তথ্যসেবা-ও-তথ্য-অধিকার-আইন
খ ম আব্দুল আউয়াল,  প্রবন্ধ,  সাহিত্য

তথ্যসেবা ও তথ্য অধিকার আইন

তথ্যসেবা ও তথ্য অধিকার আইন

খ ম আবদুল আউয়াল

 

একুশ শতকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নব নব উদ্ভাবনার ঢেউ মানব জাতিকে অতীতের সকল সীমারেখা থেকে ভাসিয়ে নিয়ে এমন এক নতুন দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছে যে তাকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের স্রোতধারায় স্নাত হতে হচ্ছে। নতুন চিন্তায়, নতুন উদ্ভাবনায় মানব জাতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষ এখন এক নতুন বিশ্বে নতুন মননে ভাস্বর হয়ে উঠেছে। দৈহিক, মানসিক, নান্দনিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নতুন ধারা আজ মানুষের সামনে উত্থিত হচ্ছে। এ যুগকে বলা হচ্ছে দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের যুগ ।

মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে মানুষের সমাজ সংগঠন এক শ্রেষ্ঠ কীর্তি। সমাজের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে গ্রন্থাগার । গ্রন্থাগারে মানব মনীষার ফসল সংরক্ষিত থাকে। সমাজ বিবর্তনের ধারায় গ্রন্থাগারের রূপবৈচিত্র্যও পরিবর্তিত হচ্ছে। অতীতে গ্রন্থাগারকে বলা হতো মানব জাতির অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের সংরক্ষণগার (Store house for the recorded experience of mankind) অথবা গ্রন্থাগার হচ্ছে এমন একটি স্থান যেখানে পাঠ, অনুশীলন ও নির্দেশনার জন্য বইপুস্তক বা পঠনসামগ্রী রাখা থাকে (a place set apart to contain books for reading study or reference)। এজন্য গ্রন্থাগারের কাজ ছিল পঠনপাঠন সামগ্রী সংগ্রহ করা, পদ্ধতিগতভাবে সংরক্ষণ করা এবং চাহিদা মাফিক পাঠসেবা দান করা । এগুলো একটি গ্রন্থাগারের মৌলিক কাজ নিঃসন্দেহে। কিন্তু বর্তমান যুগে গ্রন্থাগারের সংজ্ঞা ও ব্যাপ্তি আরও বিস্তৃত হয়ে গেছে। গ্রন্থাগার এখন আর চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয় এবং শুধুমাত্র পঠনপাঠন কেন্দ্র নয়। সামাজিক সংগঠন হিসেবে এর পরিধি যেমন বহুবিস্তৃত, তেমনি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যও বহুমুখী ও দূরপ্রসারী।

মানব সভ্যতা প্রস্তর যুগ থেকে ক্রমবিকাশের ধারায় একুশ শতকে আজ প্রযুক্তি যুগে উপনীত। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বৈপ্লবিক নানা পরিবর্তন আজ আমাদের জীবনে সর্বব্যাপী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভিত্তি হচ্ছে তথ্য। তথ্যই জ্ঞানের আকর। এখন আমাদের সমাজের নামকরণ করা হয়েছে তথ্যভিত্তিক সমাজ (information based society)। বর্তমান মানব সৃষ্ট সকল উৎপাদনের মধ্যে তথ্যের উৎপাদন হচ্ছে সর্বাধিক। এই উৎপাদিত তথ্যের বিশাল বিস্ফোরণের (information explosion) মধ্যে আমরা বাস করছি। তথ্যের এই দ্রুত বৃদ্ধি বর্তমানে সমগ্র বিশ্বকে আচ্ছন্ন করে প্রতিনিয়ত এক নতুনতর বিশ্ব পরিচিতি অতি দ্রুত বিকশিত করছে।

আরও পড়ুন বইমেলা ও সরদার জয়েনউদ্দীন

যতই আমরা তথ্য সমৃদ্ধ হচ্ছি এবং অজানা তথ্য জানবার চেষ্টা করছি, ততই তথ্যজগতের দিগন্ত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং আমাদের নিকট তথ্যজগতের আরও অজানা আঙিনা থেকেই যাচ্ছে। সমাজের প্রতিটি ব্যক্তি সে ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক, পণ্ডিত, বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী, শিল্পপতি বা সাধারণ শ্রমিক যেই হোক সকল পর্যায়ের মানুষের আজ তথ্যের প্রয়োজন। এই প্রয়োজনীয় তথ্যের চাহিদাকে পূরণ করতে প্রযুক্তি ব্যবহারের দ্বারা তথ্য বিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। অসীম তথ্য থেকে সর্বাধিক সুবিধা আদায় করতে এই যুগে তৈরি হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির নানারূপ ডিভাইস ও সফটওয়্যার। গ্রন্থাগার আজ তথ্যকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। সমাজের প্রয়োজনে, সমাজের অগ্রগতিতে, সামাজিক সংগঠন হিসেবে প্রচলিত বই পুস্তকের সংরক্ষণাগার থেকে আজ গ্রন্থাগার তথ্যকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়ে গেছে ।

বর্তমানের প্রযুক্তি নির্ভর সভ্যতায় তথ্য বা Information শব্দটির প্রথম প্রায়োগিক ব্যবহার শুরু হয় ১৯৫৯ সালে। এরপর American Documentatiuon Institute ১৯৬৭ সালে রূপান্তরিত হয়ে নামধারণ করে American Society for Information Science. বর্তমানে যে কেন্দ্র থেকে বইপুস্তক, পত্রপত্রিকা বা যে কোন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে সংগঠিতরূপে সরবরাহ করা হয় তাকে তথ্য কেন্দ্র বলে। গ্রন্থাগারের বা ডকুমেন্টেশন সেন্টারের অথবা বিবলিওগ্রাফিক্যাল সেন্টারের কিংবা কোন গবেষণা সংস্থার কোন শাখাও তথ্য সেবা প্রদান করলে তাকে তথ্যকেন্দ্র বা information centre বলা হয়। information centre হচ্ছে বিশেষ গ্রন্থাগার (speical library) যা বর্তমান যুগে যন্ত্র ও প্রযুক্তি নির্ভর। দ্বিতীয় প্রজন্মের গ্রন্থাগারও বলে অনেকে এবং এজন্য একে L2 বলে ।

মানুষের জ্ঞান বিজ্ঞানের জগতে কম্পিউটার উদ্ভাবন এবং এর ব্যবহারিক উপযোগিতা তথ্য বা Information কে এক নতুন দ্যোতনা ও নতুন অর্থবহতা দিয়েছে। কম্পিউটারের তথ্য ব্যবস্থাপনা বা information management শব্দটিও হাল আমলে জ্ঞান ব্যবস্থাপনা বা knowledge management এর প্রতিরূপ।

আরও পড়ুন  ভাষা নিয়ে ভাবনা

তথ্য বা Information এর সংজ্ঞা নির্ধারণে Eliah Hoffman এর সংজ্ঞাটি প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন Information is an aggrigate collection or accumulation of statemet, or facts or figures, which are conceptually by way of reasoning, logic, ideas, or any other mental mode of operation; interrelated (connected).” অর্থাৎ তথ্য হচ্ছে কোনো বিবরণ বা ঘটনা বা সংখ্যা যা মানব মনে কোনো যুক্তিগ্রাহ্য ধারণা তৈরী করতে সক্ষম হয়। তথ্য মানব মস্তিষ্কের একটি প্রক্রিয়াও যা পরম্পরায় মিলিত হয়ে একটি যুক্তি দাঁড় করায় (information is processed data in a meaningful form)।

UNISIST এর সংজ্ঞাটিও খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সে মতে তথ্য হচ্ছে একটি অর্থ বহ বিবরণ, অভিমত, ঘটনা, একটি প্রত্যয় বা ধারণা কিংবা কোন ধারণার বা অভিমতের বিবরণের সমাহার। তথ্যই জ্ঞান বা তথ্যের সমাহারই জ্ঞান। “Information is a sensible statement, opinion, fact, concept or idea, or an association of statements, opinions or ideas. It is closely associated with knowledge, in that once information has been assimilated, correlated and understood, it becomes knowledge.”

তথ্যের আরও অনেক সংজ্ঞাই বহু বিস্তৃত ধারণা সৃষ্টি করতে সক্ষম। এজন্য তথ্য এখন আর শুধুমাত্র নামবাচক শব্দ নয় এ কে বলা হয় তথ্য বিজ্ঞান। তথ্য বিজ্ঞানের বিস্তৃতি আজ এতই বিশাল হয়ে উঠেছে যে, এটি এখন বহুমুখী বিষয় বা multidisciplinary subject. কম্পিউটার, টেলিকমিউনিকেশন, সাইবারনেট, মনোবিজ্ঞান, যুক্তিবিজ্ঞান থেকে শ্রেণীকরণ ও নির্ঘণ্ট প্রণয়নের প্রযুক্তি (technologies of classification and indexing) পর্যন্ত এর বিস্তার।

আরও পড়ুন  আত্মকথন

আমাদের প্রত্যেকেই দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও উপাত্তের সম্মুখীন হই। উদাহরণস্বরূপ একজন গৃহিণী প্রতি সপ্তাহে কাঁচা বাজার করেন এবং ক্রয়কৃত দ্রব্য ও পরিমাণ মূল্যসহ সকল উপাত্তগুলো লিপিবদ্ধ করেন। মাস শেষে তিনি উপাত্তগুলো যোগ করে বিগত মাসে চাল বা তেলে কত খরচ হয়েছে তা খুঁজে বের করতে পারেন। এই তথ্য/উপাত্ত থেকে পূর্বের তথ্য/উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, অন্যান্য মাসের তুলনায় এ মাসে চাল বা তেলে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে কি না? আবার পারিবারিক উপার্জন থেকে দুধ কেনায় ব্যয়িত অর্থের পরিমাণ ধরে পারিবারিক বাজেট ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষভাবে করা যেতে পারে। আসলে তথ্য ও উপাত্ত সাধারণত আমরা একই অর্থে ব্যবহার করলেও পার্থক্য করা যেতে পারে এভাবে-উপাত্ত হচ্ছে কাঁচামাল, যা দিয়ে আমরা শুরু করি, অন্যদিকে তথ্য হচ্ছে প্রক্রিয়াজাত উপাত্ত যা কোন কর্ম সচল করতে অথবা সূচিত উপাত্তের বোধগম্যতা অর্জনে ব্যবহৃত হয়।

এক ধাপের তথ্য অন্য ধাপের উপাত্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ব্যবহার উপযোগী তথ্যের জন্য যথাযথ সময়ে উপাত্তগুলো প্রক্রিয়াজাত হয়েছে কি না সেটাই বিবেচ্য। আমরা যদি কোন পণ্যে ভোক্তার অগ্রাধিকার জরিপ করতে চাই, তাহলে আমাদের মাঠ পর্যায়ে যেতে হবে, সম্ভাব্য ক্রেতার সাক্ষাৎকার নিতে হবে উপাত্ত সংগ্রহ করতে। তারপর প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তথ্য প্রস্তুত হবে। সাক্ষাৎকার দাতার সংখ্যা যত বৃদ্ধি পাবে, সংগৃহীত উপাত্তের মূল্যও তত বৃদ্ধি পাবে। এই উপাত্তগুলো নিজেরা অব্যবহৃত, যতক্ষণ না পর্যন্ত এটা তথ্য পাওয়ার জন্য প্রক্রিয়াজাত হয় যা বাজারজাতকরণের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যবহৃত হতে পারে। এই তথ্য খুবই মূল্যবান। যেহেতু উপাত্ত সংগ্রহের বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থের মূল্যমান আনুপাতিক, সেজন্য উপাত্ত সংগ্রহ সতর্কতার সাথে করা প্রয়োজন ।

বর্তমান যুগে তথ্যের বিস্তার এত ব্যাপক হারে বেড়ে যাচ্ছে যে, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রতি পাঁচ বছরে এবং সমাজুবি জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রতি আট বছরে দ্বিগুণ হারে তথ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিপুল তথ্যরাজির মধ্যে সঠিক সময়, সঠিক তথ্যটি তথ্য ব্যবহারকারীর আয়ত্বে আনা বড়ই দুঃসাধ্য।  চাহিত তথ্য নির্বাচন করার প্রক্রিয়া তথ্যের উৎসের সঠিকতার উপর নির্ভর করে। এজন্য তথ্যের উৎস, তার পরিধি ও সীমাবদ্ধতা এবং তথ্যের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিরূপণ করা আবশ্যক।

আরও পড়ুন ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষাই প্রকৃত শিক্ষা

প্রচলিত নিয়মানুযায়ী তথ্যের মূল উৎস দুটি। একটি লিখিত (Documentary sources) এবং অন্যটি অলিখিত উৎস (Non-documentary sources)। লিখিত উৎস আবার তিন প্রকার । ১. প্রাথমিক বা মূখ্য উৎস (Primary source) ২. মাধ্যমিক বা গৌণ উৎস (Secondary Source) এবং ৩. তৃতীয় পর্যায়ভুক্ত উৎস (Tertiary source ) । অনুরূপভাবে অলিখিত উৎসকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটি আনুষ্ঠানিক (Formal) অপরটি অনানুষ্ঠানিক (Informal).

প্রথম উৎপাদিত তথ্যই হচ্ছে মূল বা আকর তথ্য তথ্যের মূল উৎসকেই প্রাথমিক উৎস বলা হয়। মূল বা আকর তথ্য যা কোনরূপ ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ বা মূল্যায়ন করা হয়নি যা অন্য কোথাও ব্যবহৃত হয়নি, এরূপ অবিকৃত প্রথম প্রকাশিত দলিল বা মৌলিক গবেষণা কিংবা মাঠ পর্যাযের কোন জরিপ বা কোন নতুন আবিষ্কৃত বৈজ্ঞানিক তথ্য বা প্রযুক্তিগত নতুন উদ্ভাবনা এগুলোকেই তথ্যের প্রাথমিক উৎস হিসেবে ধরা হয়। যে কোন প্রথম প্রকাশিত সাময়িকী বা জার্নাল অথবা পাণ্ডুলিপি গবেষণা সন্দর্ভ বা অপ্রকাশিত সেমিনারসি ম্পোজিয়ার দলিলাদিকেও প্রাথমিক উৎসের তথ্য হিসেবে উদ্ধৃত করা যায় ।

প্রাথমিক উৎসের উপর নির্ভরশীল সকল প্রকার সংগ্রহকেই তথ্যের মাধ্যমিক বা গৌণ উৎস বা Secondary Source বলা হয়। এই উৎস অবশ্যই প্রাথমিক উৎসের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে। এখানে তথ্যের নির্বাচন, বৈচিত্র্যসাধন, পুনর্বিন্যাস লক্ষ্য করা যায়। এই পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনা মাফিক করা হয়ে থাকে। মাধ্যমিক উৎসে অন্তর্ভুক্ত তথ্যাদি হচ্ছে গ্রন্থপঞ্জি (Bibliographies), নির্ঘন্ট ও সারাংশ (Indexing & Abstracting), অভিধান ও বিশ্বকোষ (Dictionaries & Encyclopedias), হ্যান্ডবুক (Handbooks) ইত্যাদি।

আরও প্রবন্ধ সমকালীন ভাবনা

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উৎসের তথ্যাদি ব্যবহার করে যখন তৃতীয় পর্যায়ে নতুন তথ্য ও জ্ঞানের সমাহার ঘটানো হয় এরূপ লিখিত উৎস থেকে উদ্ধৃত তথ্যকে তৃতীয় পর্যায়ভুক্ত তথ্যের উৎস Tertiary source হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এক্ষেত্রে তথ্য ব্যবহারকারী বা তথ্য আহরণকারী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক তথ্য উৎসের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা বিষয়বস্তু বা জ্ঞানকে তথ্যের উৎস হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। এই উৎস সাধারণত জ্ঞান বিজ্ঞানের নতুন নতুন ব্যাখ্যা বা অন্য তৃতীয় ধারণা সৃষ্টির ক্ষেত্রে কাজে লাগে। বিশ্ববিদ্যালয়পর্যায়ের শিক্ষা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে বা জ্ঞানের সীমানা বৃদ্ধি করতে তৃতীয় পর্যায়ের তথ্যের উৎসকে গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। তৃতীয় পর্যায়ভুক্ত তথ্যের উৎসের মধ্যে উচ্চস্তরের পাঠ্যপুস্তক, ডাইরেক্টরি, গ্রন্থপঞ্জির, বিষয়ভিত্তিক গবেষণা গ্রন্থপঞ্জি এবং আধুনিককালে অনলাইন ডাটা বেজকেও ধরা হয় ।

অলিখিত তথ্য উৎসে সাধারণত লিখিত উৎসের বাইরে যে সকল তথ্য লিখিত তথ্যের উৎসকে সমৃদ্ধ করে এমন তথ্যকেই তথ্যবিজ্ঞানে অলিখিত তথ্যের উৎস Non-documentary sources হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এরও দুটি রূপ আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উৎস। আনুষ্ঠানিক উৎসের মধ্যে বিজ্ঞ ও দক্ষতাপূর্ণ পেশাজীবীদের সাংগঠিনক কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট তথ্যাদিকে এবং অনানুষ্ঠানিক উৎসের মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেমন, মিডিয়া কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎকার ও কথোপকথনে যে তথ্যের উদ্ভব ও বিস্তার ঘটে তাকে এ উৎসে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

তথ্যের উৎস সঠিকভাবে চিহ্নিত করা গেলে তথ্য সেবার কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যায়। এক্ষেত্রে আরও একটি উৎসের শ্রেণী বিভাজন এভাবে করা যেতে পারে। উৎস সূত্রে তথ্য দুভাবে উৎপন্ন হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে অভ্যন্তরীণ এবং অন্যটি হচ্ছে বাহ্যিক। অভ্যন্তরীণ তথ্য আবার দুই প্রকারের অবরোহ ও স্মৃতি। স্মৃতি উৎস থেকে যে তথ্য উৎপাদিত হয় তার আবার তিনটিরূপ। যেমন মৌখিক, লৈখিক ও পর্যবেক্ষি। তথ্যের উৎসের সঠিকতা নিরূপণের জন্য লৈখিক রূপটির উপর আমরা নির্ভর করি। এই লৈখিক রূপ চার প্রকারের। যেমন, বইপুস্তক, সাময়িকী, প্রতিবেদন এবং অন্যান্য লিখিত নিবন্ধ। এগুলোর ক্ষেত্রেও উৎস ভিত্তিক শ্রেণীকরণ করা আবশ্যক এবং মানসম্পন্ন তথ্যকেন্দ্রে তা করাও হয়ে থাকে। পর্যবেক্ষিক তথ্যের উৎস আবার দুই প্রকারের। যেমন, উন্মুক্ত ও নিয়ন্ত্রিত উৎস।

আরও পড়ুন  গ্রন্থ ও গ্রন্থাগার

গ্রন্থাগারে যেমন গ্রন্থাগার সামগ্রী সংগ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রথমে প্রবেশীকরণ (Accession) থেকে শুরু করে রেফারেন্স সার্ভিসে শেষ করতে হয় অনুরূপভাবে তথ্য কেন্দ্রে তথ্যের এই উৎস নিরূপণ করে তথ্যের উৎসভিত্তিক বিন্যাস ও সংরক্ষণের কাজগুলোও সম্পন্ন করতে হয়। বর্তমান যুগে এই তথ্য সন্নিবেশন প্রক্রিয়া বা information work একটি দক্ষতাপূর্ণ কাজ। এই কাজে যারা পারদর্শী তাঁদেরকে তথ্য পেশাজীবী অবশ্যই বলতে হয়। তথ্যের এই সংগ্রহের ও প্রক্রিয়াকরণ যাদের দ্বারা বা যে কেন্দ্রের দ্বারা কাঙ্খিত ব্যবহারকারীদের নিকট সুনিপুনভাবে দেয়া হয় তাকেই information work বলে। বর্তমানে এই দক্ষতাপূর্ণ কাজ তথ্যবিজ্ঞান বা information science হিসেবে, পেশাগত বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। তথ্য ব্যবহারকারীর দিকে লক্ষ্য রেখে একজন তথ্যকর্মীকে সঠিক চাহিদা মাফিক তথ্য সেবা দান করতে হয়। এজন্য সর্বশেষ তথ্যে সমৃদ্ধ না হলে এই কাজ যথাযথভাবে করা যায় না।

এজন্য তথ্যের চাহিদার ভিত্তিতে মেলভিন ভয়েট (Melvin Voight) চার শ্রেণীর তথ্যকর্মের বিন্যাস করেছেন। প্রথমটি হচ্ছে তাৎক্ষণিক চাহিদা (Current approach):- গবেষণা ও উন্নয়নে নিয়োজিত বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরাই তাঁদের কাজের সূত্রে সর্বশেষ এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য চান। এক্ষেত্রে তথ্যকর্মীকে বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে সংগৃহীত সূত্রসহ সর্বশেষ তথ্যটি সরবরাহ করতে হয়। দ্বিতীয়টি হচ্ছে প্রাত্যহিক চাহিদা (Everday approach):- এই শ্রেণীতে তথ্য ব্যবহারকারীবৃন্দ প্রতিনিয়ত এবং ক্রমাগতভাবে তথ্যকর্মীর নিকট তথ্য চাহিদা দিয়ে থাকেন এবং তথ্যকর্মী তা যথাযথভাবে সরবরাহ করে থাকেন। তৃতীয়টি হচ্ছে বিশেষ চাহিদা (Exhaustive approach) : এই শ্রেণীর তথ্য ব্যবহারকারীবৃন্দ অতিশয় বিশিষ্ট। তাদের নিকট থেকে বিশেষ বিশেষ তথ্যের চাহিদা আসে এবং তা সরবরাহেরও একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। তথ্যকর্মীকে এক্ষেত্রে বিশেষ কর্মপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই বিশেষায়িত তথ্যসেবার কাজটি করতে হয়। এক্ষেত্রে আন্তঃতথ্যকেন্দ্রের সহযোগিতা কার্যক্রমও আবশ্যক হয়ে পড়ে।

চতুর্থটি হচ্ছে নির্দেশক চাহিদা (Catching-up approach) : এরূপ ক্ষেত্রে তথ্য ব্যবহারকারীবৃন্দ কখনও কখনও তথ্য ব্যবহারে সমস্যায় উপনীত হন, তখন তথ্যকর্মীকেই কোন তথ্যটি কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সেই নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এ কে বলা হয় তথ্য সরবরাহে প্রায়োগিক জ্ঞানের উপযোগিতা নির্ধারণ ।

 

বাংলাদেশের তথ্য অধিকার আইন:

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি হলো স্বাধীনতা । গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এই ভিত্তি অর্জিত হয়েছে। ১৯৭১ এ সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল জনযুদ্ধ, মুক্তির সংগ্রাম তথা মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ এর ২৬শে মার্চ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা আমাদের মুক্তির প্রথম ধাপ রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করেছি। জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক মুক্তি, সাংস্কৃতিক মুক্তি এমনি আরো অনেক মুক্তি এখনো অর্জিত হয়নি। ১৯৭২ এ জনগণের রাজনৈতিক মুক্তির সনদ সংবিধান তৈরী হয়। এটি জনগণের অধিকারের দলিল। সংবিধানে জনগণের অনেক অধিকারের কথা থাকলেও তা স্বাধীনতার একান্ন বছর (পরিমার্জিত) পরেও অর্জিত হয়নি। চল্লিশ বছর পরে ২০০৯ এর জুলাইতে জনগণের আইন তথ্য অধিকার আইন’ জাতীয় সংসদ কর্তৃক পাস করা হয়েছে।

১৯৭২ এ সদ্য স্বাধীন দেশে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মরণসভায় প্রফেসর আহমদ শরীফ বলেছিলেন ‘এতদিন আমরা বিজাতি, বিভাষী ও বিদেশীদের দ্বারা শাসিত হয়েছি। এখন আমরা স্বদেশী, স্বভাষী ও স্বজাতি শাসকেদরে দ্বারা শাসিত হবো। জনগণের স্বাধীনতা রাষ্ট্র হরণ করে। জনগণের অধিকার ও মুক্তির জন্য স্বদেশী স্বভাষী ও স্বজাতি সরকারের সাথেও জনগণকে সংগ্রাম করে অধিকার আদায় করতে হবে। মহামতি লেনিনও বলেছিলেন ‘রাষ্ট্র থাকলে (নাগরিকদের) স্বাধীনতা থাকে না, আর স্বাধীন সমাজে রাষ্ট্র থাকতে পারে না’। কারণ রাষ্ট্রীয় স্বার্থে জনগণের অধিকার হরণ হতেই থাকে।

জনগণের ট্যাক্সের টাকায় রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে সরকার জনগণকে নিরাপত্তা দেয়ার নামে মূলত অধীন করে রাখে। ব্যক্তি বা সমাজের স্বাধীনতা তাহলে কোথায়? এই প্রশ্নে ফরাসী দার্শনিক জ্যাঁ পল সার্ত্রে তাঁর অস্তিত্ববাদ দর্শনে মানুষের অপার স্বাধীনতা অন্বেষণ করেছেন। আসলে একটি রাষ্ট্রের সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা জনগণের নিরঙ্কুশ স্বাধীনতার অন্তরায়। তথাপি বর্তমান কালে রাষ্ট্র ব্যবস্থার বাইরে মানব সমাজ নেই। তাই জনগণকে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি নিজ নিজ সরকারের কাছ থেকেই আদায় করতে হয়।

আরও পড়ুন একটি বহুল কাঙ্ক্ষিত আইনী সংশোধনী

বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের জনগণ নিজস্ব সংবিধান লাভ করে। যদিও তা অসাংবিধানিক সামরিক সরকার কর্তৃক বারে বারে ক্ষত বিক্ষত হয়েছে। তবুও সংবিধানে বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষিত আছে। এই সংবিধানের দ্বারা স্বীকৃত জন প্রতিনিধিবৃন্দ নতুন রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত যত নতুন আইন তৈরী করেছে তার মধ্যে ‘তথ্য অধিকার আইন ২০০৯’ কে বলা যায় জনগণের আইন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ এবার যে কয়টি জনমুখী আইন প্রণয়ন করছে তার মধ্যে জবাবদিহি মূলক আইন, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯। ২০০৯ সালের ১লা জুলাই থেকে তথ্য অধিকার আইনটি বাংলাদেশে কার্যকর হয়েছে।

এই আইন দ্বারা রাষ্ট্রের উপর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে আইনটির ভূমিকা রয়েছে। দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ আইনটি প্রয়োগ করে সরকারের কাছ থেকে ন্যায্য অধিকার আদায় করে নিতে পারে। নিজেদের অবস্থার উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ আবশ্যক। সরকারের কাজের স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতার পরিচায়ক হিসেবে এই তথ্য অধিকার আইনের ভূমিকা অপরিসীম। জনগণকে আইনটির অসীম সম্ভাবনার তথ্যাদি জানতে ও বুঝতে হবে। সরকারি তথ্য ও সেবা পাবার ক্ষেত্রে এই আইনের ধারা ও বিধিমালাগুলো জনগণের জানা ও বোঝার আওতায় আনতে হবে।

এ আইনের স্বরূপ ও এর প্রয়োগ প্রণালী সম্পর্কে সকলস্তরের মানুষের পরিষ্কার ধারণা তৈরী অত্যন্ত জরুরী। জনগণের নির্বাচিত সরকারের কাছে হিসাব চাওয়া জনগণের মৌলিক অধিকার। এখন এর সঠিক প্রয়োগের উপর নির্ভর করছে এর কার্যকারিতা। এই আইনটি প্রয়োগের জন্য কিছু বিধিমালাও প্রণীত হয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকরই শুধু এই আইনটি ব্যবহারের অধিকারী। আগে সরকারী কাজে এবং এনজিওদের কাজেও গোপনীয়তা রক্ষা করাই ছিল প্রথা। জনগণ কোন তথ্য জানতে চাইলে জনগণকে তারা তা দিতে বাধ্য ছিল না। এই আইনে সরকার ও এনজিও তাদের কাজ ও দায়িত্ব সম্পর্কে জনগণের নিকট জবাবদিহিতার আওতায় এসেছে।

আরও পড়ুন দুলাইয়ের জমিদার আজিম চৌধুরী

বাংলাদেশের তথ্য অধিকার আইনে তথ্যের সংজ্ঞাকে সংকুচিত করা হয়েছে। ২নং ধারায় সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ২এর (চ) তে বলা হয়েছে “তথ্য অর্থে কোনো কর্তৃপক্ষের গঠন, কাঠামো ও দাপ্তিরিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত যে কোনো স্মারক, বই, নকশা, মানচিত্র, চুক্তি, তথ্যউপাত্ত, লগবহি, আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, দলিল, নমুনাপত্র, প্রতিবেদন, হিসাব বিবরণী, প্রকল্প প্রস্তাব, আলোকচিত্র, অডিও ভিডিও, অংকিত দলিলাদি, চিত্র, ফিল্ম, ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতকৃত যে কোন ইন্সট্রুমেন্ট, যান্ত্রিকভাবে পাঠযোগ্য দলিলাদি এবং ভৌতিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য নির্বিশেষে অন্য যে কোন তথ্যবহ বস্তু বা উহাদের প্রতিলিপি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে; তবে শর্ত থাকে যে, দাপ্তরিক নোট সিট বা নোট সিটের প্রতিলিপি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না।” এই সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায় যে, সরকারের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্যাদিই এই আইনে তথ্য ।

তথ্য অধিকার আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধ হলেও মহৎ। শুরুতেই বলা হয়েছে যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত এবং তথ্য প্রাপ্তির অধিকার চিন্তা, বিবেক ও বাক স্বাধীনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং যেহেতু জনগণ প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক ও জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক; ইতাদি কতিপয় আরও সুন্দর সুন্দর বাক্য তথ্য অধিকার আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে ধারা আকারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে এ দেশের নাগরিকদের যে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে তার বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে এ আইন প্রণীত হয়েছে বলা চলে।

আরও পড়ুন কামাল লোহানীর বিপ্লব মন্ত্রের প্রথম পাঠশালা

তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে জনগণ সরকারী কাজ সন্বন্ধে জানবার অধিকার অর্জন করেছে। তবে সব তথ্য নয়। যেসব তথ্যে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ক্ষতি হতে পারে বা অন্য কোন দেশ বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি হতে পারে এ রকম তথ্য কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের দিতে বাধ্য নয়। তবে এনএসআই, ডিজিডিএফআই, এসএসএফ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, র‍্যাবের গোয়েন্দা সেল, রাজস্ব আদায়কারী গোয়েন্দা সেল এসকল সংস্থার দুর্নীতি সম্পর্কিত কোনো তথ্য বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সম্পর্কিত কোনো তথ্য প্রদানে বাধ্য থাকবে। তথ্য পেতে হলে তথ্য প্রাপ্তির আবেদন পত্রের ফর্মে তথ্য চাইতে হবে । সেক্ষেত্রেও তথ্যের অবাধ প্রবাহের ধারণা খণ্ডিত হয়েছে।

তথ্য অধিকার আইন ঠিকমত প্রয়োগ হচ্ছে কি না তা তদারকির জন্য তথ্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। তথ্য কমিশন নাগরিকদের তথ্য অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নের বিষয়ে নীতিমালা এবং নির্দেশনা প্রণয়ন ও প্রকাশ করবে। সর্বোপরি রাষ্ট্র ও জনগণের মাঝে সেতুবন্ধ রচনা করার কথা তথ্য কমিশনের। কিন্তু বাস্তবে আমাদের দেশে কোনো কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করে না এবং অধিকাংশ সময় করতেও পারে না। তথাপি তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োগের উপরই নির্ভর করছে রাষ্ট্রের উপর জনগণের মালিকানার স্বত্ত্ব।

 

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

তথ্যসেবা ও তথ্য অধিকার আইন

Facebook Comments Box

খ ম আবদুল আউয়াল (১৯৫১-২০২২ খ্রি.) একজন লেখক ও গবেষক। তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সাবেক পরিচালক। ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি, পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত সাগরকান্দী ইউনিয়নের শ্যামসুন্দরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ; অস্ফুট বাক, উনিশ শতকের বাংলা সাময়িকপত্র সমীক্ষা, ষোড়শ শতকের কবি ও কাব্য, দৃশ্যমান ভাষা : ভাষাপত্র, সমালোচনা ও আমাদের সাহিত্য-সমালোচনা, উচ্চশিক্ষার গতি প্রকৃতি-সুন্দরম। তিনি ২০২০ সালের ২৮ মে মৃত্যুবরণ করেন।

error: Content is protected !!