তালুকদার-বাড়ি-জামে-মসজিদ
উলাট,  খয়রান,  গাবগাছি,  মসজিদ,  মানিকহাট,  মানিকহাট ইউনিয়নের ইতিহাস ও ঐতিহ্য,  সুজানগর উপজেলা

তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদ

তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদ

 

পাবনার সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের খয়রান গ্রামটি একটি প্রসিদ্ধ ও ঐহিত্যবাহী গ্রাম। গ্রামের তালুকদাররা ছিল বেশ প্রভাবশালী ও বিত্তশালী। প্রায় ২০০ বছর পূর্বে তালুকদারদের পূর্বপুরুষ খয়রান তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

প্রতিষ্ঠাতা: তালুকদার বংশের হাজি মো. মহসিন উদ্দিন তালুকদার (মহসিন মুন্সি) এলাকার ইসলাম ধর্মের লোকদের ইবাদতের জন্য খয়রান তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। মসজিদটি যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন খয়রান গ্রামের আশেপাশে উলাট, কাদোয়া, গাবগাছি গ্রামে কোনো মসজিদ ছিল না। তাই নামাজ পড়ার জন্য মুসল্লিরা এই মসজিদে আসতেন।

পটভূমি: খয়রান মসজিদ স্থাপনের পূর্বে এই এলাকার মুসলমানরা শুক্রবারের জুম্মার নামাজ আদায়ের জন্য দুলাইয়ের জমিদার  আজিম চৌধুরীর বাড়িতে স্থাপিত মসজিদে যেত। সেই মসজিদের অনুকরণে হাজি মো. মহসিন উদ্দিন তালুকদার তার নিজ বাড়িতে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করেন।

আয়তন: মসজিদটি ১২ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত।

অবকাঠামো: মসজিদটি নির্মাণের সময় নিজের আঙিনায় ইটভাটা স্থাপন করে ইট তৈরি করেন। সেই ইট দিয়ে তিনি মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। চুন, সুরকির মাধ্যমে তিনি একতলা তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই প্রাচীন মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। চুন, সুরকির ৩৫ ইঞ্চি গাঁথুনি ছিল মসজিদটি। শান বাঁধানো যে পুকুরঘাট ছিল সে দুইটিও ছিল চুন সুরকির নির্মিত। মসজিদটি প্রথমে ৩৫ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ২৫ ফুট প্রস্থ ছিল। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ প্রাচীন আমলের নিদর্শন। যত প্রাচীন পাকা মসজিদ দেখা যায় তার প্রায় সবগুলোই তিন গম্বুজবিশিষ্ট ছিল।

আরও পড়ুন উলাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসা

সুযোগ-সুবিধা: মসজিদে আগত মুসল্লিদের অযুর সুবিধার জন্য তিন বিঘার একটি বিশাল পুকুর খনন করেন। পুকুরে দুইটি শান বাঁধানো ঘাট নির্মাণ করে দেন যাতে মুসল্লিরা সহজে অযু করে নামাজ আদায় করতে পারেন।

সংস্কার:  ২০১৭ সালের দিকে মসজিদটি ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়লে কমিটির সবাই ও গ্রামবাসীদের সিদ্ধান্তে পুরাতন তিন গম্বুজ মসজিদটি ভেঙে নতুন একতলা মসজিদ নির্মাণ করা হয়। ফলে খয়রান তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদের সেই পুরাতন মসজিদটি এখন আর নাই। মসজিদের পাশেই রয়েছে হাজি মো. মহসিন উদ্দিন তালুকদারের কবর ও একটি পুকুর; যা এখনও হাজি মো. মহসিন উদ্দিন তালুকদারের স্মৃতি বহন করে চলছে। যতদিন খয়রান তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদ থাকবে ততদিন এই মহর্ষি ধার্মিক ব্যক্তি মহসিন মুন্সির কথা এলাকাবাসী ও ইতিহাসের পাতায় অক্ষুণ্ন থাকবে।

শোনা যায়, সাগরকান্দি ইউনিয়নের পুকুরনিয়া গ্রামের বিশিষ্ট ধার্মিক ও সাধু পুরুষ হযরত শাহ মাহতাব উদ্দিন (র) এই মসজিদে আযান দিয়ে নামাজ পড়েছিলেন। তিনি প্রায় নিয়মিত এই মসজিদে নামাজ আদায় করতেন। এই মসজিদটি স্থাপনের ফলে খয়রানসহ আশেপাশের গ্রামের মুসলমানদের মাঝে ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে আগ্রহ দেখা দেয়।

আরও পড়ুন কাসিমুল উলুম মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং

ব্যয় নির্বাহ:  মসিজদের যাবতীয় খরচ বহনের জন্য হাজি মো. মহসিন তালুকদার (মহসিন মুন্সি) মসজিদের জমিসহ ৭ বিঘা জমি দান করে যান। সেই জমির ফসল বিক্রি করে মসজিদের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হচ্ছে এখনও।

মসজিদটির বর্তমান সভাপতি কাম কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন মো. আব্দুল হাকিম তালুকদার, সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন মো. সাইফুল ইসলাম। মসজিদটির বর্তমান ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, মোয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন মো. মাহতাব উদ্দিন খাঁ।

 

তথ্যসূত্র: সুজানগরের ইতিহাস, লেখক: ড.আশরাফ পিন্টু

 

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন।বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!