• কাকভোর
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    কাকভোর

    কাকভোর ♦ শফিক নহোর সকালে ঘুম থেকে উঠেই বউয়ের সঙ্গে একদফা ঝগড়া হয়ে গেল। বউ হাজারটা অভিযোগ তুলেছে; আমি খারাপ, আমি তাকে কিছুই দেইনি কান্নামিশ্রিত কণ্ঠে বলছে। রান্না ঘরে এপাশ থেকে ওপাশে যাচ্ছে। কাজের মেয়েটি আজ আসেনি। সকালের নাস্তা বানানোর দায়িত্ব তার। নাশতার টেবিলে বসে যেই মুখে খাবার দিয়েছি, বুঝলাম এখন বমি করলে কান্নার আওয়াজ বেড়ে যাবে। প্রতিদিন একই খাবার বার বার খেতে ভালো লাগে না। আমি মধুমাখা কণ্ঠে জানতে চাইলাম, “রাতের খাবার কিছু নেই? ওভেন থেকে আমাকে গরম করে দাও। তুমিও আমার সঙ্গে বসে যেতে পারতে দুজন এক সঙ্গে নাশতা করতাম। শোভাকে নিয়ে একসঙ্গে যেতাম।” “এতো দরদ দেখাতে হবে না।…

  • ফাগুনের-গল্প
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    ফাগুনের গল্প

    ফাগুনের গল্প ♦  শফিক নহোর   আজ বিকেলটা শুরু হলো ঠাণ্ডা পানির চা দিয়ে। নতুন প্রযুক্তি; প্রথমে আমি নিজেই থ মেরে গেলাম। চায়ের কাপে চুমুক দিতেই অদিতি ফোন দিয়ে বলল, “তুমি এখনও চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছ। আমি বাসা থেকে বের হয়েছি। তুমি দ্রুত কাজি অফিসে চলে আসো।” টুংটাং শব্দে শেষের কথাগুলো টেপরেকর্ডারে ফিতা পেঁচিয়ে গেলে যেমন শোনায় ঠিক তেমন। লাইটার হাতে নিয়ে কি যেন বলতে চেয়ে ভুলে গেলাম। দোকানি বেনসন সিগারেট বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “মামা ত্রিশ টাকা হয়েছে। মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে দিতেই একটা চকলেট ধরিয়ে দিল।” সকালে বিকাশে টাকা পাঠিয়েছে অদিতি, সে জানে আমার কোনো হাত খরচ নেই।…

  • গয়নার-নৌকা
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    গয়নার নৌকা

    গয়নার নৌকা শফিক নহোর অপ্রত্যাশিতভাবে মুন্নির সঙ্গে আমার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারপর থেকে মুন্নি আমাকে খুন করার জন্য লোক ভাড়া করে। আমি ফেরারি আসামির মত পালিয়ে বেড়াতে লাগলাম। ঘরের ছোটো ছিদ্র দিয়ে আলো আসলেও ভয় করত কেউ বুঝি আমাকে দেখে ফেলল। একদিন বৃষ্টিভেজা দুপুরে, এই ভয়কে উপেক্ষা করে মুন্নি আত্মহত্যা করেছে শুনে দৌড়ে গেলাম। আমি তখন নানা বাড়ি থেকে লেখাপড়া করি। মুন্নি আমাকে ভয় দেখাত, আমাকে বিয়ে না করলে বড়ো মামার কাছে বিচার দেব। আমার সামনে এসে এ কথা কখনও বলেনি। তবে সালমা আমাকে বলত, কীরে মুন্নিকে নাকি তুই বিয়ে করবি, আমার কাছে বল না সত্যি কথা। সালমার আবদার…

  • নিরুপায়-নীলাঞ্জনা
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    নিরুপায় নীলাঞ্জনা

    নিরুপায় নীলঞ্জনা শফিক নহোর তখন আমার নিগূঢ় প্রণয় চলছে মৌমিতার সঙ্গে। মৌমিতা খুব আবদার করে বলতো, ─ তোমার দেশের বাহিরে যাবার কী প্রয়োজন? দেশেই ভালো একটা চাকরি করতে পারলে, আমাকে রেখে তুমি যেও না। তুমি দেশের বাহিরে চলে গেলে বাবা আমাকে অন্য জায়গায় পাত্র দেখে বিয়ে দিয়ে দিবে। ─ তোমাকে বিয়ে দিবে কেন, আমি আছি না?’ আমাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করতো। ওর আবদার ছিল একটু শিশুসুলভ। এত অভিমানী মেয়ে অল্পতেই চোখের কোণায় জল গড়িয়ে পড়ত। আমার উপর রাগ করে কখনো কখনো রাতে ভাত খেত না, সকালে খেত না। আমাকে মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দিতো আজ সারাদিন না খেয়ে আছি; আমি বিভিন্ন…

  • সে-আমার-কেউ-না
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    সে আমার কেউ না

    সে আমার কেউ না শফিক নহোর   ক. সুমনাকে চুমু দেবার পর, ও আমাকে শয়তান, জানোয়ার, তোর সঙ্গে কোনদিন কথা বলবো না বলে তিরস্কার করতে লাগলো। কথা শেষ না হতেই ওর চোখে জোয়ার ভাটার মত পানি বইতে শুরু করল। একটু ঢং স্বভাবে ওর শরীর ঘেঁসে দাঁড়িয়ে, আহ্লাদ করে ওর ওড়না দিয়ে চোখের জল মুছিয়ে দিতেই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলো। তখন বুঝতে পারলাম। সুমনাকে বোঝাতে গেলে বোকা হয়ে যাবো। তার চেয়ে এই মুহূর্তে আমি কোন কথা না বাড়িয়ে সদর দরজা দিয়ে বের হয়ে যাই। বের হতেই মৌ আমাকে দাঁড়াতে বললো। আমি বিদ্যুৎ গতিতে নজর এড়াতে চেষ্টা করলাম। সুমনা এই ক’দিনে আমাকে কল…

  • প্রথম-প্রভাত
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    প্রথম প্রভাত

     প্রথম প্রভাত শফিক নহোর   ডিসেম্বর মাসে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা হয়ে গেছে। এখন ছুটি। ছেলে মেয়েরা বায়না ধরেছে, এবার ফয়েজ লেক দেখতে যাবে। চট্টগ্রাম খুব সুন্দর শহর, নানুপুরের মন্দির দেখবে। বড় দিনের অনুষ্ঠান শেষ করে, বাবার বাড়িতে তিন চারদিন থেকে, নববর্ষের বিশেষ দিনে লিটনকে অবাক করার মতো পরিকল্পনা চলছে রীতার মনে। ফয়েজ লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে কোন মানব হৃদয়ে প্রেমের নৈসিক সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারবে। স্বচ্ছ পানির ভেতর দিয়ে আকাশের নীল রোদন মায়ায় বিকেলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও একধাপ বাড়িয়ে দেয়, পাখির কিচিরমিচির শব্দ, জলে ভেসে বেড়ানো পানকৌড়ি। এদের আলিঙ্গনে তখন মনে হয় আমার সবকিছু থাকতেও লিটনের সংসারে সুখ খুঁজে পেলাম…

  • মৃত-বৃক্ষ
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    মৃত বৃক্ষ

    মৃত বৃক্ষ শফিক নহোর   অনেকদিন ধরে বোয়াল মাছ খাওয়ার বায়না ধরেছে মিনু। ও চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আজ চলতি মাসের একুশ তারিখ, হাতের অবস্থা বড়ই নাজুক। মিথ্যা সান্তনা দিয়ে বললাম, ─ বেতন হাতে পেলে তুমি যা যা খেতে চাও, সব এনে দিবো। চিন্তা করো না। এখন খাবার দাও। আমার অফিসে যাবার সময় হলো। ভিলেন মার্কা অভদ্র একজন অফিসার আছে, সবসময় মানুষের পিছনে একটা পিন বিধিয়ে দেবার পায়তারা করে অবিরাম। আস্তাগফিরুল্লাহ, মানুষ কী তাই এত খারাপ হয়? এ অফিসে চাকরি না হলে হয়তো বুঝতাম না। সকালে বউ রসুনের পাতা দিয়ে টমেটো ভর্তা করেছে। আহা! কি স্বাদ। গরম ভাতের সঙ্গে হালকা একটু…

  • বেলীফুলের-ঘ্রাণ-শেষ-পর্ব
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    বেলীফুলের ঘ্রাণ (শেষ পর্ব)

    বেলীফুলের ঘ্রাণ (শেষ পর্ব) শফিক নহোর   ৩. শোন, খেয়ে নে। আজ ঢাকা থেকে তোর জাহিদ ভাই আসবে। আমরা ফকির বাড়ি যাবো পিঠার চাইল কুটতে, ঢেঁকিতে। এতদিন পর ছেলেটা বাড়ি আসছে। তোর মেঝ মামাকে বললাম, রোকেয়াকে নিয়ে আপনিও আসেন। জাহিদের সঙ্গে তার নাকি অফিসে অনেক কাজ, আসতে পারবো না। মানুষ একবার শহরে গেলে গ্রামে আর ফিরে আসতে চায় না। কেউ যদিও আসে লাশ হয়ে। বেঁচে থাকতে আর ক’জন আসে গ্রামে। তাই না রে পারুল? তোর মেঝ মামা বলেছে, তোর লেখাপড়া ভালো হলে ঢাকা নামকরা কলেজে তোকে ভর্তি করবে। তোকে নাকি ডাক্তারি পড়াবে, তোর মায়ের না কি স্বপ্ন ছিল। তুই ডাক্তারি…

  • বেলীফুলের-ঘ্রাণ-১ম-পর্ব
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    বেলীফুলের ঘ্রাণ (১ম পর্ব)

    বেলীফুলের ঘ্রাণ (১ম পর্ব) শফিক নহোর   ১. পারুল গ্রামের মেয়ে। বেলিফুলের মতো সাদা চেহারা, চোখ দুটি মায়া ভর্তি। কথা বললে মনে হয় কথার সঙ্গে রসগোল্লার রস বেরিয়ে আসে। ঠোঁটের কিনারে ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদের ঝিলিকের মতো মিহি আবেগি ঢঙ লেগে থাকে সর্বক্ষণ। লেখাপড়ায় গাঁয়ের মধ্যে সেরা। স্কুলের মাস্টাররা স্নেহ করে খুব, এক নামে তাকে সবাই চেনে জানে ভালো ছাত্রী হিসাবে। পারুল স্বপ্ন দেখত ডাক্তার হওয়ার। সেই স্বপ্ন একটা সময় অধরা রয়ে যায়। তার মা মারা যাওয়ার পর। মায়ের মৃত্যুতে পারুল যেন ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দা বনে যায়। উদাস একটা ভাব চেহারার ভেতর। বেলে মাছের মতো জাবর কাটতে থাকে সারাক্ষণ। বাড়িতে বেশিদিন…

  • গৃহবন্দি-বিড়াল; amadersujanagar.com
    গল্প,  শফিক নহোর (গল্প),  সাহিত্য

    গৃহবন্দি বিড়াল

    গৃহবন্দি বিড়াল শফিক নহোর   মিনু কলেজ থেকে ফিরে আসার পর, তার মা তাকে জানিয়ে দিলো, তার আদরের বিড়াল বাড়িতে রাখা যাবে না। এমনিতেই দেশের অবস্থা বেশি একটা ভালো না। মানুষই খেতে পাচ্ছে না, বিড়াল পুষে কি হবে। তাছাড়া বিড়ালের শরীরে ঘা হয়েছে। পরের দিন মিনু কলেজে যাওয়ার পর, তার মা বস্তায় ভরে বিড়াল জঙ্গলে ফেলে দিয়েছে। বাড়িতে ঢুকেই মিনু কিছু একটা আন্দাজ করতে পারছে, ‘ডাল মে কুছ কালে হে।’ কাঁধের ব্যাগ টেবিলের উপরে রাখতেই তার মা কিছু একটা বলতে চাইল। কথা ঠোঁটের কিনারে আসতেই হাত ইশারা করে বলল, আমি সব জানি। তোমাকে কিছুই বলতে হবে না। মায়ের মুখের দিকে…

error: Content is protected !!