কবিতা,  তাহমিনা খাতুন,  সাহিত্য

প্রশ্ন নারী দিবসে

প্রশ্ন নারী দিবসে

তাহমিনা খাতুন

নারী, সে নাকি মায়ের জাতি
তবে সে কেন নিগ্রহ হতে, পায় না অব্যাহতি?

পুত্র, সে জনম লভিল মায়ের উদরে
পায় কি সে মা, যোগ্য মান কঠিন এ ভূধরে?

কন্যা, সে একদা জ্যান্ত  যাইতো আঁধার কবরে
নয় তো মরিতো নুনের বিষে, জানে তা জগৎ জুড়ে।

নারীরে বানায় দেবী, গড়ে তারে দশভূজা রুপে!
ষষ্ঠ উপাচারে পূজা দেয়, তারে পুষ্প আর ধুপে।

দেবী মায়ের পূজা দেয় যবে, মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে, শুভ কাজে
কেন পতি হারা নারী, দূরে যায় অবহেলে?

সেদিন তো নয় অনেক দূরের সময়, পতির আয়ু হলে শেষ
জলন্ত চিতায় জীবন্ত নারী, পুড়ে হতো নিঃশেষ!

পঞ্চ ব্যঞ্জনে যবে আহার করিতো, পরিবারে সবে মিলে
জীবন বাঁচাতো বাল্য বিধবা নারী, হবিষ্যান্ন গিলে!

সভ্যতার এক বিস্ময় ছিল, প্রাচীন গ্রীক ভূমি
ক্রীতদাসের সাথে সেদিনও নারী, মানুষ ছিলে না তুমি!

জ্ঞান বিজ্ঞানে পুরুষ এগােয়, নারীও এগিয়ে যায়
নারী ভ্রুণ আজও শেষ  হয়ে যায়, মাতৃ জঠরে হায়!

একুশ শতকেও নারী যেন নয়, মানুষ হিসেবে গণ্য
এখনো নারী হয় যে পাচার, যেন সে মনোহারী পণ্য!

যে মায়ের উদরে জন্ম লভিয়া, মানব  সভ্যতা বাঁচে
সেই মায়েরে কিনা বিচার কর, ফেলিয়া কঠিন ছাঁচে!

উদয়াস্ত খেটে মরে নারী, প্রতিদান নাহি পায়
দিনের শেষে শূন্য উদরে, নিদ্রা দিতে সে যায়!

গৃহে সবারে আহার করায়ে, মাতা রহে উপবাসী
সবার যত্নে ব্যস্ত সদাই, যেন সে এক সেবাদাসী!

ঘরে আর বাহিরে সবখানেতে নারী, অধিক শ্রম যে দেয়
বিনিময়ে তার ভাগ্যে কখনও, প্রতিদান জোটে না হায়!

নয় মাস ধরে গর্ভে রাখিয়া, জন্ম দেয় যে মাতা
সেই মা না কি কেউ নয় তার, সব অধিকারী পিতা!

মায়ের সোহাগে  সন্তান বাড়ে, মা ভোলে আপন সুখ
হাসি মুখে মানে সকল যাতনা, সকল বেদনা দুখ।

শিশুর মুখের অনাবিল হাসি, ভোলায় মায়ের বেদনা
সেই  শিশুরে কেড়ে নেয় পিতা, বাড়াতে মায়ের যাতনা।

যবে কোন নারী ধর্ষিত হয়, সমাজে সে হয় পতিত
ধর্ষক হাঁটে বক্ষ উঁচায়ে, হয় না সে মোটেই ভীত!

দেশে দেশে যবে  যুদ্ধ চলে, চলে ধ্বংস লীলা
নারী ধর্ষণ বিজয়ী সেনার, হয়ে যায় যেন খেলা!

নারীকে কি তবে মানুষ হিসেবে, করেনি বিধাতা সৃষ্টি?
নারীর প্রতি পুরুষের তবে, কেন বা অশুভ দৃষ্টি?

মানুষ হয়েও নারী কেন হবে, প্রতি পদে লাঞ্ছিত?
ন্যায্য অধিকার থেকে সর্বদাই নারী, হবে কি কেবলই বঞ্চিত?

বেগুনি পোশাকে নিজেরে আবৃত করে, কর কেন শুধু উৎসব?
নিজ অধিকার বুঝে নিতে নারী, হও না কেন সরব?

আটই মার্চ ডাক দিয়েছিল, প্রতিবাদী হওয়ার জন্য
সব অন্যায় রুখে দাও নারী, হও মানুষ হিসেবে গণ্য।

আরও পড়ুন কবিতা-
রাতের মিনার
প্রেমমৃত্তিকা
অকাল মরণ
গাজনা বিলের ধান
অন্তরে সোনালি আলো

 

ঘুরে আসুন আমাদের সুজানগর এর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

প্রশ্ন নারী দিবসে

Facebook Comments Box

তাহমিনা খাতুন ছড়া, কবিতা, ভ্রমণ কাহিনী, নারীর অধিকার নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে নিয়মিত কলাম লিখছেন। পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ১লা মার্চ পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত আহম্মদপুর ইউনিয়নের দ্বারিয়াপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!