সাইফুর-রহমান
চরদুলাই,  দুলাই,  লেখক পরিচিতি,  সাহিত্য

সাইফুর রহমান

সাইফুর রহমান মূলত একজন গল্পকার। মানবজীবনের বৈপরীত্য ও মনস্তাত্ত্বিক বহুমুখিতা তাঁর লেখার প্রধান উপজীব্য।

জন্ম: সাইফুর রহমান ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের ১২ ডিসেম্বর পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের চরদুলাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

পারিবারিক জীবন: সাইফুর রহমানের পিতা জনাব মো. বজলুর রহমান পেশায় ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন চিফ একাউন্টস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চরদুলাইয়ে প্রতিষ্ঠিত “বজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়” তাঁর একক প্রচেষ্টার উজ্জ্বল উদাহরণ। মাতা বেগম হোসনে আরা রহমান একজন গৃহিণী। তিনি পিতা-মাতার একমাত্র পুত্র সন্তান। তাঁর তিন বোন রয়েছে। প্রথম বোন বদরুন নাহার শেলী। দ্বিতীয় বোন ডা. বিলকিস নাহার শিল্পী, পেশায় ডাক্তার। তৃতীয় বোন বিনতে মোনোয়ারা রহমান শিবলী, পেশায় স্থপতি।

সহধর্মিণী ডা. সিফা রহমান। তিনি দুই সন্তানের জনক। কন্যা সাফিনা রহমান ও পুত্র সাফিন রহমানকে নিয়ে ঢাকার  নিকুঞ্জে বসবাস করেন।

শিক্ষা জীবন: সাইফুর রহমান মোল্লারটেক উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে মাধ্যমিক ও ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। তারপর পড়াশুনা করেছেন প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশ ভারত ও যুক্তরাজ্যে। আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক করেন। দ্বিতীয় দফায় স্নাতক করেন যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে। লিংকনস্-ইন থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি লাভ করেন। সবশেষে স্নাতকোত্তর করেন লন্ডন সিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইনের ছাত্র, কিন্তু ইতিহাসের অলিগলি চষে বেড়াবার মূলমন্ত্রটা শিখেছেন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন বিশ্ববিখ্যাত ঐতিহাসিক অধ্যাপক ইরফান হাবিবের কাছে। কিংবদন্তিতূল্য আইনজ্ঞ প্রফেসর ফিলিপ থমাস মাঝে মধ্যেই উপদেশ দিয়ে তাঁর জ্ঞানপিপাসার অনেকটাই নিবৃত্ত করেছেন। দেশে ফিরে সাহিত্য সাধনায় সম্পূর্ণ আত্মনিয়োগ করেন।

আরও পড়ুন জ্যোতির্বিজ্ঞানী মোহাম্মদ আবদুল জব্বার

কর্মজীবন: ব্যারিস্টারি শেষ করে ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে তিনি ঢাকা জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং অদ্যবধি তিনি হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করছেন।

লেখালেখি: লেখালেখিতে আঁকিবুকি শুরু এগারো-বারো বছর বয়স থেকেই। ছাপার অক্ষরে প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ‘শিশু’ পত্রিকায়। তখন তিনি দশন শ্রেণীর ছাত্র।  অল্প বয়সেই ছোটগল্প লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে পান রবি ঠাকুরের গল্পগুচ্ছে। গোড়ার দিকে লেখালেখিটা ট্রাঙ্কবন্দি থাকলেও অবশেষে বলিষ্ঠ আত্মপ্রকাশ “কালি ও কলম” পত্রিকায়। প্রথম গল্প ‘অচেনা মানুষ একটি বৃক্ষ দুটি শালিক’। তবে পাঠক সমাজের কাছ থেকে বিশেষ স্বীকৃতি আসে “বাংলাদেশ প্রতিদিন”-এ উপসম্পাদকীয় লিখে। এখনও তিনি নিয়মিত গল্প ও কলাম দুটোই লিখছেন। কলামের মাধ্যমেই মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিরন্তর।

প্রকাশনা:

নিবন্ধগ্রন্থ:

  • জানা বিষয় অজানা কথা (২০১৫ খ্রি.)
  • যুক্তি তর্ক ও গল্প (২০১৬ খ্রি.)
  • ভিঞ্চির কালো জুতো (২০১৯ খ্রি.)
  • করোনায় শেক্সপিয়র রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য (২০২১ খ্রি.)

গল্পগ্রন্থ:

  • শরৎচন্দ্রের শরৎ উপাখ্যান ও অন্যান্য গল্প (২০১৬ খ্রি.)
  • পক্ষিরাজের ডানা (২০১৮ খ্রি.)
  • মরিচপোড়া (২০২০ খ্রি.)
আরও পড়ুন লোকসাহিত্য গবেষক ও শিক্ষাবিদ মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন

সম্মাননা:

  • ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে ছোট গল্প লেখায় তিনি পেয়েছেন ‘শ্রীপুর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার’।
  • ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে প্রবন্ধের জন্য পেয়েছেন ‘দাগ সাহিত্য পুরস্কার’।

 

সাহিত্য মূল্যায়ন: ‘মরিচপোড়া’ গল্পগ্রন্থটির জন্য চমৎকার একটি ভুমিকা লিখেছেন বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তিতুল্য লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। ‘মরিচপোড়া’ গল্পগ্রন্থটি পাঠ করে তিনি তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেছেন এভাবে- “মরিচপোড়া গল্পটি আমাকে মুগ্ধ করেছে এর এক প্রগাঢ় রহস্যময়তার জন্য। উত্তমপুরুষে যে চরিত্রটি লেখক তৈরি করেছেন তা তাঁর শক্তিমত্তারই পরিচয় বহন করছে। এই চরিত্রটির মধ্যে যে বিভ্রমটা রয়েছে তার ভিতরে জাদুবাস্তবের ছায়া পাই। এই গল্পে এক গ্রামীণ মহিলাকে কত প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয় তার বেদনাবহ বর্ণনা আছে। এদের যেন সুখের জীবনযাপন করতে নেই। প্রোষিতভর্তৃকা মিতুজা নাম্মী মেয়েটিকে যে পুরুষের কাছে শরীর দিতে হলো সে তার সম্পর্কে গুরুজন। অল্প আয়াসে মেয়েটির অসহয়তা ভারী ভালো ফুটিয়েছেন সাইফুর”।

একই গল্পগ্রন্থের আরেকটি গল্প “কালো কঙ্কাল” পাঠের পর লিখেছেন- “সাইফুরের বিশিষ্টতা হলো তিনি তৃণমূল স্তরের মানুষকে অনেকটা চেনেন। না হলে কালো কঙ্কাল গল্পটা লিখতে পারতেন না।

তালেব মিয়া, লতু আর আকেলের গল্প। গল্পটির মধুর সমাপ্তি বেশ উপভোগ্য। গরিব মানুষকে বাঁচার জন্য কত কী যে করতে হয় তা তালেব মিয়ার জীবনযাপনের সংক্ষিপ্ত বিবরণের ভেতর দিয়ে ভালোই ফুটেছে আর সাহিত্যানুরাগী লতুকেও পাঠকের পছন্দ হবে।”

আরও পড়ুন কথাসাহিত্যিক সরদার জয়েনউদ্দীন

সাইফুর রহমান ভালোবাসেন মানুষ ও মানুষের জীবন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ আর চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বই পড়তে। বই পড়ায় সর্বদা তিনি খুঁজে পান এক স্বর্গীয় সুখ। পছন্দ করেন ছুটির অবকাশে দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়াতে। ইতিমধ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়ার নানা দেশ ও গুরুত্বপূর্ণ শহর।

 

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন। বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!