-
ঢাকা শহর
ঢাকা শহর তাহমিনা খাতুন অনেক বছর আগে! নিয়াছিনু ঠাঁই এই শহরে, অনেক ভালোবেসে! দেখেছিনু সমাহিত, শান্ত রূপটি তাহার! সে রূপে মুগ্ধ হয়েছিনু, মন হয়েছিল বিভোর আমার! গভীর এক ভাল লাগায় আত্মহারা হয়েছিল হৃদয়ের কূল! শান্ত, স্নিগ্ধ পল্লী শ্রী বিরাজিত, ভাল লাগার শহরে! মন ভরিয়া দিত আম, জাম আর কাঁঠালের ছায়া! ভোরের পাখির কাকলী কুজন, কেবলই বাড়াতো মায়া! পথ চলতি কুড়ায়েছি ঝরা বকুল, হাতে নিয়ে লভিয়াছি স্নিগ্ধ সুরভী তাহার! হেরিতাম বাদল দিনে কেতকি, কদম মোর বাতায়নে বসি সাঁঝের মায়ায় ডাহুকের ডাক কানেতে আসিত ভাসি! কোথায় হারালো আমার সেই ভালোবাসার শহর? বুঝি সে পথ হারায়েছে উড়াল সড়কে! আকাশ ছুঁয়েছে অট্টালিকার সারি!…
-
শ্রদ্ধাঞ্জলি, সময় কি হইবে তোমার
শ্রদ্ধাঞ্জলি তাহমিনা খাতুন এই দিনে, আজিকার এই ক্ষণে, অনেক বছর আগে! তোমরা করে গেছ আত্মদান! ছিনে এনেছিলে ভাষার তরে অযুত সন্মান! সহনিকো তোমরা মায়ের ভাষার এতটুকু অপমান, অকাতরে রাজপথে ঢেলে দিয়েছিল তাই আপন প্রাণ! শাসকের রক্তচক্ষু তোমাদের কাছে, পায়নিকো কোন দাম! জগত তুলেছে অতুল শিখরে, তোমাদের সব নাম! আপন বুকের শোণিতে রাঙায়েছো কঠিন সে রাজপথ, আজও তাই মোরা স্মরণ করি যে, সালাম রফিক বরকত! ভাষার তরে তে আর কোন জাতি, দেয়নি বুকের খুন, তোমাদের সে খুনে বুঝি তাই, রেঙ্গে উঠেছিল আটই ফাল্গুন! শফিক, শফিউর, ওহিউল্লাহ আরও কত, অজানা নাম! তোমাদের তরে আজিও বাঙ্গালী তাই, জানায় লাখো সালাম! শিমুল, পলাশ,…
-
গন্ধরাজ, গোলাপ ফুল
গন্ধরাজ তাহমিনা খাতুন গন্ধরাজ! সুবাসের রাজা তুমি, এক অপরুপ ফুল, স্নিগ্ধ, পবিত্র রুপটি তোমার, নাহি যার তুল! বর্ষার বারি ধারা যবে, পড়ে ঝরি অবিরল তোমার শাখায়! সবুজে, সাদায় গলাগলি করি ওঠো জাগি অসীম উচ্ছলতায়! বর্ষার ধারা সনে মিতালী তোমার, বিমোহিত হয়ে হেরি, তব পুষ্পের বাহার! শোভা সুষমা আর সুরভিত আবেশ, দেখা শেষ হয় তবু, না যেন ফুরায় ভাল লাগার রেশ! জগত জুড়িয়া এমন রুপ বুঝি, কেহ খুঁজিয়া নাহি পায়, ডুবিয়া থাকিতে চায় মন, তোমার সুবাস ভরা স্বপ্ন মদিরায়! তোমার সৌরভ, সুধায় ভরুক বসুন্ধরা, দূর হয়ে যাক, সব দুঃখ জ্বরা! চারিদিকে ছড়াও তব রুপের ডালি, দূর হয়ে যাক সব মনের…
-
তিতাস নদীর পাড়ে
তিতাস নদীর পাড়ে তাহমিনা খাতুন তিতাসের পাড়ে কাটায়েছি, খানিক সময় সবটুকু ভাল লাগায় জুড়ালো হৃদয়, আদিগন্ত বিস্তারি সবুজ প্রান্তর ভরিয়া দিল মনটি আমার। অন্তর ছুঁয়েছিল সর্ষে ফুলে ছাওয়া হলুদ মাঠখানি দোলা দিয়াছিল তিতাসের বুক চিরে ছুটে যাওয়া ছোট ছোট তরীগুলি, শ্বেত, শুভ্র ঢেউগুলি আছড়িয়া পড়ে কূলেতে তাহার যেন দেয় হাতছানি! নিয়ে যেতে চায় বুঝি! কোন দূর অজানায়। তিতাসের বুকে ঝাঁপ দেয় গাঙচিল উড়ে যায় পলকে, ঠোঁটে ধরা তার রুপালী কোন মাছ শুভ্র, বাদামী রঙের পাতি হাঁস করিতেছে জল কেলী, কেহ বা সবে সাঙ্গ করি সন্তরন, দিতেছে বুঝি দিবা নিদ্রা পরম পুলকে! আপন পালকে লুকায়ে হলুদ ঠোঁট খানি তার! সাধু…












