• মানুষ-হয়ে-উঠা
    কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

    মানুষ হয়ে উঠা, আলো-আঁধারি

    মানুষ হয়ে উঠা ফজলুল হক   তুমি তারুণ্য দীপ্ত রুদ্ধ দুয়ার ভেঙে আলোর মশাল জ্বালাতে চাও? একটু পিছনে তাকাও দেখতে পাবে ভুল পথে ছড়িয়ে আছে অমীমাংসিত কিছু বিস্মৃতি। আরো একটু পিছনে দ্যাখো সময়ের কৃষ্ণ গহ্বরে কিছু অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতার মৃদু গন্ধ অনুভূত হবে। ব্যর্থতার এসব ভুল গল্প থেকে নির্ভয়ে বেরিয়ে এসো, কী দেখতে পাচ্ছো? চলার পথটা সংকোচিত করা হচ্ছে, তথাকথিত মানুষরুপী দানবেরা দুর্বলদের বাকস্বাধীনতা ও অধিকার আকণ্ঠ গ্রাস করছে জগদ্বাসী অসহায় কাঁদছে; চাওয়া-পাওয়ার মাঝে নিদারুণ অসন্তুষ্টির হাটবাজার বসেছে প্রতারিত হচ্ছে ভাবাবেগ মানচিত্র কে খামছে ধরছে উলঙ্গ সমৃদ্ধ শকুনের দল, নৈতিকতাকে পরাজিত করবার নির্লিপ্ত খায়েশে উদ্যমতার পায়ে শিকল পরানোর অপচেষ্টায় তারা প্রমত্ত,…

  • শিরোনামহীন-সম্পর্ক; amadersujanagar.com
    কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

    শিরোনামহীন সম্পর্ক, মনের বীজতলা

    শিরোনামহীন সম্পর্ক ফজলুল হক   কিছু সম্পর্ক আজীবন শিরোনামহীন থেকে যায় দীর্ঘশ্বাসে পোড়ে ঘরহীন ঘরের আঙিনা; যাপিত জীবনের আয়নায় মুখ দেখে ইদানীং নিজেকে বড্ড অচেনা মনে হয়। বন্ধপ্রায় মনের দরজা খুলে তৃষ্ণার্ত দুপুরে যুবতি জলের ঘ্রাণ হৃদয়ঙ্গম করি, জলকেলি জলে পা ভিজিয়ে স্বপ্ন বোনার স্বপ্ন দেখি। জলসিঁড়ি ভেঙে তুমিতো পারো সমুদ্র অবগাহনে মেতে উঠতে, আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অপরিণামদর্শী প্রেম সীমাহীন সীমানায় বেপরোয়া ছুটে চলে শিরোনামহীন মুহূর্তগুলো সম্পর্কের বাইরে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, যেনো হৃদয়ের কতো কাছে বসবাস। চোখ বন্ধ করে চলে যাই আদিম পথে মনে হয় তুমি আমি ওখানেও পথ হেঁটেছি যুগপৎ। মৃত্যুর পথ ধরে হেঁটে হেঁটে কান্নার ধ্বনি শুনে শিউরে উঠি…

  • নীল-সমীকরণ
    কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

    নীল সমীকরণ, মেঠো গন্ধ

    নীল সমীকরণ ফজলুল হক   আষাঢ়ের বৃষ্টিস্নাত রাত ধূসর দৃষ্টির উপত্যকায় নেমেছে নিকষ আঁধার; জানালার গ্রীলে মুখ গুঁজে দাঁড়িয়ে, কদম ফুলের পাপড়ি ধোয়া বৃষ্টিজল টিপটপ শব্দে টিনের চালে অনিবার পড়ছে। নীলহীন বদলে যাওয়া আকাশটা স্থির একা কোথাও নেই জোনাকির আলো না আছে পাখিদের কূজন, সঙ্গী বলতে মাঝেমধ্যে অদূরে ঝিঁঝিপোকার ক্ষীণ ডাক অনুভব করছি। রাত এগিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের খেয়ায়, একাকিত্বের অতল গহীনে ডুবে যাচ্ছি একটু একটু করে; তৃষ্ণালু চোখের বিদগ্ধ পাতায় স্মৃতিরা সাড়ম্বর কবেই শুকিয়ে গেছে অশ্রু চোয়ানো বেওয়ারিশ লোনা জল, বুকের ভেতর বয়ে যাওয়া বেসামাল উত্তাল ঢেউ মিশে গেছে বার্তাহীন ছেঁড়া পথে। জানি না,সে এখনও আষাঢ়ে বৃষ্টিতে ভিজে কিনা; মুঠোভরা…

  • নির্জলা-উপবাস
    কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

    নির্জলা উপবাস, চন্দ্রমুখী, তোমার ভালোবাসা

    নির্জলা উপবাস ফজলুল হক   বৃষ্টি থেমে গেছে অনেক আগেই কার্ণিশে জল ঝরছে.. মন করিডোরের অন্ধগলির দেয়াল ভাঙা পথে নিমগ্ন ভাবনার দ্বারে শীস দিয়ে যায় ধূসর স্মৃতিরা। রাত্রির আকাশে হেঁটে হেঁটে ইচ্ছেরা ক্লান্ত চাঁদের দূরত্ব রেখায় আঁকে ক্ষয়িত জীবনের আল্পনা। জানি না গন্তব্য কোথায় তবুও পথ খোঁজার শেষ নেই; অন্তর্গৃহে সুখের ছায়া স্পর্শে নয় মরা নদীর শূন্যতার শেষ ঠিকানা অবধি অবিশ্রাম তোমাকে খুঁজেছি, খুঁজেছি– গাঙচিল ওড়া উদার আকাশের নীচে বুড়িগঙ্গার জোয়ার জলে নায়তে আসা অজস্র রমনীর ভিড়ে। কী এক অদ্ভুত বাসনায় আচমকা গোত্র বদলে ফেলেছো বদলেছে উচ্ছ্বাস, তোমার আকাশেও ভিন্ন রঙের মেলা। হেঁসেলের ধোঁয়া, পোড়া মাটির গন্ধ তাল পাখার বাতাস–…

  • দাঁড়িয়ে-আছি-ভুল-দরজায়
    কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

    দাঁড়িয়ে আছি ভুল দরজায়, প্রশ্ন তোমাকে

    দাঁড়িয়ে আছি ভুল দরজায় ফজলুল হক   রাত গভীর না হলে সমুদ্রের রহস্য যেনো বোঝা যায় না, আমিও অপেক্ষায় ছিলাম অতঃপর ভোর হয় সূৃর্যের আলো গায়ে ফোটে তখন বুঝতে পারি আমিও যে বেঁচে আছি। সময় হারিয়ে যায় ভালোবাসায় মেঘ জমে অবেলায় চোখও হারিয়ে ফেলে নির্ভার চেয়ে থাকার অধিকার; অজানা ঝড়ে অভিন্ন ঠিকানাও বয়ে চলে ভিন্ন পথে, তবুও ভৌগলিক সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে ভালোবাসা ডেকে যায় চেনা সুরে ভুল মানুষের ভুল দরজায়। ফিরিয়ে নিলাম কথা নিয়তির নিয়ম মেনে তোমাকে আর ভাববো না, ওষ্ঠে আগুন জ্বালিয়ে বেদনার অশ্রু শুকিয়ে নিবো, হৃদয়ে পাথর চেপে অনুভূতিকে শ্বাসরুদ্ধ করে রাখবো আমৃত্যু চোখে বেঁধে রাখবো কালো কাপড়;…

  • আত্মবিরহ
    কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

    আত্মবিরহ; ভোর হয়,আবার অন্ধকার নামে

    আত্মবিরহ ফজলুল হক   বাতাসে দীর্ঘশ্বাস কেটে গেলো হৈমন্তিক পূর্ণিমা রাত, প্রেমহীন নগর প্রাচীরে ভোরের অপেক্ষা খাঁচাবন্দী সূর্যটা উঁকি দিয়ে যায় আঁধারের চাদর সরিয়ে, মনের দেয়ালচিত্রে ভেসে ওঠে স্বপ্ন ভাঙার কতো যে বিবর্ণ ছবি! এ যেনো ওবেলার নিখাদ ভালোবাসার নিস্ফল আত্মসমর্পণ। বেখেয়ালি বাতাসের ঝাপটায় ভেঙে পড়ে বিশ্বাসের ঘর অবিশ্বাসের ঝর্ণা জলে ভেসে যায় প্রেমালংকারে গড়া স্বপ্নতরী বৃথাই চেয়ে থাকে কিছু প্রাণ ব্যথার রক্তাক্ত দেয়ালে পরাজিত ক্লান্ত মানুষের মতো, যেখানে ভোরের আলো ফোটে না স্বাভাবিক নিয়মে সূৃর্যও ওঠে না প্রত্যাশার সূচনা সংগীত নিয়ে; মিষ্টি অনুভূতিগুলো শুধুই অভিসার খোঁজে বিরহের রং তুলিতে আঁকা অন্ধকারের গভীরে, এর নামই হয়ত ডুবতে ডুবতে বেঁচে ফেরা।…

  • নিরবতার-খোলস-ভেঙে
    কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

    নিরবতার খোলস ভেঙে, উন্মুক্ত হলো বৃত্তাবদ্ধতা

    নিরবতার খোলস ভেঙে ফজলুল হক   ভাবনার অভিপ্রায়ে মনের গহীনে বড্ড খচখচে ব্যথা অনুভূত হয় থেমে থেমে বহ্নিশিখার মতো জ্বলে সেতো অহর্নিশ। আমি জীবিতও নই,মৃতও নই ডুবেডুবে ভেসে থাকা প্রাণহীন এক প্রাণ তবুও আমায় উঠালে চিতায়! আমি নিষ্পাপ নই,অপরাধীও নই লুণ্ঠিত তোমার মন আমার হৃদয়ের ছোঁয়ায়,এটুকুই অপরাধ! তাইতো আজ বিচারের মুখোমুখি। চেয়ে দেখো সেই স্বপ্নপথ,স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে স্মিতহাস্য স্বপ্নেরা আজ কতো মলিন দ্বিধা আর দ্বন্দ্বে, তবু যেনো ওষ্ঠের কাছাকাছি স্বপ্নের কপোল শুধুই অপেক্ষা ছুঁয়ে যাওয়ার। আমি কিশোর নই,বৃদ্ধও নই যৌবনের বেড়াজাল ছিন্ন করা এক অভিযাত্রী, জোয়ারের বিপরীতে যার এখনও অবাধ সাঁতার হাজারো জরা-যন্ত্রণায় এখনও যে সতেজপ্রাণ, তবুও মনের আঙিনায় খটখটে…

  • সময়ের-স্মারকলিপি
    কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

    সময়ের স্মারকলিপি, হালচাল

    সময়ের স্মারকলিপি ফজলুল হক   আজকাল মুঠোফোন আমাকে তেমন ব্যস্ত করে না, সময়ের বিষন্ন প্রচ্ছদ এখন নিত্যদিনের অবসর সঙ্গী। মাঝরাতে ভরা জোছনায় জানালার পাশে বৃদ্ধ ডুমুর গাছটির দিকে অপলক চেয়ে থাকি রাতজাগা পাখিদের সরবতা আর সেরকম দৃষ্টি কাড়ে না; স্বপ্নভ্রষ্ট রাত নীরব আকাশ ঘিরে একটু একটু করে ক্ষয়ে যায় ক্লান্ত চোখের পাতায়; পরিণীতা,সহস্ররাত অপেক্ষার শেষ গল্পটা তোমাকে শোনানো হলো না। সময় এক অদ্ভুত যাদুকর তবুও তোমাকে ভুলতে দেয় নি, যখন একাকিত্ব আমাকে ঘিরে ধরে তখন অগত্যা নিজের গায়ে বন্ধকী ঘ্রাণটুকু আস্বাদন করি, হাত দুটো বারবার দু’চোখের সামনে মেলে ধরি এ হাতেই মাথা রেখে নির্ভার কাটিয়েছো অনেকটা সময়। হৃদয়কাড়া আঁখি, চুলের…

  • মেঘে-যতো-জল
    কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

    মেঘে যতো জল

    মেঘে যতো জল ফজলুল হক   ভীষণ তাড়াহুড়ো মুক্তি চাইছো? অথচ দুজনার অভিন্ন স্বপ্ন ছিলো, একটা ছোট্ট ঘর হবে ঘরের এক কোণে মেঠোফুলের ফুল সজ্জা, ছোট শিশুর হামাগুড়ি ও আধো আধো বোলে শব্দ অন্বেষার শব্দে আমাদের ঘরটি দিনে দিনে বাড়ি হয়ে উঠবে, শুরু হবে একটি নতুন গল্পের পথচলা। সংসারে অনেক অভাব থাকবে আমি একটু একটু করে পূরণের চেষ্টায় ক্লান্ত হয়ে যখন বাসায় ফিরবো তুমি তখন তালপাখা দিয়ে বাতাস করতে করতে মনের খোঁজ জেনে নেবে; হৃদয় ভিটেয় জ্বলে উঠা আগুন নিভিয়ে লজ্জা লুকানো হাসি মুখে বলবে,শোনো খুকির বাপ আমার এত্তো কিছু দরকার নাই, একবেলা পান্তা হলেই চলবে। কথা ছিলো সংসার পাতার…

  • https://amadersujanagar.com/wp-content/uploads/2021/09/-উঠোন-amadersujanagar.com_-1-e1632297307792.jpeg
    কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

    কালের উঠোন

    কালের উঠোন __// ফজলুল হক   প্রস্থানেই যদি সব শেষ হয়ে যায় সে নাম লিখো না হৃদয়-খাতায়, বেলা শেষে যদি দেখো অনাদরে পড়ে আছে গোপন কথার খোলা সিন্দুক, ভেবে নিও কোনো কথা হয়নি লেখা হৃদয়-গভীরে। গগনে মধ্য দুপুরের সূর্য্যের মতো যে আগুন বিলায় ভালোবাসা মন বলে সে শুধু পোড়াতেই জানে। কেউ একজন আসে দীঘল পথের মতো সুবিস্তীর্ণ সময় সাথে নিয়ে, সুরভিত শয্যা-আলিঙ্গনে হৃদয় খামে লিখে ঠিকানা বিলাসী। তারপরও কালের অমোঘ নিয়মে অন্তর্হিত হলে, সাড়ম্বর পড়ে থাকে সেই মাধবী রাত অমল আলোয় গড়া জাগতিক রঙের সংসার। অতঃপর আরো কিছুদিন গেলে  প্রস্থিত এই তুমি স্মৃতির সম্ভার ফুঁড়ে  হয়ে ওঠো গুরুত্বহীন গদ্য রচনা;…

  • বেওয়ারিশ অশ্রু-amadersujanagar.com
    কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

    বেওয়ারিশ অশ্রু

    বেওয়ারিশ অশ্রু ফজলুল হক   এতোদিন পরেও দেখো কোলাহলময় স্মৃতির চত্বর জীবনের মতোই যেনো ব্যস্ত, শুধু নতুনের ভীড়ে বদলে গেছে সময়ের আয়োজন। এভাবেই গল্প মুছে আর এক গল্পের পাণ্ডুলিপি লিখে যায় প্রত্নতাত্ত্বিক সময়, কালের আবর্তে মানুষ হয়ে ওঠে স্মৃতির শিরোনাম।   মনে আছে তোমার? শেষবার কোথায় দেখা হয়েছিলো? অভিমানে চোখ নামিয়ে বললে, হবে হয়ত প্রিয় ক্যাম্পাসে, গোধূলির কফিশপে অথবা মেঠোপথে; ভাগ্যিস বলোনি যে, কখনো দেখা হয়নি তো।   বিষাদের ক্লান্তি ছাপিয়ে কী যেনো একান্ত ভাবতেই তোমার বেওয়ারিশ অশ্রু নিঃশব্দে গড়িয়ে গড়িয়ে তৃষ্ণার্ত মাটিকে করে গেলো ঋণী, আমি জেনে গেলাম  জল নিঃসরণের ইতিবৃত্ত ভালো নেই তুমি ঠিক আগের মতো। আর কখনো…

  • সীমাবদ্ধতা
    কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

    সীমাবদ্ধতা

    সীমাবদ্ধতা ফজলুল হক   অগণন বিবর্ণ চুলে বয়স গুনছো? জানিয়ে দিলাম- প্রতিটি ধূসর চুলে এক একটি বছর লুকিয়ে রেখেছি; স্বচ্ছলতার কথা ভাবছো? আমার সীমাবদ্ধতার দিকে তাকিয়ে দ্যাখো, পূরণের উপায় নেই জেনে অভাবগুলো ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে; কী খাই, কী পরি-এসব জানাও একান্ত দরকার, তাই তো? বন্ধ হেঁসেলের সকরুণ কান্না শোনো, কতোবার আশ্বাস দিয়েও তার জ্বলে ওঠার উপকরণ দিতে ব্যর্থ হয়েছি। বাঁশ-বিছানায় বসে চালের ফুটোয় যখন আকাশের তারা দেখতে পাবে বৃষ্টিতে ঘরে-বাইরে যখন তেমন কোনো ব্যবধান খুঁজে পাবে না তখনই বুঝতে পারবে আমার মাথা গুঁজবার ঠাঁই আর তৈজসপত্র কতো নাজুক! দৈন্যের কাছে হেরে যাই বারবার সময়ের ধূসর আয়নায় থমকে দাঁড়াই! আর…

  • মেঠোপথে
    কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

    মেঠোপথে

    মেঠোপথে  ফজলুল হক   সবুজ কুঁজবন আর মাঠ অবিশ্রামী মানুষের পাহারায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে খড়কুটোর সারি সারি ঘর, কুয়াশার কান্না শেষে সোনালি রোদের অকৃপণ হাসি শীর্ণ দেহে উষ্ণতার প্রলেপ; পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত সবুজ ঝোপঝাড়– মাঝের সরু আলটি ধরে চলে গেছে কোন সুদূরের গ্রাম, যেনো সোনালি-সবুজে আঁকা চিরচেনা জীবনের আল্পনা। রাখালের ভাটিয়ালি গান কৃষাণ কৃষাণীর মনে ছন্দের দোলা, কী করে ভুলি আমিও যে এই মাটিরই সন্তান! বিধবা মায়ের একাকীত্বতা আঁকে ধূসর জীবনের আল্পনা, ঋণের বোঝা মাথায় ফিরবো ফিরবো করে ফেরা হয় না, তারপর ফেরা হলো। শিশিরভেজা মেঠোপথে বেদনার দীপ নিভে জীবন উপভোগ করি ফসলের লকলকে ডগায়; রিক্ত নীড়ে হেসে…

  • নিঃসঙ্গ-নির্জনতা
    কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

    নিঃসঙ্গ নির্জনতা

    নিঃসঙ্গ নির্জনতা ফজলুল হক   স্বাধীনতাকে ভালোবাসার আঁচলে বাঁধতে পারিনি; খাঁচায় একটি পাখি পুষতে ব্যস্ত ছিলাম- গম ও চালের মিহিদানা সরিষা, ঘাসের কচি ডগাসহ সবকিছু খেতে দিতাম। কাছে গেলেই ঠোঁট বের করে সোহাগ ঢেলে দিতো হরহামেশায়, একদিন খাঁচা খুলে আদর করতেই সুযোগ বুঝে বাঁধন ছিঁড়ে ডানা মেলে উড়ে গেলো আকাশে! আমি নির্বাক হয়ে ডানার স্বাধীনতা দেখছিলাম। অনুভবে শিহরণ জাগে এমন একটি নরম হাত যেনো পিঠে স্পর্শ করে অদ্ভুতভাবে বললো, তুমি পাখিটাকে খাঁচাবদ্ধ করে রেখেছিলে-এর নাম নির্যাতন তিনবেলা খাবার দিয়েছো- এর নাম অনুগ্রহ বা দয়া আর পাখিটা ডানা মেলে উড়ে গেলো- এর নাম স্বাধীনতা। ঘোর কেটে গেলো ততোক্ষণে নিঃসীম নিঃসঙ্গতায় ডুবে…

  • প্রতিবেশী-সমাচার
    কবিতা,  ফজলুল হক,  সাহিত্য

    প্রতিবেশি সমাচার

    প্রতিবেশি সমাচার ফজলুল হক   দাদি প্রায়ই বলতেন গাছগাছালিতে ঘেরা গ্রামের এ্যাতো বড় বাড়ি, দেড় বিঘা পুকুর- গৃহপালিত পশুপাখি পালন না করলে হয় নাকি? মাচান থেকে ধান নিয়ে হাটে গেলাম চার জোড়া হাঁস কিনে ফিরলাম- উঠোনের একপাশে তাদের জন্য ঘর তৈরি করা হলো। পাড়ায় পড়ে গেলো হৈচৈ বাড়ির ছোট সদস্যদের উৎসাহের কোনো কমতি নেই। প্রথম কয়েকদিন হাঁসগুলোকে সকালে ঘর থেকে বের করে পুকুরে নিয়ে যাই বেলাশেষে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসি নিরাপদ আশ্রয়ে, সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতে ওরা নিজেরাই চেনা পথ ধরে প্রতিদিন নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে লাগলো, যতোক্ষণ আঙিনার ভেতরে থাকে সমস্বরে ডাকাডাকি করে। মা বলেন,ওদের পেটে খিদে বাবা বলেন, নতুন…

error: Content is protected !!