-
আনোয়ারুল হক
পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক, ভাষা সংগ্রামী ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আনোয়ারুল হক ছিলেন সৎ ও আদর্শ সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃত। জন্ম: সাংবাদিক ও ভাষা সংগ্রামী আনোয়ারুল হক ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক জীবন: পিতা তাজউদ্দিন আহমেদ (বিএ) ব্রিটিশ আমলে কলকাতা করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। মা আমিরুন নেছা ছিলেন গৃহিণী। সাবেক ছাত্রনেতা নজমুল হক নান্নু এবং পাবনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক এম সাইদুল হক চুন্নু তাঁর ছোটো দুই ভাই । তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। ছেলে সুশোভন হক টুটুল পাবনার সাবেক ক্রিকেটার। শিক্ষা জীবন: আনোয়ারুল হক নিশ্চিন্তপুর সরকারি…
-
অধ্যাপক ডা. রুহুল আবিদ
অধ্যাপক ডা. রুহুল আবিদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এলপার্ট মেডিকেল স্কুলের একজন অধ্যাপক। তিনি ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল হেলথ ইনিশিয়েটিভস এর কার্যকরী সদস্য। এছাড়া তিনি হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন ফর অল-HAEFA এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। অধ্যাপক ডা. রুহুল আবিদ ২০২০ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত ২১১ ব্যক্তিবর্গের মধ্যে একজন। একই সঙ্গে তাঁর অলাভজনক সংস্থা HAEFA (হায়েফা) তাঁর সঙ্গে শান্তি পুরস্কারে মনোনীত হয়। জন্ম: ডা. আবিদ ১৯৬১ সালের ২৭ মে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাকনাম লেখন। তাঁর পৈতৃক নিবাস পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সুজানগর পৌরসভায়। বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রাম ও ঢাকায়। ঢাকায় বাস করেছেন বিভিন্ন উপশহরে-মালিবাগ, ইন্দিরা রোড, কলাবাগান ও শ্যামলীতে। পারিবারিক জীবন:…
-
মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (৩য় পর্ব)
মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (৩য় পর্ব) তারা পরিচিতি রিভিউ: তারা পরিচিতি জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশল শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রচিত একটি জ্যোতির্বিজ্ঞান গ্রন্থ। এই বইয়ে আধুনিক ৮৮টি তারামণ্ডলের সবগুলোর বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে। পৃথিবীর আকাশে তাদের অবস্থান এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত তারার তালিকা উল্লেখিত আছে। প্রত্যেকটি তারামণ্ডলের বৈশিষ্ট্য,অবস্থান চেনার সহজ উপায়,স্পষ্ট ম্যাপ এবং তারকা সমূহের চিহ্ন,বাংলা ও ইংরেজি নাম। বিশেষত্ব, উজ্জ্বলতা এবং জোড়াতারা সমূহেরও বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে বইটিতে। এছাড়াও বইটিতে বারটি রাশির আলোচনার পাশাপাশি তারার শ্রেণীবিভাগ (বিষম, যুক্ত, নব তারা), তারার আয়তন, উজ্জ্বলতা, সীমারেখা, Hour circle, Celestial equator, Meridian,অয়ন, বিষুবন চলন এর মতো জটিল বিষয়সমূহ অতি প্রাঞ্জল ও সাবলীল ভাষায় ব্যাখ্যা করা…
-
মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (২য় পর্ব)
মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (২য় পর্ব) জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা: মোহাম্মদ আবদুল জব্বার জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হয়েছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজে শিক্ষকতা করার সময়। এই কলেজে ছোট একটি অবজারভেটরি ছিল। সেখান থেকে টেলিস্কোপে আকাশের গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি দেখানো হতো। সে সময়েই জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলায় তাঁর লেখা বিভিন্ন নিবন্ধ প্রকাশিত হয় ‘মোহাম্মদী’, ‘সওগাত’, ‘পাঠশালা’ ইত্যাদি পত্রিকায়। বুয়েটে ড. রশীদ অধ্যাপক হিসেবে কাজ করার সময় তিনি রচনা করেন গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘বিশ্ব ও সৌরজগৎ’। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি বলেছেন “..জ্যোতির্বিদ্যা আমার সখের বিষয়।…” এই শখের বিষয়টি নিয়ে গবেষণাকাজ চালিয়ে যাবার ইচ্ছে তাঁর অবশ্যই ছিল। কিন্তু এর জন্য বিষয়োপযোগী বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম, গবেষণাগার ও…
-
মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (১ম পর্ব)
মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (১ম পর্ব) জ্যোতির্বিজ্ঞানী মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (১৯১৫-১৯৯৩ খ্রি.) বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার অগ্রদূত। তিনিই প্রথম বাংলায় আকাশের তারাসমূহের ছক তৈরি করেন। তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও পরিকল্পনায় বাংলাদেশের প্রথম খ-গোলক নির্মিত হয়। পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে একজন শিক্ষাবিদ, লেখক ও বিজ্ঞানী। অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ড. কুদরত-ই-খুদা স্মৃতি পদক, একুশে পদক ও ব্রুনো পদকে ভূষিত হন। জন্ম: মোহাম্মদ আবদুল জব্বার ১৯১৫ সালের ১লা জানুয়ারি (শিক্ষা সনদ অনুযায়ী), পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত ভায়না ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক…
-
হাইবাত জান চৌধুরী
হাইবাত জান চৌধুরী কৃষ্ণ ভৌমিক হাইবাত জান চৌধুরী ইতিহাসের মহিরুহ। তিনি ভারত স্রষ্টা জওহর লাল নেহেরু, সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো নেতাদের স্বচক্ষে দেখেছেন। আজাদ হিন্দ ফৌজের মেজর জেনারেল শাহ নেওয়াজ ও কর্ণেল ধিলনের মত সামরিক কর্মকর্তার সাহচার্য পেয়েছেন । নিখিল ভারত মুসলিম লীগ কনফারেন্সে অংশগ্রহণের স্মৃতি তিনি এখনও ভুলেননি। পাকিস্তানি বন্দিশিবিরের চার বছরের মানসিক নির্যাতনের স্মৃতিও আজ তাঁর চোখের উপর ভাসছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে কলকাতা দাঙ্গায় জীবন নিয়ে পালিয়ে বাঁচার স্মৃতি ধূসর হয়নি। জন্ম: হাইবাত জান চৌধুরী ১৯২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, তৎকালীন দুলাইয়ের প্রখ্যাত মুসলিম জমিদার আজিম চৌধুরীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক জীবন: হাইবাত জান চৌধুরীর বাবা…
-
কে এম আশরাফুল ইসলাম (গল্প), গল্প, জমিদার, তালিমনগর, পুকুরনিয়া, শ্যামসুন্দরপুর, সাগরকান্দি, সাগরকান্দি ইউনিয়নের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, সাহিত্য
সুরেন বাবু (২য় পর্ব)
সুরেন বাবু (২য় পর্ব) কে এম আশরাফুল ইসলাম মাধু পাগল। তাঁর বংশ পরিচয় সঠিকভাবে জানা যায়নি। শ্যামগঞ্জ হাট সংলগ্ন গ্রামের নাম পুকুরনিয়া। প্রবীণ এলাকাবাসীর বিশ্বাস তিনি অন্য এলাকা থেকে সাগরকান্দির পুকুরনিয়া গ্রামে এসে মুসাফিরের ন্যায় মো. আলী আকবরের পিতার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং এখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। যদিও আশ্রয় প্রদানকারী বংশ তাঁকে ঐ বংশের লোক বলেই পরিচয় দেন এবং নিজেদেরকে পরিচিত করাতে ইজ্জত ও গৌরবের বিষয় মনে করেন। বর্ণাঢ্য জীবনের কিংবদন্তি এই মাধু পাগল। সাধু, দরবেশ, সন্ন্যাসির লেবাসে থাকতেন। কখনো ধুতি পাঞ্জাবি, গলায় জপমালা, হাতে চিমটা। কখনো লাল গেরুয়া বসন। তিনি গাজায় আসক্ত ছিলেন। কথিত আছে, বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের…
-
কে এম আশরাফুল ইসলাম (গল্প), গল্প, জমিদার, তালিমনগর, পুকুরনিয়া, শ্যামসুন্দরপুর, সাগরকান্দি, সাগরকান্দি ইউনিয়নের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, সাহিত্য
সুরেন বাবু (১ম পর্ব)
সুরেন বাবু (১ম পর্ব) কে এম আশরাফুল ইসলাম ব্রিটিশ শাসন আমল। পাবনা জেলা ছিল সিরাজগঞ্জ মহকুমার অধীন। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। প্রশাসনিক সুবিধার্থে রাজনৈতিক মানচিত্রও পাল্টে যায়। এই পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত সাগরকান্দি ইউনিয়ন। ইউনিয়নটি নানা কারণে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। এখানে যেমন জন্ম নিয়েছে অত্যাচারি জমিদার; বিপরীতে জন্ম নিয়েছেন অনেক ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ। সাগরকান্দি বাজারের উত্তর-পূর্ব কোণ ঘেঁষে রাজবাড়ির আদলে ছিল বাবুজি সুরেন্দ্রনাথ ওরফে সুরেন বাবুর আবাসিক ভবন। প্রাসাদের পিছনে ছিল পুকুর। প্রাসাদ প্রাচীরের বাইরে প্রধান ফটক সংলগ্ন সাগরকান্দি বাজার। কথিত আছে, তখন পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে ছিল এই বাজার। পদ্মা নদীর বিশাল পরিসর…
-
বীর প্রতীক আজিজুর রহমান
বীর প্রতীক আজিজুর রহমান (মৃত্যু: ১৯৯০ খ্রি.) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে। সুজানগর উপজেলার মধ্যে তিনিই একমাত্র খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। জন্ম: বীর প্রতীক আজিজুর রহমানের পৈতৃক বাড়ি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের বোনকোলা গ্রামে। পারিবারিক জীবন: পিতার নাম আবদুল আলী মোল্লা এবং মায়ের নাম জাগিরননেছা। স্ত্রী লুৎফা বেগম। তাদের তিন মেয়ে ও পাঁচ ছেলে। কর্মজীবন: আজিজুর রহমান চাকরি করতেন ইপিআরে। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে কর্মরত ছিলেন দিনাজপুর সেক্টরের ৯ নম্বর উইংয়ে (বর্তমানে ব্যাটালিয়ন)। তখন তাঁর পদবি ছিল হাবিলদার। প্রতিরোধযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আরও পড়ুন বীর মুক্তিযোদ্ধা…
-
বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন সন্টু
বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন সন্টু ছিলেন পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়া) আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য, জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। পাবনায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন সন্টু। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বৈরী পরিস্থিতির মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন ছাত্রজীবনে। ১৯৭১ সালে ২৮ ও ২৯ মার্চ পাবনায় প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেন। ১০ এপ্রিল পর্যন্ত নগরবাড়ি ঘাটে অবস্থান করে প্রতিরোধ যুদ্ধ করেন। এরপর ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহন করে ৭ নং সেক্টরের অধীনে যুক্ত হন। সীমান্ত এলাকায় একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ শেষে পাবনার এফএফ কমান্ডার নিযুক্ত হন। পাবনায় ঐতিহাসিক শানিরদিয়াড় যুদ্ধ, সুজানগর থানা আক্রমণসহ অনেকগুলো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মহান…






























