ফেলানী
কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

ফেলানী

ফেলানী

তাহমিনা খাতুন

 

ফেলানী! সে এক ছোট বালিকার নাম
পেটের ক্ষিধে নিয়ে কাঁদে অবিরাম।
ঘরে তার আছে আরও ছোট ভাই বোন
ক্ষুধায় তাদেরও বুঝি না থামে ক্রন্দন।

পিতা তার জোটাতে না পারে ক্ষুধার আহার
বাঁচার তরে সে যুদ্ধ তাই করে অনিবার।
প্রাণান্ত পরিশ্রম সে করে দিন রাত
সন্তানের মুখে তবু পারে না দিতে দুই মুঠো ভাত।

ক্ষুধাতুর শিশুর কান্না সহিতে না পারে
ফেলানীরে সাথে নিয়ে তাই দেশ ছাড়ে।
সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তবে, যাবে সে ভারত
ভাবিল জুটিবে এবার দুটো ডালভাত।

ক্ষিদের জ্বালা বড় জ্বালা না মানে দেশ কাল
ক্ষুধার অন্নের লাগি বাড়ালো জঞ্জাল।
ছোট্ট ফেলানীও ভাবিল বুঝি দুঃখ হবে দূর
পিতার সাথে তাই চলিল সুদূর।

কত নদী, কত গ্রাম দিতে হবে পাড়ি
পিতার হাতটি ধরি চলে তাড়াতাড়ি।
সীমান্ত পাড়ি দিবে লুকিয়ে পালিয়ে
সীমান্ত রক্ষীর চোখ কষ্টে এড়িয়ে।

অবাক হয় শুধু এই কথা ভেবে
একই জমি, একই আকাশ পালাবো কেন তবে?
বোকা মেয়ে বোঝে নাই অত শত কিছু
হরিণ শিশুর মত ছোটে পিছু পিছু।

সীমান্তের পথ সে তো কাঁটা দিয়ে ঘেরা
পাড়ি দিতে হলে তা ডিঙাতে হবে বেড়া।
বিধাতার দেয়া জমি,মানুষ কেন বেড়া দিবে ?
কেন তা পাড়ি দিতে,ঝক্কি এত হবে?

পিতা তার পার হয় বেড়া ডিঙিয়ে
ফেলানী আটকে যায় জামায় জড়িয়ে।
নিষ্ঠুর রক্ষী যবে দেখিতে তা পায়
ফেলানীর দেহ খানি বিঁধিল ছররায়।

রক্তে ভিজে গেল ছোট্ট দেহখানি
দেহ ছেড়ে উড়ে গেল পরান খানি।
বিস্ময়ে হতবাক বিশ্ব চরাচর
স্তব্ধ হয়ে চেয়ে রয় জগত সংসা।

পিতা তার দূরে থেকে করে হাহাকার
হৃদয় ভেঙে তার হলো চুরমার।
বিধাতার দেয়া ভূমি, কেন ঘিরিবে মানুষ?
স্বপ্ন তার কেন হবে রঙিন ফানুস?

সরব হোক সকল মানুষ, খোলা সীমানার তরে
কাঁটাতারে স্বপ্ন যেন না মুখ থুবরে পড়ে।
প্রাণ দিয়া ফেলানী বুঝি আজকে দাবী জানায়,
কাঁটাতার না বসে যেন কোনো, দেশের সীমানায়।

আরও পড়ুন কবিতা-
তিতাস নদীর পাড়ে
অন্ধকারের জ্যোতি
স্বর্গসুখ

 

ঘুরে আসুন আমাদের সুজানগর এর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

ফেলানী

Facebook Comments Box

তাহমিনা খাতুন ছড়া, কবিতা, ভ্রমণ কাহিনী, নারীর অধিকার নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে নিয়মিত কলাম লিখছেন। পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ১লা মার্চ পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত আহম্মদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!