লালু-১ম-পর্ব
এ কে আজাদ দুলাল (গল্প),  গল্প,  সাহিত্য

লালু (১ম পর্ব)

লালু (১ম পর্ব)
এ কে আজাদ দুলাল

 

বড় খোকা তার দুই ছেলে এবং স্ত্রী পলিকে নিয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যায় আড্ডা দেয়। খোকা মানে সায়েদুল হক খোকা। অফিস আর বাসা। বিশেষ কোন কারণ না থাকলে বাসার বাইরে বের হয় না। পরিবারের সাথে সময় কাটায়। আজও ড্রইং রুমে আড্ডা চলছে। হঠাৎ স্মার্ট ফোনে রিংটোন বেজে উঠলো। এ সময়ে ফোন! রিং টোনের শব্দে ড্রইং রুমের সবাই নিস্তদ্ধ।
__হ্যালো, বড় খোকা। বাবা কেমন আছিস?
না। এটা তো মার কণ্ঠ না। কোনো ছোট মেয়ে বড়দের কণ্ঠে কথা বলছে। বড় খোকা আন্দাজ করতে পেরেছে। তাড়াতাড়ি করে লাউড স্পীকার দিয়ে
সবাইকে চুপ থেকে শুনতে ইঙ্গিত দিলো।
__হ্যাঁ রে বড় খোকা, বলত কত বছর কোরবানী ইদ বাড়িতে করিসনি, মনে আছে? এবার সবাই চলে আয়।
কথা শেষ করেই ছোট ভাইয়ের বড় মেয়ে লিপি ভ্যা ভ্যা করে কাঁদতে শুরু করে দিলো। এমন একটা মুহুর্তে সবাই মজা করবে, না লিপিকে শান্তনা দিবে। ততক্ষণে লিপি মোবাইল হতে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

বড় খোকার মেয়ে তুলি খুব মজা পেয়েছে। আবার ফোন। এবারও ফোন অন করতেই অপর প্রান্তর হতে ভেসে এলো,
__বড় খোকা, এবার সবাইকে নিয়ে কোরবানী ইদ বাড়িতে করলে কেমন হয়? বাবা তোমার খালার বড় শখ।
একই কায়দা সবাইকে শোনালো। একমাত্র ছোট বোনের মেয়ে ঝুমুর খালার অভিনয় করে বড় খোকাকে এবার বাড়িতে কোরবানী ইদ করার জন্য আব্দার করলো। বড় খোকার মেয়ে-ছেলে

তুলি-তুতুল বাবাকে দাদু বাড়িতে কোরবানী ইদ করার জন্য বায়না ধরলো। বড় খোকা কোন কিছু না ভেবে মেয়েকে বললো,
__তুলি, তোমার দাদীমাকে বলো, এবার কোরবানী ইদ বাড়িতে হবে।
তুলি তার বাবার আদেশ পালন করলো। ইদের আর একমাস বাকী আছে। কিন্তু এই পরিবারে ইদের আনন্দের ঢেউ বইতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন গল্প হাইয়া আলাল ফালাহ

বাড়িতে বড় খোকার বাবা-মা মনের আনন্দে বাড়ি ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শুরু করে দিয়েছে। দু’ছেলের পরিবার এবং একমাত্র মেয়ের পরিবার এবার কোরবানী ইদ এক সঙ্গে করবে। সেই যে বিশ বছরের বেশি হলো বড় খোকা কোরবানী ইদ বাড়িতে করে না। এর গুরু রহস্য তার মা ছাড়া কেউ জানে না। খোকার মা আজ পর্যন্ত মুখ খুলেনি। মনে হয় মা-ছেলে প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ। এবার দেখা যাক। খোকার বাবা মনের আনন্দে হাসতে থাকে। বাড়িতে ফুলদের আসর বসবে আর প্রজাপতি পাখনা মেলে সারা বাড়িতে উড়ে বেড়াবে। আহা! কি আনন্দ আকাশ বাতাসে। আয়োজনে কোন কিছুর কমতি রইলো না।

ইদের দু’দিন আগেই বাড়ি ভরে গেল। বিদ্যুতের আলোয় ঝলমল করছে বাড়িখানি। বড় একটা ষাঁড় গরু কেনা হয়েছে। তাকে ঘিরে চলছে মহা আনন্দ। এর আগে এত আনন্দ এ বাড়িতে হয়নি। আগের রাতে বড় খোকা তার মাকে গোপনে ডেকে বলেছিল, ইদের নামাজ পড়ে সে সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরবে না। সে যেন সব দিক ম্যানেজ করে নেয়। মা তার বড় খোকার মনের অবস্থা ভালো করে জানেন। তাই বেশি কথা না বাড়িয়ে রাজি হয়েছিলেন। ঠিকই ইদের নামাজের পর বড় খোকা লা পাত্তা। এ নিয়ে কেউ কোন প্রশ্ন করেনি। কোরবানী শেষ। মাংস প্রতিবেশি এবং আত্ময়ী-স্বজনের মধ্যে বণ্টন করে নিজেদের অংশ রান্নার আয়োজন চলছে। সন্ধ্যার আগেই বড় খোকা বাড়িতে ফিরে এলো। কেউ কোনো কৈফিয়ত চাইলো না। তবে বাড়ির অন্য সবাই একটা বিষয় লক্ষ্য করছে, আলাদা একটা দেশি বড় সাইজের মুরগী রান্না করা হয়েছে।

বাড়িতে আরো আত্মীয়-স্বজন এসেছে। তাদের খাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাওয়া দাওয়ার পর সবাই বসে আছে তাদের দাদীমা আজ একটা মজার গল্প বলবে। সবাইকে উপস্থিত থাকতে বলেছেন দাদীমা।
দাদীমার দু-পাশে তার প্রাণ প্রিয় ছয়জন নাতি-নাতনি বসেছে। বড় খোকা জানে তার মা আজ কি গল্প বলবে। চায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
__আমার বড় খোকা কেন গরুর মাংস খায় না। কেনইবা কোরবানী ইদে বাড়িতে আসে না। এটাই রহস্য আজ তোমাদের শোনাব। এত দিন বড় খোকার কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম। আজ তার ইচ্ছেতেই বলছি। আর এর পুরো কৃতিত্ব লিপি-ঝুমুরের।

আরও পড়ুন গল্প হাইব্রিড

__বড় খোকার বয়স তখন আর কত হবে সাত-আট। কত বছরের আগের কথা। আমাদের অবস্থা তেমন ভাল ছিল না। তবে আমাদের কোন অভাব ছিল না, যেমন আজও নেই। কিন্তু আমাদের তিনটি ছেলে-মেয়ে মেধাবী ছিলো। পরীক্ষায় প্রথম হতো। তাই তো তারা আজ বড় চাকরি করে। আমাদের কৃষি কাজের জন্য দুটো বলদ আর একটা গাভী ছিল। সেবার খুব শীত পড়েছিল। সেই শীতের মধ্যে গাই গরুর একটা ছেলে বাছুর প্রসব করলো। দেখতে কি সুন্দর! গায়ের রঙ লালচে। তুলতুল নরম শরীর। বড় খোকার খেলার সাথী। পড়াশুনা আর বাছুর। নাম রাখা হলো লালু। লালু বড় হচ্ছে আর বড় খোকার লেখাপড়া এগিয়ে চলছে। আনন্দে দিন কেটে যাচ্ছে। ছোট খোকা আর ছোটনের এ নিয়ে তাদের কোন উৎসাহ ছিল না।

আমাদের রুস্তম নামে একজন রাখাল ছিল। ও-ই দেখাশুনা করতো। দাদু ভাইয়েরা তোমরা তো জানো সাধারণত গরু দশ-বারো বছরের বেশি বাঁচে না। এ বয়সে গরু কর্মহীন হয়ে পড়ে। লালু আর বড় খোকা একে অপরের আত্মার আত্মীয়। দুজনের মধ্যে এতটাই গভীর ভাব হয়েছিল, আগে তা বুঝতে পারি নি।

__বড় খোকার বয়স দশ আর লালুর দু’বছরের মত হবে। তোমাদের দাদু শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে সবার শীতে নতুন গরম কাপড়-চোপড় কিনে দিতেন। ছেলে-মেয়ের জন্য সোয়েটার কিনে দিয়েছিলেন। বড় খোকার সোয়েটার ছিল মেরুণ রঙের। পাশে বসা তুলি বললো,
__দিদা মেরুণ রঙ কেমন করে শিখলে?
বুবু আমার তিন রতন আমাকে লেখাপড়া শিখিয়েছে। এখন বই পড়তে পারি।
__শোন, তারপর কি হলো। সবাই নতুন কাপড় গায়ে দিয়ে ঘুরে বেড়ায় কিন্তু বড় খোকা সোয়েটার একবার দেখে রেখে দিল। ভাবছি ওর কি পছন্দ হয়নি। কিন্তু মেরুণ রঙ তো ওর পছন্দ। তাহলে ব্যাপারটা কি? একদিন সকালে জানতে চাইলাম তার সোয়েটার কি পছন্দ হয়নি? সে কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো। কি বললো, দিদা? বড় খোকার ছেলে তুতুল জানতে চাইল।

আরও পড়ুন গল্প সময়ের পাঁচফোড়ন

দাদী তার বড় ছেলের মুখের দিকে চেয়ে ইশারায় অনুমতি চাইছে। ইশারায় অনুমতি দিলো। কিশোরে ফেলা আসা স্মৃতিগুলো তারই প্রজন্মের বংশধর শুনছে। তারাই একদিন ঘটা করে তাদের বাবার কথা বলবে। এ পরিবাবের ইতিহাস তাদের জানা প্রয়োজন। ইদানিং ছেলে-মেয়েরা শহরে জন্মগ্রহণ করে শহুরে আবহাওয়ায় বেড়ে উঠে। আর গ্রামের আদি পূর্বপুরুষের কথা অজানা থেকে যায়। তারা হয়ে যায় শেকড়হীন। রোমাঞ্চিত হয়ে উঠলো বড় খোকা। বললো,

__মা লালুর শীতের কাপড় তো কেনা হলো না। লালু শীতে কষ্ট পাবে।

শুনে সবাই হো হো করে হেসে উঠলো। তুতুল তার বাবার মুখের পানে এক দৃষ্টিতে চেয়ে মিট মিট করে হাসছে। বাপ-বেটা মজা পেলো।
__কি করা যায়, লালুর শীতের কাপড় প্রয়োজন। শীত নিবারণে চাই গরম কিছু। ঘরে পুরাতন একটা লাল রঙের কাঁথা ছিল। সেটাই দেয়া হলো। বড় খোকার আনন্দ কে দেখে। দুজনের মধ্যে খুব ভাব। গরু বোবা জন্তু হলে কি হবে মানুষের মত অনুভূতি আছে। অনুভব করতে পারে কে ওদের আদর করে। অবাক কাণ্ড! দুজনে কি যেন বলতো। তোমাদের দাদা তো ভয় পেয়েছিলেন। মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছ থেকে দোয়া লিখে এনে বড় খোকার গলায় পড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেটা সে বেশি দিন রাখেনি।। বড় খোকা-লালু আর ছোট খোকা-ছোটন খেলার সাথী। এখানেই শেষ নয় দাদু ভাই-বোনেরা।

দূরে বসা ছিল ছোট খোকার বৌ কবিতা। সে আগ্রহের সাথে জানতে চাইলো,
__আম্মা আরো মজার কাহিনী আছে। তাহলে আর একবার চা হয়ে যাক।
সবাই এক সঙ্গে সায় দিলো।
__সবাই তো নানা বাড়ি বেড়াতে যায়। ছোটন বায়না ধরলো সে নানা বাড়ী যাবে। আমার মনটাও সায় দিলো। তিনটি বাচ্চাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে গেলাম। সবাই খুশি কিন্তু একজন মনমরা হয়ে বসে থাকতো। বড় খোকার খুশি করার জন্য মামারা সারা দিন-রাত ব্যস্ত থাকতো।

আরও পড়ুন গল্প স্বর্ণলতা

হঠাৎ রুস্তম সকালে মোষের গাড়ি নিয়ে হাজির। গাড়ি দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল। বড় খোকার বাবার শরীর খারাপ করলো নাকি। রুস্তম কাছে এসে বললো,
__বড় মা এখনই বাড়ি চলো। তোমরা আসার পর হতে লালুকে গোয়াল ঘর হতে বের করা যাচ্ছে না, আর একদানা খাবারও মুখে তুলছে না। দু-চোখ বেয়ে গঙ্গার পানি গড়িয়ে পড়ছে।
__এক মুহুর্তে দেরি না করে বাবা-মাকে বলে বাড়ি ফিরে এলাম। লালু স্বস্তি পেল। আর দুজন-দুজনকে গলাগলি ধরে আদরে ভরিয়ে দিলো। চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না। সে যে কি অনুভূতি!
__তা হলে কিশোর বয়সের সকল ভালবাসা লালু ভোগ করেছিল? বড় খোকার পাশে বসা তার বৌ পলি বলে স্বামীর মুখের দিকে তাকালো।

ছোট খোকার বৌ একটু ঠোঁট কাটা। অনেক সময় পরিবেশ গুরুজন মানে না। কিন্তু মনটা সরল সোজা। বড় লক্ষ্মী বৌ। মানিয়ে চলে। অবস্থা সম্পন্ন ঘরের মেয়ে। বিচক্ষণ বাবা রত্ন দেখেই মেয়ে বিয়ে দিয়েছিলেন। তারা সুখি পরিবার।
__বড় ভাবী, তোমার কি ভালোবাসা কিছু কমতি আছে নাকি?
বড় বৌ কম যায় না।
কানায় কানায় পরিপূর্ণ।

__কিন্তু আম্মা, কোরবানী-মাংস না খাওয়ার কারণ কি?
__তখন বড় খোকা দশম শ্রেণির ছাত্র। বয়স কত হবে চৌদ্দ-পনের আর লালুর বয়স আট তো হবে। নাদুস-নুদুস স্বাস্থ্য। রাগী চেহারা। সুযোগ পেলেই মাঠের অন্য গরুদের নাজেহাল করে বেড়াতো। এ নিয়ে পাড়া-প্রতিবেশীর কথা শুনতে হতো। একমাত্র বড় খোকার বাধ্যগত ছিল।

আরও পড়ুন গল্প সোনালী

এবার মুখ খুললো ছোট খোকা মঈনুল হক।
__ভাবী তুমি কতটুকু ইয়ে মানে পুরোটুকু খুশী তো?
__কি রে ছোট দাদা, ছাগল হারা হেরে গেলি।
ছোট বোন দুই ভাইকে দাদা বলে ডাকে।
_তোমরা চুপ করো। ছোটনের মেয়ে ঝুমুর সবাইকে চুপ থাকতে বলে নানুকে বলার অনুরোধ করলো।
__যা বলছিলাম। মানুষের মনে অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা থাকে। সবার জীবনে তা পূরণ করা হয় না। তোমাদের দাদা বলেন তার নাকি সব আশা-আকাঙ্ক্ষা পরিপূর্ণ হয়েছে। তার সংসার সোনায় ভরে গেছে। নিজে যা করতে অক্ষম ছিল সেটা তার তিন ছেলে-মেয়ে পূর্ণ করে দিয়েছে। আমাদের মত পরিবারের এর চেয়ে আর কি চাওয়া-পাওয়া থাকতে পারে?
__আম্মা, আপনি দেখছি দার্শনিকদের মত কথা বলেন। বাড়ির একমাত্র জামাই ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার রাকিব হাসান তার শ্বাশুড়ি মাকে একটু ঠ্যাস দিয়ে বললেন।

গ্রামের স্বশিক্ষিত একজন মহিলা জীবনকে কাছ থেকে দেখেছেন। এ পরিবারের প্রতিটি সদস্য তার প্রাণ। জামাই থেকে বাড়ির বৌ সবাইকে নিয়ে তার সংসার। তাই জামাইয়ের কথা মনে না করে বিজ্ঞের মতই জবাব দিলেন,
__দেখ, বাবা হাসান। তুমি যেমন বললে দার্শনিক। এটা কি জানি না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি পড়েছি। বুঝার চেষ্টা করেছি। ছোট বৌমা কবিতার কাছে জানতে চেয়েছি। তখনই বুঝতে পেরেছি জীবনটা কি। তাই আমাদের জীবনের মধ্যে দর্শন আছে। এটা বুঝার ক্ষমতা হয়েছে যে জীবনে বেঁচে থাকাটাই এক ধরনের দর্শন। সংসারের ভেতরে খুঁজে পেতে হয় সুখ নামের বস্তুটি। আজ হতে প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর আগে বাবা-মা, ছোট ভাই-বোনদের ছেড়ে স্বামীর সংসারে পা দিয়েছিলাম। আস্তে আস্তে জেনে নিলাম এটাই আমার ঘর, আমার শান্তি-সুখ এবং দুঃখ। এটাই আমার জীবনের দর্শন।

__যাক, যা বলছিলাম। তোমাদের শ্বশুর বড় একটা নিয়ত করেছিলেন। তিনি আগে কখনো বলেননি। এমনি চাপা মনের মানুষ। নিয়তটা করেছিলেন লালুর জন্মের পরপর।

আরও পড়ুন লালু গল্পের-
শেষ পর্ব

ঘুরে আসুন আমাদের ফেসবুক পেইজে

লালু (১ম পর্ব)

Facebook Comments Box

এ কে আজাদ দুলাল মূলত একজন গল্পকার। এছড়াও তিনি নিয়মিত কবিতা ও উপন্যাস লিখছেন। স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা 'বিল গণ্ডিহস্তী' প্রকাশ হয়।প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ: বিবর্ণ সন্ধ্যা; উপন্যাস: জোছনায় ভেজা বর্ষাপাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের নুরুদ্দীনপুর গ্রাম তাঁর পৈতৃক নিবাস ।

error: Content is protected !!