মোহাম্মদ-আবিদ-আলী-২য়-পর্ব
কৃতি ব্যক্তিবর্গ,  গোপালপুর (ভায়না),  ভায়না,  মাদ্রাসা,  লেখক পরিচিতি,  শিক্ষকবৃন্দ,  শিক্ষাবিদ,  সাহিত্য

মোহাম্মদ আবিদ আলী (২য় পর্ব)

মোহাম্মদ আবিদ আলী (২য় পর্ব)

 

মোহাম্মদ আবিদ আলীর ‘হাদীসের গল্পগুচ্ছ’ গ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছিলেন সুজানগর উপজেলার আরেক কৃতি সন্তান লোকসাহিত্য বিশারদ মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে লিখিত ভূমিকাটি-

“ইসলাম ধর্ম সভ্য সমাজে সুপরিচিত। ইসলাম  ধর্মের পয়গম্বর হজরত মুহম্মদ (সা.)। আরব দেশে সর্বপ্রথম এই শ্রেষ্ঠ পয়গম্বরের বাণী প্রচারিত হয়েছিল। আরবেরা তখন অসভ্য এবং সভ্য জগত হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে নানা পাপাচারে লিপ্ত হয়ে জীবন যাপন করত। সেদেশে এবং সে জাতির মধ্যে হজরত মুহম্মদের অভ্যুদয় একটি পরম বিস্ময়ের ব্যাপার। আরও অধিক বিশ্বয়ের কথা এই যে তাঁর একক এবং আপ্রাণ চেষ্টার ফলে ইসলামের তৌহিদ-বাণী সমগ্র আরব দেশে পরিগৃহীত হয়েছিল; বর্বর আরবজাতি নব উন্মাদনায় দুর্বার স্রোতের ন্যায় অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায় দেশে দেশে দিশে দিশে প্রবাহিত হয়েছিল; সমস্ত পৃথিবীর মধ্যে অপরাজেয় শক্তি বলে পরিচিত হয়েছিল। এই নবজাগরণের বাণী এবং প্রচার শুধু সম্ভব হয়েছিল হজরত মুহম্মদের অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং অলৌকিক ঈশপ্রেম দ্বারা। তাঁর জীবন মহাগ্রন্থ কোরআনের তফসীর বলে পরিচিত।

মুসলমানেরা তাঁকে আদর্শ মানব বলে মনে করে এবং তিনি যে ভাবে জীবন যাপন করেছিলেন সেই ভাবে জীবন যাপন প্রশংসার্হ বলে। এই দীন ভূমিকা লেখক সেই আদর্শ মানব নূরনবী মুহম্মদ মোস্তাফাকে বহুদিন ধরে খুঁজে আসছেন, কিন্তু সাধারণ বাজারে প্রচলিত মোস্তাফা চরিত হতে কিম্বা ইংরেজি জীবনী হতে তাঁর সেই অমৃতময়, বজ্ৰ-কঠোর, পুষ্পকোমল, কর্তব্যে স্থির, বিপদে অটল, সামাজিকতায় মধুর, চরিত্রে উন্নত, সৌন্দর্যবোধে আধুনিক, রস-সম্পৃক্ত মানুষটির সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয়নি। বহু দিন হতে রসুলুল্লাকে ঐতিহাসিক গল্পের মধ্য দিয়ে জানবার বাসনা ছিল।

শ্রদ্ধেয় বন্ধুবর মৌলবী আবিদ আলী এমএ সাহেব সেই অপূর্ণ বাসনা আজ সফল করে তুললেন, এজন্য বাংলা ভাষাভাষীদের পক্ষ থেকে তাঁকে অভিনন্দিত করছি; দুর্গম আরবী ভাষার যক্ষ প্রহরীদিগকে পরাজিত করে যে মণিমুক্তা এবং হীরক খণ্ড সংগ্রহ করে তিনি এনেছেন, তা বাস্তবিক আন্তরিকতা এবং ভক্তিপূর্ণ; হয়ত ভাষার এবং রচনা রীতির সৌকর্যসাধন করলে এর জৌলুস বহুগুণে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হত কিন্তু নবান্নের মত এই নব সাহিত্যিকের প্রথম পরিবেশন বিস্ময়কর বলে আমার মনে হয়; রচনার সারল্য, ভঙ্গী এবং directness মনকে হরণ করে।

আরও পড়ুন সরদার জয়েনউদ্দীনের নয়ান ঢুলী রিভিউ

হজরত মুহম্মদ থেকেই মুসলমান সভ্যতা, শিল্প, সাহিত্য প্রভৃতির উৎপত্তি ঘটেছে। হজরত মুহম্মদের পূর্বে তাঁর স্বদেশে গৌরবজনক যা কিছু ছিল তার মধ্যে শুধু প্রাচীন আরবী কবিতা, ‘মরুউয়ত’ এবং আরব্য আতিথেয়তা উল্লেখ করা যেতে পারে। সংগ্রামশীল একত্ববাদ ( militant monotheism) হজরত মুহম্মদের সুকীর্তি, তাঁর পূর্বে ওদেশে হানিফ নামক সম্প্রদায় একেশ্বরবাদের ধারণা পোষণ করত বটে কিন্তু ব্যবহারিক জীবনে এবং বিস্তৃত প্রয়োগে তার কার্যকারিতা পরিলক্ষিত হয় না। সুতরাং হানিফদের প্রচারিত একেশ্বরবাদ হতে হজরত মুহম্মদের একেশ্বরবাদিতা কত বলবন্ত এবং কার্যক্ষম তা নীচের কোরান শরীফের সূরা হতে উপলব্ধি হবে- “তিনিই একমাত্র আল্লাহ্। তিনি অনন্ত। কখনও জন্মদান করেন নাই এবং জন্মগ্রহণ করেন নাই। এবং কখনও কেহই তাঁহার তুল্য নয়।” [কোরান শরীফ) 

এই হচ্ছে ইসলাম ধর্মের মূলমন্ত্র এবং মুসলমানদের জীবন নিয়ামক সূত্র। এবং এই সত্য জীবনে প্রতিপালন করতে জটিল তন্ত্রের প্রয়োজন হয়নি। এর সারল্য, এর শক্তি আশ্চর্য। ইসলাম ধর্মের এই দিক লক্ষ্য করে সুপণ্ডিত অধ্যাপক ব্রাউন বলেছেন, “The great strength of Islam lies in its simplicity, its adaptability and its high yet perfectly attainable ethical standard” (Vide P 188 Literary History of Persia vol. 1 by Prof E. G Browne, London, 1919). এই তৌহিদকে কেন্দ্র করে ইসলাম ধর্মের অন্যান্য আচার ও কৃত্য গড়ে উঠেছে এবং সেগুলোর মধ্যে হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ। এবং এই কৃত্যটি অতীব সহজসাধ্য এবং অনাড়ম্বর, এর জন্য না পুরোহিতের প্রয়োজন না মসজিদের। নিজেই পুরোহিত এবং যেস্থানেই থাকুন না কেন সেই স্থানই মসজিদের মত পবিত্র।

আরও পড়ুন আনন্দ বাগচীর উপন্যাস চকখড়ি রিভিউ

আধুনিক কালে আমাদের বাংলাদেশে মুসলমান যুবকদের মধ্যে বিশেষত ইংরেজি শিক্ষিত বুদ্ধিমান যুবক তরুণদের মধ্যে নামাজের প্রতি গভীর ঔদাসীন্য একটি বিশেষ লক্ষণীয় ব্যাপার। অথচ তৌহিদের পরেই নামাজের আসন। নামাজকে আল্লার স্মারকপত্র বই আর কি বলা যেতে পারে। রসুলুল্লার শেষ বাণী “Prayer one of the last words on the lips of the Prophet of Islam (Vide Iqbal’s Reconstruction of Islam P. 58) এই নামাজের দিকে লক্ষ্য রাখতে বলে নিঃশেষিত হয়েছিল। এই নামাজের দ্বারা সমগ্র মুসলমান সমাজের সঙ্গে এক যোগসূত্র অনুভব করতে পারি, নিজের দেশের এবং পরের দেশের সঙ্গে এক সংস্কৃতি ভাব বজায় রাখা সম্ভব। এমন একটি শক্তিশালী এবং অলৌকিক অস্ত্র মুসলমান যুবকদের অবহেলায় মরিচা ধরে যাচ্ছে, এর চেয়ে লজ্জা ও দুঃখের বিষয় কি হতে পারে। নিজেদের tradition এর সঙ্গে জীবন্তভাবে সংযুক্ত হতে হলে এবং তা থেকে বল গ্রহণ করতে হলে আমাদের সর্বাগ্রে এই ডাইনামোর ব্যবহার করতে হবেই।

ইসলাম যে একত্বের ধর্ম, Unity এবং Homogeneity এর বৈশিষ্ট্য, তার প্রধান প্রমাণ নির্ভর করে ইসলামের এই সর্বশ্রেষ্ঠ অনুষ্ঠানের উপর। ভারতবর্ষে হয়ত এই হরিজন আন্দোলনের শুভ মুহূর্তেও দাক্ষিণাত্যের গর্বিত ব্রাহ্মণকে মাদ্রাজের ‘পারিয়ার’ সঙ্গে প্রতিদিন পাঁচবার গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করার কল্পনাও করতে পারেন না কিন্তু ইসলামে এটি সম্ভবপর। শুধু তাই নয় নামাজের দ্বারা মানুষের বদ্ধমূল জাত্যাভিমান এবং পদাভিমান বহুল পরিমাণে বিদূরিত হওয়া সম্ভব। যেমন তীক্ষ্ণ কোণযুক্ত প্রস্তরখণ্ড নদী পথে সতত ঘর্ষণের ফলে শালগ্রাম-শীলায় পরিণত হয়। এ ছাড়াও মনঃসংযোগের দিক থেকে বিচার করলে এমন চমৎকার প্রতিষ্ঠান দুনিয়ায় আর দুটি নেই – সমগ্র বিশ্বের মুসলমান যে যেখানেই অবস্থান করুক না কেন নির্ধারিত সময়ে এক কেন্দ্রাভিমুখী হয়ে স্বীয় আধ্যাত্মিক উন্নতি প্রচেষ্টায় লিপ্ত। শারীরিক ভঙ্গি এবং পবিত্রতা স্বাস্থ্য এবং মানসিক অবস্থার পরিচায়ক।

আরও পড়ুন মুহম্মদ মনসুরউদ্দীনের হারামণি রিভিউ

হজরত মুহম্মদকে আমাদের ধর্মগুরু এবং আদর্শ মানব বলে গ্রহণ করার অর্থ কী, যদি আমরা নামাজ উপেক্ষা করি ? তিনি ত জীবনে একদিনও এই নামাজ অবহেলা করেননি। ইসলাম, ইসলাম বলে চেঁচিয়ে লাভ নেই, ফাতেহা দোয়াজ দহম করে লাভ নেই, যদি আমরা ইসলামের প্রথম কথাই অবহেলা করতে বাল্য থেকে অভ্যস্ত হই। ইসলাম ধর্ম যদি বাঁচে তবে সে নিজের জোরেই বাঁচবে এবং সে জোর তার নিজের মধ্যে নিহিত রয়েছে, তার অনুষ্ঠান, নীতি, এবং ব্যবহারিক জীবনাদর্শের মধ্যে ; –ইকবাল সত্যই বলেছেন, “One lesson I have learnt from the history of Muslim. At critical moments in their history it is Islam that has saved Muslims not vice versa. If today you focus your vision on Islam and seek inspiration from the ever-vitalising idea embodied in it, you will be reassembling your scattered forces, regaining your lost integrity, and thereby save yourself from total destruction” (Presidential Address, All India Muslim League, 1930 P 22.] সুতরাং আমরা যদি সম্পূর্ণ ধ্বংস থেকে পরিপূর্ণরূপে বাঁচতে চাই তা হলে ইসলামের এই প্রচারিত বিধান সক্রিয়ভাবে গ্রহণ যুক্তিযুক্ত।

ব্যবহারিক এবং চিন্তার জগতে তৌহিদ এবং নামাজ সুপ্রতিষ্ঠিত হলে আমাদের দৃষ্টি পড়ে মহাগ্রন্থ কোরআন শরীফের দিকে। এই একটি মাত্র গ্রন্থের নিকট জগৎ যত ঋণী বোধ হয় অন্য কোন গ্রন্থের নিকট তত নয়। কোরআন শরীফ মুসলমানদের সর্বরোগ-নিবারক মহৌষধি, সর্ব সমস্যার সমাধক, এবং ইহলৌকিক এবং পরলৌকিক সর্ববিধ কল্যাণের রহস্যাগার। সম্প্রতি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরআন শরীফের ব্যাপক চর্চা আরম্ভ হয়েছে। রয়টারের মারফৎ এ সংবাদ আমরা পেয়েছি। হজরত মুহম্মদ এই কোরআনের বাণী জগতকে শুনিয়েছেন। এই ঐশীবাণী তাঁর সুমহৎ সুকীর্তি। অনেকে মনে করেন কোরআন শরীফ মানুষের বিবেকের উপর জুলুম করেছে; অন্ততঃ বাঙালী মুসলমান সাহিত্যিকদের কেউ কেউ মনে করেন। কিন্তু সুধী অধ্যাপক ফ্যালিক্স ভ্যালি বলেন, “The Koran never allowed any tyranny over conscience” [Revolution in Islam by Professor Falex Valey, London P. 49]।  শুধু তাই নয় কোরআন এমন একটা দ্যোতনা প্রাথমিক যুগের মুসলমানদের মধ্যে এনে দিয়েছিল যার ফলে সর্বতোভাবে তাঁরা দিগ্‌বিজয়ী হতে পেরেছিলেন; শুধু তাই নয় মুসলমানী জ্ঞান, বিজ্ঞান সাধনার বিভিন্ন বিভাগেরও সৃষ্টি এই কোরআনকে অবলম্বন করে প্রথম সূচিত হয়েছিল। বাসরার এবং কুফার জ্ঞান-ব্রতীদের মধ্যে।

আরও পড়ুন শফিক নহোরের গল্পগ্রন্থ মায়াকুসুম রিভিউ

ইসলামের প্রাণশক্তি এই কোরআন শরীফ। ইসলামের প্রত্যেক প্রকার পরিবর্তন বা পরিবর্ধন কোরআনকে অবলম্বন করেই করতে হবে। নতুবা তা কোনমতে মুসলমান জগতে গ্রাহ্য হবে না। এখনও মুসলমান চিত্তের উপর এর যে অপ্রতিহত ক্ষমতা বর্তমান রয়েছে তা বিদূরিত করতে বিধর্মী প্রোপাগান্ডার বহু সহস্র বৎসর লাগবে। অন্যান্য ধর্মের মত ইসলাম মৃত ধর্ম নয়। ইসলাম সত্যই জীবন্ত ধর্ম। এ সম্বন্ধে প্রাচ্য পন্ডিতদের মত উল্লেখ করছি। “The principle of Idjma says Goldziher, “contains in germ the faculty for Islam to move freely and evolve freely. It offers a timely corrective to the tyranny of the dead letter and of personal authority It has proved, atleast in the past, the principle factor in Islam’s capacity for adoption.” -Falex Valey, P. 58.

শুধু তাই নয় ইসলামের যে প্রধান ভিত্তি আইন তার এমন একটি বলিষ্ঠ রয়েছে যা সত্যই আশ্চর্যজনক, Islamic law favours every practical activity, and holds in great esteem agriculture, commerce, and every kind of work, it censures all those who burden with their maintenance, requiring every man to keep himself by the produce of his own labour and does not despise any sort of work whereby man may make himself independent of others. “L. Islam est une religion. “hommes”, says Renan Considering its spirit therefore, we see that the ten dency of Islamic law is to allow human action the widest limits, and we may agree with the Muslim jurists, when they teach that the fundamental rule of law is liberty এবং এর উপর স্বীকার করা হয়েছে,—যে আইন declares its willingness to comply with the weakness and frailty of man, and the practi cal necessity of life. [Legacy of Islam, Oxford Press, P288-289]

আরও পড়ুন সুজানগরের ইতিহাস বই রিভিউ

জ্ঞান বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় মুসলমানেরা যে অসামান্য সাধনার চিহ্ন রেখে গেছেন তা বিস্ময়ের বস্তু। মুসলমান হয়ে কেমন করে তাঁরা জগঞ্জয়ী হতে পারলেন এদিকে, তা বাংলার সাহিত্যিক দল বুঝবেন কিনা জানিনে, তবে ইউরোপীয় পণ্ডিতের জ্ঞানগর্ভ একটি বাক্য তুলে তাঁদের আশ্বস্ত করছি, “Since they (Mussalmans) had their share in the direction and introduction of that great movement (Renaissance), it may reasonably be claimed that they are with us yet” [Legacy of Islam. P 354]

সুতরাং মহাপুরুষ হজরত মুহম্মদ প্রচারিত ইসলাম ধর্ম, এবং কোরআন শরীফ জাগতিক উন্নতি এবং জ্ঞান বিজ্ঞান সাধনার পথে বাধা স্বরূপ হয় নি, পরন্তু অসাধারণ বল ও তৎপরতা এই ধর্মাবলম্বীদিগকে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষে ওই দুটি কেন ব্যর্থ হল, আমরা কেন “সম্মোহিত মুসলমান” হলুম? মূর্খে বুঝিবে ভার, পণ্ডিত হয় হেট মুন্ড।

অধ্যাপক জুলিয়াস গার্মেনুস এসম্বন্ধে তাঁর Modern Movements in Islam নামক গ্রন্থে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন “ইউরোপে যে আজ এই technical efficiency এবং critical mind এর বিকাশ ঘটেছে তার কারণ christianity নয়, অন্যবিধ। এবং মুসলমানদের জড়তা, নির্বুদ্ধিতা, অবনতি এবং অনগ্রসরতা সম্পর্কে বলেছেন: Was Islam to blame for the pitiable backwardness in learning and literature, and christianity to be praised for the advancement of science? We must look elsewhere for the explanation. (Modern Movements in Islam. P.S)। সুবিখ্যাত প্রাচ্যবিদ ইগনাজ গোব্জিহর তাঁর Lessons our Islam এ যে মত প্রকাশ করেছেন তা উদ্ধার করে দেওয়া যাক, “It is wrong”, he (Goldasher) “Maintains to hold Islam responsible for those moral imperfections and signs of intellectual stagnation which are really caused by racial procilvities and chmat.

আরও পড়ুন তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদ

বাংলাদেশে যে মুসলমানেরা শোচনীয়তার সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে তার কারণসমূহ হান্টার সাহেব Indian Mussalmans নামক গ্রন্থে সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। তবে তার একটি কথা রক্তাক্ষরে লিখে রাখবার যোগ্য, “A hundred and seventy years ago it was almost impossible for a well-born mussulman in Bengal to become poor, at present it is impossible for him to continue rich”, [Quoted in Supplimentary Note by Dr. A Suhrawardy P. 15.]

আমাদের বাংলাদেশের সর্ববিধ দুর্দশার মূলেই যে এই দারিদ্র্য রয়েছে সেই দারিদ্র্য ইসলাম বা কোরআনের দান নয়, প্রত্যুত ম্যাটার লিঙ্কের ভাষায়, “Povery has its origin in man’s province; and though we may marvel why one should be rich and the other poor, we are well aware that the existence, side by side, of excessive wealth and excessive misery is due to human injustice, In this wickedness neither gods nor stars have parts [The Burried Temple-P 272]

এ সম্বন্ধে আমার অধিক আর কিছুই বক্তব্য নেই। ইতিমধ্যে আমি বহু অবান্তর কথা বলেছি। হজরত মুহম্মদের জীবনাদর্শ বাঙালী মুসলমানদের মধ্যে নব গতিবেগ না এনে দিলে মুসলমানদের বর্তমান দুরবস্থা থেকে মুক্তি নেই। হজরত মুহম্মদের আদর্শের নব পরিচয় হোক, বাংলাদেশের নবজাগ্রত মুসলমান তরুণদের সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে, জীবনব্যাপী আমি এই সোনার স্বপন দেখেছি। সে স্বপন এ গ্রন্থ বহুল পরিমাণে সফল করে তুলবে, এ বিশ্বাস আমার আছে।”

টিকিয়া পাড়া, হাওড়া।

১০ই সেপ্টেম্বর, ১৯৩৭ খ্রি.

মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন

 

আরও পড়ুন মোহাম্মদ আবিদ আলী-
১ম পর্ব

ঘুরে আসুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলফেসবুক পেইজে

মোহাম্মদ আবিদ আলী (২য় পর্ব)

Facebook Comments Box

প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিবেদিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "আমাদের সুজানগর"-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং "আমাদের সুজানগর" ওয়েব ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রকাশক। সুজানগর উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, কৃতি ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে ভালোবাসেন। বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি স্বনামধন্য ওয়াশিং প্লান্টের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কর্মরত আছেন। তিনি ১৯৯২ সালের ১৫ জুন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার অন্তর্গত হাটখালী ইউনিয়নের সাগতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

error: Content is protected !!