কপিশ-নয়ন-১ম-পর্ব
আবু জাফর খান (গল্প),  গল্প,  সাহিত্য

কপিশ নয়ন (১ম পর্ব)

কপিশ নয়ন (১ম পর্ব)

আবু জাফর খান

এক.
আব্দুর রহিত ব্যাপারী দিঘির পুব পাড়ে দাঁড়িয়ে উত্তর পাড়ের একখণ্ড জমির দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। নানা প্রলোভন দেখিয়েও আজ অবধি মালিককে রাজি করাতে পারেনি। বিগত পঞ্চাশ বছর ধরে নানারূপ কুটিল ফাঁদ পেতেও জমিটি হাতানো সম্ভব হয়নি। সব রকম ফন্দি-ফিকির ব্যর্থ হয়েছে। রহিত ব্যাপারীর মনের কোমল জায়গায় কাঁটার মতো কী যেন খচ করে বেঁধে। ছিয়াত্তর ঊর্ধ্ব এই লোকটির লালসা সীমাহীন। এত করেও এত পেয়েও ভিখিরির মনটি রয়ে গেছে। তারই বা দোষ কী। এ যে পরম্পরাগত প্রবৃত্তি।

আব্দুর রহিত ব্যাপারী বাবা কাপড়ের পুঁটলিতে টাকা বেঁধে মাল কেনাবেচার টুকটাক ব্যবসা করত। সেই দিয়ে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত সময়ে কিভাবে যেন ওপারে পাড়ি জমানো হিন্দুদের জমি-জিরাত জলের দামে কিনে শূন্য থেকে বিপুল ভূসম্পত্তির মালিক হয়। জমিদারদের দুটো দিঘিও কি করে যেন হাতিয়ে নেয়। চুনোপুঁটি থেকে রাতারাতি রাঘব বোয়াল হয়ে গেলে যেমন লম্ফঝম্ফের অন্ত থাকে না, রহিত ব্যাপারীর বাবারও হয়েছিল সেই দশা। কি বংশ পরিচয়, কি বিষয়-আশয়, কি শিক্ষাদীক্ষা—সব বিষয়ে যার ঝুলিতে বিরাট এক শূন্য, হঠাৎ যদি সে বিপুল ধনসম্পত্তির মালিক বনে যায়, রক্তে মাতন জাগারই কথা। তারও জেগেছিল। সে একে একে চার চারটি বিয়ে করে। মেয়ে মানুষের ব্যাপারে তার কোনো বাচবিচার ছিল না। কাজের মেয়ে থেকে শুরু করে দিনমজুরের বউ, যাকেই দেখত জিব থেকে লালা ঝরত। সে একটি করে বিয়ে করত, আর তার ছেলে রহিত ব্যাপারী বিচিত্র কূটকৌশলে বিমাতাকে তাড়াত।

কিন্তু সফর আলী ব্যাপারীর চতুর্থ বউ, সৎ ছেলে রহিত ব্যাপারীর ভয়ঙ্কর মানসিক অত্যাচার সহ্য করেও, দাঁত খামটি দিয়ে পড়ে ছিল। কারণ, তার যাওয়ার জায়গা ছিল না। সৎ ছেলের অমানুষিক বিষদিগ্ধ বাণে জর্জরিত বেচারি বিয়ের চার বছরের মাথায় ধুঁকে ধুঁকে মারা যায়। এলাকার মানুষ ঘাতক হিসেবে রহিত ব্যাপারীকে সাঁড়াশির মতো চেপে ধরে। ব্যাটা ডেমনস্ট্রেটার মোটা অঙ্কের টাকা গুণে খুনের অভিযোগ থেকে সে যাত্রা রেহাই পায়। রহিত ব্যাপারী নিষ্কৃতি পেল ঠিকই, কিন্তু তবুও তার মাথায় হাত। কারণ, ইতোমধ্যে তার চতুর্থ সৎ মা, দু-দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে গেছে।

আরও পড়ুন গল্প হাইয়া আলাল ফালাহ

আব্দুর রহিত ব্যাপারীর ধারণা ছিল তার পঁচাশি ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ বাবা শারীরিকভাবে অক্ষম। সে নিজে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শহরে থাকে। অসুস্থ বাবার শুশ্রূষা এবং রেঁধে খাওয়ানোর মানুষও তো প্রয়োজন। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাবার চতুর্থ বিয়েয় আপত্তি করেনি। এখন মাথার চুল ছিড়তে ইচ্ছে করছে। এই বয়সেও বাবা কামকেলিতে এমন পারঙ্গম ভাবতে পারেনি। তাহলে কী আর গা-গতরে অমন সমর্থ মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেয়! সে কায়দা করে প্রায় সমস্ত সম্পত্তি নিজের নামে লিখে না নিলে তো সর্বনাশ হয়ে যেত। তারপরও বাবার নামে যা রয়েছে, প্রায় বিঘে দশেক জমি বেরিয়ে যাবে। বৈমাত্রেয় ছোট দুই বোনের দিকে তাকিয়ে ক্রোধে তার হাঁপানির মতো শুরু হয়। নাকি গলা টিপে দেবে শেষ করে! সে দুপা এগিয়েও যায়, কিন্তু সাহসে কুলায় না। আশপাশের মানুষ থেকে শুরু করে অতি নিকট আত্মীয়ও তাকে বিষদৃষ্টিতে দেখে।

দেখবে নাই বা কেন? সে কারও জন্য কখনো পাঁচ পয়সা খরচ করেছে, এমন কথা তার অতি সুহৃদও বলবে না। অবিশ্যি তাকে সুনজরে দেখে এমন কেউ গোটা ভূভারতেও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

বছর কুড়ি আগে রহিত ব্যাপারীর বাবা মারা গেলেও আজ অবধি সে তার ছয় বোনের প্রাপ্য সম্পত্তির এক শতকও দেয়নি। সমস্তই নিজে ভোগদখল করে। বোনরা ইতস্তত করে একমাত্র ভাইকে কিছু বলতেও পারে না। তারা প্রতিনিয়ত সন্তানদের খোঁটা শুনেও মুখ বুজে থাকে। তাদের ভয়ঙ্কর আত্মসর্বস্ব ভাইয়ের অর্থলোলুপতায় স্বামী-সন্তানদের সামনে মুখ তুলে তাকাতে পর্যন্ত পারে না। বোনদের কারও সাথেই রহিত ব্যাপারীর কোনো সম্পর্ক নেই। সে কৌশলে তাদের এড়িয়ে চলে। দেখা হলেই বাবার সম্পত্তির ন্যায্য হিস্সা চাইতে পারে ভেবে রহিত ব্যাপারী সর্বদা তটস্থ থাকে। স্বার্থপরতার এক দুর্লভ নিদর্শন এই রহিত ব্যাপারী।

আরও পড়ুন গল্প রোদেলা দুপুর কাঁদে

 

দুই.
আব্দুর রহিত ব্যাপারী ছাত্র হিসেবে আগাগোড়াই গর্দভ টাইপ। সে ঘষেমেজে কোনোমতে পাস কোর্সে বিএসসি পাস করে সরকারি কলেজে ডেমনস্ট্রেটারের চাকরি পায়। মুসলিম রীতিতে গায়ে বংশীয় মর্যাদার ছিটেফোঁটা রেশ না থাকলেও সরকারি চাকরির অসিলায় সে অভিজাত বংশের মেয়েকে বিয়ে করতে সক্ষম হয়। মেয়ের শিক্ষিত বাবা কেন এমন খেলো ধরনের নীচ-টাইপ ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিলেন, তা আজও কারও মাথায় ঢোকে না। না ঢুকুক, তবে বেচারি যে নরক কুণ্ডে এসে পড়ল, তাতে কারও বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। নরক ভোগ কাকে বলে, মেয়েটি জীবদ্দশায়ই হাড়ে হাড়ে টের পাবে।

বাবা সফর আলী ব্যাপারীর মতো রহিত ব্যাপারীও বিয়ের বছর দশেকের মধ্যে ছয়-ছয়টি সন্তানের বাবা হয়ে যায়। বাপকা বেটা আর কি! মার গুণে ছয়টি ছেলেমেয়েই আজ উচ্চ-শিক্ষিত। গোটা কয়েকের রোজগারপাতিও মন্দ নয়। রহিত ব্যাপারীর অভিজাত স্ত্রী নানা গুণে গুণবতী হলেও ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে তার বদান্যতা সীমাহীন। ফলে কলেজ পড়ুয়া ছোট মেয়েকে অনায়াসে বাসর ঘর সাজাতে অন্য বাড়ি রাত পার করার অনুমতি দিতে পারে। যা একজন জ্ঞানবন্ত মা কখনই করবে না। পরিণামে যা হবার তাই হয়। বাসর সাজাতে গিয়ে নিজেই বাসর রচনা করে বসে। সেই বাড়ির বোধ-বুদ্ধিহীন অপদার্থ অথচ ধূর্ত টাইপ ছোট ছেলের অঙ্কশায়িনী হয়। যে ছেলে ঘষাঘষি করে কোনো রকমে এইচএসসি পাস করে বেকার বসে আছে। বাংলাদেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবার যোগ্যতা তার নেই। বাবার দু’নম্বরি মালের বদৌলতে সে থাইল্যান্ড যায়। সেখানে বছর তিন এক হোটেলে ওয়েটারের কাজ করে ফেরার সময় কম্পিউটার কোর্সের এক সার্টিফিকেট হাতে করে ফেরে। সে যে কম্পিউটারের ‘ক’ জানে না, সেটি সচল মস্তিষ্কের মানুষেরা ঠিকই বুঝতে পারে।

আরও পড়ুন গল্প  পথভোলা এক পথিক

তবুও ব্যাপারী পরিবার মাতামাতি করে মেয়ের বিয়ে দেয়। যে ছেলের না আছে আত্মপরিচয়, না পারিবারিক মর্যাদা, না সামাজিক অবস্থান। আশ্চর্যের বিষয়, এমন এক প্রবঞ্চক ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে কেউ একটুকুও প্রতিবন্ধ পর্যন্ত তৈরি করেনি। রহিত ব্যাপারী যে করবে না, সেটি সকলের জানা। কারণ, মেয়েদের যেনতেন উপায়ে পার করাটাই তার মুখ্য মতলব। যাতে খরচাপাতি না করতে হয়। লোকটি শক্ত গিঁটে টাকা বেঁধে দুবেলা উপোস দেবে তবু গিঁট খুলবে না। তার চতুর্থ বিমাতার বড় মেয়ে যখন লক্কড় মার্কা মুদির দোকানের এক কর্মচারির সঙ্গে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে বিয়ে করে, তখনো তাকে বেশ উৎফুল্লই দেখা যায়। খুশি হবে না! খরচ বাঁচা বলে কথা। বন্দোবস্ত বিয়ের হেপা থেকে বাঁচল বলে সে দুরাকাত নফল নামাজও আদায় করে।

কঞ্জুসপনায় এক নম্বর স্থানটি যে পৃথিবীতে আর কেউ কখনো অর্জন করতে পারবে না, এ বিষয়ে কারও মনে যৎসামান্য সন্দেহও নেই। বিষয়টিতে বিশ্ব রেকর্ডের একচ্ছত্র অধিপতি রহিত ব্যাপারী। তার এই অপযশের জায়গাটি বোধ করি ইহলোকে আর কেউ নিতে পারবে না। কেউ নিতেও চাইবে না। চেষ্টা করেও নেয়া সম্ভব নয়। কারণ জিনেটিক বিষয়টি জড়িত যে। প্রজনন শাস্ত্রানুযায়ী বংশানুগতির ধারা জীবকোষের ক্রোমজোমে সঞ্চিত থাকে। যেটি পরম্পরাগতভাবে হাজার বছর ধরে চরিত্র বহন করে চলে। এমন অশীল ক্রোমজোম আর আসবে কোত্থেকে? সজ্ঞানে কেউ এই পঙ্কময় জীনের ধারক কিংবা বাহক কোনোটিই হতে চাইবে না।

আরও পড়ুন গল্প  স্বপ্ন জল

আব্দুর রহিত ব্যাপারীর মেঝো মেয়ে আরও বেশি ভয়ানক। সে যেমন বাবার মতো নির্লজ্জ, বেশরম এবং অর্থলিপ্সু, আবার মার মতো উদারমতী। ‘না’ শব্দটি তার অভিজ্ঞানে নেই। নির্লজ্জপনা রীতিমতো তার প্রতিটি রোমকুপ থেকে উদ্গীরিত হয়। দুইয়ের মিশ্রণে সৃষ্ট অবিশুদ্ধ বেতর ভয়ঙ্কর এক নারী সে। তার দানবীয় পেষণে স্বামী সন্তানদের যে খাবি খাওয়া অবস্থা সেটি সহজেই অনুমেয়। স্বামী বেচারা সভ্য জগতের বাসিন্দা হওয়ায় আরও ভয়াবহ বিপদে সে। না পারছে গলাধঃকরণ করতে না উদ্গিরণ করতে। ত্রাহি ত্রাহি ডাক ছাড়া অবস্থা তার। অথচ রহিত ব্যাপারীর মেঝো মেয়ে দিব্যি ভাবলেশহীন। সে কখন বেরয়, কত রাতে ফেরে কারও বলার সাধ্যি নেই। কেবল তার মা বলতে পারে। রোজগেরে মেয়ে যত রাতেই ফিরুক, সে আলতো হাতে দরজা খুলে দেয়। না আছে কোনো প্রশ্ন, না কৈফিয়ত। কারও কাছেই কোনো জবাবদিহিতা নেই। মার কাছে তো নয়ই। পারলে মা মেয়ের পদচুম্বন করে আর কি। উপার্জনক্ষম মেয়ে বলে কথা।

স্বাধীনতা থাকা ভালো, তবে তার সীমারেখাও থাকা বাঞ্ছনীয়। নইলে সে যে উচ্ছন্নে যাবে, রহিত ব্যাপারীর মেঝো মেয়ে তার প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। ব্যাপারী পরিবারে ‘সীমারেখা’ বিষয়টির বালাই নেই। যেভাবে পারো অর্থ উপার্জন করো। এটিই তাদের পারিবারিক মূল দীক্ষা। তার জন্য সীমানা ছাড়িয়ে যতদূর যাওয়া লাগে যাও, পারিবারিক কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। যত গভীরে ডুবতে হয় ডোবো, কোনো বাধা নেই। অধঃপাতে যাও, নষ্ট হও—তাই সই। অর্থ আসলেই হলো। কী অদ্ভুত এই ব্যাপারী পরিবার! যেহেতু ‘না’ শব্দটি মেঝো মেয়ের জীবন অভিধায় নেই, সুতরাং সে কাউকে না বলে না।

চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত এই নারী ডুবতে ডুবতে আর কতটা তলায় যাবে, সে নিজেও জানে না। অবিশ্যি কেবল অর্থ-সংশ্রব যার সাথে, তার সঙ্গেই সে ডুব দেয়। ক্ষতি তো নেই, বরং দ্বিমুখী প্রাপ্তি। অর্থযোগ যেমন ঘটে, নব বসন্তের আস্বাদও মেলে। তার এই বেলাজ প্রাপ্তিতে অন্য কারও ঘরে যে কালবোশেখি ছোবল হানে, তাতে তার বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ কিংবা অস্বস্তি নেই। কী ভয়ানক বেশরম, লোভী এই নারী! বাপের যোগ্য পুত্রী আর কি। শুধু বাপের কেন, মায়েরও। গোটা পরিবারেরই।

আরও পড়ুন গল্প সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা

আড়ালে আবডালে কতজনই যে চোদ্দ পুরুষ তুলে খিস্তি-খেউর করে তার ইয়ত্তা নেই। সে জানে এবং শোনে, কিন্তু গায় মাখে না। আসলে আত্মমর্যাদা বলে কিছু থাকলে তো গায়ে লাগবে! ব্যাপারী পরিবারে ও সবের বালাই নেই। এমন আত্মসর্বস্ব গ্লানিময় পরিবার বাপের জন্মে কেউ দেখেছে বলে মনে হয় না। সভ্য সমাজে কদাকার চিহ্ন আঁকা এক দুর্লভ পরিবার। অথচ পরিবারটি নির্বিকার। কিছুতেই কিছু এসে যায় না তাদের!

রহিত ব্যাপারীর ছোট মেয়ের কাছে পুরুষ মানে পুং-চিহ্নধারী একটি প্রাণী। স্বামী নির্বাচনে পুরুষত্বের পাশাপাশি পৌরুষ, ব্যক্তিত্ব, সামাজিক মর্যাদা, শিক্ষা, মনন, চেতনা এবং সর্বোপরি আত্মমর্যাদাবোধেরও যে অপার গুরুত্ব রয়েছে, সেটি তার বোধিতব্যই নয়। তার কাছে যেমন পুরুষ কিংবা স্বামী মানে রতিক্রিয়ায় পারঙ্গম শুক্রাণুধারী কোনো প্রাণী, তেমনই মেঝো মেয়ে আবার অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে পুরুষ বন্ধু নির্ধারণে বাচ-বিচারের ধার ধারে না। রুচির কী ভয়ঙ্কর অপকর্ষ! আসলে রহিত ব্যাপারীর এই দুই মেয়ের কাছে দ্বিপদ আর চতুষ্পদ পুরুষ প্রাণীর মধ্যে তেমন পার্থক্য আছে বলে মনে হয় না। শিক্ষা আর উৎকর্ষ এই পরিবারের কাছে এসে চরমভাবে পরাভূত। আসলে কি তাই? শিক্ষা পর্যুদস্ত? না বোধ হয়। এটি পরম্পরাগত ব্যাপার; জিনেটিক বিষয়; অভিরুচির যোজনা।

কেউ শিক্ষার দ্বারা পারিবারিক হীনতা কিংবা অপযশ উৎপাটন করে উৎকর্ষের অমিয় আলোয় বিভূতির নাগাল পায়, কেউ পায় না। যেমন পায়নি ব্যাপারী পরিবার। এর জন্য শিক্ষার দায় নেই। দায় মানুষগুলোর। তারা শিক্ষার মৌলিক নির্যাস আহরণে ব্যর্থ হয়েছে। অকুলীন বংশজ মালিন্য এবং দৈন্যের আবহ কাটিয়ে সূর্যালোকে অবগাহন করতে পারেনি। অ্যাকাডেমিক সনদ হাতে অন্ধকারেই রয়ে গেছে। রহিত ব্যাপারীর পরিবারের জন্য আশপাশের মানুষের তাই ঘৃণা এবং করুণা ছাড়া অনুরাগের লেশমাত্র নেই। কি আত্মীয় কি পড়শি সকলেই একবাক্যে কেবল পরিবারটির অকল্যাণই কামনা করে। তাই রহিত ব্যাপারীর দিঘির সমস্ত মাছ যখন রাতের অন্ধকারে মরে ভেসে ওঠে, আত্মীয় অনাত্মীয় প্রতিবেশী সবাই মুচকি হাসে। এই হলো ব্যাপারী পরিবার।

আরও পড়ুন কপিশ নয়ন-
২য় পর্ব
৩য় পর্ব
শেষ পর্ব

 

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

কপিশ নয়ন (১ম পর্ব)

Facebook Comments Box

কবি ও কথাশিল্পী আবু জাফর খান নিবিড় অন্তর অনুভবে প্রত্যহ ঘটে চলা নানান ঘটনা, জীবনের গতি প্রকৃতি, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, ব্যক্তিক দহনের সামষ্টিক যন্ত্রণা তুলে আনেন নান্দনিক উপলব্ধির নিপুণ উপস্থাপনায়। তাঁর লেখায় ধ্বনিত হয় বিবেক কথনের অকৃত্রিম প্রতিভাষা। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: পাথর সিঁড়িতে সূর্যাস্ত বাসনা, অনির্বেয় আকাঙ্ক্ষায় পুড়ি, যে আগুনে মন পোড়ে, যূপকাঠে যুবক, একটি জিজ্ঞাসাচিহ্নের ভেতর, সোনালী ধানফুল, রাতভর শিমুল ফোটে, বীজঠোঁটে রক্তদ্রোণ ফুল, স্যন্দিত বরফের কান্না, প্রত্নপাথর মায়া; গল্পগ্রন্থ: মাধবী নিশীথিনী, পথে পথে রক্ত জবা, উপন্যাস: মেখলায় ম্যাগনোলিয়ার মুখ, জ্যোৎস্নায় ফুল ফোটার শব্দ, কুমারীর অনন্তবাসনা, জ্যোৎস্নাবাসর, মেঘের বসন্তদিন, রূপোলী হাওয়ার রাত, একাত্তরের ভোর, তৃতীয় ছায়া। তিনি ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ৩১শে জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত আহম্মদপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

error: Content is protected !!