• বই পর্যালোচনা,  সাহিত্য

    অধরা চাঁদ উপন্যাস রিভিউ

    অধরা চাঁদ উপন্যাস রিভিউ শফিক নহোর   মানব জীবন ফুলের মতো। তবুও সব ফুলের সৌরভ সবাই গ্রহণ করতে পারে না। জীবন সহজ হলেও অদৃশ্য কিছু কূটিল মানুষের জন্য, সেই জীবন বাস করার অযোগ্য হয়ে পরে। বিয়োগ বেদনায় কেউ কেউ স্বস্তি পায়। মানব জনম বড়ই বিচিত্র। নিজের পাশেই হয়তো অতি প্রিয় মানুষটি থাকে। অন্তর চক্ষু দিয়ে তাকে দেখা হয় না । জীবন ও জীবনবোধের গল্প নিয়েই তরুণ লেখিকা শাহানাজ মিজান সহজ সাবলীল ভাষায় তার দেখা জীবনকে কিছু শব্দ দিয়ে বুনেছেন এক বিচিত্র মানব জীবন। উপন্যাসে প্রধানত সমাজ জীবন প্রতিফলিত হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক সমস্যাসমূহও এতে প্রধান হয়ে…

  • তিল-তাল
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    তিল তাল

    তিল তাল শফিক নহোর   ক. প্রচণ্ড শীত। বাড়ি থেকে আসার সময় ছোট একটা চাদর নিয়ে এসেছিল শরিফ। যদিও আজ কয়েক দিনে সে বুঝতে পারছে, চাদর দিয়ে শীতকে কাবু করা যাবে না । শরিফকে এয়ারপোর্ট থেকে আলী নামের একজন ভদ্রলোক রিসিভ করেছে। ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে কথা হয়েছে। শরিফ অনুভব করতে পারল, ভাপা পিঠা তৈরি করতে যেমন পানির ভাপ বের হয়, কান দিয়ে ঠিক তেমন গরম ভাপ বের হচ্ছে । কেরালা একটা হোটেল থেকে রাতের খাবার খেয়ে, দুজন রওনা হল শরাফিয়া নামক ছোট্ট শহরে। সেখানে তিনতলা একটা বাড়িতে শরিফের থাকার জায়গা ঠিক করে রেখেছে আলী। লোকটাকে আজ ক’দিন দেখে যা বুঝতে…

  • নীরুর-মা
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    নীরুর মা

    নীরুর মা শফিক নহোর   মহা ধুমধামে বিয়ে হলো আমার। বউ দেখে সবার পছন্দ। কিন্তু আমার নিজের মনের মাঝে প্রায় সময় যোগ-বিয়োগ হতো। আমার বউ তমা, নতুন অতিথির জন্য ব্যাকুল! বিয়ের তিন মাসের মাথায় সে সুখবর দিল। এমন একটা খবরে বাড়ির সবার ভিতর এক ধরনের স্বস্তি দেখতে পেলাম। কিন্তু কেন? সে প্রশ্নের জবাব আমার জানা নেই। আমার শাশুড়ি চাইতো আমি তার মতো করে চলি। আমার তা কখনো হয়ে ওঠেনি। এ নিয়ে তমার সঙ্গে মাঝে মধ্যে দু-চার কথা হতো। অনেক কিছুর কৈফিয়ত সে আমার কাছে চাইতো! আমি প্রচণ্ড অস্বস্তিবোধ করতাম। আমার ব্যক্তিগত জীবনে অন্য মানুষের প্রভাব পড়ুক, সেটা আমার কাম্য ছিল…

  • আড়ালের-চোখ
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    আড়ালের চোখ

    আড়ালের চোখ শফিক নহোর   নাসির ভাইদের বাড়ির পাশে খোলা মাঠ, তার সঙ্গে আবাদি জমি। ডীপ মেশিনের পানি দিয়ে ধানের আবাদ করে। ধানের মাঠ বাড়ি থেকে দেখা যায়। কেউ কেউ গোসল করতে আসে। মামী আমাকে সেদিন বলেছিল, ──আমরা ডীপ মেশিনে গোসল করতে যাব। আমি আর ছোট মামী একসঙ্গে গোসল করতে গেলাম। ডীপ মেশিনের ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে পরান ডা জুড়িয়ে যায়। পানি এত ঠাণ্ডা! গোসল করার পর মনে হয়, সারা দিনের ক্লান্তি এক নিমেষে দূর হয়ে যা। কোনো কোনো দিন বিদ্যুৎ না থাকলে একটু বসে থাকি, বাঁশের একটি পুরাতন মাচালের উপর। কত বিচিত্র রকমের গল্প হয় সেখানে! আমাদের দেখাদেখি…

  • পুরাতন-বটবৃক্ষ
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    পুরাতন বটবৃক্ষ

    পুরাতন বটবৃক্ষ শফিক নহোর   বড়খাঁপুরের মানুষজন কী বিচিত্র ধরনের! কেউ কেউ বলে, তারা নাকি চুলার ভেতরে ঠ্যাঙ দিয়ে ভাত রান্না করে। অবাক হবার কথা, আমি নিজেও অবাক হলাম! বিষয়টি খুব সহজে নিতে পারিনি প্রথমে। এটাও কি সম্ভব! কী করে মানুষ এমন করতে পারে। কোন আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে আসলে, না খাইয়ে দুপুর পর্যন্ত রাখবে। সকালবেলা নদীর ধার দিয়ে হাঁটছি; আশেপাশের লোকজন খোলা মাঠে প্রকৃতির কাজ সেরেছে, চরম দুর্গন্ধ আসতে লাগল মৃদু বাতাসের সঙ্গে। নাকে হাত চেপে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হলাম। গ্রামের মানুষগুলোর সহজ-সরল সমীকরণ, খেয়ে পড়ে কোনো মত দিন পাড় করতে পারলেই বেঁচে যায়। কে কাকে নিয়ে এত ভাবে…

  • চোখে-দেখা-নীলকণ্ঠ-শেষ-পর্ব
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    চোখে দেখা নীলকণ্ঠ (শেষ পর্ব)

    চোখে দেখা নীলকণ্ঠ (শেষ পর্ব) শফিক নহোর   খ. সেলিনা চরিত্রের মানুষটি আমার পাশের বাড়ির। স্বামী সংসার নিয়ে তিনি এখন ঢাকার শহরে থাকেন। রংপুর শহরে তিনি প্রথম যখন বাড়ি করেন; বাবা যে খাটে ঘুমাতো তা নিয়ে যেতে সেলিনা ভাবি যে পরিমাণ কূট কৌশল প্রয়োগ করেছিলেন! আমেরিকা ইরাকে যুদ্ধ করবোর সময় প্রেসিডেন্ট বুশ এমন কূট কৌশল অবলম্বন করেছিল না। বাবা মনে মনে ভীষণ কষ্ট পেয়েছিল। কিন্তু কারো কাছে কখনো মন খুলে কিছু বলেনি। অন্য ছেলের বউ যদি কিছু বলে। বাবা শুধু সন্তানের সুখের জন্য ব্যস্ত ছিল। বউমার কূট কৌশলে পরিবারের সবার কাছে নিজেকে সে এমন একজন খারাপ মানুষ হিসেবে বহিঃপ্রকাশ করেছে;…

  • চোখে-দেখা-নীলকণ্ঠ-১ম-পর্ব
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    চোখে দেখা নীলকণ্ঠ (১ম পর্ব)

    চোখে দেখা নীলকণ্ঠ (১ম পর্ব) শফিক নহোর   ক. আজ থেকে প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর আগের ঘটনা। ফাগুনের এক সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে দেখলাম, পাঁচজন মানুষ বাঁশের সঙ্গে বেঁধে একটি মরা গরু নিয়ে যাচ্ছে। তা দেখে গফুর ভাইকে প্রশ্ন করলাম। কথা প্রসঙ্গে বিভিন্ন কথা বলল। জানতে পারলাম, ফকির বাড়ির গাভিন গাই মরে গেছে, তা বাড়ির পাশের হালটের দক্ষিণ দিকে চেয়ারম্যানর বাড়ি যাওয়ার পথে যে জঙ্গল সেখানে ফেলে দিতে নিয়ে যাচ্ছে। আমি স্কুল থেকে ফেরার পথে দেখি আকাশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে শকুন নেমে পড়ছে। মরা গরু নখ দিয়ে ছিঁড়ে খেতে দেখে আমি অদ্ভুত ভাবে দাঁড়িয়ে রইলাম। শকুন দেখার জন্য আশপাশের গ্রামের লোকজনের…

  • বিষফুল-শেষ-পর্ব
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    বিষফুল (শেষ পর্ব)

    বিষফুল (শেষ পর্ব) শফিক নহোর  মুরাদকে যখন সে এত অবিশ্বাস করে, তাকে ডির্ভোস দিয়ে অন্য কোনো ছেলেকে বিয়ে করতে পারত। সোনিয়া তা করেনি কেন? এ প্রশ্নের জবাব মুরাদ জানে না। মুরাদ কি করত, কেন করত? তার সমস্ত জবাব দিতে হত সোনিয়ার নিকট। এটা ছিল মুরাদের সবচেয়ে অপছন্দের বিষয়। এখন তো তাকে এসব প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য নয় মুরাদ। সে আলাদা থাকছে। তাদের সন্তানকে দেশেরে বাইরে রেখে পড়াশোনা করাতে হচ্ছে। এমন পরিবেশে বাচ্চা মানুষ হবে না ভেবে আগেই পাঠিয়ে দিয়েছিল। এই পরিবেশে থাকলে যা দেখবে তাই শিখবে। তখন বাচ্চাকে দোষ দিলে হবে না। এদিকে সংসার ঝুলে আছে বেগুন গাছে। নিজের দেশে…

  • বিষফুল-১ম-পর্ব
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    বিষফুল (১ম পর্ব)

    বিষফুল (১ম পর্ব) শফিক নহোর    সকালে ঘুম থেকে উঠা নিয়ে শুরু হল সোনিয়ার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা। এমন করতে করতে একটা সময় সোনিয়া-মুরাদ দম্পতির ভেতর শুরু হয় জিদ। মুরাদ ঘুম থেকে খাটের উপর উঠে বসল। তারপর পা বাড়িয়ে বারান্দায় গিয়ে একটু দাঁড়িয়ে রইল। ভোরের প্রকৃতির প্রতি তার এক ধরনের নেশা কাজ করে। দাঁড়িয়ে ব্রাশ করতে করতে ওয়াশ রুমে ঢুকে পড়ল। বের হয়ে এসে দেখল, সোনিয়া ঘুমিয়ে আছে। বেড ট্রি তো দূরের কথা সকালের নাশতা পর্যন্ত তৈরি করেনি। এভাবে এক বছর চলতে থাকল। মুরাদ এক প্রকার হাল ছেড়ে দিয়েছিল। নিজের স্ত্রী সন্দেহ করে কেন? এই প্রশ্নটি মুরাদ তার স্ত্রীকে করেছিল। কিন্তু তার…

  • অন্তর্জাল-ও-মৃত্যু
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    অন্তর্জাল ও মৃত্যু

    অন্তর্জাল ও মৃত্যু শফিক নহোর    প্রচণ্ড রোদ। মা একাই রন্ধনশালায় কাঠ,গাছের শুকনো পাতা, মাচায় তুলে রাখছে যেন বর্ষা মৌসুমে রান্না করতে অসুবিধা না হয়। আমি এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। আমার বড়ভাই আমার ক্লাসমেট। যদিও আমার এক বছরের বড়। নায়ক আলমগীর ওর খুব প্রিয়। আমাকে বলেছে, সিনেমা দেখে বাড়ি আসবে বন্ধুদের সঙ্গে। মা আমাকে একা দেখেই প্রশ্ন করল, ──ঝন্টু কোথায়? ──মা, ঝন্টু পরে আসবে। আমি একাই চলে এসেছি কাঁথা-কাপড় নিয়ে। মা, শাড়ির আঁচল দিয়ে আমার মুখের ঘাম মুছে দিয়ে বলল, __পড়ের বাড়িতে লজিং থেকে তো একেবারে শুকাইয়া গেছিস। শিগগীর হাত-পা ধুয়ে ঘরে আয়। ভাত খাবি। মায়ের…

error: Content is protected !!