• ফেলে-আসা
    আনন্দ বাগচী,  কবিতা,  সাহিত্য

    ফেলে আসা,মানুষের ঘর,স্মৃতি,স্বপ্নগুলি

    ফেলে আসা আনন্দ বাগচী   কিছুই হয়নি বলা, গল্প শেষ হয়ে গেল রোদ্দুরে বৃষ্টিতে গল্পগ্রাম, ইস্টিশান, নদী, সাঁকো, নৌকোর গলুই ধূসর স্মৃতির মধ্যে বিধে থাকল, ক্রমে ক্রমে হলদে হয়ে আসা ফটোর মতন স্থির সাবেক কালের বাড়িখানা, গভীর ঘুমিয়ে আছে কুয়াশায়, কার শীর্ণ শাখাপরা হাত খাটের বাজুতে আড় হয়ে আছে তামাকের প্রৌঢ়গন্ধে ঘর ভরে আছে। সটকার বোলের মত চমকে চমকে ওঠে কবুতর। এখনো উলুর ধ্বনি কান পাতলে, প্রতিমার মত নববধূ দামাল শিশু, বালাবেলা, বাঁশবনে আটকে থাকা চাঁদ পুরনো ব্যথার মত লটকে আছে বুকের ভেতরে । কিছুই হল না বলা, গল্প শেষ হয়ে গেল রোদ্দুরে বৃষ্টিতে।   মানুষের ঘরে এখনো রয়েছে কিছু…

  • চকখড়ি-উপন্যাস-রিভিউ
    উপন্যাস,  বই পর্যালোচনা,  সাগতা,  সাহিত্য,  হাটখালী

    চকখড়ি উপন্যাস রিভিউ

    চকখড়ি উপন্যাস রিভিউ   ‘চকখড়ি’ উপন্যাসটি ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে আর্ট ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটির পটভূমি আনন্দ বাগচীর (১৯৩২-২০১২ খ্রি.) জন্মভূমি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামকে কেন্দ্র করে। সাগতার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন অধ্যয়ন ও কর্মজীবনের জন্য কলকাতার কথা এসে গেছ। পঞ্চাশের দশকের কখনো পরিণত পরিণতি, কখনো সুখ-দুঃখের মিশ্রণ, রাজনৈতিক ভাঙা-গড়া, সব হারিয়েও নতুন কিছু পাওয়ার আস্বাদে শীতল রক্তের মানুষের বেঁচে থাকা। আনন্দ বাগচী শৈশবের সেই কলকাতা দেখেছেন এবং তা লিখেছেন ‘চকখড়ি’ উপন্যাসে। এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস। প্রচুর ভালোবাসা আর অন্তরঙ্গ জীবনের কথা লিখেছেন। কলকাতাকে যেমন দেখেছেন তেমনই লিখেছেন। দরজায় দরজায় তালা ঝুলছে। মানুষজন শূন্য কলকাতা। ফাঁকা রাস্তাঘাট।অন্ধকারে ডুবে গিয়ে…

  • আনন্দ-বাগচী
    লেখক পরিচিতি,  সাগতা,  সাহিত্য,  হাটখালী

    আনন্দ বাগচী (শেষ পর্ব)

    আনন্দ বাগচী (শেষ পর্ব)   শেষ পরিণতি: ত্রিলোচন কলমচী বা শ্রীহর্ষ ছদ্মনামে যিনি লিখে গেলেন একের পর এক নিবন্ধ কিংবা ‘কানামাছি’, ‘মুখোসের মুখ’, ‘বনের খাঁচায়’, ‘চকখড়ি’ র মত একাধিক উপন্যাস এবং যিনি ‘কৃত্তিবাস’ পত্রিকার অন্যতম কিংবা দীর্ঘদিন ‘দেশ’-এর মত বিপুল প্রাতিষ্ঠানিক পত্রিকায় যুক্ত ছিলেন সেই আনন্দ বাগচীকেও আমরা মিশে যেতে দেখলাম সমকাল থেকে শূন্যে। অর্থাৎ শাশ্বত বলে সত্যিই কিছু নেই। অনেকের ধারণা ‘বিস্মৃতি’ নামের শব্দটা লিটিল ম্যাগের লেখক কবি কিংবা লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যাওয়া অপ্রাতিষ্ঠানিক সাহিত্যিকদেরই একমাত্র ললাট লিখন কিন্তু আনন্দ বাগচীর মত প্রাতিষ্ঠানিক একজন বহুকলমীর ধীরে ধীরে একটানা জ্বলতে থেকে আকস্মিক ফুরিয়ে যাওয়া যেন বারবার মনে করিয়ে দেয় ক্ষণকালের…

  • আনন্দ-বাগচী-২য়-পর্ব
    লেখক পরিচিতি,  সাগতা,  সাহিত্য,  হাটখালী

    আনন্দ বাগচী (২য় পর্ব)

    আনন্দ বাগচী (২য় পর্ব)   সাহিত্য মূল্যায়ন: বাংলা সাহিত্যে সম্ভবত প্রথম কাব্যোপন্যাস রচিয়তা এবং পঞ্চাশ দশকের উজ্জ্বলতম কবিদের মধ্যে একজন হলেন আনন্দ বাগচী।  কবি সুশীল রায়ের (১৯১৫-১৯৮৫) ভাষায়: ‘স্বগত-সন্ধ্যা’ যখন বের হয় তখন আনন্দ বাগচী অসাধারণ খ্যাতি লাভ করেছিলেন। যে-কোনো সাহিত্য সভায় বা কবি সম্মেলনে যে নাম নিয়ে সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে বেশি আলোচনা হত সে হল আনন্দ বাগচী।’ আর যে কৃত্তিবাস (১৯৫৩) পত্রিকা, যা কিনা সে সময়ে তরুণ কবিদের আত্মপ্রকাশের প্রধান আশ্রয় হয়ে উঠতে পেরেছিল, সেই পত্রিকার সঙ্গেও ছিল আনন্দ বাগচীর যুক্ততা। হয়তো তেমন নিবিড় নয়, কিন্তু সংযোগটা ছিল তো!  সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের বর্ষাকালে (শ্রাবণ ১৩৬০) প্রকাশিত হয়…

  • আনন্দ-বাগচী-১ম-পর্ব
    লেখক পরিচিতি,  সাগতা,  সাহিত্য,  হাটখালী

    আনন্দ বাগচী (১ম পর্ব)

    আনন্দ বাগচী (১ম পর্ব)   আনন্দ বাগচী বিস্মৃতিতে তলিয়ে যাওয়া একজন কবির নাম। অথচ নিজের যৌবনের শুরুতে যিনি ছিলেন পঞ্চাশের দশকের উজ্জ্বলতম কবিদের একজন (জন্ম: ১৯৩২- মৃত্যু: ২০১২ খ্রি.)। তিনি ছিলেন একাধারে একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও সম্পাদক। তিনি  উপন্যাস, কিশোরদের সাহিত্য, গোয়েন্দা কাহিনী, গল্পগ্রন্থ, রম্যরচনা, প্রবন্ধগ্রন্থ, অনুবাদগ্রন্থ, কাব্যোপন্যাস ও নাটক রচনা করেছেন। জন্ম:  আনন্দ বাগচী ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ১৫ মে অবিভক্ত ভারতবর্ষের পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।   পারিবারিক জীবন: আনন্দ বাগচীর পিতা শ্রী চন্দ্র বাগচী এবং মাতা সজলবালা দেবী। পাঁচ ভাই-বোনের তিনি সবার বড়। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ১লা ফেব্রুয়ারিতে তিনি মীরা বাগচীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ…

error: Content is protected !!