-
চোখে দেখা নীলকণ্ঠ (১ম পর্ব)
চোখে দেখা নীলকণ্ঠ (১ম পর্ব) শফিক নহোর ক. আজ থেকে প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর আগের ঘটনা। ফাগুনের এক সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে দেখলাম, পাঁচজন মানুষ বাঁশের সঙ্গে বেঁধে একটি মরা গরু নিয়ে যাচ্ছে। তা দেখে গফুর ভাইকে প্রশ্ন করলাম। কথা প্রসঙ্গে বিভিন্ন কথা বলল। জানতে পারলাম, ফকির বাড়ির গাভিন গাই মরে গেছে, তা বাড়ির পাশের হালটের দক্ষিণ দিকে চেয়ারম্যানর বাড়ি যাওয়ার পথে যে জঙ্গল সেখানে ফেলে দিতে নিয়ে যাচ্ছে। আমি স্কুল থেকে ফেরার পথে দেখি আকাশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে শকুন নেমে পড়ছে। মরা গরু নখ দিয়ে ছিঁড়ে খেতে দেখে আমি অদ্ভুত ভাবে দাঁড়িয়ে রইলাম। শকুন দেখার জন্য আশপাশের গ্রামের লোকজনের…
-
অবহেলার বৃত্তে, শুভঙ্করের ফাঁকি, অলিখিত কবিতা
অবহেলার বৃত্তে জিন্নাত আরা রোজী স্মৃতি বিজড়িত আঙিনায়, মানুষ কেন দুঃখ নিয়ে বাঁচে? কেন বিরহের গান গায়? কেন নতুন নতুন স্বপ্ন দেখে নিজের অজান্তে? শূন্যতা বড্ড ছোঁয়াছে একলা ঘরে অজস্র বিরহেও হাসে; মুঠো ভরে উড়িয়ে দিলেও চৌকাঠ ছুঁয়ে আবার ফিরে আসে। নিদারুণ শোকে হৃদয়ে ধুতরা ফুল ফোটে ফুরিয়ে যাওয়া সময় গুলো অকাতরে হাসে। জীবনের শুরু থেকেই, অবহেলার বৃত্তে শ্লথ পায়ে হাঁটছি, পরিত্রাণের স্বপ্ন দেখতে দেখতে একদিন দুম করে পৃথিবীর দেয়ালে ছবি হবো। এখানে শুধুই শুভঙ্করের ফাঁকি। আরও পড়ুন জিন্নাত আরা রোজীর কবিতা- মেয়ের তকমা কবে আমার হবি দ্বিধা-দ্বন্দ ভুলে শুভঙ্করের ফাঁকি মনকে বলি, ‘তুই কেন এত অভিমানী?’ সহজে…
-
বিরঞ্জনা, রয় গোপনে সবার মনে,তাহার ভালোবাসায়
বিরঞ্জনা কে এম আশরাফুল ইসলাম বিরঞ্জনা মোর ঠিকানা কেমনে ভুলিলে হায়, সুরঞ্জনা বর্ণবিহারী দূর আকাশ নীলিমায়! মেঘের পাখায় সমীরের ছোঁয়ায় বিজলী চমকে ধাও, শিশিরের ভেলায় আরোহণ করে মুক্তো হয়ে হাসাও! উঠিলে রবি হারায় ছবি রিক্ততায় দোলে ঘাস, তথৈ পৃথিবী কাষ্ঠ হাসিতে মরুতে খোঁজে নিবাস! ফোটে কলি না না আসে অলি সবুজে নাচে সাদা, না করে কেলি শূন্য সায়রে চৈতি আবেশে কাদা! লঙ্ঘিয়া বারণ হইলে চারণ অযাচিত শ্বাপদের, কাঁদে অকারণ করিয়া স্মরণ হৃত বিরঞ্জনা হৃদের! বর্ণনাশী সর্বনাশী বিরূপ মাতাল হাওয়ায়, ভালোবাসি গলার ফাঁসি বিরঞ্জনার ভালোবাসায়। ও বুকে ঢেউ সিন্ধুতে কেউ অবাধ্য নিম্নচাপের লীলা, করে কেঁউ কেঁউ অশান্ত মান্সে অসহায়ের অশ্রুমালা!…
-
আবদুল গনি হাজারী (২য় পর্ব)
আবদুল গনি হাজারী (২য় পর্ব) কাব্য মূল্যায়ন: আবদুল গনি হাজারীর কাব্য-প্রতিভা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে কবি শামসুর রাহমান বলেছেন,‘‘ ‘সামান্য ধন’ অসমান্য খ্যাতি অর্জন করতে পারে নি। এই গ্রন্থে আবদুল গনি হাজারীর কাব্যকৃতি তেমন উজ্জ্বল নয় যদিও প্রথম বইতেই তাঁর কোনো কোনো বৈশিষ্ট্য কাব্যরসিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। কিন্তু ‘সূর্যের সিঁড়ি’ প্রকাশিত হবার পরে এই কবির শক্তি সম্পর্কে কারো মনে কোনো দ্বিধা রইল না। একজন শক্তিশালী বিদগ্ধ কবি হিসেবে আবদুল গনি হাজারীর প্রতিষ্ঠিত হলেন পাঠক সমাজে।’’ তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় বাস করেছেন কলকাতা ও ঢাকা শহরে। ফলে নাগরিক-জীবনের চালচিত্র প্রধানভাবে তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। সৈয়দ আলী আহসান লিখেছেন, “নগর…
-
চরদুলাই ফাউন্ডেশন
চরদুলাই ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে আত্মপ্রকাশ করা এই সংগঠনটি চরদুলাই গ্রামের ঐতিহ্য রক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ অবক্ষয় রোধ, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠাতা সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মো. রাকিবুল ইসলাম জনি, যিনি চরদুলাই গ্রামের উন্নয়ন এবং সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এই সংগঠনটি গড়ে তোলেন। প্রধান কার্যালয় চরদুলাই, দুলাই, সুজানগর, পাবনা। সামাজিক কার্যক্রম চরদুলাই ফাউন্ডেশন স্থানীয় সামাজিক উন্নয়ন, ঐতিহ্য রক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু কার্যক্রম হলো : ত্রাণ বিতরণ : সুবিধা বঞ্চিত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় : স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে রক্তের…
-
সুজানগরের ইতিহাস বই রিভিউ
সুজানগরের ইতিহাস বই রিভিউ আশরাফ খান কিছুদিন আগেই হাতে পেয়েছি ড. আশরাফ পিন্টু ও মিজান খন্দকার রচিত ২০২১ সালের বই মেলায় পাললিক সৌরভ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘‘সুজানগরের ইতিহাস’’ বইটি। পড়ি পড়ি করে পড়া হয় না। পর্যাপ্ত সময় হয়ে উঠে না। একটু একটু করে পড়ি। ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে। ভালো লাগা বিষয়গুলো আন্ডার লাইন করি। কোনটি নোট নিই। অনেকটা সৌখিন পাঠক আমি। লেখার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। পড়াটা জরুরী। জানার জন্য। না জানলেও ক্ষতি নেই। শিক্ষার প্রধানত দুটি প্রক্রিয়া। প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক। আমরা অপ্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়নে বেশি ব্যস্ত। অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দায়বদ্ধতায় বেশি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার একটা সুবিধা হলো নির্দিষ্ট সিলেবাস আছে। সিলেবাস শেষ করতে পারলেই…
-
তোমার ভালোবাসায়, ভালোবাসার প্রতিদান, বেদনার দান
তোমার ভালোবাসায় কে এম আশরাফুল ইসলাম অবচেতন মনে অতি গোপনে নন্দন কাননের প্রত্যাশায়, ছিল ক্ষণে ক্ষণে অস্ফুটকলি ফুটিবে সুবাসি ভালোবাসায়! সেই হতে প্রাণ করে আনচান কোথায় বাঁধিয়া নিবাস, আমারই পরাণ প্রসারি আঁচল প্রতীক্ষিত দীঘল কেশপাশ, হইয়া এলোকেশী আমাকেই ভালোবাসি বলিবে এ বুকে আয়, ষোলকলায় পূর্ণিশশী উতলা সিন্ধু দু’কূল ছায়ে মিলিবে মোহনায়! তৃষিত হিয়া ডাকিয়া প্রিয়-প্রিয়া বসন্তরাগে ঝিলিমিলি, কাঁদে বিরহিয়া তুমি এলে হেথায় অব্যক্ত শ্যেনের ডানা মেলি! কপোত কপোতি দেখিয়া মাতামাতি লাজেতে লুকায় বনে, না পোহাতেই রাতি নিজকে পেলাম কঙ্কালসার কবরস্থানে! ঝরে কি আঁখি অর্পিত পাখি যাহাকেই দিয়েছিলে জীবন, করিয়া চালাকি তাহারই সমাধিতে হেয়ালি পুষ্প অর্পণ! আরও পড়ুন কে এম…
-
প্রেমের পদ্য-০৫
প্রেমের পদ্য-০৫ রেজাউল করিম শেখ ছাব্বিশ বহুদিন ও প্রার্থনা মন্দিরে সমবেত হই না আর গাইনা সমস্বরে প্রার্থনা সঙ্গীত! ও প্রেমিকজন-সদর্থক শব্দগুলো তুলে নাও কন্ঠে হাতে তুলে নাও কৃষ্ণের মোহন বাঁশি কাঁধে তুলে নাও কর্মিষ্ঠ কৃষকের লাঙল আমরা আবার সমবেত হবো সমস্বরে গাবো প্রেম-প্রীতি আর রহস্যাবৃত রজনীর রহস্য উন্মোচনী গীত! সাতাশ অরণ্যের ভেতরে অরণ্য নদীর ভেতরে নদী আমি আজ ঘুরিফিরি ফেলে আসা শৈশবের- গলিঘুঁচি। অরণ্যের ভেতরে অরণ্য নদীর ভেতরে নদী আমি আজ খুঁজি শুধু জলরঙে আঁকা এক প্রেমিকার ছবি। অরণ্যের ভেতরে অরণ্য নদীর ভেতরে নদী আমি আজ মগ্ন আছি বুদ্ধের ধ্যান আসনে শান্তিকে ভাবী। বুদ্ধং শরনং গো”ছামি… অং শান্তি…
-
দাঁড়িয়ে আছি ভুল দরজায়, প্রশ্ন তোমাকে
দাঁড়িয়ে আছি ভুল দরজায় ফজলুল হক রাত গভীর না হলে সমুদ্রের রহস্য যেন বোঝা যায় না, আমিও অপেক্ষায় ছিলাম অতঃপর ভোর হয় সূৃর্যের আলো গায়ে ফোটে তখন বুঝতে পারি আমিও যে বেঁচে আছি। সময় হারিয়ে যায় ভালোবাসায় মেঘ জমে অবেলায় চোখও হারিয়ে ফেলে নির্ভার চেয়ে থাকার অধিকার; অজানা ঝড়ে অভিন্ন ঠিকানাও বয়ে চলে ভিন্ন পথে, তবুও ভৌগলিক সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে ভালোবাসা ডেকে যায় চেনা সুরে ভুল মানুষের ভুল দরজায়। ফিরিয়ে নিলাম কথা নিয়তির নিয়ম মেনে তোমাকে আর ভাববো না, ওষ্ঠে আগুন জ্বালিয়ে বেদনার অশ্রু শুকিয়ে নিব, হৃদয়ে পাথর চেপে অনুভূতিকে শ্বাসরুদ্ধ করে রাখব আমৃত্যু চোখে বেঁধে রাখব কালো কাপড়;…
-
পদ্মা, বিবেক, গহন রাত, ইন্ট্রোভার্ট
পদ্মা খোন্দকার আমিনুজ্জামান হাত বাড়ালেই পদ্মা আমার প্রিয় নদীর নাম নদী ভাঙা গড়ার খেলা খেলে খেলে অবিরাম। তার ভালো লাগে খেলা ভালো লাগে ফুল ফল ফসল কাশফুলের দোলা তাই তো জীবনভর উর্বর পলি চারিদিকে ছড়ায় অবিরাম। তার ভালো লাগে চলা সমুদ্র পথে চলে দেখে ইলিশের দুরন্ত উজান চলা তাতে এলে স্বাদ স্বাস্থ্য বাড়ে বাড়ে ইলিশের দাম। ভালো লাগে গাঙচিল ভালো লাগে শাখা নদী খাল বিল এদের পেট ভরিয়ে তবেই সে ছোটে উদ্দাম। পদ্মা নদী নৌকা লঞ্চ স্টিমার চলে নিরবধি এজন্য দিতে হয় না কোনও দাম। তার যৎসামান্য নেওয়া অনেক অনেক বেশি দেওয়া তবুও মানুষ করে অনাচার অবিরাম। আরও পড়ুন…





























