রাধারমণ-মন্দির
মন্দির,  সাগরকান্দি,  সাগরকান্দি (গ্রাম),  সাগরকান্দি ইউনিয়নের ইতিহাস ও ঐতিহ্য,  সুজানগর উপজেলা

রাধারমণ মন্দির

রাধারমণ মন্দির

 

পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়নের সাগরকান্দি গ্রামে ১৯০৫ সালে অনাদি কৃষ্ণ দত্ত প্রতিষ্ঠা করেন রাধারমণ মন্দির। অনাদি কৃষ্ণ দত্ত সাগরকান্দি গ্রামের জমিদার সুরেন্দ্রনাথ দত্তের ভাই ছিলেন। অনাদি কৃষ্ণ দত্ত মূলত ধর্মীয় দিকে মনযোগী ছিলেন। তিনি জমিদারী বুঝতেন না। তিনি ধর্মীয় রীতিনীতিতেই মগ্ন থাকতেন বলে জানা যায়।

 

ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করার জন্য এই রাধারমণ মন্দিরটি তিনি স্থাপন করেছিলেন। জমিদার বাড়ির আর্থিক সহযোগিতায় মন্দিরটি দ্রুত প্রতিষ্ঠা পায়।জমিদারের আনুকূল্যে মন্দিরটিতে ঝুলনযাত্রা, রাসলীলা, নিত্যপূজা, রাধাকৃষ্ণ, রাধারমণ, জন্মাষ্ঠমী পূজা মহাধুমধামে অনুষ্ঠিত হতো। প্রতিনিয়ত এই মন্দিরটিতে উৎসবের আমেজ লেগেই থাকত। এলাকার হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা এই মন্দিরকে ঘিরে তাদের নিত্যদিনের পূজা-অর্জনা করত। এই রাধারমণ মন্দিরে গৌরাঙ্গ কুমার রাঘ (সাধু) নামের একজন পুরোহিত পূজা-পার্বণ পরিচালনা করতেন। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাকে বিতাড়িত করেন। রাধারমণ মন্দিরে শ্বেতপাথর ও অষ্টধাতুর রাধাকৃষ্ণের দুইটি মূর্তি ছিল। ভৈরব কুমার কুণ্ডু নামের একজন কৌশলে তা হাতিয়ে নেয় বলে জানা যায়। সেই থেকে মন্দিরটিতে পূজা-অর্চনা বন্ধ হয়ে যায়।

রাধারমণ-মন্দিরের-ভগ্নদশা
রাধারমণ মন্দিরের ভগ্নদশা;   ছবি: আশরাফ আলী টিপু

 

অনাদি কৃষ্ণ দত্ত রাধারমণ মন্দিরের নামে ৪৫ শতাংশ জমি দান করে যান। মন্দিরের জমি বিভিন্ন ভাবে বেহাত হয়ে যায়। বর্তমানে মন্দিরের দখলে আছে মাত্র ১০ শতাংশ জমি। মন্দিরটি অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হয়ে যায়। মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা অনাদি কৃষ্ণ দত্ত ১৯৬০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। মন্দিরটির প্রথম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অনাদি কৃষ্ণ কুণ্ডু নামের একজন। পরবর্তীতে রাজন্দ্রনাথ হলদার, ভৈরব কুমার কুণ্ডু সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। ভৈরব কুমার কুণ্ডু সভাপতি থাকাকালীন এই মন্দিরের রাধাকৃষ্ণের দুইটি মূর্তি সরিয়ে নেন। মন্দিরটিতে এই দুইটি মূর্তি স্থাপিত ছিল। এই রাধাকৃষ্ণের মূর্তিকে সম্মানের সাথে সকল হিন্দু ধর্মের লোকেরা গভীর শ্রদ্ধায় পূজা করত।

 

আরও পড়ুন গল্প সুরেন বাবু

 

বর্তমানে যদিও মন্দিরটির কার্যক্রম বন্ধ। তবুও এই মন্দিরটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ধীরেন্দ্রনাথ কুণ্ডু। তিনি প্রায় ৪৫ বছর ধরে এই মন্দিরের সেবা করে যাচ্ছেন। মন্দিরটি আজও সাগরকান্দি গ্রামের দত্ত জমিদার বাড়ির ঐতিহ্য হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

 

তথ্যসূত্র: সুজানগরের ইতিহাস;  রাধারমণ মন্দির

 

ঘুরে আসুন আমাদের ফেসবুক পেইজে

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন।বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!