• উদাসী-মন
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    উদাসী মন

    উদাসী মন জাহাঙ্গীর পানু    কোন আকাশের শশীগো তুমি কোন গগনের তারা তোমায় দেখে উদাসী মন হয়েছে পাগলপারা। জীবনতরী ভাসিয়ে দিলাম বৈঠা তোমার হাতে মন বিলাসের রাঙা নদী উদাস হাওয়া সাথে।। নীল আকাশের মেঘের ভেলায় বন্ধু তুমি এসো নদী তীরের কাশবনেরই পাশে তুমি বসো। হাতে মোর হাতটি রেখে মনের কথা বলো ওগো আমার জীবন সাথী মোর নয়নের আলো। বৃষ্টি স্নাত গোধূলিতে পুবাল হাওয়া বহে সন্ধ্যে তারার রুপের মোহে মোর চাহনি চাহে। উছলে পড়ে নদীর পানি আপন তনু মনে শুন্য হিয়ায় ঢেউ খেলে যায় পূর্ণ হবার পণে।। শরৎকালের পুবাল হাওয়া জোস্না বিলাস রাতে গোলাপ আর হাসনাহেনার সুরভি ছিল সাথে। তোমায় ভালোবেসেছিলুম…

  • জীবনের-রঙ
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    জীবনের রঙ

    জীবনের রঙ জাহাঙ্গীর পানু   জীবনের কত রঙ কত চাওয়া হারিয়ে গেছে হায় না পাওয়ার বেদনায় অজস্র কান্নার আপ্লূত ধ্বনি নিঃশব্দেই ফুরিয়েছে বিরহ চেতনায়। রুপালী দিনের অফুরান গল্প স্বযত্নে লালিত সোনালী স্বপ্ন কত ছন্দের সৃষ্টি হৃদয় গহীনে ভেবেছে ভাবুক মন একান্তে নিরালায়। আচমকা বৈশাখী ঝড়ের আঘাতে হঠাৎ নিকষ কালো মেঘের গর্জনে হেনেছে আঘাত হৃদয় মন্দিরে। মানসীর মায়া ভেসে গেছে হায়, শ্রাবণের বারিধারায়। সৃষ্টির সৌন্দর্য্যে অবগাহন করিয়া দাবানলে পুড়ছে মন জনম ধরিয়া আবছা দৃষ্টিতে দেখা যায় না কিছু। নিমিষেই শুকিয়েছে বেদনার অশ্রু। ভালোবাসার রংমহলে পড়েনা দৃষ্টি মায়াবি চোখের কোণে পড়েছে ধুলি। ফোটেনা মুখের হাসি জোটেনা মিষ্টি স্বরে পিয়াসী মনের সুরেলা কথার…

  • বিল-গাজনার-মাঠে
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    বিল গাজনার মাঠে

    বিল গাজনার মাঠে জাহাঙ্গীর পানু   আমি দেখেছি কত রং বিল গাজনার  মাঠে যেখানে কৃষকের স্বপ্ন হাতছানি দিয়ে ডাকে। দেখেছি সোনালী ধানক্ষেত দিগন্তে জোড়া পেঁয়াজের কচি দানার আঁটি স্বযত্নে মোড়া।   সবুজ ধানক্ষেতে কৃষকের স্বপ্নের লুকোচুরি পাটের কচি পাতায় হাসে বসিয়া মুখোমুখি। পাটের নিড়ানি দিয়ে রাখে স্রষ্টার পানে হাত শক্ত কাণ্ডের উপর দাড়িয়ে অদুর ভবিষ্যৎ।   মনে পড়ে শৈশব কৈশরের কত রকম স্মৃতি সারি সারি বসে থাকা পেঁয়াজ রোপনের ছবি। পানি সেচে শুকিয়ে কোপায় জমি মনে খুব বল পেঁয়াজের কচি ডগায় হাসে সারা বছরের সম্বল।   পৌষ মাসের হাড়কাঁপানো শীতের সকাল কুয়াশার চাদরে ঢাকা পরে মাঠের ফসল। চৈত্র মাসে পেঁয়াজ…

  • ক্ষয়িষ্ণু-সমাজ
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    ক্ষয়িষ্ণু সমাজ, ভূলুণ্ঠিত মানবতা

    ক্ষয়িষ্ণু সমাজ জাহাঙ্গীর পানু   শূন্যতা আমার ঘিরে রাখে অবহেলিত, বঞ্চিত মানুষের হাহাকার শুনে। নির্লিপ্ত চোখে তাকিয়ে দেখি- অধিকার বঞ্চিত মানুষের ভিতরের কান্না। আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে হতাশার কালো মেঘে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ডুকরে কাঁদে বেলা অবেলায়। মানবিকতার বিশুদ্ধ চর্চা আজ নিভু নিভু প্রদীপের মত জ্বলছে। চারিদিকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় মানুষের উদ্ভ্রান্ত ছুটাছুটি ক্ষুধার্ত মানুষের নির্লীপ্ততা বেহায়া রাজনীতি পায়ে পিষ্ট। সামাজিক অবক্ষয়ে দলিত নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। আগামীর কৈশোর জাগিবে কোন ভরসায়? ক্ষয়িষ্ণু সমাজের ভাঙা তীরে দাঁড়িয়ে নতুন উজ্জ্বল আগামীর প্রত্যাশা। সহসা কি উঠিবে চাঁদ একরাশ সোনালী জোসনা নিয়ে? তারারা কি গাইবে গান আবার কোরাস সংগীতে? প্রজাপতির ডানায় ভর করে চলে নব প্রাণের…

  • প্রশ্ন
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    প্রশ্ন

    প্রশ্ন জাহাঙ্গীর পানু দাঁড়িয়ে পদ্মার তীরে তাকিয়ে দিগন্তে চৌহদ্দির দৃষ্টি সীমারেখায় সাথে নিয়ে বুকেচাপা ব্যথার দীর্ঘ নিঃশ্বাস পথহারা পাখিদের দিকবিদিক ছোটাছুটি স্বাধীন উত্তাল তরঙ্গের পথচলার পানে চেয়ে ভাবুক এ মনের গহীনে বিশাল এক প্রশ্ন উঁকি দেয়- স্বাধীনতা পেয়েও আমরা কি স্বাধীন? তবে কেন- মাজলুম শোষিত নিপীড়িত মানুষের আর্তনাদ চারিদিকে বুভুক্ষু মানুষের মিছিল । সু শিক্ষার অভাবে পথহারা নতুন প্রজন্ম আজ মুঠোভিশনের জেলখানায় বন্দি। গণতন্ত্রের মোড়কে স্বৈরতন্ত্রের অপশাসন নতুন কৌশলে আবার নব্য হানাদারদের আগমন। যত্রতত্র বুলেটের কি ব্যক্তিগত ব্যবহার! ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরে, রক্তিম রাজপথ মাটিতে লুটিয়ে পরে কত মায়ের স্বপ্নরথ। বারংবার স্বদেশের মাটি কেঁপে ওঠে ধর্ষিত নারীর আর্তচিৎকারে। প্রতিবাদের নেই কোন উপায়!…

  • তিলোত্তমা-বাংলাদেশ
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    তিলোত্তমা বাংলাদেশ

    তিলোত্তমা বাংলাদেশ জাহাঙ্গীর পানু   বাংলাদেশ। আমার তিলোত্তমা বাংলাদেশ। জেনেছি তোমার বাড়ন্ত অঙ্গটাকে ধ্বংস করেছিল বৃটিশ। পলাশীর প্রান্তরে  সেদিন মুখ থুবড়ে পড়েছিল তোমার শৈশবের উঠন্ত শরীর। কিন্তু সুপ্ত ভ্রুণটাকে ধ্বংস করতে পারেনি কেউ বারবার তোমার দেহের উপর দিয়ে বয়ে গেছে কত ঝড়-ঝঞ্ঝা। শত ঝড়-ঝঞ্ঝা আর হাজার আগাছায় মধ্যেও তুমি ক্রমান্বয়ে বেড়ে উঠেছ। বৃটিশ বেনিয়াদের গোলার আঘাতে জর্জরিত তোমার পরিধেয় বাঁশের কেল্লা। রাজনীতির কুটকৌশলে দ্বি বঙ্গে দ্বিখন্ডিত তোমার দেহ। পশ্চিমের শোষনে নিষ্পেষিত তোমার সৌন্দর্য। তারপরও তুমি যখন যৌবনে পদার্পন করলে শাখা প্রশাখায় ভরে উঠলো তোমার প্রতিটি অংগ তখন শেষবারের মতো আসলো তোমার উপরে প্রচন্ড আঘাত। বাঙালিরাও শেষবারের মতো বিদ্রোহী হয়ে উঠলো…

  • স্মৃতির-অনুভবে-তুমি
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    স্মৃতির অনুভবে তুমি

    স্মৃতির অনুভবে তুমি জাহাঙ্গীর পানু   এখনও হঠাৎ ঘুমের ঘোরে স্বপ্নে বিভোর হয়ে তোমার স্পর্শ অনুভব করি। ফাগুনের পাতা ঝরা শব্দের মাঝে এখনো শুনতে পাই তোমার উত্তপ্ত নিঃশ্বাস চৈত্রের খরত্তাপের মাঝে হঠাৎ বৈশাখী ঝড়োবৃষ্টি হয়ে আচমকা এসেছিলে তুমি- মম শুন্য হৃদয়ে। আমার আপন হৃদয় সদা বিমোহিত হয়েছিলো তোমার চোখের চাহনিতে। কিন্তু আমিতো তোমার করযুগলে নিজের হাত রেখে; আষাঢ়ের বৃষ্টিঝরা দুপুরে কখনও ভিজতে চাইনি, শূন্য হৃদয় খানি যখন মুক্ত বিহঙ্গের মত আকাশে উড়ে বেড়ায়। পদ্মবিলের নীল সরোবরের বুকে মাথা রেখে কখনও ঘুমোতে চেষ্টা করিনি। পুষ্পিতা, কবিতার খাতা খুলে কখনো চেয়ে দেখিনি তোমার নাম কতবার লেখা হয়েছে। শ্রাবণের বারিধারায় সিক্ত হয়ে পদ্ম…

  • কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    ভবলীলা

    ভবলীলা জাহাঙ্গীর পানু   ছন্দ আমার পদ্য আঁকে গল্প আঁকে ছবি, বন্দি জীবন মুক্ত হয়ে চিত্র আঁকে কবি।   রিক্ত হস্তে নিঃস্ব হয়ে চলছে মহারথী, চলার পথে বাঁকা পথে বয়ে চলে নদী।   রং মেখে সং সেজে চলছি মোরা সবাই, পল্টি খেয়ে উল্টো রথে স্রষ্টারে না ডরাই।   জ্ঞানে গুণী বুদ্ধিজীবী সত্যবিহীন লড়াই, শিক্ষা-দীক্ষা বিদ্যা-বুদ্ধি তবে কেন বড়াই।   জীবন তরী বৈঠা হাতে শুকনো নদীর পানে দখিন বায়ু পাল তুলে উজান গুন টানে।   সত্য রেখে মিথ্যে বলে যাচ্ছে জীবন ভর, বিদায় বেলা আসলে তবে আপন হবে পর।   ধর্ম আছে কর্ম নেই ইচ্ছে মতো চলে, অন্যের কথা বলতে গিয়ে…

  • শব্দহীন-অভিযাত্রা
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    আমার কি আর সাধ্য আছে

    আমার কি আর সাধ্য আছে জাহাঙ্গীর পানু   আমার কি আর সাধ্য আছে। রৌদ্র ফাটা ভর দুপুরে, রাঙা মেঠো পথ মাড়িয়ে, ধুলো মাখা নগ্ন পায়ে ; তোমার কাছে যাবার।   আমার কি আর সাধ্য আছে। পুকুর ধারে সব অলক্ষ্যে; স্বচ্ছ কালো দীঘির জলে, এক নিমিষে ডুবটি দিয়ে ভোমরা এনে দেবার।   আমার কি আর সাধ্য আছে। হিরক রাজার শাসন দেখে, চুরির আজব নিয়ম দেখে, আমি অধম প্রজা হয়ে দাঁত কেলিয়ে হাঁসার।   আমার কি আর সাধ্য আছে। দুঃশাসনের চিপায় থেকে, অধিকারের ছবক দিয়ে, আমার ভোট আমি দেবো এমন কথা বলার।   আমার কি আর সাধ্য আছে। তোমায় নিয়ে আপন মনে,…

  • শব্দহীন-অভিযাত্রা
    কবিতা,  জাহাঙ্গীর পানু,  সাহিত্য

    শব্দহীন অভিযাত্রা

    শব্দহীন অভিযাত্রা জাহাঙ্গীর পানু     পুরোনো কবিতার পান্ডুলিপিগুলো- আমি আর খুজে ফিরি না, খুজতে চাইও না। সেসব আবেগ অনুভূতির জায়গাগুলো এখন আর আমাকে আনন্দ দেয় না। শরৎ সাহিত্যের রস আস্বাদন; সেতো কবেই ফুরিয়ে গেছে। রবিঠাকুরের গল্পের পরিস্ফুটিত চরিত্র গুলো আমাকে আর মুগ্ধ করে না। নজরুলের কবিতার সংগ্রামী চেতনা; আমার কন্ঠে আর কেঁপে ওঠে না। আমি নিঃশ্বব্দে, নিরবে, শব্দহীন পথে হেটে যাই; আমার নিশ্চিত গন্তব্যে। আমি আমার স্রষ্টার ঐশী বানীর সুরের মূর্ছনায়- নিজেকে সপে দেই; আপন মোহে; সে বানীতে আমি খুজে ফিরি- আমার পরমাত্মার ঠিকানা; নিশাচর পাখির মতো। কখনো তাঁর পরিধির গভীরতা আমাকে নিয়ে যায় জন্ম জন্মান্তরে।   ঘুরে আসুন…

error: Content is protected !!