েছিলেন। তৎকালে রেকাত ইংরেজিতে ৯৯% নম্বর নিয়ে বাংলাখ্যাত ফলাফল করেন। বাবুজি রেকাতের পিতাকে বলেছিলেন, “রেকাত কখনো পাস করতে পারবে না। পাস করলেও টেনেটুনে।” পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে রেকাতের পিতা বাবুজিকে খবরটি জানানোর জন্য মহাখুশিতে রওয়ানা দিলেন। খুশির জোয়ারে ভাসতে ভাসতে তিনি পথ হারিয়ে অন্য পথে চলে গিয়েছিলেন। পথচারী একজন জিজ্ঞাসা করলেন, -এমন খোশ মেজাজে কোথায় যাচ্ছেন? -বাবুজির দরবারে। -আপনি পথ ভুলে গেছেন বুঝি? রেকাতের পিতার সম্বিৎ ফিরে আসে। এরপর তিনি বাবুজির দরবারে…
-
স্বাধীনতার সাধ, আমার যতো ভালবাসার ঋণ
স্বাধীনতার সাধ জাহাঙ্গীর পানু ফুলের সাথে পাখীর সাথে করবো আমি প্রীতি নদীর মাঝির ভাটিয়ালি সুরে শুনবো আমি গীতি। চাঁদনী রাতে জোস্না মেখে তারার পানে চেয়ে রহস্য ঘেরা সপ্ত আকাশ দেখবো অবাক হয়ে। সবুজে ঘেরা বনভূমিতে নানান পশুর মেলা বন বাদারে তাদের সাথে করবো আমি খেলা। নদীর বুকে ভাসবো আমি বানিয়ে কাঠের ভেলা। পাতাল পুরি দেখবো সেথা করবো না আর হেলা। মেঘ হয়ে ভাসবো আমি নীল আকাশের পানে পাখির চোখে দেখবো আমি বিশ্ব জগৎ টাকে। পাখির বেশে আকাশ পানে উড়বো সবার আগে ইচ্ছে মতো স্বাধীনতার সাধ যে মনে জাগে। আমার যতো ভালবাসার ঋণ বার…
-
হাইবাত জান চৌধুরী
হাইবাত জান চৌধুরী কৃষ্ণ ভৌমিক হাইবাত জান চৌধুরী ইতিহাসের মহিরুহ। তিনি ভারত স্রষ্টা জওহর লাল নেহেরু, সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো নেতাদের স্বচক্ষে দেখেছেন। আজাদ হিন্দ ফৌজের মেজর জেনারেল শাহ নেওয়াজ ও কর্ণেল ধিলনের মত সামরিক কর্মকর্তার সাহচার্য পেয়েছেন । নিখিল ভারত মুসলিম লীগ কনফারেন্সে অংশগ্রহণের স্মৃতি তিনি এখনও ভুলেননি। পাকিস্তানি বন্দিশিবিরের চার বছরের মানসিক নির্যাতনের স্মৃতিও আজ তাঁর চোখের উপর ভাসছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে কলকাতা দাঙ্গায় জীবন নিয়ে পালিয়ে বাঁচার স্মৃতি ধূসর হয়নি। জন্ম: হাইবাত জান চৌধুরী ১৯২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, তৎকালীন দুলাইয়ের প্রখ্যাত মুসলিম জমিদার আজিম চৌধুরীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক জীবন: হাইবাত জান চৌধুরীর বাবা…
-
কে এম আশরাফুল ইসলাম (গল্প), গল্প, জমিদার, তালিমনগর, পুকুরনিয়া, শ্যামসুন্দরপুর, সাগরকান্দি, সাগরকান্দি ইউনিয়নের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, সাহিত্য
সুরেন বাবু (২য় পর্ব)
সুরেন বাবু (২য় পর্ব) কে এম আশরাফুল ইসলাম মাধু পাগল। তাঁর বংশ পরিচয় সঠিকভাবে জানা যায়নি। শ্যামগঞ্জ হাট সংলগ্ন গ্রামের নাম পুকুরনিয়া। প্রবীণ এলাকাবাসীর বিশ্বাস তিনি অন্য এলাকা থেকে সাগরকান্দির পুকুরনিয়া গ্রামে এসে মুসাফিরের ন্যায় মো. আলী আকবরের পিতার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং এখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। যদিও আশ্রয় প্রদানকারী বংশ তাঁকে ঐ বংশের লোক বলেই পরিচয় দেন এবং নিজেদেরকে পরিচিত করাতে ইজ্জত ও গৌরবের বিষয় মনে করেন। বর্ণাঢ্য জীবনের কিংবদন্তি এই মাধু পাগল। সাধু, দরবেশ, সন্ন্যাসির লেবাসে থাকতেন। কখনো ধুতি পাঞ্জাবি, গলায় জপমালা, হাতে চিমটা। কখনো লাল গেরুয়া বসন। তিনি গাজায় আসক্ত ছিলেন। কথিত আছে, বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের…
-
কে এম আশরাফুল ইসলাম (গল্প), গল্প, জমিদার, তালিমনগর, পুকুরনিয়া, শ্যামসুন্দরপুর, সাগরকান্দি, সাগরকান্দি ইউনিয়নের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, সাহিত্য
সুরেন বাবু (১ম পর্ব)
সুরেন বাবু (১ম পর্ব) কে এম আশরাফুল ইসলাম ব্রিটিশ শাসন আমল। পাবনা জেলা ছিল সিরাজগঞ্জ মহকুমার অধীন। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। প্রশাসনিক সুবিধার্থে রাজনৈতিক মানচিত্রও পাল্টে যায়। এই পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত সাগরকান্দি ইউনিয়ন। ইউনিয়নটি নানা কারণে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। এখানে যেমন জন্ম নিয়েছে অত্যাচারি জমিদার; বিপরীতে জন্ম নিয়েছেন অনেক ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ। সাগরকান্দি বাজারের উত্তর-পূর্ব কোণ ঘেঁষে রাজবাড়ির আদলে ছিল বাবুজি সুরেন্দ্রনাথ ওরফে সুরেন বাবুর আবাসিক ভবন। প্রাসাদের পিছনে ছিল পুকুর। প্রাসাদ প্রাচীরের বাইরে প্রধান ফটক সংলগ্ন সাগরকান্দি বাজার। কথিত আছে, তখন পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে ছিল এই বাজার। পদ্মা নদীর বিশাল পরিসর…




























