-
মুহম্মদ মনসুরউদ্দীনের ফোকলোর সাধনা
মুহম্মদ মনসুরউদ্দীনের ফোকলোর সাধনা বঙ্গদেশে ফোকলোর-সাধনা, পঠন-পাঠন ও গবেষণায় মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন (১৯০৪-১৯৮৭) একজন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। ফোকলোর-সাধনাকে তিনি জীবনের মূল ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ‘বস্তুত, লোকসাহিত্য ও সঙ্গীত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, সম্পাদনা ও তৎ-সংক্রান্ত গবেষণা ছিল অধ্যাপক মুহম্মদ মনসুরউদ্দীনের সারা জীবনের ধ্যান-জ্ঞান, অধ্যবসায় অনুরাগ, প্রেম-ভালবাসা, আর্তিচেতনা ও স্বপ্নসাধনা।’ তিনি ছিলেন পল্লির সন্তান। পল্লিসাহিত্যের বিশাল সমুদ্র মন্থন করে তিনি সংগ্রহ করেছেন লোকসঙ্গীত মাণিক্যের বিপুল সম্ভার। তাঁর সংগৃহীত লোকসঙ্গীত সংকলন হারামণি এবং লোককথা সংকলন শিরনী বাংলা ফোকলোর ভাণ্ডারের অমূল্য সম্পদ। বঙ্গদেশে ফোকলোর-সাধনার ধারা গড়ে উঠেছে ফোকলোর অনুরাগী কিছু ব্যক্তির স্বতঃস্ফূর্ত আত্মসংযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে। ইংরেজ রাজকর্মচারীরা সর্বপ্রথম বঙ্গদেশে ফোকলোরচর্চার গোড়াপত্তন করলেও বাঙালিদের মধ্যে সর্বপ্রথম…
-
প্রেমের পদ্য-০২
প্রেমের পদ্য-০২ রেজাউল করিম শেখ নয় কে কবে কার বেদনার ঘর পুঁড়িয়েছে হৃদয়ের নীল আগুনে? বেদনার লেলিহান শিখায় কে তাপ নেয় পৌষের শীতে? চৈত্রের কোনো একদিন- কাঠ ফাটা রোদে দুঃখগুলো শুকিয়েছি। নীল পদ্ম পাতায় জল ঢেলে প্রজাপতি করে উড়িয়েছি দুঃখের ফসিল। সোনালী, আর কত দুঃখ হবে আর কত বেদনা হবে ফড়িংয়ের রঙে? দশ সদ্য ফোটা গোলাপে মূহ্যমান প্রেমিক আলো-আঁধারের ব্যবধান ঘুঁচে যদি বেরিয়ে আসে কোকিলের আর্ত স্বর-হরিণীর আর্ত স্বর কিম্বা ছায়াহীন সমুদ্র তটে ভেসে ওঠে কোনো শুশুক— তুমি কি তোমার প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নেবে!- ভাসিয়ে নেবে, আমার ডিঙি নাও? এই তো সেদিন, তোমার হাতে হাতটি রেখে, স্বর্ণকমল-পদ্মফুল খোঁপায়…
-
আত্মবিরহ; ভোর হয়,আবার অন্ধকার নামে
আত্মবিরহ ফজলুল হক বাতাসে দীর্ঘশ্বাস কেটে গেলো হৈমন্তিক পূর্ণিমা রাত, প্রেমহীন নগর প্রাচীরে ভোরের অপেক্ষা খাঁচাবন্দী সূর্যটা উঁকি দিয়ে যায় আঁধারের চাদর সরিয়ে, মনের দেয়ালচিত্রে ভেসে ওঠে স্বপ্ন ভাঙার কতো যে বিবর্ণ ছবি! এ যেনো ওবেলার নিখাদ ভালোবাসার নিস্ফল আত্মসমর্পণ। বেখেয়ালি বাতাসের ঝাপটায় ভেঙে পড়ে বিশ্বাসের ঘর অবিশ্বাসের ঝর্ণা জলে ভেসে যায় প্রেমালংকারে গড়া স্বপ্নতরী বৃথাই চেয়ে থাকে কিছু প্রাণ ব্যথার রক্তাক্ত দেয়ালে পরাজিত ক্লান্ত মানুষের মতো, যেখানে ভোরের আলো ফোটে না স্বাভাবিক নিয়মে সূৃর্যও ওঠে না প্রত্যাশার সূচনা সংগীত নিয়ে; মিষ্টি অনুভূতিগুলো শুধুই অভিসার খোঁজে বিরহের রং তুলিতে আঁকা অন্ধকারের গভীরে, এর নামই হয়ত ডুবতে ডুবতে বেঁচে ফেরা।…
-
বিষফুল (১ম পর্ব)
বিষফুল (১ম পর্ব) শফিক নহোর সকালে ঘুম থেকে উঠা নিয়ে শুরু হল সোনিয়ার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা। এমন করতে করতে একটা সময় সোনিয়া-মুরাদ দম্পতির ভেতর শুরু হয় জিদ। মুরাদ ঘুম থেকে খাটের উপর উঠে বসল। তারপর পা বাড়িয়ে বারান্দায় গিয়ে একটু দাঁড়িয়ে রইল। ভোরের প্রকৃতির প্রতি তার এক ধরনের নেশা কাজ করে। দাঁড়িয়ে ব্রাশ করতে করতে ওয়াশ রুমে ঢুকে পড়ল। বের হয়ে এসে দেখল, সোনিয়া ঘুমিয়ে আছে। বেড ট্রি তো দূরের কথা সকালের নাশতা পর্যন্ত তৈরি করেনি। এভাবে এক বছর চলতে থাকল। মুরাদ এক প্রকার হাল ছেড়ে দিয়েছিল। নিজের স্ত্রী সন্দেহ করে কেন? এই প্রশ্নটি মুরাদ তার স্ত্রীকে করেছিল। কিন্তু তার…
-
প্রেমের পদ্য-০১
প্রেমের পদ্য-০১ রেজাউল করিম শেখ এক বুকের ভেতর একটি নদী খরস্রোতা গহীন—গহন অন্ধকারে আলোর রেখা মুক্তো মতো জ্বলছে যেন প্রদীপ শিখা। অনিন্দিতা! ঘরটি তোমার পুড়লো ব’লে ডাকছে লোকে হর—হামেশা! অনিন্দিতা! দুই অনিন্দিতা! হাঁটছি দেখো প্রবলবেগে ঝরের মতো তোমার দিকে। বাসছি ভালো আঁধার কালো তোমার বুকে— তোমার মুখের প্রেতচ্ছায়া! শীতল জলে পা ধুয়েছি সামনে দেখি— উষ্ণজলের স্রোতরেখা- অলখ সাঁইয়ের পথরেখা। অনিন্দিতা! তিন নিষিদ্ধ আঁধারের গল্প কে না জানে! কে বা বলে ওসব গোপন কথা জনে-জনে! আঁধারের শবচ্ছেদ যারা করেছে বহুবার বহু কায়ক্লেশে তারাও আজ খড়—কুটো জ্বালায়- তামাকের ধোঁয়ার মতো উড়ায় জীবন পোড়ায় নিজ হাড়—গোড়, মাংশ—পেশি। চার তোমার…
-
তোমার প্রতিক্ষায়, তুমি যদি আমায় ভালোবাসো
তোমার প্রতিক্ষায় মযলুম মুসাফির প্রহর কাটে না তাই চেয়ে থাকি ঐ দূরপথ পানে, কত ভালোবাসা লালন করেছি মনের মধ্যিখানে। কত ফুল আমি খোঁপায় পড়েছি কত যে হাসনাহেনা, তোমার বার্তা দিয়েছে আমায় নীল দরিয়ার ফেনা। তোমায় বরণ করবো আমি সুমধুর গানে গানে, কিছু রঙ আমি ধার চেয়েছিনু আকাশের কানে কানে। কতকিছু চাই লাজে মরে যাই আমি যে অবলা বালা, গেঁথেছি বসিয়া যতন করিয়া বকুল ফুলের মালা। নীরবের মাঝে সরব হৃদয়, হবে যে মাল্যদান, আকাশ আলোকে অপলক চোখে পাখিরা গাহিবে গান। তোমার তরেতে নির্ঘুম কাটে কত মিশকালো রাত, হৃদয়ে তুলেছে ফেনিল তুফান প্রবাল ঝঞ্ঝাবাত। তুমি যদি হও সোনার হরিণ আমি তীর্থের…
-
অনন্ত, হয়ে গেল, বাঁকা দুটি আঁখি, কবি ও কবিতা
অনন্ত খোন্দকার আমিনুজ্জামান এক পলক দেখেছিলাম যারে সেই ঝলক উঁকি মারে বারে বারে। পলক ঝলকেই সেই স্নিগ্ধ হাতছানি হৃদয়ে এঁকে চলে অনন্য ছবিখানি আমি বিমোহিত হয়ে খুঁজি তারে। পূর্ণিমা আসে মাসে বর্ষা বর্ষে আসে তুমি এলে সারাটাক্ষণ থাকবো পাশে। শীত যায় আসে বসন্ত শরৎ হেমন্ত তোমাকে এঁকেছি হৃদয়ে তুমি তাই অনন্ত আমি বুক ভরা আশা নিয়ে খুঁজে ফিরি তারে। আরও পড়ুন খোন্দকার আমিনুজ্জামানের কবিতা- শরৎ স্বপ্ন সরসা শিউলি সুবাস দেশের মাটি হয়ে গেল দেখা হলো কথা হলো কী থেকে কী হয়ে গেল মধুর কাঁপন উঠিলো এক নবীনা আমার দিকে চেয়ে মিষ্টি হেসে দিলো আমার পরান কাড়িলো। শিহরিত হই…
-
মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (৩য় পর্ব)
মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (৩য় পর্ব) তারা পরিচিতি রিভিউ: তারা পরিচিতি জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশল শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রচিত একটি জ্যোতির্বিজ্ঞান গ্রন্থ। এই বইয়ে আধুনিক ৮৮টি তারামণ্ডলের সবগুলোর বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে। পৃথিবীর আকাশে তাদের অবস্থান এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত তারার তালিকা উল্লেখিত আছে। প্রত্যেকটি তারামণ্ডলের বৈশিষ্ট্য,অবস্থান চেনার সহজ উপায়,স্পষ্ট ম্যাপ এবং তারকা সমূহের চিহ্ন,বাংলা ও ইংরেজি নাম। বিশেষত্ব, উজ্জ্বলতা এবং জোড়াতারা সমূহেরও বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে বইটিতে। এছাড়াও বইটিতে বারটি রাশির আলোচনার পাশাপাশি তারার শ্রেণীবিভাগ (বিষম, যুক্ত, নব তারা), তারার আয়তন, উজ্জ্বলতা, সীমারেখা, Hour circle, Celestial equator, Meridian,অয়ন, বিষুবন চলন এর মতো জটিল বিষয়সমূহ অতি প্রাঞ্জল ও সাবলীল ভাষায় ব্যাখ্যা করা…
-
মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (২য় পর্ব)
মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (২য় পর্ব) জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা: মোহাম্মদ আবদুল জব্বার জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হয়েছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজে শিক্ষকতা করার সময়। এই কলেজে ছোট একটি অবজারভেটরি ছিল। সেখান থেকে টেলিস্কোপে আকাশের গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি দেখানো হতো। সে সময়েই জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলায় তাঁর লেখা বিভিন্ন নিবন্ধ প্রকাশিত হয় ‘মোহাম্মদী’, ‘সওগাত’, ‘পাঠশালা’ ইত্যাদি পত্রিকায়। বুয়েটে ড. রশীদ অধ্যাপক হিসেবে কাজ করার সময় তিনি রচনা করেন গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘বিশ্ব ও সৌরজগৎ’। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি বলেছেন “..জ্যোতির্বিদ্যা আমার সখের বিষয়।…” এই শখের বিষয়টি নিয়ে গবেষণাকাজ চালিয়ে যাবার ইচ্ছে তাঁর অবশ্যই ছিল। কিন্তু এর জন্য বিষয়োপযোগী বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম, গবেষণাগার ও…
-
মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (১ম পর্ব)
মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (১ম পর্ব) জ্যোতির্বিজ্ঞানী মোহাম্মদ আবদুল জব্বার (১৯১৫-১৯৯৩ খ্রি.) বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার অগ্রদূত। তিনিই প্রথম বাংলায় আকাশের তারাসমূহের ছক তৈরি করেন। তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও পরিকল্পনায় বাংলাদেশের প্রথম খ-গোলক নির্মিত হয়। পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে একজন শিক্ষাবিদ, লেখক ও বিজ্ঞানী। অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ড. কুদরত-ই-খুদা স্মৃতি পদক, একুশে পদক ও ব্রুনো পদকে ভূষিত হন। জন্ম: মোহাম্মদ আবদুল জব্বার ১৯১৫ সালের ১লা জানুয়ারি (শিক্ষা সনদ অনুযায়ী), পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত ভায়না ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক…






























