-
সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (২য় পর্ব)
সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (২য় পর্ব) তাহমিনা খাতুন দুই. নূরপুরের মধ্যপাড়া আর পাশের গ্রাম শিবপুরের সীমা নির্ধারণকারী হালটে দুপুরের পর দই ওয়ালার ডাক শোনা গেল। দই…দই…ভালো দই। দই ওয়ালার ডাক শুনে মধ্যপাড়ার সরফরাজ খন্দকারের বাড়ির ভিতর থেকে ছয়/সাত বছর বয়সের এক খোকা বেরিয়ে এল। বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা। “এই দইওয়ালা, তোমার দইয়ের দাম কত?” “কেন খোকা, তুমি দই কিনবে?” “আমি দই কিনব? পয়সা পাব কোথায়? তোমার তো অনেকগুলো দইয়ের হাঁড়ি। আমাকে একটা হাঁড়ি দিয়ে দাও। আমি যখন বড়ো হব, তখন তোমার দইয়ের দাম শোধ করে দেব।” খোকার বুদ্ধিদীপ্ত কথায় দারুণ মজা পেল দইওয়ালা। বলল, “ঠিক আছে। তুমি যদি এক হাঁড়ি দই পুরোটা খেতে…
-
সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (১ম পর্ব)
সুতা ছেঁড়া ঘুড়ি (১ম পর্ব) তাহমিনা খাতুন এক. জৈষ্ঠ্যের মাঝামাঝি। আম, জাম ও লিচু গাছগুলো পাকা ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। বাগানের পূর্বদিকে ছোটো একটা বাড়ি। এ বাড়িতে জয়নাল মিয়ার বিধবা স্ত্রী হালিমা বেগম বহু বছর ধরে একা বসবাস করছেন। হালিমা বেগমের একমাত্র মেয়ে মোমিনাকে বিয়ে দিয়েছেন কয়েক মাইল দূরের গ্রাম নূরপুরে। সেও বেশ অনেক বছর হলো। মোমিনার ছেলে মেয়েরা প্রায়ই এসে তাদের নানির বাড়িতে থাকে। কয়েক দিন হলো মোমিনার দশ বছরের মেয়ে কলি, নানির বাড়িতে বেড়াতে এসেছে। নানির ঘরের বারান্দায় বসে পাশের বাগানের গাছ থেকে টুপটাপ আম পড়ার শব্দ শুনে কলি নানিকে বলল, “নানি, চল বাগানে যাই। বাঁটুলে গাছের আম…
-
চকখড়ি উপন্যাস রিভিউ
চকখড়ি উপন্যাস রিভিউ ‘চকখড়ি’ উপন্যাসটি ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে আর্ট ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটির পটভূমি আনন্দ বাগচীর (১৯৩২-২০১২ খ্রি.) জন্মভূমি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামকে কেন্দ্র করে। সাগতার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন অধ্যয়ন ও কর্মজীবনের জন্য কলকাতার কথা এসে গেছ। পঞ্চাশের দশকের কখনো পরিণত পরিণতি, কখনো সুখ-দুঃখের মিশ্রণ, রাজনৈতিক ভাঙা-গড়া, সব হারিয়েও নতুন কিছু পাওয়ার আস্বাদে শীতল রক্তের মানুষের বেঁচে থাকা। আনন্দ বাগচী শৈশবের সেই কলকাতা দেখেছেন এবং তা লিখেছেন ‘চকখড়ি’ উপন্যাসে। এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস। প্রচুর ভালোবাসা আর অন্তরঙ্গ জীবনের কথা লিখেছেন। কলকাতাকে যেমন দেখেছেন তেমনই লিখেছেন। দরজায় দরজায় তালা ঝুলছে। মানুষজন শূন্য কলকাতা। ফাঁকা রাস্তাঘাট।অন্ধকারে ডুবে গিয়ে…









