সোনালী-শেষ-পর্ব
এ কে আজাদ দুলাল (গল্প),  গল্প,  সাহিত্য

ছোট গল্প ‘সোনালী’ (শেষ পর্ব)

সোনালী (শেষ পর্ব)

এ কে আজাদ দুলাল

 

শুধুই ভাবছি এই সমাজের একজন নাগরিক হয়ে সমাজের কোন খবরই আমরা রাখি না। কত অসহায় মানুষ অভাবে-অনটনে অসামাজিক কাছে লিপ্ত হচ্ছে। আবার জীবনও হারাচ্ছে। হিজড়ে হয়ে জন্মগ্রহণ করার অপরাধে পরিবার তথা সমাজ তাকে ত্যাগ করছে। জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার। এ কি রকম সমাজে বসবাস করছি আমরা। অথচ আমরা নাকি সভ্য মানবজাতি। এই যে সোনালীদের প্রতি আমার বা আমাদের সমাজের অনেকেই নিচু মনোভাব। কবে শেষ হবে?

-সোনালী, আপনার জীবনের করুণ কাহিনী আমাকে কেন বললেন?

-আমার মনে হয়েছে, আজ এমন একজন মানুষ পেয়েছি, জীবনের কথাগুলো বলে যাই। সময় তো শেষ হয়ে যাচ্ছে।

-মানে? প্রশ্ন করলাম।

-স্যার, এখন তো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্যাজিডি ঘটনাটা  বলা হয়নি।

-এরপরও আরো ঘটনা আছে?

-জিঁ, স্যার। আমার তলপেট এতটাই ইনজুরি হয়েছিল যে অপারেশন ছাড়া বাঁচানোর কোন উপায় ছিল না। 

-তারপর?

-স্যার, এত সময় আপনার সাথে এক নাগারে  কথা বলে চলেছি, আপনার কি একবারও মনে হয় নি আমার কন্ঠস্বর হিজড়াদের মত? 

-হ্যাঁ, তা মনে হয়নি কিন্তু কেন?

-স্যার, দেখুন। গরীবের ঘরে জন্মগ্রহণ করাটা কত বড় অপরাধ।

-বুঝলাম না।

-আমি একজন পরিপূর্ণ মেয়ে হয়েই জন্মগ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু সামান্য একটা অপারেশন হলে আমার একটা সংসার হতো। সাধারণ মানুষের মত আমার ফেলে আসা স্বপ্নের পদ্মার পাড়ে  স্বামীর ঘর হতো। আপনি বুদ্ধিমান বুঝতে পেরেছেন। ডাক্তার ম্যাডাম আমাকে অনেক কিছুই বলেছিলেন। কিন্তু তখন আর কোন উপায় ছিল না। কারণ তলপেটের ভেতরে এতটাই ইনজুরি হয়েছিল তা এখন অকার্যকর। ডাক্তারী ভাষায় কি যেন বলেছিলেন। যে কোন সময় আমার মৃত্যু হতে পারে। সেই সময়ের জন্য অপেক্ষায় আছি। শুধু পেটের দায়ে এই কাজটা করে যাচ্ছি। এখন আর কারোর কাছে হাত পাততে হয় না। কখনো আর পণ্য হয়ে টাকার বিনিময়ে হাত বদল হতে হবে না। এখন আর কাউকে ভয় করি না। স্যার,আপনি তো শিক্ষিত মানুষ ধর্ম-কর্ম বিশ্বাস করেন।

-আচ্ছা বলুন, তো। মৃত্যুর পর আমাদের কি হবে? 

উত্তর দিতে পারি নি। চুপচাপ কিছু সময় দাঁড়িয়েছিলাম। ইতোমধ্যে একজন মহিলা কাস্টমার এসে অপেক্ষা করছে  দর্জি সোনালীর জন্য। সোনালী তার কাস্টমারকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সেই মূহুর্তে করুণ দৃষ্টিতে এক পলক চেয়েছিল।

হাঁটছি আর ভাবছি আমাদের শরীরে প্রতিদিন কত ময়লা জমে আর  দামী সাবান দিয়ে সুসজ্জিত গোসল খানায় শাওয়ার ছেড়ে ঝর্ণায় ধুঁয়ে মুছে পরিস্কার করে নেই। কিন্ত প্রতিটি দিন  প্রতিটি মূহুর্তে  দুর্নীতি-অনৈতিক কর্মকান্ডে সমাজ কুলষিত হয়ে যাচ্ছে। এই সমাজকে পরিশুদ্ধ করার এমন কোন বডিসপ আবিষ্কার হয়েছে কিনা জানি না। এই মানুষই সমাজ বদলায়। কিছু সংখ্যক অমানুষ সমাজকে কুলষিত করে চলেছে।

সোনালী মত একজন সুন্দরী নারী হয়েও কেন নারীত্বের স্বাদ গ্রহণ করতে পারলেন না?

সোনালী শেষ পর্ব

আরও পড়ুন সোনালী গল্পের-

১ম পর্ব

২য় পর্ব 

৩য় পর্ব

৪র্থ পর্ব

৫ম পর্ব

ঘুরে আসুন আমাদের ফেসবুক পেইজে

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন।বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!