সুতা-ছেঁড়া-ঘুড়ি-৯ম-পর্ব
উপন্যাস,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (৯ম পর্ব)

সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (৯ম পর্ব)

তাহমিনা খাতুন

আঠারো.
কয়েক মাস হলো নূরপুরের মধ্যপাড়ার শিহাব উদ্দিনের বড়ো ছেলে হাবিবুর রহমানের সঙ্গে শাজাহান পুরের জয়নাল মিয়ার মেয়ে মোমিনার বিয়ে হয়েছে। সন্ধ্যার পরে পালকিতে চড়ে মোমিনা স্বামীর ঘর করতে চলে গেল। শূন্য ঘরে ফিরে এলো হালিমা। দশ বছর পরে জয়নালের শোক যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল তাকে। বুকের মধ্যে যে ছাই চাপা আগুন ধিকিধিকি করে পুড়িয়েছে হালিমাকে, মোমিনার মুখের দিকে চেয়ে যে আগুনকে জ্বলে উঠতে দেয়নি, আজ মোমিনাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে সে আগুনের স্ফুলিঙ্গে যেন শতধা বিস্তৃত হয়ে ছড়িয়ে পড়ল হালিমার শূন্য হৃদয় জুড়ে।

ঘরের দরজা বন্ধ করে দশ বছরের পুঞ্জীভূত বেদনা আর হাহাকারকে যেন উদগীরণের সুযোগ করে দিল। হৃদয় মন্থন করা শোকে দুমড়ে মুচড়ে দিল অভাগী হালিমাকে। সারা রাত জেগে কেঁদে কেঁদে পার করল সে। দুখী হালিমার দুঃখের সঙ্গী হয়ে জেগে থাকল অসীম নীলাকাশ। শুক্লা দ্বাদশীর আলোর বন্যা চারদিক ভাসিয়ে দিয়ে যেন হালিমার আঁধার ঘেরা মনে একটু খানি আলো জ্বালানোর ব্যর্থ চেষ্টা করল। দূরের কোনো রাত জাগা পাখি বুঝি তার সঙ্গী হয়ে জেগে রইল। রাতের শিশিরও যেন হালিমার চোখের জলের সাথে একাকার হয়ে মিশে গেল।

অগ্রহায়ণ মাসের শেষের দিক; নদী-নালা, খাল-বিলের পানি কমে গেছে। গ্রামের লোকজন বড়শি, জাল, বাঁশের তৈরি খাদুম, রাবানি ইত্যাদি হরেক নামের মাছ ধরার যন্ত্রপাতি দিয়ে শোল, বোয়াল, কই, মাগুর, শিং ধরায় ব্যস্ত।
একদিন দুপুরের পরে একটা বড়ো খালুইতে করে অনেক গুলো বড়ো বড়ো কই, মাগুর, শিং মাছ নিয়ে হালিমা বেগমের বাড়িতে এসে হাজির হলো তার একমাত্র জামাতা হাবিবুর রহমান। বারান্দায় মাছের খালুইটা বারান্দায় নামিয়ে রেখে শাশুড়ি হালিমা বেগমকে ডাকলে। জামাইয়ের সাড়া পেয়ে মাথায় ঘোমটা টেনে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন হালিমা বেগম। জামাইকে তাড়াতাড়ি একটা জলচৌকি এগিয়ে দিলেন বসার জন্য। মাছের খালুইটায় উঁকি দিয়ে বললেন,
“এত অনেক মাছ! হাশিমপুর বাজার থেকে কিনে আনলেন বুঝি?”
“না আম্মাজান, বাজার থেকে কিনে আনিনি। আমার খুব মাছ ধরার নেশা। মাছ ধরার বিভিন্ন ধরনের খাঁচা আমি নিজেই তৈরি করি। কাল সন্ধ্যায় আমাদের কড়ই খালি বিলে জাল পেতে এসেছিলাম। আজ সকালে জাল তুলে দেখি অনেক মাছ পড়েছে। তাই আপনার জন্য নিয়ে এলাম কিছু।”
“হাবিব বাবা, আপনি তাহলে রাতে খেয়ে যাবেন। আমি চট করে রান্না বসিয়ে দিচ্ছি।”
“ঠিক আছে, আম্মাজান। আমি তা হলে বাড়ির পিছনের খালি জায়গাটায় কয়েকটা সুপারি পুঁতে দিয়ে আসি। এখনও তো মাটি নরম আছে, চারাগুলো ভালোভাবে বড়ো হবে আশা করি,” বলে একটা নিড়ানি হাতে নিয়ে সুপারি লাগাতে বাড়ির পিছনে চলে গেল।
অসম্ভব গাছ লাগানোর নেশা হাবিবুর রহমানের। মাস তিনেক হলো মোমিনাকে বিয়ে করেছে। এরই মধ্যে কাজের অবসরে প্রায়ই সে চলে আসে শাজাহানপুরে। শাশুড়ির বাড়ির আশেপাশের খালি জায়গায় আম, জাম, লিচু কাঁঠাল, নারকেল সুপারির গাছের চারা লাগিয়ে ভরিয়ে ফেলেছে।
মোমিনাকে বিয়ে করার কয়েক দিন পরেই কথা প্রসঙ্গে মোমিনা তার বাবার দুঃখজনক মৃত্যু এবং আপনজনদের বিশ্বাসঘাতকতা, তার মায়ের সঙ্গে হৃদয়হীন নিষ্ঠুরতার কথাগুলো হাবিবকে জানিয়েছিল। হালিমা বেগমের সঙ্গে মোমিনার আপন ফুফু ও শাজাহানপুরের জালিয়াত চক্রের ষড়যন্ত্রের কথা শুনে বিস্ময়ে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল হাবিব। জীবনের অন্তিম বেলায় জয়নাল যে সম্পত্তির বড়ো একটা অংশ মোমিনাকে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে গেছে এবং তার দলিল গ্রামের দলিল লেখক আনসার আলির কাছে রক্ষিত আছে-তাও জানিয়েছে। মাসখানেক পরে একদিন সকালে হাবিব মোমিনাকে বলল,
“মানুষের মৃত্যুর কথা তো বলা যায় না। চল আমরা একদিন আনসার চাচার বাড়িতে যাই। ওনার নিকট থেকে তোমার জমির দলিলগুলো নিয়ে আসি। তাহলে তোমার জমিগুলো তত্ত্ব তালাশ করতে সুবিধা হবে।”
পরের সপ্তাহে মোমিনাকে নিয়ে দলিল লেখক আনসার আলির বাড়িতে হাজির হলো।
হাবিব আর মোমিনাকে দেখে আনসার আলি বললেন,
“মোমিনা তুমি আসায় আমি অত্যন্ত খুশী হয়েছি মা। জয়নাল ভাই আমাকে বিশ্বাস করে তোমার জন্য আমার কাছে যে আমানত রেখে গেছেন, সেটা তোমাকে বুঝিয়ে দিয়ে আমি দায়মুক্ত হই। আমার শরীরটাও কিছুদিন ধরে বেশি ভালো যাচ্ছে না। কখন কি হয়ে যায়, তার তো কোনো নিশ্চয়তা নাই,” এই বলে ঘরের ভিতর থেকে একটা পুরনো ব্যাগ নিয়ে এসে মোমিনার হাতে তুলে দিলেন।

সাত মাস হলো মোমিনার হাবিবুর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে। বিয়ের কয়েক দিন পরে একদিন সন্ধ্যায় মাঠের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরল হাবিব। মোমিনাকে ডেকে বলল,
“চল আম্মাজানকে দেখে আসি।”
মোমিনা মহা খুশি হয়ে প্রস্তুত হয়ে এল। মাকে দেখতে যাবে। একটা গোরুর গাড়ি ডেকে মোমিনাকে নিয়ে শাজাহানপুরের দিকে রওনা দিল হাবিব।
রাতে হালিমা বেগমের ছোটো বাড়িটায় উৎসবের আয়োজন হলো। মুরগির ঘর থেকে মুরগি ধরে পাশের বাড়ির সালামকে ডেকে মুরগি জবাই করা হলো। রাতের খাওয়া শেষ হলে হাবিব হালিমা বেগমকে বলল,
“আম্মাজান, একটা কথা বলার জন্য অসময়ে আপনার এখানে এসেছি।”
চিন্তার ঢেউ খেলে গেল হালিমা বেগমের কপালে।
“কী কথা, বাবা হাবিব?”
“আম্মাজান, আপনি তো এত দিন মোমিনাকে নিয়ে এ বাড়িতে ছিলেন। মোমিনা চলে যাওয়ার পরে আপনি সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছেন। আমি আর মোমিনা আপনাকে নিয়ে যেতে এসেছি। আপনি এখন থেকে আমার আর মোমিনার সাথে থাকবেন।
হালিমা বেগম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। বললেন,
“বাবা হাবিব, আপনি আমাকে আপনার বাড়িতে নিয়ে যেতে এসেছেন। আমি খুবই খুশি হয়েছি। কিন্তু বাবা, আমি তো এ বাড়ি ছেড়ে কোথাও গিয়ে থাকতে পারব না। মারা যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমাকে এই বাড়িতেই থাকতে হবে। আপনি আমার মেয়েটাকে ভালো রাখলেই আমি ভালো থাকব।”

উনিশ.
শান্তি মারা যাওয়ার মাত্র পাঁচ দিন পার হয়েছে। বড়ো বোন রেশমা আর একমাত্র ভাই ফেরদৌস সবচেয়ে ছোটো আদরের বোনটার অসময়ে চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। দুই ভাই-বোন নাওয়া-খাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছে। সারা দিন-রাত চোখের পানি ফেলছে। জান্নাতুল ফেরদৌস শোকাহত দুই ছেলে মেয়েকে সামলে রাখতে গিয়ে নিজে আদরের কন্যার শোক যেন ভুলে গেছে। শান্তির ছোটোবেলার সই জরিনা নিজের বাড়ি ছেড়ে এসে শোকে স্তব্ধ পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপাড়া জুড়েই যেন শান্তির জন্য শোকের মাতম চলছে।
শ্রাবণ মাসের দুপুর। সকালের ভারী বর্ষণের পর এক ঝলক রোদের দেখা মিলেছে। শান্তির ছোটো চাচি রমিজা বেগম শান্তির শোকার্ত মা, আর ভাই-বোনকে খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন। এমন সময় ছইওয়ালা একটি মহিষের গাড়ি আতিকুল ইসলামের বাড়ির বৈঠকখানার সামনে এসে থামল। গাড়ি থেকে নামল শান্তির স্বামী নজরুল ইসলাম। নজরুলের পিছনে ঘোমটা টানা এক সুন্দরী নারী। জরিনা মাথার আঁচল টেনে এগিয়ে গেল অতিথিদের দিকে। জরিনাকে না দেখার ভান করে নজরুল সেই সুন্দরী নারীর হাত ধরে জান্নাতুল ফেরদৌসের ঘরে ঢুকল। জান্নাতুল ফেরদৌসের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে বলল,
“মা এ হলো মর্জিনা। গতকাল আমি ওকে বিয়ে করেছি। ভাবলাম ওকে দেখে আপনারা শান্তির শোক ভুলে যাবেন, তাই ওকে নিয়ে এসেছি।”
নিষ্ঠুর, পাষণ্ড জামাতার কথা শুনে মূর্ছা গেলেন জান্নাতুল ফেরদৌস। জরিনার সেবায় কিছুটা সুস্থ হলো। কিছু বললেন না। শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রইলেন নির্লজ্জ লোকটার দিকে। এগিয়ে এল জরিনা।
“আপনি কি মানুষ নাকি অন্য কিছু? আপনার স্ত্রী মারা গেছে মাত্র পাঁচ দিন আগে, আপনি এরই মধ্যে আরেকটা বিয়ে করে ফেলেছেন? তার মানে শান্তি যাতে তাড়াতাড়ি মারা যায়-আপনি ইচ্ছে করেই সেই ব্যবস্থা করছিলেন। নিশ্চয়ই আপনার নতুন স্ত্রীর সাথে বিয়ের প্রস্তুতি আগেই করা ছিল। কেবলমাত্র শান্তির মৃত্যুর অপেক্ষায় ছিলেন। আপনি কতটা নির্লজ্জ এবং পাষাণ হৃদয় মানুষ যে, যার মেয়ে মারা গেছে মাত্র পাঁচ দিন আগে আপনি আরেকটা বিয়ে করে নতুন বউকে নিয়ে তাঁকে দেখাতে নিয়ে এসেছেন। শান্তির প্রতি আপনার যে কোনো ভালোবাসা ছিল না, আপনার এমন নিষ্ঠুর আচরণই তা প্রমাণ করে দিচ্ছে।
আপনার নিষ্ঠুর আচরণ, অবহেলা তিলে তিলে শান্তিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। নিরীহ শান্তি প্রিয় ‘শান্তি’ তার কষ্টের কথা, বেদনার কথা কোনো দিন কাউকে বলেনি। নিরবে আপনার অবহেলা, মানসিক নিপীড়ন সহ্য করে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেছে। আপনি আপনার সুন্দরী স্ত্রীকে নিয়ে এই মুহূর্তে এ বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যান। নইলে পাড়ার লোকজনদের ডেকে আপনাকে বের করে দেওয়া হবে।
জরিনার কঠিন কথায় উপায়ান্তর না দেখে নজরুল তার নতুন বিয়ে করা স্ত্রীকে নিয়ে বেড়িয়ে গেল।
কিন্তু ঘটনার এখানেই শেষ হলো না। কিছু দিন গেল। সময়ের সাথে সাথে শোকের তীব্র দহনও এক সময়ে স্তিমিত হয়ে আসে। জান্নাতুল ফেরদৌসের ঘরেও শান্তির শোক কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে তার আপনজনরা। শান্তি মারা যাওয়ার মাসখানেক পরে রেশমা মাকে গিয়ে বলল,
“মা, অনেক দিন তো হলো আমি এখানে এসেছি, এবার আমি না হয় শ্বশুর বাড়িতে ফিরে যাই। তোমার জামাইও সেদিন বলছিল ফিরে যাওয়ার জন্য।”
“আর কয়েকটা দিন থেকে যাও মা। আমরা তো শান্তির শোক ভোলার চেষ্টা করছি। কিন্তু ফেরদৌসের অবস্থা তো দেখতেই পাচ্ছো। ও তো কোনোভাবেই শান্তির অসময়ে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছে না। কেমন যেন হয়ে গেছে ছেলেটা। আসলে ফেরদৌস তোমাদের দু বোনকে অনেক বেশি ভালোবাসে। এখন শান্তি নাই, তুমিও যদি চলে যাও, আমি ওকে কীভাবে সামলাবো। আমি জামাইকে বলি, যেন সে তোমাকে আরও কিছু দিন রাখে এখানে।”
মায়ের কথায় রেশমা আর কিছু বলল না।
এক দিন সকালে জান্নাতুল ফেরদৌস ফেরদৌসকে খাবার খাইয়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সকালের খাবার খাওয়া শেষ করেছেন। কিছুক্ষণ আগে জরিনাও এসেছে। রোজই একবার করে এ বাড়িতে আসে সে। ছোটো বেলার সইয়ের কথা ভুলতে পারে না। এক সাথে লেখাপড়া করেছে, খেলা-ধূলা করেছে। এক সাথে বেড়ে উঠেছে। জান্নাতুল ফেরদৌসও অনেক আদর করে জরিনাকে। সবাই শান্তির স্মৃতিচারণ করছে। ফেরদৌস তার বিছানায় বসে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এরপর উদাস হয়ে জানালা দিয়ে বাইরে চেয়ে থাকল। একটু পরে সাইকেলের ক্রিং ক্রিং আওয়াজে সম্বিত ফিরল ফেরদৌসের। কাউকে দেখতে না পেয়ে জরিনাকে বলল,
“একটু দেখো তো জরিনা। এ সময়ে কে এল।”
শাড়ির আঁচলটা মাথায় ভালো করে টেনে দিয়ে জরিনা বৈঠকখানার দিকে এগিয়ে গেল। বাইরে চোখ যেতেই বিস্ময়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর বলল,
“কি ব্যাপার, আপনি এত সকালে?”
“তা তোমাকে কি কৈফিয়ত দিতে হবে নাকি?”
“না, কৈফিয়ত দিতে হবে না। তবে এত সকালে এ বাড়িতে আসার নিশ্চয়ই কোনো মতলব আছে।”
জরিনার কথার কোনো জবাব না দিয়ে বাড়ির ভিতর ঢুকল শান্তির স্বামী নজরুল। সোজা ঘরে ঢুকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। “আম্মা জান। আপনার মেয়েতো মারা গেছে। সে তো আমার বিয়ে করা স্ত্রী। আমি তো তার সম্পত্তির অংশীদার। তা তার অংশের সম্পত্তি আমাকে কবে বুঝিয়ে দিবেন-তাই জানতে এসেছি।”
ফেরদৌস বিছানায় বসে মায়ের সঙ্গে নজরুলের কথাগুলো শুনছিল। ইতর লোকটার কথা শুনে প্রথমে কেমন হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল। পরে নজরুলকে ডেকে বলল,
“নজরুল, তুমি আমার সঙ্গে কথা বলো। তুমি যে কত নোংরা মনের নিষ্ঠুর একজন মানুষ, সেটা তো শান্তি মারা যাওয়ার পাঁচ দিন পরেই যেদিন তুমি আরেকটা বিয়ে করে তোমার নতুন বউকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে এসেছো-সেদিনই বুঝে গিয়েছি। আমার নিরীহ শান্তশিষ্ট, শান্তি প্রিয় বোনটাকে তুমি নির্যাতন করে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে তা পরিষ্কার। এখন নির্লজ্জের মতো তার সম্পত্তির অংশ আদায় করতে এসেছে? আমার বাড়ি থেকে এই মুহূর্তে বেরিয়ে যাও। নইলে তোমাকে উচিত শিক্ষা দিয়ে ছাড়ব। আর যদি কোনো দিন এ বাড়িতে পা দিয়েছ তো তোমাকে পুলিশে দেবে। ভাবছ আমি চলৎশক্তিহীন। আমাকে দিয়ে যা খুশী করা যাবে? তোমার মতো একটা নিষ্ঠুর অমানুষকে শায়েস্তা করতে আমার বেশি কষ্ট করতে হবে না। কথাটা মনে রেখ।

আরও পড়ুন সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি-   
১ম পর্ব
২য় পর্ব 
৩য় পর্ব
৪র্থ পর্ব
৫ম পর্ব
৬ষ্ঠ পর্ব
৭ম পর্ব
৮ম পর্ব
১০ম পর্ব
১১তম পর্ব
শেষ পর্ব

 

ঘুরে আসুন আমাদের সুজানগর এর অফিসিয়াল ফেসবুক ও  ইউটিউব চ্যানেলে

সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (৯ম পর্ব)

Facebook Comments Box

তাহমিনা খাতুন ছড়া, কবিতা, ভ্রমণ কাহিনী, নারীর অধিকার নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে নিয়মিত কলাম লিখছেন। পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ১লা মার্চ পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত আহম্মদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!