নারী
কবিতা,  জহুরা ইরা,  সাহিত্য

নারী, তুলু সোনা

নারী

জহুরা ইরা

 

আমি নারী
সমাজ আমাকে ভাবতেই পারে তুচ্ছ
তাতে আমার অস্তিত্বের বিশ্বাসে
যায় আসে না কিছু
আমি জড় নই।
কেউ পারে না আমায় তার ইচ্ছে মত সাজাতে
আমি বিধাতার গড়া, সৃষ্টির সেরা,
আমি বাধ্য শুধু তাঁরই বিধান মানতে
আমি মৃত লাশ নই
নইকো আমি পঙ্গু মূক বধির
আমি ধ্বংস করতে পারি সমাজের যত
গ্লানিমাখা অনাসৃষ্টির॥

আমি দানবের সাথে লড়তে পারি
বিদীর্ণ করতে পারি ভূতল
আমি ঝর্ণাধারা হয়ে বইতে পারি
মরুপ্রান্তরেও ফোটাতে পারি ফুলদল ৷
চাই না আমি
খনিজ হয়ে অতল গহীনে থাকতে
অকল্যাণের বিরুদ্ধে মন বিস্ফোরিত
হতে চায় পৃথিবীতে
আমি মানুষ, আমি নারী
আমি উচ্ছ্বল, আমি জ্বলন্ত প্রাণবন্ত
আমি মহাসংকটে অস্ত্র ধরতেও
কখনও রব না নির্লিপ্ত উদাস, অশান্ত ।

আমি নারী
আমি নইকো শুধুই ভোগের
আমি প্রতিবাদের, প্রতিরোধের, আবিস্কারের আমি
প্রত্যাশি ন্যায় বিচারের
নির্যাতন আর অপবাদের কালিমায় নারীকে যারা করেছ বিপন্ন
তোমাদের হানাদারি ছোবল রুখতে নারী প্রস্তুত
আর রবে না নিরন্ন
নারী অবলা নয়, অবহেলার নয়, নয় অনুগ্রহের অনুকম্পার
তার শ্যেনদৃষ্টি জ্বালাবে সব দূরভিসন্ধি
ছিনিয়ে আনবে অধিকার॥

আমার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর
অনিয়মের বিরুদ্ধে আজীবন রবে স্বোচ্চার
আমার মানবতা বোধ
আর্ত নিপীড়িত মানুষের কাছে টানে দুর্বার
আমি কাপুরুষদের ঘৃণা করি
আর মিথ্যাকে করি পদদলিত
আমি সৎ সাহসীদের জানাই শ্রদ্ধা
মনে সত্য হোক সবারই লালিত ।

আরও পড়ুন জহুরা ইরার কবিতা-
ভেজালের সমারোহে
তুলু সোনা

কেউ আসবে
চারিদিকে সাজ সাজ রব
অপেক্ষার উত্তেজনায় মহাব্যস্ততায়
পরিপাটি করা হচ্ছে চারিপাশ
কে আসবে ?
উৎসুক পরিবারের সকলের মন
প্রশ্নবোধক চিহ্ন সবার চোখে মুখে।
কবে আসবে? কখন আসবে ?
বিশেষ জোগাড়
অতিথি আসেননি তখনও
তার আগমন সুস্থ স্বভাবিক হোক তাই
বাড়তি খাবার বিশ্রামের আয়োজন
কেউ ভাবছে
অতিথি দেখতে কেমন হতে পারেন ?
কারো পরিকল্পনা কীভাবে সঙ্গ দেবেন তাকে
সঠিক পরিচর্যার তালিকা করছেন কেউ কেউ
কিন্তু নীরব একজন
সংকেত যখন দিয়েছে আসার
তখন সময় হলে তাকে আসতেই হবে
তাই সবার কৌতূহল
প্রস্তুতি দেখে দেখে তিনি মুচকী হাসি হাসেন
আগমনী ঘণ্টা বাজলো
ব্যস্ততা বেড়ে গেল পরিবারের
আনন্দ-চিন্তা মিশ্রিত মুখে অপেক্ষার দৃষ্টি
এই বুঝি এসে গেলেন প্রিয় অতিথি
কিন্তু সেই একজন
কেন আজ তিনি গোপনে অশ্রু ফেলছেন ?
এ কান্না কী সুখের না কী কষ্টের?
তবুও শুভক্ষণে তার কান্নায় কেউ বাধা দেয় না ।
কিছু সময় পর
সাড়া পড়ে গেল অতিথি এসে গেছেন
সবার দৃষ্টি সম্মুখের বন্ধ করা দ্বারে
দ্বার খোলার অপেক্ষায় সমবেত সকলে
হঠাৎ কান্না ভেজা ধ্বনি মা
কেউ বলে ছেলে কেউ বলে মেয়ে
কারো মুখে হাসি কেউবা চিন্তার ঘোরে
আমি বলি চন্দ্ৰমুখী, দুর্দনা
ঘর আলো করে এলো আমাদের
‘তুলায়হা’ ‘তুলু সোনা’ ।

আরও পড়ুন কবিতা-
অবহেলার বৃত্তে
আকাশে ডানা মেলে
আত্মবিরহ
অন্ধকারের জ্যোতি
অষ্টাদশী মন

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

Facebook Comments Box

জহুরা ইরা বাল্যকাল থেকে কবিতা ও গল্প লিখে চলছেন। প্রকাশনা-কাব্যগ্রন্থ: স্মৃতির দরজায়, ঝরাপাতা, নিমগ্ন ভালোবাসার বৃক্ষ; উপন্যাস: সায়াহ্ন সমীরণ।তিনি ১৯৬২ সালের ২৪ মে পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!