-
শ্রাবণ ধারা, দিন চলে যায়, অন্য আলো, নেতা
শ্রাবণ ধারা খোন্দকার আমিনুজ্জামান পর্দা ঠেলে জানালা খুলে দেখি গো শ্রাবণ ধারা ওরে ওরে ও। একলা ঘরে ঘুম আসেনারে বন্ধু আছে দূর-সুদূরে ঝরো ঝরো বৃষ্টি ধারায় বন্ধুর কথা মনে পড়ে ও। এমন শ্রাবণ ধারা আগে দেখেও দেখিনি এমন উন্মনা মন জীবনে আর আসেনি। মেঘের এমন কান্না দেখে আমার বুক ভাসে চারিদিকে আঁধার নেমে দিনে রাত আসে শ্রাবণ ধারায় দূর সীমানায় তারে কাছে দেখি গো। ও রে ও। আরও পড়ুন খোন্দকার আমিনুজ্জামানের কবিতা- বাদল দিন অপেক্ষা প্রগতির গতি স্বাধীনতা দিন চলে যায় কথায় কথায় দিন চলে যায় আসল কথাই বললে না। আশায় আশায় রইলো হৃদয় জ্যোৎত্মা কী গো বইবে…
-
হাইয়া আলাল ফালাহ্ (শেষ পর্ব)
হাইয়া আলাল ফালাহ্ (শেষ পর্ব) বিমল কুণ্ডু একটি টেবিলের পিছনে পর পর চেয়ার সাজানো হয়েছে। মাঝের চেয়ারে যুবক আর তার সঙ্গীরা বসেছে দু’পাশে। যুবক উঠে দাঁড়িয়ে জনতাকে উদ্দেশ্য করে বললো, আমরা যে কাজ করতে এসেছি সেটাই আপনাদের বলবো। এই যে বিজলী আলো দেখছেন, এই আলো আমরা চর হাফেজিয়ার প্রতিটি ঘরে জ্বালাতে চাই। আপনাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করে সবার মুখে হাসি ফুটাতে চাই। এই গ্রামে স্কুল হবে, হাসপাতাল হবে, মসজিদ হবে। আপনাদের সবার রুটি রুজির পথ করে দেয়া হবে। আপনারা নিজের পায়ে দাঁড়াবেন। বলেন, এসব চান কিনা? উপস্থিত জনতা একযোগে বলে ওঠলো, হ্যাঁ আমরা চাই । যুবক আবার বলতে শুরু করলো,…
-
কেমনে ভুলবো মাকে, প্রতিদান
কেমনে ভুলবো মাকে আলী হাসান এক স্যার এসে বললো আজকে ভুলে গেছ নাকি মা কে? বেশ কিছুদিন হয়ে গেল গত লেখনি তুমি যাকে! বললাম আমি তা কি হয় কভু? কেমনে ভুলবো মা? হৃদয় মাঝারে প্রথিত যে নাম ভুলতে পারিনা তা। মা মা করে ডাকতে যে চায় আমার কন্ঠ ধ্বনি, মা জননী রত্ন যে ছিল ছিল নয়নের মনি। যেথা দেখি মা অন্য কারো ধুকরে কাঁদে যে বুক। মা সোনা যেদিন ওপরে গেছেন সেদিনই ফুরেছে সুখ। মায়ের যত্ন এমনই রত্ন অনুভবে পাই আমি, জীবন চলতে যতজনই আসুক মা-ই তো ছিলো দামী। মা মা মা কত মধু…
-
হাইয়া আলাল ফালাহ্ (৪র্থ পর্ব)
হাইয়া আলাল ফালাহ্ (৪র্থ পর্ব) বিমল কুণ্ডু বন্যার পর আবার এল মহামারী। পর পর দু’টি ধকল কাটিয়ে যারা বেঁচে গেল গঞ্জ থেকে আসা সরকারের সামান্য রিলিফই তাদের ভরসা। এ অবস্থায় হুজুরের ফেলে যাওয়া খোঁড়া ছেলেকে খাওয়ায় কে? গ্রামের লোকেরা ধরাধরিতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও আজিজ মাতুব্বর তাকে আশ্রয় দিল। মাতুব্বরের উঁচু করে তোলা ধানের গোলায় তখনও কিছু ধান আছে। রক্ষা পেয়েছে বীজধানও। বন্যার পলিপড়া নতুন মাটিতে ধান বুনলে খুব ভাল ফসল হবে। এ সুযোগ কাজে লাগায় আজিজ সরদার। গ্রামের দুর্বল মানুষেরা একবেলা পেটভাতায় দিনরাত খাটে মাতুব্বরদের ক্ষেতে। কিশোর রহমতকেও লাগানো হয় কামলার কাজে। তার মতই একরকম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে থাকে চর…
-
নীরবতার খোলস ভেঙে, উন্মুক্ত হলো বৃত্তাবদ্ধতা
নীরবতার খোলস ভেঙে ফজলুল হক ভাবনার অভিপ্রায়ে মনের গহীনে বড্ড খচখচে ব্যথা অনুভূত হয় থেমে থেমে বহ্নিশিখার মতো জ্বলে সেতো অহর্নিশ। আমি জীবিতও নই,মৃতও নই ডুবেডুবে ভেসে থাকা প্রাণহীন এক প্রাণ তবুও আমায় উঠালে চিতায়! আমি নিষ্পাপ নই,অপরাধীও নই লুণ্ঠিত তোমার মন আমার হৃদয়ের ছোঁয়ায়,এটুকুই অপরাধ! তাইতো আজ বিচারের মুখোমুখি। চেয়ে দেখো সেই স্বপ্নপথ,স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে স্মিতহাস্য স্বপ্নেরা আজ কতো মলিন দ্বিধা আর দ্বন্দ্বে, তবু যেনো ওষ্ঠের কাছাকাছি স্বপ্নের কপোল শুধুই অপেক্ষা ছুঁয়ে যাওয়ার। আমি কিশোর নই,বৃদ্ধও নই যৌবনের বেড়াজাল ছিন্ন করা এক অভিযাত্রী, জোয়ারের বিপরীতে যার এখনও অবাধ সাঁতার হাজারো জরা-যন্ত্রণায় এখনও যে সতেজপ্রাণ, তবুও মনের আঙিনায় খটখটে…
-
প্রকৃতিতে হবো লীন, প্রকৃতি আমার ভালোবাসা
প্রকৃতিতে হবো লীন খোন্দকার হুমায়ূন কবীর ফের যদি আমি জন্মই নিই জন্মই নিই কভু প্রকৃতির মাঝে লীন যেন হই মিনতি জানাই প্রভু। প্রকৃতি আমার প্রেম ভালোবাসা প্রকৃতি আমার আশা প্রকৃতি আমারে বাহুডোরে বেঁধে কণ্ঠে দিয়েছে ভাষা। প্রকৃতিকে আমি ভালোবেসে তাই হতে চাই নদ-নদী বুক ভরা জলে কুলকুল রবে বয়ে যাবো নিরবধি। নদী যদি হই পাল তুলে বুকে বয়ে যাবে নাও কত! মনোলোভা সেই দৃশ্য হেরে হারাবোই অবিরত। নদীর পাড়ের ঘন বন হতেও আমার ইচ্ছে করে হাজারো পাখি কলকাকলিতে মুখর করবে স্বরে। পাখিদের সুরে সুর মিলিয়ে আমিও গাইব গান মনের খুশিতে সে গানের তালে ভরিয়ে তুলব প্রাণ। বনের পাড়ের পাহাড়ও…
-
অন্তর্জাল ও মৃত্যু
অন্তর্জাল ও মৃত্যু শফিক নহোর প্রচণ্ড রোদ। মা একাই রন্ধনশালায় কাঠ,গাছের শুকনো পাতা, মাচায় তুলে রাখছে যেন বর্ষা মৌসুমে রান্না করতে অসুবিধা না হয়। আমি এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। আমার বড়ভাই আমার ক্লাসমেট। যদিও আমার এক বছরের বড়। নায়ক আলমগীর ওর খুব প্রিয়। আমাকে বলেছে, সিনেমা দেখে বাড়ি আসবে বন্ধুদের সঙ্গে। মা আমাকে একা দেখেই প্রশ্ন করল, ──ঝন্টু কোথায়? ──মা, ঝন্টু পরে আসবে। আমি একাই চলে এসেছি কাঁথা-কাপড় নিয়ে। মা, শাড়ির আঁচল দিয়ে আমার মুখের ঘাম মুছে দিয়ে বলল, __পড়ের বাড়িতে লজিং থেকে তো একেবারে শুকাইয়া গেছিস। শিগগীর হাত-পা ধুয়ে ঘরে আয়। ভাত খাবি। মায়ের…
-
মানবতার ছায়াতলে, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, সুখ-সরোবর
মানবতার ছায়াতলে মো. হাতেম আলী ফেলিস নে মা- চোখের জল আর মুছে ফেল আঁখি দুটি, তোর দু’চোখের লোনা জলে ভরেছে সাগর-নদী; সংস্কারের নাম বেঁচে খাচ্ছে ওরা ঘাড়ে বসে মরছি তার দহন বিষে! এখন না মা তাড়াই যদি, দুঃশাসন ও পাপের ঘোড়া ছুটবে মরূৎ-বোম ভেদী । তোর আশিষে- জাগবে ওমা লাগলে ছোঁয়া দুষ্টু ছেলে, বিপদ-গামী হয়ে যারা গিয়েছে মা তোকে ভুলে ; শপথ মা তোর চরণ ছুঁয়ে শোষণ-পীড়ন,দহন জ্বালা চিরতরে দেবো ধুয়ে। ঐ দ্যাখো মা চোখ মেলে, দাগতে কামান আসছে ধেয়ে মুক্তিকামী তোর ছেলে..।। সাম্প্রদায়িক বিভেদ ভুলে- আয়রে নবীন দলে দলে মানবতার ছায়াতলে, ঝাণ্ডা হাতে বুক ফুলিয়ে আয়রে তোরা মশাল…
-
নাজিরগঞ্জে পাকবাহিনীর ফেরি ধ্বংস
নাজিরগঞ্জে পাকবাহিনীর ফেরি ধ্বংস ১৯৭১ সালের ২৪ অক্টোবর, রোববার। পাবনা জেলার সুজানগর থানার নাজিরগঞ্জে আমরা অবস্থান করছি। …নদীর একদম পাড়ে নাজিরগঞ্জ তহসিল অফিসের পাকা বিল্ডিং। যেকোনো সময় নদীতে ভেঙে পড়তে পারে এ রকম অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। অফিসের কাছাকাছি এক বাড়িতে আমি, দুলাল, শামছুল, রাজ্জাক, সামাদ ভাই, হাবিব, ইসমত, হুমায়ুন, হান্নান, তোফা, হাই, মোস্তফা, হেলাল, মাহতাব, জমির, ছাদেকসহ প্রায় ৩০ জন সেখানে অবস্থান করছি। আরও কিছু মুক্তিযোদ্ধা আমাদের থেকে একটু দূরে বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। পরপর কয়েক রাত ধরে অপারেশন চলছে। তাই সবাই খুব ক্লান্ত, কিছু বিশ্রামের দরকার। আশপাশের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে ছুটি পাঠানো হয়েছে। সকালে দুলালের সঙ্গে সুজানগর থানার ম্যাপ নিয়ে…
-
হাইয়া আলাল ফালাহ্ (৩য় পর্ব)
হাইয়া আলাল ফালাহ্ (৩য় পর্ব) বিমল কুণ্ডু দিনের আলো ফুটে উঠেছে। রহিম সেখ নবীন হুজুরের সামনে হাত জোড় করে দাঁড়ায়। করুণ কণ্ঠে বলে, হুজুর নাস্তার কোন ব্যবস্থা নাই। গুনাগার বান্দারে মাফ কইরা দ্যান। এমন সময় মতি এক খুঁড়ি দুধ হুজুরের সামনে এনে রাখে। রহিমের মুখ উজ্জ্বল হয়। অতি ব্যস্ত হয়ে তাড়াতাড়ি বলে ওঠে, আল্লাহ মান রাখছে। হুজুর নেকবান্দা, দুধড়া খাইয়া লন। হুজুর শান্তকণ্ঠে জিজ্ঞেস করেন, এই গ্রামে খুব অভাব, তাই না? রহিম সেখ উত্তর দেয়- খুউব। হঠাৎ হুজুর উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, চলেন, আপনাদের গ্রামটা একটু দেখে আসি। দুধড়া খাইয়া লন হুজুর। রহিম অনুরোধ জানায়। হুজুর জবাব দেন-না, এত অভুক্ত…






























